রূপা ঘুমের ঘোরে ডাকছে আনিস আনিস দাঁড়াও প্লিজ যেওনা। হটাৎ করে পিছন থেকে রূপার মুখ চেপে ধরে।রূপা মুখের উপর থেকে হাত সরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখে আবির দাঁড়িয়ে আছে।
আচ্ছা এতো রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে তুমি কাকে ডাকছিলে? তোমার জন্যে আমার ঘুম ভেঙে গেলো। চলো তো এখন, না ঘুমালে সকালে উঠে অফিসে যাবো কিভাবে? রূপার কানে আবিরের কোনো কথা যায়নি। তখনও এক দৃষ্টিতে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে।
এবার আবির রূপাকে হাত ধরে রুমে এনে শুইয়ে দেয়। দুজনেই ঘুমিয়ে পরেছে ঠিক তখন ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠে। রূপা ফোন ধরে হ্যালো বলতেই অপর প্রান্ত থেকে আনিস বলে একটিবার বাইরে আসলে কি হতো? আমি একবার দেখেই চলে যেতাম। আমি তোমার বাসার সামনেই আছি।
আনিস দাঁড়াও আমি আসছি।রূপা দরজা খুলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আনিসকে দেখেই হাত নাড়ে। দরজা খুলে যেই বের হবে তখন আবির এসে পিছন থেকে টেনে ধরে। এই রূপা কি হচ্ছে এসব। রাতে কি ভূত এসেছে?
না ভূত আসেনি। ওখানে আনিস এসেছে। আমাকে ফোন করে যেতে বলেছে।
কি আবোল তাবোল বলছো? কে আনিস? সে কোত্থেকে আসবে? দেখো রাস্তায় কেউ নাই। তুমি স্বপ্ন দেখছিলে হয়তো।
রূপার তখনো মনে হচ্ছিলো আনিস কোথাও আছে। আবির রূপাকে হাত ধরে রুমে নিয়ে আসে। এবার লক্ষী মেয়ের মতো ঘুমাও। আবারও ওরা ঘুমিয়ে পরে।আবারো ফোনের শব্দে রূপা ফোন ধরতেই শুনতে পায় রূপা তুমি এলে না। তোমাকে দেখতে এসে রোড এক্সিডেন্ট করে——। আর কিছু না শুনেই রূপা কাঁদতে কাঁদতে বলে আনিস কিচ্ছু হবে না তোমার আমি।আসছি আসছি——-। তখন এলার্ম ঘড়িটা বেজে উঠে।
ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখে কোথাও কোনো রক্তের দাগ আছে কি না।
আবিরকে কফি খেতে দিয়ে রাতের ঘটনা জিজ্ঞেস করে। আবির তো অবাক বিষ্ময়ে রূপার দিকে তাকায়। তুমি এসব কি বলছো? তুমি তো সারারাত আমার হাতের উপর ঘুমিয়েছিলে।একবারের জন্যেও জাগোনি।
কিন্তু বাসার সামনের রাস্তায় এক্সিডেন্ট?
আরে পাগলী তুমি হয়তো স্বপ্ন দেখেছো।যাও যাও তাড়াতাড়ি রেডি হও।তোমাকে অফিসে দিয়ে আমি অফিসে যাবো।
রূপার মনে রাতের ঘটনা সত্য মনে হতে থাকলো? কিন্তু রাতে যে কে ফোন করেছিল সেই নামটা মনে করতে পারছেনা।






