আজিজুন নাহার আঁখি

আমার বাড়ির উঠোনের চারদিকের
বাহারি গাছগুলো কেমন ধূসর হয়েছে
একটু বৃষ্টির জন্য কতো যে প্রতীক্ষা
কখন নামবে ঝুম বৃষ্টি
ভিজিয়ে দিবে মূল ,পাতা, শাখা, প্রশাখা
বৃষ্টির জলের কতো যে আনন্দ
তা বৃষ্টিস্নাত গাছগুলোকে না দেখলে বুঝাই যাবেনা।

ছাদ বাগানে টবে লাগানো
গোলাপ গাছে কলি এসেছে
ফুলগুলো পাপড়ি মেলেছে আর
অপেক্ষা করছে বিন্দু বিন্দু শিশিরের
ভোরে গোলাপের পাপড়িতে শিশিরের
বিন্দু বিন্দু ফোঁটায় কি যে সুন্দর লাগছে
নয়নভরে না দেখলে আফসোস করতে হবে।

জবা ,গোলাপ,বেলি, টগরসহ আরও
কতো ধরণের ফুল ফুটেছে বাগানে
ভ্রমরের আনাগোনা বেড়েই চলেছে
ফুলগুলো তো ভ্রমরের অপেক্ষায় আছে
আজ ফুল আর ভ্রমরের মহা সন্ধিক্ষণ চলছে
ফুলগুলো কি সুন্দর হাসছে ভ্রমরের আলিঙ্গনে
তা না দেখলে বুঝাই যাবে না ওদের কতো সুখ।

শীতকালে পাহাড়গুলো কেমন মলিন দেখাচ্ছে
মনে হচ্ছে কী যেনো হারিয়ে গিয়েছে
ঝর্ণাধারা আর সুমধুর ছন্দে বইছে না
বর্ষাকাল এলেই পাহাড়গুলো হাসিতে নেচে উঠে
তার বুক চিরে ঝর্ণাধারা সুমধুর ছন্দে বয়ে যায়
পাহড়ের বুকে ঝর্ণাধারার কি অপরূপ লীলা
তা না দেখলে বুঝাই যাবেনা কি সে অপরূপ দৃশ্য।

শুকনো মৌসুমে নদী যখন শুকিয়ে যায়
নদীর পানে তাকালেই বুঝা যায় তার হাহাকার
আর নদীতে যখন জোয়ার আসে
একূল ওকূল নতুন পানিতে হয় টইটুম্বুর
দেখে মনে হয় নদী প্রাণখুলে হাসছে
ভরা বর্ষায় নদীর বুকে জলের যে
কলকল শব্দ ,ঢেউয়ের দোলা ,পালতোলা নৌকা
তা না দেখলে বুঝাই যাবে না নদীর সৌন্দর্য্য তার জলে।

খরার সময়ে ফসলের মাঠ হয় চৌচির
কৃষক কৃষাণীর বুকে হাহাকার আর আর্তনাদ
যখন ঝুম বৃষ্টির জলে সব ভিজে যায়
তখন কৃষক কৃষাণীর মুখে হাসি ফুটে
ফসল গুলো গাঢ় সবুজ রঙে সাজে
আর এই অপরূপ দৃশ্য দেখে মনপ্রাণ ভরে যায়।

আসলে যাকে যে রূপে মানায়
তাকে তেমন না দেখলে ভালো লাগেনা
সময়মতো যা প্রয়োজন তা না পেলে
সবই মলিন হয়ে যায়
গাছ,ফুল,পাহাড়,নদী, ফসলের মাঠের মতো
আমিও অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি
তোমাহীনা বিনিদ্রায় কাটছে প্রতি প্রহর
কখন দেখবো তোমায় নয়ন ভরে
আলিঙ্গনে বাঁধবে আমায় বাহুডোরে।

Leave a Comment