অহনা অনন্যকে নিয়ে বাগানে দোলানায় দোল খাচ্ছে আর এমন সময় বাইরে তাকিয়ে দেখে কয়েকজন মিলে প্লাবনকে কোলে করে আনতেছে।
অহনা দৌড়ে কাছে গিয়ে দেখে প্লাবনের জ্ঞান নাই। কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি বিছানায় শুইয়ে মাথায় পানি ঢালে। কিছুক্ষণ পরে প্লাবনের জ্ঞান ফিরে কিন্তু প্রচন্ড পেট ব্যথায় সে কাঁতরাতে থাকে। রুস্তম আলী তাড়াতাড়ি ডাক্তার নিয়ে আসে। ডাক্তার কতগুলো টেস্ট আর কিছু ঔষধ লিখে দেন আর বলেন আজ তো রাত হয়ে গেছে আগামীকাল সকালে উনাকে শহরে নিয়ে গিয়ে দ্রুত টেস্ট গুলো করাতে হবে।
অহনা ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে। ডাক্তার সাহেব ভয়ের কিছু নাই তো?
আগে টেস্টের রিপোর্ট দেখি।টেনশনের কিছু নাই অসুখ আছে তার চিকিৎসাও আছে।
অহনা আমার কিচ্ছু হয়নি। সকাল হলে দেখবে আমি দিব্যি সুস্থ হয়ে গেছি। কোনো টেস্ট করাতে হবে না।
অনন্যকে ঘুম আনিয়ে প্লাবনের খাটের এক কোণে শুইয়ে অহনা সারারাত প্লাবনের মাথার কাছেই বসে থাকে। মাঝ রাতে প্লাবনের ঘুম ভেঙে গেলে অহনাকে তার হাতে ঘুমাতে দেখে আবার ঘুমিয়ে যায়।
প্লাবনের গায়ে আবার জ্বর এসেছে আর পেটের ব্যথাও কমছে না তাই সকাল হতেই অহনা রুস্তম আলীকে বলে শহরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে। আমি অনন্যকে খাইয়ে দিচ্ছি আর দিনের খাবার তৈরি করে রেখে যাচ্ছি হেনা ঠিক সামলাতে পারবে।
আচ্ছা আপামণি আমি গাড়ি নিয়া আসি আপনেরা গুছিয়ে নেন।
অহনা প্লাবনকে তাড়া দেয় কিন্তু প্লাবনের শরীর এতো দুর্বল যে সে যেতে চায় না।
এখানে বসে কি দুর্বলতা সারবে? তাড়াতাড়ি চলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় হলেই সঠিক চিকিৎসায় তুমি সুস্থ হয়ে ওঠবে।
সকাল দশ টার মধ্যে ওরা হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছলো।
প্লাবনের শারীরিক অবস্থা অবনতি হচ্ছে। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে আর হাসপাতালে এডমিট করা হয়েছে।
একদিকে প্লাবন হাসপাতালে ভর্তি আরেকদিকে অনন্যকে হেনার কাছে রেখে অহনা টেনশনে অস্থির হয়ে গেছে।
এরই মাঝে প্লাবন কয়েকবার বমি করেছে।প্লাবনের অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তার দ্রুত ঢাকায় নিতে বললেন।
অহনা ছাড়া প্লাবনের আর কেউ নেই তাই সব সিদ্ধান্ত অহনাকেই নিতে হচ্ছে। প্লাবনের এই করুণ অবস্থা দেখে অহনা চোখের জল ধরে রাখতে পারছে না আরেক দিকে অনন্যকে নিয়েও টেনশনে আছে।
যেহেতু ঢাকা যেতে হবে সেহেতু অহনা বাসায় ফিরে অনন্যর সব কিছু গুছিয়ে হেনাকে সহ হাসপাতালে চলে আসে।
রুস্তম আলী বলে আপমণি চিন্তা কইরেন না ঢাকায় তার বোনের বাসায় হেনা অনন্যকে নিয়ে থাকবে সেটা আমি ব্যবস্থা করে দিব।






