আজিজুন নাহার আঁখি

ছোট্ট ছোট্ট তাজা প্রাণ দগ্ধের সাথে
দগ্ধ আজ পুরো মানচিত্র ,
বিভীষিকাময় একুশে জুলাইয়ের
ভয়াবহতা হয়তো অনেকেই ভুলে যাবে
কিন্তু যার বুকের মানিক, চোখের মণি
পুড়ে দগ্ধ হয়ে নি:শেষ হলো
তার ভেতরের দহন যন্ত্রণা তো কমবে না।
এমন দগ্ধতা যে নিজের সন্তানও অচেনা
একটু খানি ছুঁয়ে দেখার ভাগ্যও হলো না,
বুকে জড়িয়ে কান্নাও করতে পারলো না
কেউ কেউ খোঁজই পেলো না,
তার আদরের ধন ভবিষ্যতের অবলম্বন
কোথাও কোনো চিহ্ন রেখে যায়নি।
সেই সব বাবা-মা এর দহনের সাথে
পুরো মানচিত্র দগ্ধ হয়েছে
আর দগ্ধ হয়েছে কিছু মানুষের মনুষ্যত্ব
অসুস্থ মানসিকতার মনুষ্যত্বহীন
কথিত মানবেরা দগ্ধতার ছবি, ভিডিও
করা নিয়েই ব্যস্ত ছিলো
তাদের চোখের সামনে কচি কচি মুখ
ঝলসানো দেহ নিয়ে হাঁটছিলো
কিন্তু পাষাণ বিবেকহীন কথিত মানুষ
সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি
তাদের কাছে এটাকে হয়তো ভিউ বাড়ানোর
চমৎকার একটা বিষয় হয়েছিলো।
তবে এই মনুষ্যত্বহীন কথিত মানবের
মাঝেও কিছু মানুষ ছিলো বলেই
কেউ কেউ এখনো হাসপাতালে বাঁচার জন্য
প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছে,কেউ সুস্থ হয়েছে।
সব কিছুই স্বাভাবিক হবে,কেউ কেউ আবার
নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে
কিন্তু যারা ঐদিন বিবেকহীনতা দেখিয়েছে,
যারা মনুষ্যত্বকে দূরে সরিয়ে ছিলো
তাদের ভেতরের দগ্ধতা কি কমবে??
স্কুলের ছাত্র, শিক্ষক,অভিভাবক জীবন দিয়েছেন
কেউ পুড়ে যাওয়া ঝলসানো নিয়ে হয়তো
বেঁচে থাকার জন্য কঠিন লড়াই করবে।
কিন্তু আমার বিশ্বাস তাদের দগ্ধতার চেয়েও
ভয়াবহ দগ্ধতা হচ্ছে বিবেকের দগ্ধতা
তাই তো দগ্ধ মানচিত্রে ভালো আছি
এই কথাটি শুধু বলার জন্য বলা
আসলেই যেখানে পুরো মানচিত্র ঝলসে গেছে
সেখানে আমি, আমরা দহন যন্ত্রণা ভোগ করবো।

Leave a Comment