আজিজুন নাহার আঁখি

আজ ছুটির দিন তাই গতকালই অয়ন বলেছিলো ভোর বেলায় আমি বাড়ি থেকে বের হতে পারব কি না। আমি কিছু না ভেবেই হ্যাঁ বলেছিলাম। কিন্তু তখন বুঝিনি এতো কুয়াশার মাঝেই ও ভোর বেলায় আসবে।

আগামী মাসের ১০ তারিখে আমাদের বিয়ের তাই অয়নের সাথে বাইরে ঘুরতে যাওয়ায় কারোর আপত্তি নেই। তবুও আমি ভাবীকে বলেছিলাম।

ফজরের নামাজ পরে আমি অপেক্ষা করতেছি ঠিক তখনই অয়নের সাইকেলের বেল বেজে উঠে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি অয়ন সাইকেলেই বসে আছে।

আচ্ছা এতো কুয়াশায় চারিদিকে কিছুই তো দেখা যাচ্ছে না এর মধ্যে বাইরে না গিয়ে চলো বাড়ির ভিতরে যাই।

আরে নাহ বাড়িতে তো সারাজীবনই থাকবো আজ চলো প্রকৃতির স্নিগ্ধ আবেশে হারিয়ে যাই।মিতুও আর কথা না বাড়িয়ে অয়নের সাইকেলের পিছনের ক্যারিয়ারে বসে। আজ অয়নের সাইকেল যেনো পঙ্ক্ষীরাজ ঘোড়ার বেগে ছুটে চলেছে। কুয়াশার হিমেল হাওয়ার স্পর্শ যেনো ওদেরকে অনাবিল শান্তি এনে দিয়েছে।

সাইকেল থেকে নেমে ওরা দুজনে নদীর পাড়ে এসে দাঁড়ায়। মুখে কুয়াশার বিন্দু বিন্দু ফোঁটায় মিতুকে অসাধারণ লাগছে। অয়ন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মিতুর দিকে।

এই যে আজ যদি এতো দেখো ভবিষ্যতে কি দেখবে?

অয়ন কোনো কথা না বলে মিতুর ভেজা কপোল আলতো করে ছুঁয়ে দেয়।মিতুর তনুমনে এক স্বর্গীয় অনুভূতি হয়। কখন যে অয়নের কাঁধে মাথা রেখেছে খেয়ালই করেনি। অয়ন আর মিতু প্রকৃতির স্নিগ্ধ আবেশে ভালোবাসাময় সময় পার করে।

Leave a Comment