আজিজুন নাহার আঁখি

বিশ্বাস করো ভরসা করো

যদি নিজেকে ঢেলে সাজাতে চাও তাহলে সাজাও।মনে রেখো তোমার পাশে কেউ না থাকলেও তোমার রব কিন্তু ঠিকই আছে।তাকে বিশ্বাস করে তার উপর ভরসা করে এগিয়ে যাও নিশ্চয়ই আলোর দেখা পাবে।

  • স্বচ্ছ কাচের গ্লাসে পানি খেতে কার না ভালো লাগে কিন্তু এই প্রিয় গ্লাস যদি ভেঙে যায় তখন তার জায়গা হয় ডাস্টবিনে। কারণ প্রয়োজন ফুরিয়েছে বলে সে আর প্রিয় নাই। মানুষের সম্পর্কে বিশ্বাসটাও স্বচ্ছ কাচের মতো যা ভেঙে গেলে আবর্জনার স্তুপেই জমা হয়। তাই বিশ্বাসের মর্যাদা দিন, প্রিয়জন হবার জন্য আগে প্রয়োজন হউন, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে প্রিয় তালিকা থেকে নামটা কিন্তু বাদ যাবে।
  • মানুষ তার আপন মানুষের উপর জোর খাটাতে চায় সে ভাবে যে, এই মানুষকে আমি যাই বলি না কেন, যে-রকম ব্যবহার করিনা কেন সে কখনো আমাকে ছেড়ে যাবেনা। আবার মাঝে মাঝে অবহেলা করেও দূরে সরিয়ে দেয় কিন্তু সে একবারও ভাবে না তার মুখের এক চিলতে হাসি,ছোট্ট একটা শব্দ, সামান্য খোঁজ নেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। আসলেই আমরা দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝিনা। যে তোমাকে প্রকৃত ভালোবাসে সে কখনো বিনিময়ে কিছু চায়না শুধু তাকে অবমূল্যায়ন করলে সে কষ্ট পায় ঠিকই কিন্তু তোমার ভালোর জন্য গোপনে ঠিকই প্রার্থনা করে যায়।
  • তোমার কাছের মানুষকে অনেক গুরুত্ব দেবার পরেও সে তোমার প্রতি অনিহা বা আগ্রহ হারাতে পারে বা সে হয়তো ভাবে যে তুমি তার এই অনাগ্রহকে খেয়াল করছো না বা সে হয়তো তার যোগাযোগের পরিধি বাড়িয়েছে তাই আগের মতো তোমাকে প্রাধান্য দিচ্ছে না। তাই যেখানে তোমার গুরুত্ব কমতে থাকবে সেখানে তুমি নিরবে অবস্থান করো। কখনো বুঝতে দিওনা তার এই অনাগ্রহ তোমাকে পীড়া দিচ্ছে।
  • নিজের চোখে দেখা কোনো ঘটনা অনেক সময় ভুল ব্যাখা করা হয়,নিজের কানে শোনা কথাও অনেক সময় ভুল বুঝতে বাধ্য করে। তাই হটাৎ করে দেখা বা শোনা কোনো বিষয় নিয়ে হুটহাট মন্তব্য করা ঠিক নয়। আমাদের চোখ কানও ভুল করতে পারে এটা মাথায় রাখতে হবে। কারোর সম্পর্কে ভালো মতো জেনে মন্তব্য করাই শ্রেয়। অজান্তে কোনো ভুল সিদ্ধান্তের জন্য সারাজীবন কষ্ট করতে হয়।তাই আসুন আগে ভালো করে জানি বুঝি তারপর সিদ্ধান্ত নেই।
  • মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া সুখের স্মৃতি হয়তো মনে পড়ে না কিন্তু দু:খের প্রতিটি মুহূর্তের কথা মানুষের ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ে। চলতে পথে ঘটে যাওয়া নানান স্মৃতির ভিড়ে কিছু বেদনাবিধুর ঘটনা মানুষকে পিছনে ফিরতে বাধ্য করে। আমরা জানি মহান আল্লাহ পাক উত্তম পরিকল্পনা কারী তারপরও মেনে নিতে কষ্ট হয়। নিজেকে নিজেই সান্তনা দেই যা হয়েছে তা ভালোর জন্যই হয়েছে কিন্তু হৃদয়ে যে ক্ষত হয় সেটা উপশমের জন্য কোনো সান্তনার বাণী কাজে আসেনা।কেউ কেউ কষ্টের স্তুপের ভারে মাঝে মাঝে দিশেহারা হয়ে যায়।অনেকেই মানসিক ভারসাম্য রাখতে পারেনা। আসলে জীবনটাকে তখন বড়ো একটা বোঝা মনে হয়।
  • কিছু কিছু না বলা কথা অনুভূতির মাধ্যমে প্রকাশ করাটাও সৌভাগ্যের। এমন কাউকে জীবনে খুব প্রয়োজন যাকে মুখে বলতে হয়না সে অনুভবেই মনের কথা বুঝে।মানুষের নিজস্ব কিছু কথা এমন ভাবে হৃদয়ে লুকোনো থাকে যাকে টেনে বের করার জন্য পারফেক্ট কাউকে প্রয়োজন কিন্তু ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে কেউ কারোর জন্য পারফেক্ট না। তাই তো মানুষের কিছু অনুভূতি অসমাপ্ত থাকে যা কেউ কখনো জানেনা।
  • গাছের শেকড় যেমন মাটিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচে,মাটিও শেকড়কে আগলে রাখে।মানুষও এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।হয়তো কারোর স্বপ্ন মাঝপথে থেমে যায় আবার কারোর স্বপ্ন অংকুরেই হারিয়ে যায়।কেউ আবার আমৃত্যু শেকড়ের মতো আঁকড়ে থাকে। আসুন আমরা কারোর জীবনে আগাছা না হয়ে শেকড় হই যাতে আমরা আঁকড়ে ধরলে সে আমাদের আগলে রাখে।
  • বিশ্বাস অর্জন করার চেয়ে ধরে রাখা কষ্টের। নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করো যাতে বিশ্বাসের ভীত নড়বড়ে না হয়। বিশ্বাস হতে হবে কাচের মতো স্বচ্ছ ও ইস্পাতের মতো কঠিন। কথা দিয়ে কথা রাখা মানুষের নৈতিকতার প্রকাশ ঘটায়। কাউকে কোনো কথা দেবার আগে ভেবে নিন আপনি কথা রাখতে পারবেন তো? জীবন ক্ষণিকের তাই এমন কিছু করা উচিত যাতে মৃত্যুর পরেও মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
  • তোমাকে যদি কেউ সারল্য দেখায় সেটাকে তার দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করোনা। জেনে রাখো এই সহজ সরল মানুষই তোমার আপদে বিপদে পাশে থাকবে।তাই কারোর সরলতাকে দুর্বলতা না ভেবে সম্মান করো তাকে ভালোবাসো।
  • কোনো সম্পর্ক মূল্যহীন মনে করা ঠিক নয়, তুমি প্রতিটি সম্পর্কে মূল্যবান মনে করে সম্মান দাও তাহলে তুমিও সম্মান পাবে।
  • জীবনে পারফেক্ট সময় আর পারফেক্ট মানুষ পাওয়া সৌভাগ্যের। সময় তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যায় তাই সময়কে যথাযথ ব্যবহার করতে নিজেকেও পারফেক্ট হতে হবে। আর কেউ পারফেক্ট হয়ে আসেনা, নিজের কাজ,ব্যবহার দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারলেই তাকে পারফেক্ট মনে হয়।
  • কারোর সাথে প্রতারণা করে তুমি তৃপ্তির হাসি হেসো না, তোমার প্রতারণা সে ধরতে না পারলেও সৃষ্টিকর্তা ঠিকই দেখেন। কাউকে ঠকিয়ে অর্থসম্পদ গড়লে সে অর্থসম্পদ ভোগ করার ভাগ্য তোমার হবে কি না সেটা কি নিশ্চিত বলতে পারো?? ক্ষণিকের এই দুনিয়ায় আমরা সবাই অতিথি মাত্র তাই প্রতারণা না করে বিশ্বাসের মর্যাদা রাখো।
  • ধৈর্য্য, পরিশ্রম,নিষ্ঠা,একাগ্রতার সাথে অধ্যবসায় সাফল্যের উচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়। সফলতার জন্য নিজের আত্মবিশ্বাস, সততা,উপস্থিত বুদ্ধি সবটাই প্রয়োজন। কোনো কাজে অধৈর্য্য হয়ে ছেড়ে দিলেন তো হেরে গেলেন। তাই হতাশায় ডুবে না গিয়ে ধীরস্থির ভাবে এগিয়ে যান।
  • “সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে”এই প্রবাদ বাক্যটির অর্থ ছোটো বেলায় এতোটা বুঝতাম না এখন যেটা বুঝি। আসলেই তো এক টুকরো লোহাকে পানিতে ছেড়ে দিলে সে ঠিক ডুবে যায় কিন্তু এই লোহার সাথে যদি কাঠ বা অন্য কোনো উপাদান জুড়ে দেয়া যায় তাহলে পানিতে ভাসে। সৎ সঙ্গ মানুষকে আলোর পথ দেখায় কিন্তু অসৎ সঙ্গ মানুষকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। তাই বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটার উপর গুরুত্ব দেয়া উচিত। আপনার বন্ধুর ব্যবহারে আপনিও ভালো বা মন্দ মানুষ হিসেবে পরিচিত পান।
  • নিজের চেয়ে আপন কেউ নাই কেউ থাকবেও না।তাই নিজের ভালো নিজেকেই ভাবতে হবে।তুমি যাকে যতো বেশি দিবে সে ততো বেশি আবদার করবে।একটুখানি কম পরলেই তোমাকে ছেড়ে যেতে একটুও দেরি করবে না। মানুষ শুধু প্রয়োজন মেটাতে তোমাকে পাশে রাখবে, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেই টিস্যু পেপারের মতো ছুড়ে ফেলবে।তাই ছুড়ে ফেলার আগে নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করো যে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তোমাকে ছুড়ে ফেললেও তুমি ধুলোয় গড়াগড়ি যাবে না। বরং তুমি শক্ত হাতে সব মোকাবিলা করার জন্য নিজের প্রতি যত্ন নাও, নিজেকে ভালোবাসো,মনকে প্রফুল্ল রাখো।
  • আমরা বেশিরভাগ মানুষই জীবনে ভুল মানুষকে প্রায়োরিটি দেই।বাইরে থেকে তাদেরকে অনেক আপন ভাবি কিন্তু এসব মানুষগুলো বাইরে এক ভেতরে আরেক। যাদেরকে ভুলবশত প্রায়োরিটি দেই তারা আমাদেরকে ব্যবহার করে নিজেদেরকে এগিয়ে নেয়। আর যখন তার স্বার্থ পূরণ হয় তখন আমাদেরকে দোষ দিয়ে কেটে পড়ে। আর এটা যে প্রথম একজন করার পর আমরা থেমে যাই তা কিন্তু নয় একই ভুল আমরা বারবার করি কারণ আমাদের এটা সারল্য।আসলেই সহজ সরল মানুষের নিজেদের বুদ্ধিমান ভাবলেও কার্যক্ষেত্রে তারা বোকার পরিচয় দেয়। তাই জীবনে কাউকেই বেশি প্রায়োরিটি দিতে নেই, নিজের আত্মসম্মান নিয়ে ছুটেই চলাই জীবনের প্রকৃত অর্থ।
  • মানুষের সম্পর্ক নষ্ট হয় তৃতীয় পক্ষের মিথ্যাচারের জন্য। আমরা মাঝে মাঝে অন্যের কথায় বা মিথ্যা প্ররোচনায় আপন মানুষকে ভুল বুঝে দূরে সরে যাই। আসলে আমাদের কাছে তৃতীয় ব্যক্তি এমন ভাবে কৌশলে বিভিন্ন মিথ্যা কথা ইনিয়েবিনিয়ে বলে যে আমরা সেটাকে সত্য ভাবি আর মাঝখান থেকে সম্পর্ক নষ্ট হয় আমাদের আর তৃতীয় পক্ষ তৃপ্তির হাসি হাসে এবং আমাদের সাথে এমন ভাবে মিশে থাকে যে আমরা ভাবি সেই ঠিক আর আগে থেকে যার সাথে সম্পর্ক ছিলো সব মিথ্যা। বাবা-মা,ভাই-বোন,স্বামী-স্ত্রী,প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধব এদের মাঝে যেমন মধুর সম্পর্ক থাকে তেমনি মান অভিমান, তর্কবিতর্ক হতেই পারে আর এর মাঝে যদি তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পরে তাহলে সম্পর্কে দুরত্ব সৃষ্টি হয়। তাই আমাদের আপন মানুষের নিন্দা বা সমালোচনা কেউ করতে চাইলে তাকে সেখানেই থামিয়ে দিন, ভেবে দেখুন আজকে যে অন্যের কথা আপনাকে বলছে আগামীকাল যে আপনার কথাও তাদের বলবে না সেটার কোনো নিশ্চয়তা নাই। তাই নিজেদের সম্পর্ক সুন্দর রাখতে ভালোবেসে আগলে রাখতে কোনো তৃতীয় পক্ষকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজেদের সম্পর্ক অটুট রাখি।

Leave a Comment