আজিজুন নাহার আঁখি

রা্কিব সাহেব নামকরা ব্যবসায়ী। আজ বাংলাদেশ তো কাল কানাডা পরশু সিঙ্গাপুর। খুব ব্যস্ততার মধ্যে তার সময় পার হয়। সংসারে স্ত্রী সীমা এক ছেলে আর এক মেয়ে। ছেলে সৈকত এবছর বুয়েট থেকে স্কলারশিপ নিয়ে কানাডা গেছে। আর মেয়ে মেঘ এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের ছাত্রী। মেঘ ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করতো তাই বাইরে একা একা চলাফেরা করতে স্বস্তি পায়না। রাকিব সাহেব অবশ্য মেয়ের জন্য আলাদা গাড়ি কিনেছেন। আর মেঘ ঐ গাড়িতে করেই ভার্সিটি আসা যাওয়া করে।

অর্থ সম্পদে পরিপূর্ণ রাকিব সাহেবের জীবন। নিজেও অনেক পরিশ্রম করেন। পনেরো দিন পরে রাকিব থাইল্যান্ড থেকে বাসায় ফিরেছে। মেঘ সেই ক্লাস সেভেন থেকে বাসার বাইরে হোস্টেলে থেকেছে তাই বাবা মায়ের প্রতি মাঝে মাঝে অভিযোগ করে। বাবা মা অবশ্য মেয়েকে অনেক আদর করে আর বলেন তোমার ভালোর জন্যেই তো ক্যাডেটে পড়িয়েছি। বাবার সাথে খুনসুটি করে ঘুমিয়ে পড়ে।

ভার্সিটিতে মেঘের ক্যাডেট কলেজের ৪/৫ জন বন্ধু ছাড়া আর নতুন কোনো বন্ধু নাই। মেঘ দেখতে অনেক সুন্দরী তাই বিভিন্ন ছেলে তার কাছে ঘেসতে চায় কিন্তু মেঘ তাদের এড়িয়ে চলে।ওদের ক্লাসের নিলয় তো সেদিন বলেই ফেলল তুমি এতো সুন্দরী কিন্তু তোমার নাম মেঘ রেখেছে কেন সে বুঝতে পারছি। তুমি মুখ গোমড়া করে থাক তাই তোমার নাম মেঘ রেখেছে তাই না?

মেঘ নিলয়ের কথার কোনো উত্তর না দিয়েই চলে আসে। মেঘের মা বলেছে মেঘের জন্মের সময় আকাশ কালো মেঘে ঢাকা ছিলো তাই ওর নাম মেঘ। দেখতে দেখতে ভার্সিটিতে এক বছর পার হয়ে গেল।

আগামীকাল পহেলা ফাল্গুন তাই মেঘের বান্ধবীরা সবাই মিলে চারুকলায় যাবে। মেঘ প্রথমে রাজি হচ্ছিল না কিন্তু সবার অনুরোধে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। রাকিব সাহেব ব্যবসায়ীক কাজে সিঙ্গাপুর গেছেন। বাসায় মেঘ আর ওর মা।

টেবিলে বসে মেঘ পড়তেছে ঠিক তখন ওর মোবাইলে রিং বাজতে থাকে। মেঘ কে ফোন করেছে সেটা না দেখেই ফোন রিচিভ করে হ্যালো বলে। আর অপর প্রান্ত থেকে ছেলে কণ্ঠে বলে উঠে আপনি ব্যালেন্স চেক করুন আপনার ফোনে ২০০ টাকা রিচার্জ হয়েছে। মেঘ অপ্রস্তুত হয়ে যায়। মেঘ বলে আচ্ছা আপনি কি লোডের ব্যবসা করেন? আমি তো কোনো লোড করিনি কারণ আমার ফোনে বাবা রিচার্জ করে দেন।

নো ম্যাম আমি লোডের ব্যবসা করিনা। ভুল করে ঐ লোক আমার নাম্বারে টাকা না দিয়ে আপনার নাম্বারে দিয়েছে। এখন আপনি আমাকে আমার টাকা ফেরত দেন।

আচ্ছা মুশকিল তো আমি এখন কিভাবে দিব? আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল সকাল ১০ টার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

মেঘ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে মাকে বলল মা আমাকে শাড়িটা পরিয়ে দাও। মেঘের মতো মেয়ের কথা শুনে অবাক। কি তুমি শাড়ি পরবে?

হ্যাঁ মা আজ পহেলা ফাল্গুন তাই সব বান্ধবীরা শাড়ি পড়ে চারুকলায় যাব। ওহ তাই ঠিক আছে। কোন শাড়ি পরবে তুমি ঠিক করেছ? হ্যাঁ এই নীল শাড়ি পরিয়ে দাও। তুমি এটা পরবে কেন? হলুদ বা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরো। না মা আমি নীলই পরবো। ঠিক আছে এসো পরিয়ে দেই।

নীল শাড়িতে মেঘকে অপূর্ব লাগছে। ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বলে বান্ধবীদের ফোনে কথা বলে নীচে নেমে আসে। ড্রাইভার মিজান চাচা মেঘকে দেখে খুব খুশি হয়।

রাস্তায় যেতে যেতে ড্রাইভারকে বলে মিজান চাচা আমাকে নামিয়ে দিয়ে আপনি চলে আসবেন। আমি আজ সারাদিন বান্ধবীদের সাথে ঘুরব। বিকেলে আমি ফেরার ঘণ্টা খানেক আগে ফোন দিব তখন গিয়ে নিয়ে আসবেন।

মিজান বলে না মা মণি আমি তোমাকে একা রেখে গেলে সাহেব রাগ করবে। আরে বাবা তো সিঙ্গাপুরে। আর আমি একা নই তো বান্ধবীরা থাকবে তো।

চারুকলায় গিয়ে সবাই একত্র হলো। মেঘের জীবনে এই প্রথম ফাল্গুনের উৎসবে এভাবে ঘুরতে আসা। সবাই বাসন্তী রঙে সেজেছে শুধু মেঘ নীল রঙে এসেছে। এদিকে মেঘ ভুলে গেছে গতকালের ফোনের কথা। বেলা ১১ টা বাজে তখন মেঘের ফোনে রিং বেজে উঠে। ব্যাগ থেকে ফোন বের করে অপরিচিত নাম্বার দেখে রিচিভ করেনা। কিন্তু পরপর তিনবার রিং বাজার পর ফোন রিচিভ করেই বলে কে বলছেন প্লিজ?

আচ্ছা আপনি কেমন মানুষ? সকাল ১০ টায় আমার ফোনে রিচার্জ দেবার কথা আর এখন ১১ টা বাজে।

সরি আমি ভুলে গেছিলাম এক্ষুনি দিচ্ছি।

মেঘ ওর বন্ধু নীলাকে নিয়ে ফ্লেক্সি্লোড করার জন্য বাইরে এগোয়। নীলা বলে কি রে তুই এখন রিচার্জ করবি?আমার মোবাইলে ভুল করে একজনের ২০০ টাকা এসেছে ওটাই দিব। দোকানদারকে নাম্বার আর টাকা দিয়ে চলে আসে। নীলা বলে তুই যাকে টাকা দিলি তাকে ফোন দিয়ে কনফার্ম কর। মেঘ ফোন করে কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো রিপ্লাই পায় না। একটু পরে মেঘের ফোন বেজে উঠে। ফোন ধরার সাথে অপর প্রান্তের জন বলে অসংখ্য ধন্যবাদ।

কথাটি শুধু মোবাইলে শোনেনি সামনেই তাকিয়ে দেখে একটা সুদর্শন ছেলে বলছে কথা। মেঘও বলে ধন্যবাদ দিতে হবে না। আমি সরি একটু দেরি হবার জন্য। এবার রোদ্দুরও মেঘকে দেখে ফোন নামিয়ে বলে আপনার ফোনে রিচার্জ হয়েছিল?

মেঘের ভিতরে কেমন যেন বিদ্যুৎ খেলে যায়। ছেলেটার দিকে একবার তাকিয়েই মুগ্ধ হয়ে যায়। ছেলেটা বলে আপনি এখানে পড়েন? কই আগেতো দেখিনি। জি না আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের ছাত্রী।

আমি চারুকলার শেষ বর্ষে আছি। আচ্ছা আপনার নাম জানতে পারি? হ্যাঁ আমি মৌমিতা জাহান মেঘ। আপনি? আমি রেদুয়ান সিহাব রোদ্দুর।

রোদ্দুরের মনেও ঢেউ খেলে যায়। কতো মেয়ে রোদ্দুরকে প্রপোজ করেছে কিন্তু রোদ্দুর পাত্তা দেয়নি কিন্তু আজ মেঘকে এক নজর দেখেই ভালো লেগে গেলো। মেঘের একই অবস্থা। বাসায় ফেরার পর রোদ্দুরের কথাই বারবার মনে পরছে।

টিএসসিতে আবার দুজনের হটাৎ করে দেখা হয়ে যায়। রোদ্দুরই এগিয়ে এসে মেঘের সাথে কথা বলে। আস্তে আস্তে ফোনে তাদের আলাপ চলে।

ওরা দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেলে। মেঘ ধনীর দুলালী আর রোদ্দুর মধ্যবিত্ত পরিবারের তাই মাঝে মাঝে রোদ্দুর বলে তুমি কি আমার সাথে পথ চলতে পারবে? মেঘের সোজাসাপটা উত্তর আমি খুব ভালো করে তোমার হাতটি ধরে জীবন পার করে দিতে পারব।

ওদের দুজনের সম্পর্ক এখন গাড়ো থেকে আরো গাড়ো হয়ে গেছে। কেউ কাউকে না দেখে থাকতে পারে না। মেঘ বাসায় ফিরে কারোর সাথে তেমন কথা বলে না। বেশিরভাগ সময় নিজের বেডরুমে বা ব্যালকনিতে থাকে।

সৈকত ছুটিতে বাড়ি ফিরেছে তাই বাবা মা ওকে নিয়েই ব্যস্ত। সৈকত মেঘের ঘরে এসেই বলে কি রে পেত্নী তোর পড়াশোনা কেমন চলছে? ভাইয়া তুই এখনো আমাকে পেত্নী বলবি? তুই তো পেত্নীই। যা তুই আমার ঘর থেকে। আমি যাব কোথায়? তুই তো আর কয়েকদিন পরে চলে যাবি।

মেঘ বুঝতে পারেনা সৈকত কেন এই কথা বলল?

রাতে ডিনারের সময় বাবা মেঘের উদ্দেশ্যে বলে সামনে তোমার ফাইনাল পরীক্ষা তাই এখন সব অনুষ্ঠান করছি না। আপাতত রেজিষ্ট্রি করে রাখব। তোমার পরীক্ষা শেষ হলে তখন তমাল এসে আনুষ্ঠানিকতা সেরে তোমাকে নিয়ে কানাডা চলে যাবে? কথাগুলো শুনে মেঘ অবাক বিষ্ময়ে বাবার দিকে তাকায়? বাবা তমাল কে? আর কিসের রেজিষ্ট্রি? ভাইয়া বিদেশে গেছে যাক আমি কোথাও যাব না।

মা বলে তমাল তোর বাবার বন্ধুর ছেলে ও আবার সৈকতের সাথে ওখানে পড়ে। তমালের সাথে তোর বিয়ের পাকা কথা হয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহে তমাল এলেই তোদের বিয়ের কাজ করব।

মা কি বলো এসব? আমার বিয়ে আর আমি জানি না? আমি এখন বিয়ে করব না। রাকিব সাহেব ভাব গাম্ভীর্যের সঙ্গে বলে তুমি কি বলবে? তোমার জন্য আমরা যা ঠিক করেছি তাই হবে। তুমি এখন মানসিক প্রস্তুতি নাও। তমাল মাত্র পনেরো দিনের জন্য আসছে। ও চলে গেলে তুমি মন দিয়ে পরীক্ষা শেষ করবে তারপর জাঁকজমক করে বিয়ের অনুষ্ঠান করব।

মেঘ কিছু না বলে ঘরে চলে যায়। মেঘের পায়ের নীচ থেকে মাটি যেনো সরে যাচ্ছে। বাবার মুখের উপর কথা বলার সাহস কারোর নাই। এদিকে রোদ্দুরকে ফোনে পাচ্ছে না। রোদ্দুরের পরীক্ষা শেষ হয়েছে মাত্র। রেজাল্ট বের হলেই চাকরির জন্য চেষ্টা করবে। রোদ্দুর বলেছে একটা কাজের ব্যবস্থা করতে পারলেই মেঘকে নিজের করে কাছে নিয়ে যাবে। কিন্তু মেঘ হটাৎ করে আজ যা শুনলো এখন কি করবে? মেঘ অনেক বার ফোন করেছে কিন্তু রোদ্দুরের সাড়া পায়নি। রোদ্দুর টিউশনি করতে গেলে ফোন সাইলেন্ট রাখে। আর তাই মেঘ যে এতো বার ফোন করেছে বুঝতে পারেনি। রাতে বাসায় ফিরে ফোন হাতে নিয়েই মেঘের কল দেখে তো কপালে চিন্তার ভাঁজ পরে যায়। মেঘকে কল দেয়ার সাথে সাথে মেঘের অভিমানী স্বর। কি হয়েছে মেঘবতী? তোমাকে তো কতোবার ফোন দিয়েছি কিন্তু পায়নি। আমার ফোন সাইলেন্ট ছিলো। ওকে মেডাম সরি। কি হয়েছে?

মেঘ তার বিয়ের কথা বলে কেঁদে দেয়। শোনো আমি আগামীকালই তোমার কাছে চলে আসব। এই কথা বলেই ফোন রেখে দেয়। রোদ্দুর আবার ফোন দেয় কিন্তু মেঘের ফোন সুইচ অফ শোনায়।

প্রতিদিনের মতো মেঘ গাড়ি করেই ভার্সিটিতে আসে। মেঘ ড্রাইভার মিজান চাচাকে আজ আর আসতে হবে না বলে। বাসা থেকে বের হবার সময়ই রোদ্দুরকে ৯ টার মধ্যে টিএসসিতে থাকতে বলেছে। মেঘ টিএসসিতে গিয়ে দেখে রোদ্দুর তার জন্য অপেক্ষা করতেছে। আচ্ছা মেঘবতী তোমার কি জরুরি কথা বলো। আমি আজকে থেকে তোমার কাছে থাকার জন্য চলে এসেছি। আমরা আজই বিয়ে করব। বিয়ের কাজ সম্পন্ন হবার পর আমি মাকে ফোনে জানিয়ে দিব। এবার রোদ্দুর সত্যিই টেনশনে পরে যায়। আমি বেকার এখন তোমাকে বিয়ে করে খাওয়াব কি? হয় আমাকে বিয়ে করবে নয় আর কোনোদিন আমার চেহারা দেখতে পারবে না। বলো কোনটা চাও? মেঘ রোদ্দুরের বাসা চিনেনা এমনকি ঠিকানাও জানে না। তবুও ওকে বিশ্বাস করে। বিভিন্ন যুক্তিতর্কে দুই ঘণ্টা পার হয়ে যায়। রোদ্দুর মেঘের কথায় রাজি হয়ে যায়। বন্ধুদের সহায়তায় কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করে। রোদ্দুর ভাবে বিয়ে তো হলো এখন বাসায় কি করে যাবে? রোদ্দুরের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রনি ওদেরকে রনিদের বাসায় যাবার প্রস্তাব দেয়। রনির বাড়ি সিলেটের সুনামগঞ্জে। রনির বাড়িতে শুধু ওর মা থাকে তাই সমস্যা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন রোদ্দুরের নিজের বাড়ি সায়েদাবাদে চলে আসবে।

মেঘ এক ড্রেসে চলে এসেছে তাই বন্ধুরা মিলে ওদের দুজনের জন্য কিছু পোশাক কিনে দেয়। এবং একটা প্রাইভেট কার রিজার্ভ করে রনি সহ ওরা তিনজন সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

মেঘের বাবা আজ ভোরে চীনে গেছেন। তাই মেঘ এই সুযোগে রোদ্দুরকে বিয়ে করে ফেলে। মেঘ মায়ের ফোনে শুধু একটা এসএমএস করে ” মা তোমাদের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করা সম্ভব নয় তাই আমি আর বাড়ি ফিরছি না, আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না বা খোঁজাখুজি করো না। আমি ভালো আছি। আমি আবার আসব ফিরে”। আমায় ক্ষমা করে দিও। ফোনের সীম খুলে ফেলে।

সারারাত জার্নি করে ভোর বেলায় রনিদের বাড়ি গিয়ে পৌঁছায়। রনি মাকে সব বুঝিয়ে বলে। মেঘ আর রোদ্দুরের চেহারায় চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। রনি ওদেরকে মায়ের কাছে নিয়ে যায়। মেঘকে রনির মা কাছে নিয়ে আদর করে। রোদ্দুর তো এর আগেও এসেছিলো তাই ওকে ভালো করেই চিনে। রনি আর ওর মা ওদের থাকার জন্য রনির রুমে নিয়ে যায়। রনি বলে যা দোস্তো তোরা যতদিন খুশি আমার এই রুমে থাক। আমি মায়ের কাছে থাকব। সারারাত জার্নি করে এসে ওরা সবাই ক্লান্ত। রনির মা সবাইকে হাতমুখ ধুয়ে আসতে বলে নাস্তা রেডি করে। নাস্তা খেয়ে তোমরা একটু ঘুমিয়ে নাও। রনিকে বলে আমি বাজারে লোক পাঠাচ্ছি। বিয়ে তো একবারই হয় তাই রনিকে বিয়ের সাজ পোশাক , ঘর সাজানোর কথা বলে।

এদিকে মেঘের মা ওর বান্ধবীদের কাছে খোঁজ খবর নিতে সবাইকে ফোন দেয়। কিন্তু সবাই বলে আজ মেঘের সাথে দেখা হয়নি। কান্নায় ভেঙে পরে মেঘের মা। এতোক্ষণে মেঘের বাবাকেও ফোনে জানিয়েছে। মেঘের বাবার মাথা যেনো ভনভন করে ঘুরতে থাকে। মেয়েটা কোথায় গেলো? ৭ দিন পরে আসার কথা কিন্তু মেঘের এই খবরে ২ দিন পরেই দেশে চলে আসে। আর মেঘকে খোঁজার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে থাকে।

রনির মা বিয়ে বাড়িতে যেসব আয়োজন হয় তা সব করে। দুপুরের খাবার খাওয়ার পরে মেঘকে নতুন শাড়ি পরিয়ে সাজিয়ে রনির রুমে নিয়ে যান। রনির ঘরটা তাজা বেলি ফুল দিয়ে বাসর সাজানো হয়েছে। মেঘ এসব দেখে আবেগে আপ্লূত হয়ে যায়।

Leave a Comment