আজিজুন নাহার আঁখি

আজ ক্যাফেটেরিয়াতে বিকেলে আসবে কিন্তু এ কথা বলেই আবির বাইকে স্টার্ট দেয়। প্রত্যাশা ওর চলে যাওয়ার সাথে সাথে নিজেও হলে ফিরে যায়।

প্রত্যাশা গাঢ়ো নীল ব্লাউজের ধবধবে সাদা রঙের শাড়ি পড়ে খোঁপায় কদমফুল গুঁজে সাড়ে চারটায় এসে ক্যাফেটেরিয়ার বাইরে অপেক্ষা করছে।

প্রত্যাশাকে সাদা পরীর মতো লাগছে।প্রত্যাশা মনে মনে ভাবছে আবির হটাৎ আমাকে এখানে ডাকলো কেন?

এমন সময় আবির প্রত্যাশার পিছনে এসে বাইক থামায়।

সরি মেডাম দেরি হয়ে গেলো। চলো ভেতরে গিয়ে বসি। ওরা ক্যাফেটেরিয়ার উত্তরের কোণায় একটা টেবিলে মুখোমুখি বসলো।

আবির স্ন্যাকস ও কফির অর্ডার করলো। ইস যে কজের জন্য তোমাকে ডেকেছি সেটাই ভুলেই গেছি।

তুমি একটু বসো আমি এক্ষুণি আসছি। আবির পকেট থেকে একটা এনভেলাপ বের করে প্রত্যাশার হাতে দেয়।

কি আছে এতে?

খুলে দেখো তোমার জন্য সুখবর আছে।

এনভেলাপ খুলে প্রত্যাশার চোখে জল চলে এসেছে।

তুমি কাঁদছো?

আমার এ কান্না কষ্টের নয় এ যে আমার সুখের। স্কলারশিপ পেয়েছো আর আমি খুশি হবো না?

আচ্ছা আমায় ভুলে যাবেনা তো?

আবির প্রত্যাশার হাতে আলতো করে ছুঁয়ে বলে দূর পাগলী নিজেকে কি ভুলে থাকা যায়? আর আমি তো কিছুদিনের মধ্যে তোমাকে নিয়ে যাবো।

ওয়েটার আসায় আবির হাত সরিয়ে নেয়। কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে প্রত্যাশার মুখের উপর এলোমেলো চুল আলতো করে সরিয়ে দেয়। প্রত্যাশাও আবিরের স্পর্শে কোথায় যেনো হারিয়ে যায়।

ক্যাফেটেরিয়ার বাইরে এসে আবির প্রত্যাশাকে বাইকে চড়িয়ে বৃষ্টি ভেজা রাস্তায় চলতে থাকে।

পেছন থেকে প্রত্যাশা আবিরের কাঁধ ছুঁয়ে বসে আছে এমন সময় একটা গাড়ির সাথে মুখোমুখি ধাক্কা লেগে ওরা খাদে পরে যায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে ওরা ছিটকে পড়লেও ওদের তেমন ক্ষতি হয়নি।

দুজনেই খাদের মধ্যে একে অপরের হাত ধরে উঠে দাঁড়ায়। প্রত্যাশার সাদা শাড়ি মাটি কাদায় মাখামাখি হয়ে গেছে।আবির পকেট থেকে টিস্যু বের করে প্রত্যাশার গায়ে লেগে থাকা কাদামাটি যত্নে মুছে দেয় আর এসময় আবিরের উষ্ণ নি:শ্বাসের ছোঁয়ায় এক অসাধারণ শিহরণে প্রত্যাশা আবিরের বুকে মুখ লুকোয়।

Leave a Comment