প্রকৃতি তার সবটা আমাদের উজাড় করে দেয়
জীবনের প্রতি মুহূর্তে আমাদের আগলে রাখে
আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস থেকে শুরু করে
দৈনন্দিন জীবনে প্রকৃতিই আমাদের ভরসা
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার নিরাপদ আশ্রয়।
আর আমরা, আমরা অকৃতজ্ঞ প্রাণী
নিজেদের প্রয়োজন ফুরোলেই সব ভুলি
না শুধু ভুলি বললে ভুল হবে
আসলে আমরা উপকার স্বীকার করতে শিখিনি।
আমরা নির্বিচারে গাছপালা নিধন করি
জলাশয় ভরাট করে তৈরি করি অট্টালিকা
নদীর নাব্যতা নষ্ট করতে একটুও দ্বিধাবোধ হয়না
ইচ্ছেমতো পাহাড় কেটে ভারসাম্য নষ্ট করি
আমাদের যখন যেখানে ধ্বংস করতে ইচ্ছে করে
আমরা সেখানেই ধ্বংসের রাজত্ব করি
প্রকৃতিকে ক্ষতবিক্ষত করতে একটুও পিছু হটিনা।
কিন্তু কখনো কি আমরা ভেবে দেখেছি
প্রকৃতিরও অভিমান হতে পারে, রাগ হতে পারে
তার ভিতরেও কষ্ট জমা হতে পারে
সেও কখনো বিদ্রোহ করতে পারে
না, আমরা মানবজাতি যে শুধু পেতেই চাই।
তাইতো আমাদের অত্যাচারে প্রকৃতিও মাঝেমধ্যে
বিষাক্ত সাপের মতো ফুস করে উঠে
তারই ধারাবাহিকতায় ভূমিকম্প হয়
পাহাড় পর্বত বাড়ি ঘর সব কিছুকে
ভেঙে ধ্বংস স্তুপে পরিণত করে।
জলোচ্ছ্বাসের প্রবল স্রোতে সব ভেসে যায়
জলের গহীনে কতো কিছু হারিয়ে যায়
হটাৎ করেই আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়
বজ্রপাতে অনেকে। প্রাণ হারায়।
ঘুর্ণিঘরে প্রকোপে সব লণ্ডভণ্ড হয়
শুধু কি এসবই হয়? না আরও অনেক কিছু
খরার প্রকোপে চারিদিক খাঁ খাঁ করে
আবার অতিবৃষ্টিতে জনজীবনে দুর্ভোগ নামে।
আমরা যখন তখন যেমন ইচ্ছে প্রকৃতিকে ক্ষতবিক্ষত করি
প্রকৃতিও আরও ভয়ংকর রূপে তার বদলা নিতে পারে
তাই আমরা চাইলেই প্রকৃতিকে আগলে রাখতে পারি
তাকে যত্ন করে ভালোবেসে নিজেরাও ভালো থাকতে পারি
প্রকৃতির উদারতাকে দুর্বলতা না ভেবে
নিজেদের বাঁচার অবলম্বন ভাবি
ভালোবাসি স্রষ্টাকে ভালোবসি তার সৃষ্টিকে।।






