আজিজুন নাহার আঁখি

মেঘ রোদ্দুরের খেলা

— এই যে মেঘ বালিকা, কোথায় তুমি,পাচ্ছিনা কেন দেখা?
*** কে কে রোদ্দুর? অসময়ে ডাকছো কেনো?
—না ডেকে উপায় আছে? এই ধরণী তোমার জন্য হচ্ছে দিশেহারা।
*** কি বললে আমার জন্যে দিশেহারা?
—- হ্যাঁ গো হ্যাঁ , আমার এই তাপদাহে পুড়ছে আজ সবই।তাই তো তোমার জলে সিক্ত হতে ব্যকুল।
***কি বললে সিক্ত হতে ব্যকুল? কিন্তু আমি তো এখন অবসরে , কতো কি ভাবছি আনমনে । না গো না এখন আমার সময় নেই।
—আরে শোনো শোনো মেঘ বালিকা আমার রোদের প্রখরতায় শুনছি সবার তিরষ্কার। বন্ধু আমার আর থেকো না দূরে।
*** আমি যখন নিরবধি দিব জল ঢেলে। তখনও আমায় শুনতে হবে নানান কটুকথা।
— তৃষ্ণায় যে কাতর সবে, তোমাকে ডাকছে হাজার জনে। অভিমানে রয়েছো কি দূরে?
*** না না অভিমান করিনি কারোর সাথে।
বর্ষা এলেই থাকব সারাক্ষণ।
—- বর্ষার জন্যে করছো কেন দেরি? আমার পাশে এসো না গো তাড়াতাড়ি?
***তোমার ঢং দেখে আর বাঁচিনা। আমি হলাম আঁধারে থাকি মিশে আর তুমি আলোয় আলোয় ভরা। আর তুমি কি না বলছো ডাকছে আমায়?
— আলোয় ভরা জীবন আমার সবই আছে ঠিক কিন্তু সেই আলোর তীব্র দাহে তৃষ্ণায় ধুঁকছে কতো প্রাণ।
*** আমার প্রতি ভালোবাসা একটুক্ষণের জন্যে। নিরবধি বৃষ্টি হলেই দুহাতে ঠেলতে থাকে সবে।
—না গো তোমার প্রতি ভালোবাসা পাহাড় সম সে কি বুঝো না?
*** না বুঝিনি তো কভু
— তাহলে শোনো তোমায় নিয়ে কতো গান,কবিতা গল্প,ছবি আছে।সে কি এমনি এমনিই। তোমাকে ভালোবসে বলেই তো রচিত হয়েছে প্রেমের হাজারো উপাখ্যান।
***তোমাকেও তো ভালোবাসে অনেক।
—আমার তীব্র তাপদাহে হচ্ছে সবাই কাতর,এসো না গো বন্ধু আমার শান্ত করতে।
***যখন তখন কি আসা যায়?
— এই যে সবাই ডাকছে তোমায়,আমি অনুরোধ করছি তবু্ও আসবে না?
***তোমার আলোয় ধরণী কতো সুন্দর দেখাচ্ছে, আর তুমি আমাকে আসতে বলছ?
—-আমিও আছি তুমিও আসো দেখবে মজা হবে কতো।মেঘ রোদ্দুরের এই খেলায় শান্তি পাবে সবাই।
*** হুম আসছি এবার ঝনঝনিয়ে বাদলধারা হয়ে।কথা দাও তুমি তখন থাকবে কাছাকাছি।
—- ধন্য হলাম বন্ধু ও গো তোমার কথা শুনে। শান্ত করো সবার প্রাণ শান্ত করো ভূবন।আমিও আলোয় আলোয় ভরে দিতে ফিরব যখন তখন।

Leave a Comment