আজিজুন নাহার আঁখি

মাতৃত্ব বনাম পেশাদারিত্ব

❤️নারী জীবনের পূর্ণতা আসে মাতৃত্বে❤️
✔️একজন নারী প্রভাবশালী হোক আর সুন্দরী হোক সত্যিকারে তার সফলতা ঘটে মাতৃত্বে।পুরুষের শুক্রাণু নারীর গর্ভাশয়ে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। আর দীর্ঘ নয় দশ মাস অনেক ব্যথা বেদনা অনেক যন্ত্রণা সহ্য করে জন্ম নেয় সন্তান, যে সন্তান তার সাধনার তার আরাধনার। গর্ভকালীন পুরোটা সময় একজন নারীকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আর সেই নারী যদি হয় পেশাজীবি তাহলে তো তাকে আরও কষ্ট সহ্য করতে হয়।
❤️গর্ভকালীন সময়ে যে যত্ন বিশ্রামের প্রয়োজন সেটা হয়তো পেশাজীবি নারীদের সম্ভব হয় না কিন্তু তারপরও মা তার সন্তানের জন্য নিজেকে যতোটা সম্ভব ভালো রাখার চেষ্টা করে। এই সময়ে সবচেয়ে প্রয়োজন পারিবারিক সাপোর্ট আর কর্মস্থলে থাকা সহকর্মীদের সহযোগিতা মূলক মনোভাব। সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে যখন সন্তানের মুখ দেখে তখন মা তার সব ক্লান্তি ভুলে যায়। ❤️
✔️সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস নির্ধারণ করেছে কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক শিশুর জন্মের পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর কথা আর দুই বছর বয়স পর্যন্ত অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ পান করানোর কথা।সেক্ষেত্রে যদি সন্তান প্রসবের আগেই ছুটি নিতে হয় তাহলে সন্তান ছয় মাস পর্যন্ত বুকের দুধ পান করতে পারে না। আর সেই শিশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে বিভিন্ন অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়। আর একজন পেশাজীবি মা সন্তানকে রেখে মানসিক অস্থিরতা নিয়ে কর্মস্থলে আসে। আমাদের দেশে যদি সরকারি বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিশুদের রাখার জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার থাকতো তাহলে একজন নারী কর্মী তার সন্তানকে নির্দিষ্ট সময়ে বুকের দুধ পান করাতে পারতো।❤️
✔️বর্তমানে দেশের প্রতি সেক্টরে নারী কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। আর সেই নারী যদি তার পূর্ণতা পেতে মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করতে চায় তাহলে তার সন্তানের নিরাপত্তা ও পেশার প্রতি দায়িত্ব বোধ ব্যালেন্স করতে হয়।
👉🏼আমরা মাতৃত্বের সাথে পেশার কোনো বিরোধ চাইনা। প্রতিটি কর্মজীবী মানুষের প্রধান কাজ তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করা। কিন্তু সেই পেশাজীবি নারী মায়ের দায়িত্বও পালনে ব্যর্থ হচ্ছে সাথে সাথে পেশাগত দায়িত্বও সুচারুভাবে পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।👈🏼
✔️হ্যাঁ পেশাজীবি নারী পুরুষ উভয়েরই পেশার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সম্মান থাকা জরুরি কিন্তু নারী যে শুধু পেশাজীবি নয় সে একজন মা। তাই তার সন্তান যেমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থল তেমন গুরুত্বপূর্ণ। যদিও অনেকেই দুটোকে ব্যালেন্স করে চলছে অবশ্য সেখানে পারিবারিক সাপোর্ট থাকে।
✔️বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একজন পেশাজীবি মা তার পরিবার থেকেও সাপোর্ট পায়না। সারাদিন পরিশ্রম করার পরে বাড়ি ফিরে তাকেই সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। সন্তান বাড়িতে রেখে আসা যেনো তার জন্য অপরাধ কিন্তু বাড়ির লোক বুঝতে চায় না যে তার রোজগারের অর্থ সে সংসারের প্রয়োজনে ব্যয় করে।✔️
👉🏼এখানে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে যেমন ডে- কেয়ার সেন্টার অত্যাবশ্যক তেমনি পরিবারের সকলের সহযোগিতা অত্যাবশ্যক। তবে যাদের পরিবারের সবাই কর্মজীবী হয় তাহলে তখন গৃহ পরিচারিকা ছাড়া উপায় থাকে না যদিও সবার পক্ষে গৃহ পরিচারিকার ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। 👈🏼
❤️ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর সুষ্টু পরিবেশে বড়ো করতে সমাজের সকলেই এগিয়ে আসি। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী -পুরুষের অবদান স্বীকার করি। কর্মস্থলে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের ব্যবস্থা করতে সরকারের ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মালিকের সুদৃষ্টি কামনা করি।
❤️আর যতোদিন এই ব্যবস্থা না হয় ততোদিন পরিবার থেকে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে একজন মাকে স্থিতিশীল রাখি তার কর্ম স্পৃহা সৃষ্টি করে পরিবার,সমাজ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখি❤️

*নারী তুমি কি কিছু বুঝো?*

👉🏼নারীর গায়ে একটা স্থায়ী তকমা লাগানো রয়েছে আর সেটা হলো নারী মানেই অবুঝ। নারী হলো ঘরের কোণে সাজানো আসবাবপত্র। আজকে এখানে তো কাল ওখানে। আসবাবপত্রের যেমন সরানোর সময় মতামত নেয়া হয় না। ঘরের কোথায় তাকে রাখা হবে কোথায় রাখলে সুন্দর দেখাবে, কতোদিনই বা রাখা হবে। তেমনি নারীরও কোনো মতামত নেয়া হয় না। আসবাবপত্রের মতোই নারীর জায়গা বদল হয়। কোনো বাড়িতে তাকে আদর যত্নে রাখে ধুলোবালি পড়তে দেয়না আবার কোনো বাড়িতে অযত্নে অবহেলায় ধুলোয় জমে থাকে। নারীর জীবন এমনই কখনো চকচকে আসবাবপত্র কখনো ধুলোপড়া আসবাবপত্র। 👈🏼
✔️আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজে নারী সব সময় অবুঝ হয়েই আছে। বাবার কাছে মেয়ে রাজকন্যা ঠিকই কিন্তু পরিবারের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্তে নারীর মতামতকে সমর্থন করা হয়না। বাবার কাছেও শুনতে হয় তুমি মেয়ে মানুষ তুমি কি বুঝবে? মেয়ে মেধাবী হোক আর বুদ্ধিমতি হোক সে কিছু বুঝে না এই তকমা তার গায়ে লাগানো হয়।✔️
👉🏼ছোট্ট মেয়ে শিশু যখন স্কুল থেকে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে তখন শিক্ষক বা সহপাঠী ছেলে বন্ধুরও একই কথা তুমি তো মেয়ে মানুষ তুমি কি বুঝবে? মেয়ে হয়ে জন্মানো মানেই সে কিছুই বুঝেনা সে অবুঝ,বোকা,কম বুদ্ধিসম্পন্ন। নারী অবুঝ বলেই তারা তাদের ন্যায্যতা পায়না। নারীর জীবন নিয়ন্ত্রণ থাক সেটা ঠিক আছে কিন্তু কোনো কাজেই যে তার মতামত একেবারে ফেলনা সেটা কি ঠিক। যুগ যুগ ধরে নারী তাচ্ছিল্যের স্বীকার হচ্ছে। তাচ্ছিল্যটা শুরু হয় পরিবার থেকেই তারপর অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাচ্ছিল্য বহাল থাকে। পরিবারে,সমাজে,রাষ্ট্রে নারীর অবদানকে ছোটো করে দেখা রীতি হয়ে গেছে।👈🏼
✔️আর যে নারী পড়াশোনার সুযোগ পায়না সেতো আরও অবুঝ। পরিবারে তার কথার তো কোনো মূল্যই নাই। দিনমজুর নারীও সব ক্ষেত্রে অবুঝই থাকে। সংসারের কাজকর্ম যেনো শুধু তারই কর্তব্য আর সিদ্ধান্তে সে একেবারেই অবুঝ শিশু। ✔️
👉🏼একজন নারী যখন পড়াশোনা সম্পন্ন করে কর্মস্থলে প্রবেশ করে সেখানেও সে অবুঝ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীর কাছে নারী মানেই কিছুই বুঝে না।নারী নিজ যোগ্যতায় যতো বড়ো পদেই থাকুন না কেন তার সিদ্ধান্ত অনেকেই মেনে নিলেও আড়ালে ঠিক বলে বেড়ায় এই কাজটা এভাবে না করে ওভাবে করলে ভালো হতো। কি আর করা মেয়ে মানুষ মাথায় অতো বুদ্ধি নাই তাই তো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 👈🏼
❤️নারী যখন দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করে তখনও তার স্বামীর কাছে শুনতে হয় তুমি মেয়ে মানুষ এটার কি বুঝবে? বাবার বাড়ি থেকে তার জায়গা বদল হয় সম্পর্ক বদল হয়ে শশুড় বাড়িতে জায়গা হয় কিন্তু সে যে অবুঝ এটা তার গায়েই লেগে থাকে।
তারপর নারী যখন মা হয় তখন সন্তান লালন পালনেও তাকে শুনতে হয় তুমি কি বুঝবে? ধরুন হটাৎ সন্তানের সর্দিকাশি হলো বা অন্য কোনো অসুখ হলো তখনও শুনতে হয় তুমি তো কিছুই পারো না কিছুই বুঝো না তাই তো সন্তানের শরীর খারাপ হলো। মা কিন্তু সন্তানকে আগলে রাখে নিজের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে ভালো রাখার চেষ্টা করে কিন্তু দিনশেষে ঐ একটি কথাই তুমি তো কিছু বুঝোই না। ❤️
✔️সন্তান যদি পড়াশোনায় ভালো করে বা আচরণ ভালো করে তাহলে সবাই বলে একেবারে বাবার মতো হয়েছে। কিন্তু সেখানে মা-ই কিন্তু পরিচর্যা করে। আর সন্তান যদি ভুল করে তখন মাকে শুনতে হয় মায়ের আদর পেয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। সুনামের ভাগীদার না দুর্নামের ভাগীদার হয় মা। ✔️
❤️নারী ভাবে সন্তান বড়ো হলে আর কেউ না বুঝুক সন্তান বুঝবে তার মা অবুঝ নয় কিন্তু এখানে তো আরও সমস্যা। সন্তান বড়ো হলে মা যাই বলুক না কেন সন্তানের কাছে মা একেবারে অবুঝ বোকা মানুষ। সন্তানের ভালো চাইতে গেলেও মাকে শুনতে হয় মা তুমি এসব বুঝোনা অযথা কথা বলো কেন? ধরুন সন্তানের পছন্দের খাবার রান্না করলেন তখনও সন্তান বলে মা তুমি কি আমাকে ছোটো ভাবছো? আসলে তুমি বুঝোই না আমার এখন কি পছন্দ? কোনো পোশাক পছন্দ করলে সেটা তাদের কাছে সেকেলে মনে হয়। যদিও মায়েরা সন্তানের এইসব কথার প্রতিবাদ করে না কিন্তু ভেতরে ভেতরে একা হয়ে যায়। মায়ের যে ধারণা ছিলো তার সন্তান তাকে ঠিক বুঝবে কিন্তু তার সন্তান সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে। সন্তানের চোখেও মা অবুঝ হয়েই থাকে।❤️
✔️নারী জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন সম্পর্কে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। নিজের সবটা ঢেলে দিয়ে সবাইকে আগলে রাখার চেষ্টা করে। এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও নারী মানেই কিছু বুঝে না নারী মানেই ঘরের আসবাবপত্রের মতো জড় পদার্থ। নারীর গায়ে যে অবুঝের সীল আছে সে যেনো সুপার গ্লুর চেয়েও শক্ত আঠা যা কখনো উঠবে না। আসলে নারী তুমি কিছুই বুঝো না।✔️

Leave a Comment