আজিজুন নাহার আঁখি

প্রতিবন্ধীই রয়ে যাব?

কান থাকতেও আমরা বধির
আয়েশা,আছিয়া- রামিসাদের বাঁচার আকুতি
আমাদের কানে পৌঁছায় না
ওদের কান্নার শব্দে আমাদের হৃদয় কাঁপেনা
নির্যাতিত শিশুদের চিৎকারে কেউ সাড়া দেই না
স্বজনদের আর্তনাদ আমরা শুনতে পাইনা
কেননা আমরা যে জন্ম জন্মান্তরের বধির।
দৃষ্টি শক্তি থাকার পরেও আমরা অন্ধ
আমরা দেখেও না দেখার অভিনয় করি
জলজ্যান্ত মানুষের খণ্ডিত মস্তক
রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখেও
আমাদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেনা
নরপিশাচ খুনিদের আইনের ফাঁক দিয়ে
বেরিয়ে যেতে দেখে কিছুই করিনা
এমন দৃষ্টি শক্তির কি প্রয়োজন?
মনে হচ্ছে আমরা সকলে দৃষ্টিহীন অন্ধ মানুষ।
আমাদের বাক শক্তি যেনো হারিয়ে গেছে
একের পর এক ধর্ষণ, হত্যা,গুম হচ্ছে
কিন্তু আমরা সব জেনেও মুখে খিল এঁটেছি
আমাদের যেন কিছু বলার নাই
কেননা আমরা সন্তান তো ধর্ষিতা হয়নি
রক্তে ভেজা দেহ বুকে জড়িয়ে কাঁদতে হয়নি
তাহলে আমি কথা বলব কেন?
প্রতিবাদের ভাষা তো দূরের কথা
মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ভুলে গেছি।
আমাদের চলার গতি নাই
পা দুটো যেনো অসার স্থির
প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও
নিষ্পাপ শিশু ধর্ষিত হচ্ছে খুন হচ্ছে
কিন্তু আমরা সেখানে ছুটে যাইনা
স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছিয়ে দেইনা
ঘরে ঘরে প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের দূর্গ গড়ি না
আমরা শুধু তামাশা দেখি, রক্তের হোলিখেলা দেখি
কি লাভ এই শক্ত বাহুর শক্ত পদযুগলের?
যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কারোর কাজে আসবে না
তাকে তো প্রতিবন্ধীই বলতে হয়,
আমরা প্রতিবন্ধীই রয়ে গেলাম।
চারিদিকে বিবেকের দুর্ভিক্ষ চলছে
আমাদেরই আশে পাশে অত্যাচারী হিংস্র
নরপিশাচ হায়েনারা উল্লাসে মেতে উঠে
আর আমরা তা দেখি না, ওদের হুংকার শুনি না
ওদের হিংস্রতায় আমাদের বিবেকে নাড়া দেয় না
তাহলে আমরা কি বিবেকহীনই রয়ে যাবো?
সব থেকেও আমরা কি বধির, বোবা,অন্ধ?
কেন আমরা প্রতিবন্ধীই রয়ে যাব?
না আর না আর রক্তাক্ত নিথর দেহের
উপর লুটিয়ে পরা মায়ের কান্না বাবার আর্তনাদ
স্বজনের আহাজারি শুনতে চাই না
নিরাপত্তা চাই আমাদের সন্তানদের
নিরাপত্তা চাই সকলের।

Leave a Comment