আজিজুন নাহার আঁখি

পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই

পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই মানুষ একটু মুটিয়ে যায়
চোখের নিচে গাঢ় কালো দাগ
গায়ের ত্বক আলগা
মুখে বলিরেখা
চুলগুলো সাদা কালোয় মাখামাখি।
পঞ্চাশে চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা
আজ সুগার তো কাল হাই প্রেসার
এ যেন নিত্যকার রুটিনে পরিণত।
পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই মানুষের ঘুম আসে না
পাশে থাকা বন্ধুর সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় শূন্য ছুঁয়ে যায়
দায়িত্ব কর্তব্যের বেড়াজালে পঞ্চাশ বন্দিপ্রাণ।
ত্রিশ থেকে চল্লিশে মানুষ ভাবে
পঞ্চাশ হলেই বুঝি স্বাধীনতা মিলবে
ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানো
উড়া যাবে পাখির মত;
কিন্তু পঞ্চাশ বেঁধে ফেলে শিকলে
জীবন আরো আটকে যায় খাঁচায়;
পাখি ডানা ঝাপটায়
কিন্তু উড়তে পারে না।
পঞ্চাশ যেন জীবনের কঠিনতর অধ্যায়
পিথাগোরাসের উপপাদ্য।
এই সময় মানুষ সবচেয়ে একা হয়ে যায়
পরিবারের কাছে সে শুধু অর্থের যোগানদার।
পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই মানুষগুলো
এই সময় পরিবারের সান্নিধ্য চায়
চায় কেউ তাকে অষ্টাদশ বয়সের মত বাঁধুক
কেউ তার পাশে বসুক কেউ গল্প করুক;
অথচ চারপাশ শূন্য।
পঞ্চাশ যুগের সাথে বেমানান
তার পোশাক, চালচলন সবই যেন সেকেলে।
পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই মানুষেরা নিজেকে গুটিয়ে নেয়
তার ইচ্ছে নেই, অনিচ্ছার নেই
শুধু থাকে যন্ত্রণা।
একসময় যে ভাবতো পঞ্চাশে পা দিলেই বুঝি
তার কথাতেই সব হবে
কিন্তু বাস্তবে তার সিদ্ধান্ত ঘুরিয়ে দেয়া হয়
সে যেনো লাটাই দেয়া ঘুড়ি
একজন বামে টানে, আরেকজন ডানে।
পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই মানুষেরা বাল্যকালের
বন্ধুদের সাথে গল্পে আড্ডায় মেতে উঠতে চায়
কিছুটা সময় নিজের মতো পার করতে চায়
কিন্তু সেখানেও ঘোর আপত্তি
সমাজের চোখ রাঙানি।
পঞ্চাশে মানুষ যাবে কই?
কেউ তাকে চায় না
কেউ বোঝে না বুকের কোণে ব্যথা
না পরিবার, না পড়শি।
আবার তাকেও তার মতো চলতে বাঁধা দেয়:
না নারী, না পুরুষ পঞ্চাশে দুই-ই বাঁধা
সবাই ভাবে এদের কিসের ইচ্ছে
কিসের আবার এতো স্বাধীনতা!

Leave a Comment