আজিজুন নাহার আঁখি

অবনীর যবনিকাপাত

কেউ জানে না অবনীর মৃত্যু একবারে হয়নি
তার প্রথম বার মৃত্য হয়েছিল শৈশবে
তারপর কিশোরী থেকে যৌবনে পদার্পণের সময়
তখন মৃত্যু হয়েছিলো তার স্বাধীনতার।
তারপর তৃতীয় বার মৃত্যু হলো
যখন সে স্ত্রী রূপে নতুন সংসারে এলো
তখন মৃত্যু হলো তার বাক শক্তির
মৃত্যু হলো তার ছোট ছোট স্বপ্নের।
অবনীর প্রাণ যেনো কই মাছের প্রাণ
এতো সহজে কি তার যবনিকাপাত হবে?
ধীরে ধীরে তার দায়িত্বের ওজন বাড়লো
আর সাথে বাড়লো অবহেলার স্তুপ
এতোটা অবহেলা যে, সংসারে তার জায়গা হলোনা
এবারের মৃত্যুটা অবনীকে আগের চেয়ে
অনেক বেশি দুর্বল করে দিলো।
তারপরও অবনী থামেনি আবার জেগে উঠলো
সংসারের জন্য নয় সন্তানের জন্য
অবহেলাকে আড়ালে রেখে সবার জন্য
নিজেকে নি:স্ব করলো নিজেকে বিসর্জন দিলো
এভাবেই একদিন মৃত্যু ঘটলো তার আমিত্বের।
নিজের সখ ইচ্ছে সব ত্যাগ করলো
না এবারও অবনীর শেষ যাত্রা হলো না
তার যে আরো অনেক দায়িত্ব আছে
হাড়ভাংগা খাটুনি আর মানসিক চাপ
বুকে চেপে সন্তানদের জন্য লড়ে গেলো।
কিন্তু সন্তানদের প্রতিষ্ঠা না দেখে
সে যে মরেও শান্তি পাবেনা
তাইতো সন্তানদের সব ইচ্ছে পূরণে
নিজের সব সঞ্চয় নি:শেষ করলো।
আর সন্তানেরা যখন প্রতিষ্ঠা পেলো
তখন তার আনন্দের সময়ে শুনতে পেলো
সন্তানদের কাছে এখন সে বোঝা ছাড়া কিছু না
মাকে কাছে রাখা তাদের বড়ো একটা দায়
আর অবনী যেনো বেঁচে থেকেও মৃত্যুর স্বাদ পেলো।
এবার অবনীর মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার সময়
স্রষ্টার কাছে ফিরে যাবার সময়,
সময় ইহকালের মায়া ত্যাগ করার
কিন্তু এতোবার মরে যাবার পরেও
অবনী কি আবার বেঁচে উঠবে?
না এবার অবনীর চিরপ্রস্থানের সময়
হয়তো এবার মৃত্যু কড়া নাড়বে সজোরে
অবনী চলে যাবে না ফেরার দেশে
হয়তো কেউই তাকে মনে রাখবে?
কিন্তু অবনীর দেহের মৃত্যু হলেও
হাজারো অবনীর মাঝেই সে বেঁচে রয় বেঁচে রবে
আসলে অবনীদের মৃত্যু একবারে নয় বারেবারে হয়।

Leave a Comment