আজিজুন নাহার আঁখি

পুনর্জন্ম পর্ব ৪

আজ শুক্রবার অহনার পাঠশালা ছুটি তাই হেনাকে সাথে নিয়ে সকালে হাঁটতে বের হয়েছে। প্লাবন রুস্তম আলীকে সাথে নিয়ে বাজারে গেছে।

অহনারা হাঁটতে হাঁটতে নদীর ধারে চলে এসেছে। এমন সময় এক জেলের কান্নার শব্দ। হায় আল্লাহ বাচ্চাটা মরেনি এখনো বেঁচে আছে। কান্নার শব্দে অহনা আর হেনা এগিয়ে গিয়ে দেখে ৫/৬মাস বয়সী একটা শিশু বাচ্চাকে কোলে নিয়ে জেলে আদর করছে।

কি হয়েছে ভাই? আপনার সন্তান কি অসুস্থ?

এইটা আমার সন্তান না। সম্ভবত বন দস্যু ডাকাতরা ডাকাতি কইরা যাওনের সময় বাচ্চাটাকে ফালাইয়া দিছে। আল্লাহ পাক জানে কোন মায়ের নাড়িছেঁড়া ধন। এই বাচ্চাটাকে নিয়া এখন আমি কি করি? ডাকাতদের কেউ জানলে তো আমারও বিপদ এই বাচ্চাটারও বিপদ।

ভাই বাচ্চাটাকে আমারে দেন আমি ওরে মায়ের ভালোবাসা দিয়া আগলে রাখব। কোনো অযত্ন হতে দিব না।

পেছন থেকে হেনা, আপামণি কি বলছেন এসব? ভাইজানের কাছে না শুইনা কার না কার বাচ্চা নিবেন?

ও যার বাচ্চাই হোক আগে ওর জীবন তারপর অন্যকিছু ভাবতে হবে।

দেনতো ভাই আমি ওকে নিয়ে যাচ্ছি।

সকালে রাস্তাগুলো ফাঁকা তাই শিশুটিকে নিয়ে আসতে কোনো সমস্যা হলো না। বাচ্চাটা ঘুমিয়ে আছে তাই কেউ কিছু বুঝতে পারেনি। বাচ্চাটাকে কোলে করে সরাসরি নিজের রুমে চলে এলো।

গায়ে কাদামাটি লেগে আছে। কি সুন্দর দেখতে ছেলেটি। অহনা ওকে দেখেই নাম ঠিক করে দিলো অনন্য। হুম আজ থেকে ওর নাম অনন্য।

এদিকে প্লাবন বাজার থেকে ফিরে অহনার খোঁজ করতে রুমে এসে দেখে অহনা শিশুটিকে নিয়ে ব্যস্ত।

এই যে শোনো আমার বাবুটার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। এতোক্ষণ কেঁদেছে আমি একটু শরবত করে চামচ দিয়ে খাইয়েছি।

আচ্ছা এটা তোমার বাবু মানে? কোত্থেকে উদয় হলো?

যেখান থেকেই উদয় হোক ও এখন আমার বাবু আর ওর নাম অনন্য।

প্লাবন কিছুই বুঝতে পারছে না।

হেনা এসে সব খুলে বলে।

অহনা শোনো বাচ্চাটার বাবা মা নিশ্চয়ই অনেক খোঁজ করতেছে। এভাবে অন্যের বাচ্চা কিভাবে আটকে রাখবে?

আমি আটকে রাখছি না তো ওকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন দিচ্ছি।

ঠিক আছে আমি থানায় কথা বলে দেখি কেউ খোঁজ করেছে কি না। থানার পারমিশন ছাড়া এই বাচ্চাটাকে রাখলে ওরও বিপদ আমাদেরও বিপদ।

না আমি ওকে থানায় দিতে পারব না।

আচ্ছা না দিলে আগে চলো তো যাই। দেখি উনারা কি বলেন?

প্লাবন থানায় গিয়ে সব খুলে বললো।

থানার ওসি সাহেব বললেন হ্যাঁ গতকাল আমাদের এলাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি রাস্তায় ডাকাতি হয়েছে যেখানে গাড়ির চালক স্পট ডেথ আর যাত্রীদের আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা এদের সম্পর্কে আর বিশেষ কিছু জানিনা। আর বাচ্চাটা কি তাদেরই সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। আচ্ছা যদি আপনাদের কাছে আমরা বাচ্চাটার থাকার পারমিশন দিচ্ছি কিন্তু যদি ওর পরিবার ওকে খুঁজতে আসে তাহলে তখনই ফেরত দিতে হবে।

ঠিক আছে আমরা রাজি।

অহনা আর প্লাবন বাচ্চাটিকে নিয়ে ঘরে ফিরে।

অহনার আদর যত্ন দেখে বুঝাই যায় না যে বাচ্চাটা ওর নয়। বাচ্চাটির হাসিমাখা মুখ আর মায়াবী চাহনী দেখে প্লাবনও মুগ্ধ। বিশেষ করে বাচ্চাটির গলায় যে একটা কালো তীল আছে সেটা আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে ঠিক ইরার।মতো। অনেক দিন পরে প্লাবনের ইরার কথা মনে পরলো।

অনন্যর মুখে দুই একটা বুলি ফুটছে। সে অহনাকে দেখলে মা মা বলে আর অহনাও এতে খুব খুশি হয়।

ধীরে ধীরে বছর পেরিয়ে গেলো। বাচ্চাটির আর কেউ খোঁজ করেনি তাই অহনা আর প্লাবন হয়ে গেলো অনন্যর মা-বাবা। প্লাবন ভাবছে অহনাকে এখন সরাসরি প্রস্তাব দিবে। অনন্যর জন্য নতুন খেলনা আর জামাকাপড় কিনে আনে। বাসায় ফিরে আজ অহনাকে কথাটা কিভাবে বলবে সেটা ভাবতে থাকে। কয়েক দিন ধরে প্লাবনের রাতে জ্বর আসে আবার পেটেও ব্যথা করে। কাজের চাপে ডাক্তার দেখানোর সময় পায় না। আজ শরীরটা বেশি খারাপ লাগছে। তাই তাড়াতাড়ি সব কাজ গুছিয়ে বাসার জন্য বের হওয়ার সময় মাথা ঘুরে পরে যায়।

Leave a Comment