আপনি যে কাজই করুন না কেনো
তার সমালোচনা করার লোকের অভাব নেই
এই ধরুন, আপনি কম কথা বলেন
সবার সাথে যখন তখন মিশতে পারেন না
প্রয়োজন ছাড়া তেমন কথা বলেন না
তখন তারা বলবেন ইস কি অহংকারী
দেমাগে মাটিতে পা পরে না।
আবার আপনি যদি খুব মিশুক হন
ধনী গরীব সব মানুষের সাথে
যখন তখন কথা বলেন বা
তাদের আপদে বিপদে পাশে থাকেন
তখন ঐ লোকেরাই বলবেন
ছিঃ নিজেকে একেবারে সস্তা বানিয়েছে
জাতকাল কিছুই মানে না
আসলে ব্যক্তিত্ব বলতে কিছুই নেই।
এই ধরুন আপনি একটু আধটু লেখালেখি করেন
পরিচিত মহলে নিজের লেখালেখির কথা আলাপ করেন
তখন সমালোচকেরা বলবেন আপনার না কি ভিমরতিতে ধরছে
ঘটে যেই না বিদ্যা বুদ্ধি আছে
সে আবার লেখেলেখি করে লেখক হতে চায়।
ধরুন আপনি দেশপ্রেম নিয়ে কবিতা বা গল্প লিখলেন
নিজের লেখাটি আপনার টাইমলাইনে শেয়ারও করলেন
তখন তারা বলবেন নিজেকে জীবনানন্দ দাস মনে করে
ছাইপাস কি লিখে তা আবার ফেসবুকে পোস্ট করে
ঢং দেখে আর বাঁচি না।
একদিন রোমান্টিক বা বিরহ নিয়ে লিখলেন
তখন তারা বলবেন ইস কতো বড়ো কবি হইছে
নিজেকে রবীন্দ্র,নজরুল,সুনীল ভাবছে
নিজের ভেতরে শূন্য সে আবার কবি হতে চায়।
আপনি কোনো বিদ্রোহ টাইপের লেখা লিখলেন
কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে কলম চালালেন
তারা বলবেন বিদ্রোহ কি বুঝেই না
সে আবার নজরুলের বিদ্রোহী ভাব ধরছে।
আপনার হয়তো গ্রাম বাংলার কথা লিখতে ইচ্ছে হলো
আর আপনি লিখেও ফেললেন
তখন তারা বলবেন আহারে কতো পল্লীপ্রেম
কিছু বুঝে না কিছুই জানে না
সে কিনা পল্লী কবি জসিম উদ্দীনের
লেখার ধাচে লিখতে চায়।
আবার ছন্দময় কোনো ছড়া লিখলেন
সেই ছড়া পড়ে তারা উপহাস করে বলবেন
ছন্দের ছ বুঝে না সে আবার ছন্দ মিলাতে যায়
সত্যেন্দ্রনাথ হওয়ার শখ হইছে বুঝি?
এইতো গেলো আপনার লেখালেখি নিয়ে সমালোচনা
এছাড়াও আরোও অনেক কিছু আছে
যা নিয়েও তাদের কথা বলা চাই।
আপনার ইচ্ছে হলো আপনি একটু সাজগোজ করবেন
হয়তো ঘরেই সেজেগুজে বসে আছেন
তারা কেউ আপনাকে এই অবস্থায় দেখে
বলবেন ভাব দেখে আর বাঁচি না
যেই না চেহারা সে আবার সেজেছে।
এইতো গেলো আপনার নিজের কাজ নিয়ে সমালোচনা
আরোও আছে তাদের ঝুলিতে
আপনি ধর্মকর্মে বিশ্বাসী
আর সে অনুযায়ী নিজ ধর্ম পালনও করেন
আবার অন্যদেরও ধর্মীয় বিষয় বলেন
কিন্তু সেখানেও তাদের আপত্তি
তারা তখন বলবেন জানেনা বুঝেনা ধর্ম নিয়ে কথা বলে।
আপনি অসহায় মানুষের পাশে থাকলেন
কারোর বিপদে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখলেন
তখন সেই তারা বলবেন ইস নিজেকে মাদার তেরেসা ভাবছে।
আচ্ছা এখন তাহলে আপনি কি করবেন?
সব বাদ দিয়ে তাদের কথামতো চলবেন?
না কি ন্যায়ের পথে থেকে
নিজের ইচ্ছে পূরণে এগিয়ে যাবেন?
সমালোচকের ভীড়ে নিজের অস্তিত্ব বিলিয়ে দিবেন কি?






