আজিজুন নাহার আঁখি

বৈচিত্র্যময় উপাখ্যান

জীবন এক বৈচিত্র্যময় উপাখ্যান।জীবনের পরতে পরতে নানা সুখ দুখের মিশ্রণ। কিছু ভালো লাগা কিছু মন্দ লাগা এটাই জীবন। জীবনের ভালো সময়কে আগলে রাখো আর যদি খারাপ কিছু থাকে তাকে আড়ালে রাখো।জীবনে সুখী হতে চাইলে আগে দু:খকে আলিঙ্গন করো। কারণ দু:খের পরই সুখ আসবে যেমন রাতের শেষে দিন আসে। আমরা ইচ্ছা করলেই নিয়তিকে পরিবর্তন করতে পারি না শুধু ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে পারি মাত্র। তাই হতাশা নয় আশায় বুক বাঁধো। সেই স্বপ্নে বিভোর থাকো যা তোমাকে সফলতা এনে দিবে। সর্বাবস্থায় সৃষ্টি কর্তাকে স্মরণ করো। তিনিই তোমার একমাত্র সহায়।

  • জীবন সাজাতে শুধু অর্থ নয় ভালো মানুষের সান্নিধ্য আর নিখাদ ভালোবাসা প্রয়োজন।
  • জীবনের ভাজে ভাজে হাজারো সুখ দু:খের গল্প থাকে আর সেই ভাজে দু:খের কথা কজনই বা জানে।প্রতিটি সুখ দু:খের গল্প আড়ালেই থেকে যায়।বাহিরের রূপ দেখে কি আর ভেতর বুঝা যায়? কেউ কান্না লুকিয়ে মুখে হাসি রেখে সুখী মানুষের অভিনয় করে।কেউ সুখের উল্লাসে আপনজনকেও অবহেলা করে। আসলেই বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে মানুষের বিচিত্র জীবন।
  • জীবনে খ্যাতি,যশ,প্রভাব, প্রতিপত্তি,অর্থসম্পদ সব কিছুর জন্য হন্যে হয়ে ছুটে বেড়াতে পারো কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্ব ক্ষুন্ন করে নয়।
  • জীবনটা তোমার আর তার ভালোমন্দ তোমাকেই দেখতে হবে, বাইরের কারোর মতামতে নিজের আমিত্ব বিসর্জন দিও না।।
  • জীবনে অনেক মানুষ আসবে যাবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কেউ আসে ভালোবাসা কুড়াতে কেউ আসে ভালোবাসে বিলিয়ে দিতে। কেউ হাতটা শক্ত করে ধরে কেউ মাঝপথে ছেড়ে যায়। কেউ ভালোবাসার মিথ্যে অভিনয় করে যন্ত্রণা দেয়। আসলে বাহির দেখে মানুষ চেনা যায় না। এই আসা যাওয়ায় যে বিপদে পাশে থাকে কখনো হাতটা ছেড়ে যায়না সেই প্রকৃত বন্ধু। কোনো স্বার্থে নয় কোনো প্রাপ্তিতে নয় সে থাকে শুধু ভালোবাসায় আগলে থাকতে।
  • জীবনে যতো বেশি বাঁধা আসবে সেটা মোকাবিলা করতে নিজেকে ততো বেশি শক্ত করে তুলতে হবে। আসলে জীবন এক জটিল অধ্যায় ঠিক জ্যামিতির পিথাগোরাসের উপপাদ্য যা সহজে মেলানো যায় না। চলতে পথে যতোই সহজ পথ বেরি করি না কেন সেখানে কোনো কোনো না বাঁধা পথ রোধ করে। তবু্ও জীবন চলে জীবনের নিয়মে।
  • “যদি থাকো ধীর উচ্চ হবে শির” যদি সাফল্য পেতে চাও তাহলে অস্থির হইও না ধীরে ধীরে এগিয়ে যাও। হটাৎ সিদ্ধান্ত কোনো সময় ভালো ফল দেয় না। কোনো কিছু করার আগে ভেবে নাও তারপর ধীরে ধীরে তা সম্পন্ন করতে ধৈর্য্য ধরে এগিয়ে যাও তবে মাথা উঁচু করে চলতে পারবে।
  • জীবনে চলার পথ সব সময় সমতল নয়। উঁচু নিচু পথ পরিক্রমায় অনেক সময় আমরা হোচট খেয়ে পড়ে যাই আবার উঠেও দাঁড়াই। তবে এই পরিক্রমায় কেউ আছে পড়ে গেলে মাড়িয়ে যায় আবার কেউ হাত ধরে টেনে তুলে। আসুন ব্যক্তিগত জীবনে কারোর সুখের সময় থাকতে না পারলেও কেউ হোচট খেয়ে পড়ে গেলে হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করি।
  • এই যে আকাশে গোধূলির রঙের ছোঁয়া, পাখিদের নীড়ে ফেরার তাড়া,একটা দিনের শেষে প্রকৃতিতে স্নিগ্ধতা কোমলতা সব কিছুর সাথেই জীবনের অদ্ভুত মিল। সারাদিন কর্মব্যস্ততার শেষে আমরাও নীড়ে ফিরে আসি। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে একটু প্রশান্তি,একটু ভালোবাসা,একটু যত্ন সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। আর যে একা শুধু একা সে ক্লান্তি ঘুচাতে প্রকৃতিকেই আলিঙ্গন করে। আসুন নিজের পরিবারের প্রতি যত্নবান হই নিজের খেয়াল রাখি আর প্রকৃতির যত্ন করি।
  • জীবনের প্রতিটি বাঁক অতিক্রম করা এক নয়, চলার পথে যে বাঁকে বাঁধা আসবে সেখানে থমকে যেওনা যেহেতু পিছু হটার উপায় নাই তাই ওখান থেকে ধৈর্য্য ধরে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাও। তোমার সততার আলোয় সব বাঁধা অতিক্রম করতে পারবে ইনশাআল্লাহ।
  • জীবন কখনো সাদাকালো, কখনো ধুলোমাখা,কখনো রঙিন মলাটের প্রতিচ্ছবি। আসলে জীবন যেখানে যেমন সেখানে তেমন।ঘাত প্রতিঘাত নিয়ে চলাই জীবন তাই কোনো কিছু নিয়ে হতাশ না হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
  • জীবনের সমীকরণ জটিল থেকে জটিলতর, প্রথমে মনে হয় খুব সহজ কিন্তু ধীরে ধীরে শুধু জটিল আর জটিল। জীবনের এই সমীকরণ অমিমাংসিত রেখেই চলে যেতে হয়।
  • “আগুন,পানি,বাতাস এই তিনে সর্বনাশ” কারণ আগুন পুড়িয়ে দেয়, পানি ভাসিয়ে নেয়,বাতাস উড়িয়ে নেয়।কিন্তু মাটি বুকে টেনে নেয় তাই সর্ব অবস্থায় মাটির দিকে তাকাও মাটির মতো হবার চেষ্টা করো। মাটির মতো নিরব ঠাণ্ডা হলে দেখবে মনের ভেতর শান্তি আসবে।
  • জীবন আসলে একটা বই যাতে প্রতি দিনই নতুন পৃষ্ঠা যোগ হয় কোনো পৃষ্ঠা ভরে রঙিন আঁকিবুঁকি থাকে আর কোনো পৃষ্ঠা সাদা কালো হালকা রঙের লেখা থাকে আবার মাঝে মাঝে ঘষামাজা করতে গিয়ে একটু ছিড়েও যায় তবুও জীবন নামের বইয়ে পৃষ্ঠা যোগ হতে থাকে শুধু আমরা জানিনা কোন পৃষ্ঠায় কি লিখব আর শেষ পৃষ্ঠায় কি থাকবে?
  • আকাশে যেমন কালো মেঘে ঢেকে যায় , তারাভরা রাতে জোছনায় আচ্ছন্ন থাকে তেমনি মানুষের মন এই খারাপ এই ভালো।এই ভালো মন্দ নিয়েই আমাদের জীবন।তাই মন খারাপকে পুষে না রেখে এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর।
  • নিম পাতা তিতা হলেও তা মানব দেহের জন্য উপকারী।আপনার আশে পাশে কিছু মানুষ আছে যারা স্পষ্টবাদী তাদের কথায় কষ্ট না পেয়ে তাদেরকে ভালোবাসুন দেখবেন সেও আপনাকে ভালোবাসবে।কারোর মুখের মিষ্টি কথায় না ভুলে তার ব্যক্তিত্ব দেখুন দেখবেন নিম পাতার মতো আপনাকে আগলে রেখেছে।
  • জীবন একটা সমীকরণ গাণিতিক সমীকরণের সমাধান কেউ সহজে করতে পারে আবার কেউ সমাধান করতে হিমশিম খায়।তেমনি মানুষের জীবনের সমীকরণ একেকজনের জীবনে একেক ধরণের। জীবনের সহজ সমীকরণ সমাধান করা গেলেও জটিল সমীকরণ মেলানো কষ্টকর। কোনো কোনো মানুষের জীবনের সমীকরণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সমীকরণ না মিললেও হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না।
  • বাহ্যিক সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী তাই বাইরের রূপের মোহে না পড়ে ভিতরের সৌন্দর্যকে যত্ন করুন।
  • জীবন পিথাগোরাসের উপপাদ্যের মতো মিলাতে গিয়েও মিলে না।আসলে জীবনে চলার পথটা মসৃণ নয় আঁকাবাঁকা ভঙ্গুর পথ, আর এই পথ পরিশ্রম করে পারি দিতে হয়।প্রতিটি ভঙ্গুর পথ আমাদের নতুন কিছু শিক্ষা দেয়। সর্বোপরি স্রষ্টার উপর ভরসা রেখে আসুন হতাশায় না ডুবে নতুন স্বপ্ন পূরণে উদ্যোমী হই নিজের সবটা দিয়ে এগিয়ে যাই।
  • কারোর প্রতি বেশি মনোযোগ দেয়া শুরু করো দেখবে সেই তোমাকে অবহেলা করবে। তাই কাউকে প্রাধান্য দেবার আগে হাজার বার ভেবে নাও সে তার যোগ্য কি না। আমরা অবশ্য ভুল মানুষকেই প্রায়োরিটি দেই আর তাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করি।যদিও সেই মানুষ কোনোদিন না কোনোদিন ঠিকই বুঝতে পারে যে তাকে কতোটা প্রাধান্য দেয়া হয়েছিলো কিন্তু তখন আর সময় থাকে না।
  • জীবনের প্রতিটি বাঁকের গল্প আলাদা। সেই গল্পে কেউ আস্থা ভরসা বিশ্বাসের পাত্র হয় কেউ অভিনয় করে সব কেড়ে নেয়। আমরা বেশিরভাগ সময় ভুল মানুষকে প্রায়োরিটি দেই আর তারা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে নি:স্ব করে দেয়। ভুল কখনো ফুল হয়ে ধরা দেয় না ভুল ভুলই থাকে আর কিছু কিছু ভুল সংশোধন করা যায় না। তাই কাউকে বিশ্বাস করো কিন্তু অন্ধবিশ্বাস করো না।
  • রহস্যময় পৃথিবীতে কে আপন কে পর সেটা চিনতে চিনতেই জীবন চলে যায়। কিছু মানুষ এমনভাবে কথা বলে যে তার মতো আপন কেউ হতে পারেনা কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে। নিজের স্বার্থ পূরণ হলে টিস্যুর মতো ছুড়ে ফেলতে তাদের একটুও সময় লাগেনা। আসলেই মানুষ চেনা বড়ো দায়।
  • পৃথিবী সত্যিই রহস্যময় মানুষ যাকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চায় সেই অবহেলা করে দূরে চলে যায়, যার কথা শোনার জন্য ব্যকুল সেই ব্যস্ততার অযুহাতে কথা বলে না। আর যাকে মন থেকে পছন্দ করে না সে যখন তখন খোঁজ নেয়। আসলেই কি অদ্ভুত ব্যাপার তাই না?
  • পৃথিবীর সব মানুষই স্বার্থপর হয় না, শুধু অর্থ,সম্পদ,খ্যাতি,যশের জন্য কেউ ভালোবাসে না। কিছু কিছু মানুষ কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করে নি:স্বার্থ ভালোবেসে যায়। আর এমন নি:স্বার্থ মানুষ আছে বলেই পৃথিবীতে এখনো ভালোবাসা টিকে আছে।
  • পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ অন্যের জন্য পরিশ্রম করে হোক তার বাবা মা,তার স্ত্রী বা স্বামী,সন্তান, পরিবার পরিজন। আবার কোনো কোনো মহান ব্যক্তি সমাজ ও দেশের জন্য পরিশ্রম করেন। কেউ কেউ পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে দূর প্রবাসে কঠিন সময় পার করছে আবার কেউ অসৎ পথ বেছে নিচ্ছেন। ভালো কাজের যেমন পুরুষ্কার আছে তেমনি মন্দ কাজের তিরষ্কার আছে। ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে আসুন ভালো কাজের সাথে থাকি, সৎ উপার্জন দিয়ে শান্তির জীবন কাটাই। মৃত্যুর পরে নিজের কাজের হিসেব নিজেকেই দিতে হবে।
  • মানুষ যার জন্য অপেক্ষা করে সে তার মূল্য দেয় না আর যাকে এড়াতে চায় সে-ই সামনে ঘুরঘুর করে কি অদ্ভুত মানুষের জীবন। যাকে ভালোবাসে, যার সান্নিধ্য চায় সে অবহেলা করে আর যাকে সামনে পায় তাকে ভুল করেও চায় না, আসলেই মানব জীবন রহস্যময়।
  • কারোর ভালো সময়ে খোঁজ নেবার লোকের অভাব হয় না কিন্তু কেউ বিপদে পড়লে তার পাশে কেউ থাকে না। বরং দু:সময়ে ছোট্ট একটা ফোনকল, মেসেজও মনে সাহস জোগায়। আসুন সুখে না থাকলেও দু:খে পাশে থাকি, স্মরণ রাখি মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য। একটু সহানুভূতি, একটু যত্ন,একটু ভালোবাসা দিয়ে আমি আপনি হতে পারি কারোর অনুপ্রেরণা।
  • শান্ত কোমল নদীর তীরে বাঁধা ছোট্ট এই নৌকার মতোই মানুষের জীবন। মানুষ একটা সময় বড়ো একা হয়ে যায়। ঘর থাকে মানুষ থাকে না, মানুষ থাকলেও কাছে থাকে না, কাছে থাকলেও কথা বলে না। আসলেই অদ্ভুত এই মানব জীবন।
  • পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে কেউ ভালো চরিত্রে রূপায়ন করছে কেউ মন্দ চরিত্রে ,আসুন ভালোকে আগলে রাখি আর মন্দকে ভালো করার জন্য নিজেরা ধৈর্য্য ধরে পরিশ্রম করি সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি।
  • পৃথিবীতে কেউ পুরোপুরি সুখী নয়, সুখে দুখে নিজেকে মানিয়ে নেয়াই জীবন। জীবনের পরতে পরতে অনেক গল্প থাকে আর সেই গল্পের মাঝে যেটুকু আনন্দ থাকে তাকে সামনে রেখেই সুন্দর জীবন গড়তে হবে।
  • ছোটো বড়ো সব বৃক্ষের দেয়া অক্সিজেন বিনা মূল্যে গ্রহণ করে শ্বাস প্রশ্বাস চলমান,অক্সিজেন কতোটা জরুরি সেটা কারোর শ্বাসকষ্ট না হলে বুঝবে না,আর কোভিডে আক্রান্ত হয়ে যারা নতুন করে জীবন পেয়েছে তারা বুঝবে একটু অক্সিজেনের অভাবে জীবনের জন্য কতোটা জরুরি। আর সেই মূল্যবান অক্সিজেন বিনামূল্যে বিনা শর্তে আমরা বৃক্ষ থেকে পাই। বৃক্ষ যতো বড়ো হয় তার দায়িত্ব ততো বড়ো হয়। সে শুধু অক্সিজেনই দেয় না, সে ছায়া দেয়,ফুল-ফল দেয়,আসবাবপত্রে জন্য নিজেকেই দিয়ে দেয়। তারপরও আমরা অকারণে বৃক্ষ নিধন করে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করছি। আর বড়ো বৃক্ষের মতো আমাদের বাবা-মাও বিনামূল্যে বিনা শর্তে তাদের স্নেহের ছায়ায় আগলে রাখেন, মায়া-মমতা ভালোবাসা দিয়ে বড়ো করেন আর দেখুন আমরা সেই বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাই।বাবা-মা না থাকলে বুঝবেন কি সম্পদ হারিয়েছেন। তাই আসুন বৃক্ষ নিধন বন্ধ করার পাশাপাশি বাবা – মাকে শ্রদ্ধা করি,সম্মান করি,ভালোবাসি তাদের আগলে রাখি।
  • জীবন সমতল নয়, পিচঢালা রাজপথ নয়,জীবন মানেই গ্রামীন জনপদের উঁচুনিচু পথ। চলার পথে নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরুতে হয়। কারোর জীবনই মসৃণ রাস্তা নয় কিছুটা সমান্তরাল, কিছুটা কাঁটাযুক্ত,কিছুটা ভঙ্গুর,কিছুটা ঢালু। আর এই বিচিত্র পথ পরিক্রমায় ধৈর্য্য ধরেই এগিয়ে যেতে হবে।
  • তোমার গন্তব্য যদি ঠিক থাকে তাহলে একাকী পথে পা বাড়ালেও সমস্যা হয়না।লক্ষ্য ঠিক রেখে স্রষ্টার প্রতি ভরসা রেখে ধৈর্য্য ধরে এগিয়ে যাও , দেখবে ঠিক তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছো। পথের দুরত্ব দেখে ভয় পেওনা পথই তোমাকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
  • কাগজের ফুলের সৌন্দর্য থাকলেও ঘ্রাণ থাকেনা তাইতো এই ফুলে কখনো ভ্রমর আসেনা। মানুষের বাহ্যিক রূপ যতোই সুন্দর হোক না কেন যদি তার গুণ না থাকে তাহলে তাকেও কেউ বেশিদিন আগলে রাখেনা।তাই কাগজের ফুলের মতো সুন্দর না হয়ে মনটাকে সুন্দর করো। ফুল ফোটে ঝরে যায় এটাই প্রকৃতির রীতি মানুষ জন্মালেও মরে যাবে এটাও রীতি কিন্তু ঝরের যাবার আগ পর্যন্ত সময়টুকুতে ফুল কিন্তু তার সুরভিতে সবাইকে মোহিত করে।আসো আমরা মনের ভেতরের সৌন্দর্য বাড়াই মানব কল্যাণে এগিয়ে যাই।
  • জীবন শুধুমাত্র একটা কবিতা নয়, জীবন অসমাপ্ত কাব্যগ্রন্থ। যে গ্রন্থের কোনো কোনো পাতায় ছন্দময় কবিতা লেখা হয় আর ছন্দের সাথে তাল,লয়ের মূর্ছনায় ভরপুর থাকে। কোনো কোনো পাতায় কবিতার প্রতিটি স্তবক জুড়ে প্রেম ভালোবাসায় মাখামাখি,কোনো কোনো পাতায় প্রতিটি শব্দচয়ণে বিরহের দহন জ্বালায় জর্জরিত। আবার কোনো কোনো পাতায় প্রতিটি বাক্য মায়া মমতায় মোড়ানো। জীবনের পাওয়া না পাওয়ার মিশ্রিত রূপে অসমাপ্ত কাব্যগ্রন্থ যেনো জীবনের প্রতিচ্ছবি।
  • মুরুব্বিদের কাছে শুনেছি “কাউকে দাঁড়াতে দিলে বসতে চায়,বসতে দিলে খেতে চায় আর খেতে দিলে থাকতে চায়” শৈশবে শোনা কথার মানে তখন না বুঝলেও এখন ঠিকঠাক বুঝতে পারি। আপনি কারোর সাথে সৌজন্যতা দেখাবেন সে আপনাকে পেয়ে বসবে।তাই মানুষ বুঝে তাকে প্রশ্রয় দিতে হবে যাতে সে আপনার ঘাড়ে উঠে আপনাকেই নাস্তানাবুদ না করে।
  • জীবন একটা রহস্যময় অসমাপ্ত উপন্যাস যেখানে কোনো পাতায় সুখের কথা,কোনো পাতায় দু:খের কথা,কোনো পাতায় রোমাঞ্চকর শব্দ মালায় সন্নিবেশিত থাকে। কখন কোন গল্প আসবে আমরা কেউ জানিনা।একজন ঔপন্যাসিক যেমন উপন্যাস লিখতে গিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিয়মিত লিখতে থাকেন আর যদি কোনো লেখা শুরু করে ফেলে রাখা হয় তাহলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয় না। জীবন নামের উপন্যাস তো স্রষ্টার সৃষ্টি তাই এর সম্পর্কে আগেই কিছু জানা যায় না। মাঝে মাঝে জীবনেও কিছু রহস্যের গল্ল থাকে যা অজানাই থাকে। আর এই রহস্যময় উপন্যাস অসমাপ্ত রেখেই মানুষের চির প্রস্থান ঘটে।যেহেতু এক সেকেন্ড পরে আমাদের জীবনে কী ঘটবে সেটা জানিনা তাই স্রষ্টার উপর ভরসা করে সততা,ধৈর্য্য ও নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে যেতে হবে।
  • জীবনে সুখের সময় শিউলি ফুলের মতো একটু হাওয়াতেই ঝরে পড়ে। শিউলির মাতাল করা ঘ্রাণের মতো সুখেরও কিন্তু মায়াবী ঘ্রাণ আছে আর যার জন্য আমরা হন্যে হয়ে ছুটে বেড়াই।যদিও এই মায়াবী ঘ্রাণ বন্দী করা যায় না কিন্তু স্বল্প সময়ের সুখানুভূতি মানুষের জীবন চলার পথ সহজ করে দেয়।
  • বীজ গণিতের জটিল সমীকরণ সহজে না মিলাতে পারলেও ধৈর্য্য ধরে সঠিক উপায়ে গাণিতিক নিয়ম অনুসরণ করে বা অভিজ্ঞ কারোর সহায়তায় ঠিকই মিলানো যায়। কিন্তু জীবনের জটিল সমীকরণ হাজারো চেষ্টা করে মিলানো যায় না। সত্যিই জীবন একটা দুর্বোধ্য জটিল সমীকরণ। মানুষ ধৈর্য্য ধরে চেষ্টা করে ঠিকই কিন্তু বেশিরভাগ সমীকরণ মাঝ পথেই আটকে যায়। আর এটা এমন সমীকরণ যে একজন না পারলে অন্য কেউ মিলাতে পারবে না আসলেই মানুষের জীবন একটা জটিল সমীকরণ।
  • জীবন মানেই প্রতিযোগিতা হোক সেটা সম্মানের, অর্থের,প্রতিপত্তির,আধিপত্যের,সম্পর্কের,মর্যাদার,ভালোবাসার ইত্যাদি ইত্যাদি।আর এই প্রতিযোগিতায় কেউ হারে কেউ জিতবে এটাই স্বাভাবিক। কেউ জিতেও সম্মান পায় না আবার কেউ হেরে গিয়েও সম্মানিত হয় সবই স্রষ্টার অনুগ্রহ দয়ার উপর নির্ভর করে।আজ তুমি হেরেছো বলে যারা উপহাস করছে হয়তো একদিন তারাই তোমাকে নিয়ে গর্ব করবে তাই নিজের উপর বিশ্বাস রাখো। সব কাজে আত্মবিশ্বাস জরুরি। সৃষ্টিকর্তা চোখের নিমিষেই সব বদলে দিতে পারে।
  • জীবন যদি সাদা কাগজ হতো আর জীবনের গল্প যদি পেন্সিল দিয়ে লেখা যেতো তাহলে মানুষের জীবনে কোনো টেনশনই থাকতো না। মানুষ ইচ্ছেমতো পেন্সিল দিয়ে লিখতো আর প্রয়োজন হলেই ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলতো। আসলে জীবন একটা রঙিন ক্যানভাস যেখানে শুধু পেন্সিল নয় নানা রঙের ছোঁয়ায় সাজানো একটা অসমাপ্ত গল্প। মানুষ পেন্সিলের লেখা মুছে আবার নতুন করে লিখতে পারে কিন্তু জীবনে যারা আছে তাদের মুছে ফেলা যায় না। তোমার জীবনের সাথে সম্পৃক্ত কাউকেই মুছে ফেলতে পারবে না কারণ স্রষ্টা তার নিজের মতো করে তোমার ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন। হ্যাঁ তুমি সব সময় স্রষ্টার উপর ভরসা রাখো আর তাকে বিশ্বাস করো যে তিনিই উত্তম পরিকল্পনা কারী। তাহলে তোমার মনে হতাশা আসবে না। জীবন যেখানে যেমন সেখানে তেমন এটা মেনে নাও। আর সবার জীবন এক নয়। তোমার যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো।
  • মানুষ যেমন অজান্তে ভুল করে তেমনি মাঝে মাঝে জেনে বুঝেও ভুল করে। ভুল যেভাবেই করুক ভুল তো ভুলই। ভুল কখনো ফুল হয়ে ফোটেনা বরং শূল হয়ে বুকে বিঁধে।আর কিছু ভুলের মাশুল আজীবন দিয়ে যেতে হয়। আমরা যতোই বলি ভুল শুধরে এগিয়ে যাও কিন্তু সব ভুল কি শোধরাবার?
  • জীবনে ‘যদি’ শব্দের কোনো মূল্য না থাকলেও একটা ছোট্ট শব্দ ‘যদি’ এটার জন্যই আমরা অপেক্ষা করি, এটাকে ঘিরে কল্পনায় হাজারো স্বপ্ন সাজাই। আবার মাঝে মাঝে এই ‘যদি’ টাকেই ছুড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। আমরা জানি উত্তম পরিকল্পনা কারী মহান সৃষ্টিকর্তা তবু্ও আমরা বলি ‘যদি’ এমন হতো,’যদি’এমন হয়,’যদি’এমন হবে তাহলে অনেক ভালো হতো। আমার মনে হয় মন থেকে ‘যদি’ এর ধারণা বাদ দেয়াই উত্তম। আসুন আমরা সৎ কর্ম করি, ধৈর্য্য ধারণ করি,মানবিক হই,নিজেকে পরিশুদ্ধ রাখি আর “যদি পাখি হতাম তাহলে উড়ে যেতাম” “যদি ফুল হতাম তাহলে ঘ্রাণ ছড়াতাম,” যদি শিশুকাল ফিরে পেতাম এইরকম ধারণা থেকে সরে আসি।
  • ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে মানুষ দুই দিনের অতিথি এটা জেনেও তারা জীবনের সকল অর্জন অতি যত্নে আগলে রাখে। জীবনের প্রতিটি মুহুর্তের ভালো লাগা, আবেগ অনুভূতি মিশ্রিত সব কিছু সাজিয়ে রাখে।এক মুহূর্তের জন্যেও যদি ভাবতো তার মৃত্যুর পরে এসব যে কেউ নষ্ট করতে পারে বা নতুন রূপ দিতে পারে তাহলে জীবনের সঞ্চিত সব জিনিস আগলে রাখতো না। ধনী গরীব সব মানুষই তার পছন্দের জিনিস যত্নে ঘরবন্দী করে রাখে আসলে সে কখনো ভাবেই না যে সে চলে গেলে তার এসব জিনিসের কদর আর কেউ করবে না। আমরা মৃত্যু নিয়ে ভাবি না বলেই কতো জিনিস অব্যবহৃত রেখেই চলে যাই, নিজে না খেয়ে নিজে না পরে পরবর্তী প্রজন্মের সুখের জন্য স্বপ্ন সাজাই কিন্তু সেই স্বপ্ন কজনের পূরণ হয়? বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যুর পরে তার স্মৃতি চিহ্ন মুছে ফেলা হয় বা নতুন রূপ দেয়া হয়।আসলেই আজব মানবজীবন কেউ গড়ে কেউ সেটাকে বদলে দেয়।
  • জীবন যেমন কখনো শান্ত দিঘির কালো জলের মতো, কখনো বহমান নদীর মতো, কখনো উত্তাল সাগরের মতো,কখনো সুমধুর ঝর্ণার মতো,কখনো শুষ্ক মরুভূমির মতো, কখনো পাহাড়ের উঁচুনিচু পাহাড়ি পথের মতো, কখনো মসৃণ সমতল ভূমির মতো, কখনো ভরা পূর্ণিমার আলোয় আলোকিত,কখনো ঘোর অমানিশার নিকষকালো আঁধারের প্রতিচ্ছবি। আসলে জীবন যখন যেমন তখন তেমনই মেনে নিতে হয়। জীবন মানে জটিল সমীকরণ যার সমাধান মিলে যাবে কিন্তু মিলে না। এ যেনো পিথাগোরাসের উপপাদ্য।
  • ফুলের সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ হই সুরভি আমাদের মোহিত করে কিন্তু এই সৌন্দর্য ক্ষণিকের।ফুল তো ফোটার পরে ঝরে যায়।ফুলকে ভালোবাসার আগে গাছকে ভালোবাসতে যত্ন করতে হবে, গাছ যত্ন পেলেই তো ফুল উপহার দিবে। মানুষের বাহ্যিক রূপও ক্ষণিকের আজকে সুন্দরী লাস্যময়ী আগামীকাল সে হয়তো এমন নাও থাকতে পারে কিন্তু মানুষের মন সে তো চির তরুণ থাকতে পারে আপনজনের যত্নে ভালোবাসায়। তাই আসুন কাছের মানুষের যত্ন করি মায়া করি ভালোবাসি।
  • যে আগুনের তাপ গায়ে লাগলে যন্ত্রণা হয়, সব কিছু পুড়ে নি:শেষ হয়,দগ্ধ ক্ষত ভয়াবহ কষ্ট দেয় সেই আগুনের উত্তাপেই আমরা খাবার রান্না করে খাই।আগুনের তাপে লোহা গলিয়ে ব্যবহার্য জিনিস তৈরি করি। আবার স্বর্ণ যতো মূল্যবানই হোক না কেন আগুনে তাপ না দিলে সেই স্বর্ণও খাঁটি হয় না। অর্থাৎ একই উত্তাপ কখনো ধ্বংস করে কখনো উপকার করে।এ-তো গেলো আগুনের কথা, পানিরও কিন্তু একেক পরিস্থিতিতে একেক রূপে নিজেকে প্রকাশ করে।পানির অপর নাম জীবন,পানি ছাড়া আমরা অচল কিন্তু সেই পানিও আগুনের সাহায্য ছাড়া সব ধরনের খাবার তৈরি করতে পারেনা।ভরা বর্ষায় খরস্রোতা নদীও মানুষের জীবন কেড়ে নেয়,উত্তাল সাগরের বুকেও ফেনিল জলরাশি অনেকের জীবন কেড়ে নেয়।বন্যায় চারিদিক প্লাবিত হলে মানুষের জানমালের ক্ষতি হয়,অতিবৃষ্টি মানুষের জীবনে দুর্ভোগ বয়ে আনে। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পানি ছাড়া আমরা এক মুহূর্ত চলতে পারিনা।আসলে আগুনই বলি আর পানিই বলি কেউই এক রূপে দেখা দেয় না। আমাদের যখন যেটা প্রয়োজন সেটাই গ্রহণ করি।মানুষের জীবনও বৈচিত্র্যময় কখনো আগুনের লেলিহান শিখা কখনো বরফ শীতল ঠান্ডা জলধারা।
  • বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির মতোই আমাদের জীবন পরিক্রমা। প্রকৃতি যেমন কখনো শান্ত কোমল,কখনো রুক্ষ অস্থির,কখনো নিরাপদ কখনো ভয়াবহ রূপে দেখা দেয়। মানুষের জীবনও ঠিক তেমন। মানুষের যেমন অভিমান হয় রাগ হয়,আনন্দ হয়,বেদনায় কাতরায়। প্রকৃতি কখনো হাসে কখনো কাঁদে কখনো রাগে কখনো ভালোবাসায় বাঁধে। জীবনে বাধাবিপত্তি যাই আসুক না কেন প্রকৃতির মতো নিজেকে তৈরি করাই জীবন। জীবন মানে থমকে যাওয়া নয় জীবন মানে বহমান নদীর মতো চলার পথ খুঁজে এগিয়ে যাওয়া।
  • একটা উপন্যাসের অধ্যায় বা পাতায় লিখিত গল্প ভিন্ন। হাসি-কান্না, সুখ-দু:খ মিশ্রিত স্রোতধারা তেমনি মানুষের জীবনেও সুখ-দু:খের মিশ্রণ।

Leave a Comment