গতকাল স্কুল থেকে রিক্সায় করে বাসায় ফেরার সময় আমার বাসায় ঢোকার রাস্তায় একজন রিক্সাওয়ালা আমাদেরকে পাশ না দিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। আমি বাসার সামনে নামার পরই জুয়েল মিয়া ( ছদ্মনাম) আমার দিকে এগিয়ে এসে একটা স্মার্ট ফোন দেখিয়ে বলে যে একজন যাত্রী ফোন রিক্সায় ফেলে চলে গেছে।
জুয়েল ভাইকে খুব চিন্তিত ক্লান্ত দেখাচ্ছিলো। সে বলে যে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে এদিক ওদিক খুঁজতেছি কিন্তু ফোনের মালিককে কোন বাসায় ঢুকলো আমি জানিনা কারণ মেইন রাস্তায় থেকে সে নেমে এদিকেই আসছে মনে হয়। কোন বাসার লোক সেটাও জানেনা নামও জানে না আর একজন রিক্সা চালকের যাত্রীর নাম না জানারই কথা।
মোবাইলটা আমার হাতে দিয়ে বলে আপা দেখেন তো এটা চিনেন কি না। আমি মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি মোবাইল লক করা। জুয়েল ভাইয়ের চিন্তিত মুখ দেখে আমিও ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলাম।
২/৩ বার চেষ্টা করার পরই মোবাইল আনলক করতে পারলাম। তারপর ঐ মোবাইল থেকে আমার মোবাইলে কল করলাম এইজন্য যে আমাদের পাড়ার যেহেতু তাই নাম্বার সেভ থাকতে পারে কিন্তু আমি চিনতে পারলাম না।জুয়েল ভাইয়ের চিন্তার রেশ একটু কমেছে।সে মোটামুটি নিশ্চিত হতে পারছে যে যেহেতু ফোন আনলক করতে পারছি তাহলে মালিককে পাওয়া যাবে।
ঐ মোবাইল থেকে তার ফোন লিস্টে থাকা নাম্বারে ফোন দিতে থাকি আর অপর প্রান্ত থেকে কল কেটে দেয়। তখন অন্য আরেকটা নাম্বারে কল দেবার পর ফোন রিচিভ করার পরই আমি বুঝতে পারি মোবাইলটা আমাদের ভবনের চার তলার এক ভাইয়ের।
আশ্চর্যের বিষয় যে আমি যখন উনাকে মোবাইল নেবার জন্য বলি তখন উনি বলে যে উপর থেকে ব্যাগ দিচ্ছি ব্যাগের ভেতর মোবাইল দিয়ে দিতে। তখন আমার খুব রাগ হয় এ কেমন কথা একজন রিক্সা চালক তার কাজ বাদ দিয়ে উনার মোবাইল দেবার জন্য দাঁড়িয়ে আছে আর উনি নিচেই নামবে না। যাই হোক আমি বলাতে উনি নিচে এসে মোবাইল নেয় ঠিকই কিন্তু স্বাভাবিক কৃতজ্ঞতা উনার মধ্যে ছিলো না।
আমি জুয়েল ভাইকে অনেক করে বললাম বাসায় যেতে কিন্তু গেলেন না এমনকি নিজের নাম প্রকাশ করতে না করলেন কারণ সে তার সততাকে কর্তব্য মনে করেন।
বর্তমান সময়ে এমন সৎ লোকের সংখ্যা অতি নগন্য।
জুয়েল ভাইদের মতো সৎ মানুষ আছে বলেই পৃথিবী তার ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছে।জুয়েল ভাই শুধু সৎ না একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ তিনি এও বলেন যে রিক্সা চালানোর সময় সে সূরা ফাতেহা থেকে সূরা নাস পর্যন্ত মনে মনে পড়তে থাকেন। আমি প্রাণখুলে উনার জন্য দোয়া করি।






