আজিজুন নাহার আঁখি

প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি নিয়েই জীবন

মানুষের সব চাওয়া কখনো পূরণ হবার নয়। কিছু কিছু অপ্রাপ্তি নিয়েই জীবন চলে জীবনের নিয়মে। তাই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাপ্তির মাঝে সুখ খুঁজে নাও।আজ হয়তো তোমার কাছে প্রাপ্তির ঝুলিতে কিছুই নাই কিন্তু এমন একদিন আসবে যে তোমার ফাকা ঝুলি পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।

  • অন্যের কাজে যতোটা সহযোগিতা করবেন সে ততোটা অবহেলা করবে এটা মেনে নেয়ার সাথে মনেও নিতে হবে।
  • দম্ভ মানুষকে ধ্বংশ করে বিনয় মানুষকে সমৃদ্ধ করে তাই দাম্ভিক না হয়ে বিনয়ী হউন নিজেকে সমৃদ্ধ করেন।
  • সাম্যতার চাদরে মিলিত হলে যে কোনো কঠিন সমস্যার সমাধান করা যায় তাই হিংসা নয় সাম্যতা বজায় রাখুন।
  • যে তোমায় ভরসা করে তাকে দূরে ঠেলে দিওনা ,যে তোমায় বিশ্বাস করে তার কাছে কিছু আড়াল করোনা ,যে তোমায় ভালোবাসে তাকে কষ্ট দিওনা।
  • আপনার মন খারাপ হলে আপনি সাগর বা নদীর কাছে যান।নদীর জলের দিকে তাকালে আপনার মনের মধ্যে প্রশান্তি আসবে। মানুষ মানুষকে কষ্ট দিলেও প্রকৃতি মানুষকে কাছে টানে।তাই একে অপরের পাশে থাকুন প্রকৃতির মতোই আপনিও ভালোবাসুন।
  • মানুষ তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।কিন্তু প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তার সাথে আর সম্পর্ক রাখে না। প্রয়োজন নয় প্রিয়জন আপনার ভালোমন্দের অংশীদার হবে। তাই কাউকে প্রয়োজনে ব্যবহার না করে তাকে ভালোবাসুন, সম্মান করুন, যত্ন নিন। প্রিয়জনই প্রয়োজন মেটায় আর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে হারিয়ে যায়।
  • মানুষের প্রতিটি সম্পর্কের যত্ন নেয়া উচিত।অবহেলা, ইগনোর, হিংসা সম্পর্কের মধ্যে ভাঙন ধরায়। জীবনে ভালো থাকতে চাইলে বা প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে আপনাকে প্রতিটি সম্পর্ক যত্ন নিতে হবে। যে কোনো জিনিষের যত্ন না নিলে সে জিনিষ অচিরেই নষ্ট হয়ে যায়।তাই এখন থেকে আমরা যত্নশীল হই।
  • মানুষের সব চাওয়া কখনো পূরণ হবার নয়। কিছু কিছু অপ্রাপ্তি নিয়েই জীবন চলে জীবনের নিয়মে। তাই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাপ্তির মাঝে সুখ খুঁজে নাও।আজ হয়তো তোমার কাছে প্রাপ্তির ঝুলিতে কিছুই নাই কিন্তু এমন একদিন আসবে যে তোমার ফাকা ঝুলি পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।
  • মানুষের প্রতিটি সম্পর্কের যত্ন নেয়া উচিত।অবহেলা, ইগনোর, হিংসা সম্পর্কের মধ্যে ভাঙন ধরায়। জীবনে ভালো থাকতে চাইলে বা প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে আপনাকে প্রতিটি সম্পর্ক যত্ন নিতে হবে। যে কোনো জিনিষের যত্ন না নিলে সে জিনিষ অচিরেই নষ্ট হয়ে যায়।তাই এখন থেকে আমরা যত্নশীল হই।
  • জীবনে কোনো কিছু নিয়ে যেমন অহংকার করতে নেই আবার প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি কম হলে আফসোস করতে নেই কারণ আমরা চেষ্টা করতে পারি কিন্তু নিয়তি পরিবর্তন করতে পারিনা। ইহজগৎ নিয়ে আমাদের যতো ভাবনা তার ৫% ভাবনা আমরা পরকালের জন্য ভাবিনা কিন্তু এটাই নির্মম সত্য যে সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহর শোকর আদায় করি সব প্রাপ্তিতে সন্তুষ্ট থাকি।
  • অর্থ দিয়ে ব্যবসা বানিজ্য হয় কিন্তু সম্পর্ক হয় না। যেখানে অর্থ,ক্ষমতা,যশ,খ্যাতি প্রায়োরিটি পায় সেখানে ভালোবাসা হারিয়ে যায়। তাই অর্থ, ক্ষমতা,যশ,খ্যাতির মোহে প্রকৃত ভালোবাসাকে হারিয়ে ফেলো না।
  • পথের বাঁকে বাঁকে যেমন আলাদা সৌন্দর্য থাকে আলাদা আলাদা গল্প মিশে থাকে তেমনি মানুষের জীবনের বাঁকেও সুখ দু:খের গল্প মিশে থাকে। পথের বাঁকে আর জীবনের বাঁকে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে সেটা তার অজানাই থাকে আর এটাই বাস্তবতা এটাই জীবন।
  • এমন কোনো কথা বলা বা কাজ করা ঠিক না যার জন্য আফসোস করতে হয়। কথায় ও কাজে মিল রেখে এগিয়ে যাওয়া, অপরের মতামত বিবেচনা করা,মানব কল্যাণে সম্পৃক্ত থাকা,বিপদে পাশে থাকা এটাই তো মানুষের পরিচয়।
  • অনেক সময় আমরা ইচ্ছে করে বা অনিচ্ছায় নিজের অধিকার থেকে সরে আসি। অধিকার থেকে সরে দাঁড়ানো মানে অধিকার ছেড়ে দেয়া নয়। অল্প সময়ের জন্য অধিকার ভোগ করে নিজেকে বড়ো কিছু ভেবো না। সময় ঠিক সবার প্রাপ্ত ফিরিয়ে দেয়। আজ যা অনায়াসে পেলে কাল সেটা নাও থাকতে পারে তাই এতো খুশি হইও না। আজকে সরে আছে বলে কাল যে সে অধিকার আদায় করবে না তা নয়। ছাড় দেয়া মানেই ছেড়ে দেয় নয়।নিজের অধিকার থেকে যতোই সরে আসবেন ততোই দূরে চলে যাবেন তাই কিছুটা ছাড় দিতে পারেন কিন্তু ছেড়ে দিবেন না।
  • কাউকে ভালো না লাগলে সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসুন বা তাকে ছেড়ে দিন। কিন্তু সম্পর্ক ত্যাগ না করে অন্য কোনো সম্পর্কে জড়াবেন না। একসাথে দুজনের সাথে সম্পর্ক রাখা মানে তাদেরকে ঠকানো সর্বোপরি নিজেও ঠকে যাওয়া।
  • জীবন একটা লাইব্রেরির মতো যেখানে পুরাতন বইয়ের সাথে নতুন নতুন বই যুক্ত হয়। জীবন নামের এই লাইব্রেরিতে একসময় পুরাতন বই ধুলোর স্তুপে পড়ে থাকে আবার কিছু বই নতুন মোড়কে চকচক করে। কোনো সময় পাঠকের সমাগম হয় আবার কোনো এক সময় পাঠক শূন্য একলা দাঁড়িয়ে থাকে।
  • মানুষ যতোটা সহজে মোহে পড়ে ততোটা সহজে মায়ায় পড়েনা। তাইতো মোহ কাটিয়ে উঠতে পারলেও মায়া কাটানো যায়না। একবার যে মায়ার জালে আটকে পড়ে সে কিছুতেই মায়ার বাঁধন ছিন্ন করতে পারেনা। আমি তোমার মোহে পড়িনি আমি তোমার মায়ায় জড়িয়ে আছি তাইতো তোমার অনুপস্থিতিও মায়া ছিন্ন করতে পারেনি।
  • ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে কেনো এতো স্বার্থপরতা? নি:শ্বাস বন্ধ হলেই তো সব রেখে শূন্য হাতে যেতে হবে।তবু্ও কি স্বার্থপর থাকবো?
  • মুখের কথায় আর গায়ের জোরে সম্পর্ক হয়না, আত্মার সাথে আত্মার মেলবন্ধনই প্রকৃত সম্পর্ক তাই শক্তি দিয়ে নয় হৃদয় দিয়ে সম্পর্ক গড়ি।
  • সম্পর্ক বলুন আর ভালোবাসার লেনাদেনা বলুন তা যেনো অর্থের মাপকাঠিতে বিচার করা না হয়।অর্থের সম্পর্ক তো ক্ষণিকের, দেনা পাওনা মিটে গেলেই সম্পর্ক শেষ। আর হৃদয়ের যে সম্পর্ক তা এতোই মজবুত যে কিছুতেই সে সম্পর্ক নষ্ট হয় না। তাই সম্পর্ক হোক হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের আত্মার সাথে আত্মার।
  • কোনো কিছু ধ্বংস মানেই একেবারে নি:শেষ হয়ে যাওয়া নয়।ধ্বংস থেকেই নতুন কিছু সৃষ্টির পথ খুলে যায়। ভাঙা জিনিস জোরা লাগানো একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। আসুন কোনো কিছুর ধ্বংস অবহেলায় না রেখে তা গড়তে চেষ্টা করি।
  • আকাশের বিশালতার নিচে সবাই বাস করছি ঠিকই কিন্তু আমাদের অনেকের মন সংকীর্ণতায় মোড়ানো।কেউ উন্নতি করতে গেলে পিছন থেকে শুধু টেনে ধরি।
  • গাছের শেকড় যেমন মাটিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচে,মাটিও শেকড়কে আগলে রাখে।মানুষও এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।হয়তো কারোর স্বপ্ন মাঝপথে থেমে যায় আবার কারোর স্বপ্ন অংকুরেই হারিয়ে যায়।কেউ আবার আমৃত্যু শেকড়ের মতো আঁকড়ে থাকে। আসুন আমরা কারোর জীবনে আগাছা না হয়ে শেকড় হই যাতে আমরা আঁকড়ে ধরলে সে আমাদের আগলে রাখে।
  • জীবনে সফলতার জন্য অলৌকিক কোনো শক্তি নাই, কোনো ম্যাজিক নাই। পরিশ্রম মেধা,ধৈর্য্য, সততা,নিষ্ঠা,একাগ্রতা আর মানবিকতা সফল হবার অন্যতম মাধ্যম। আমরা সবাই হটাৎ করে কোনো পরিশ্রম না করে সফল হতে চাই যা কল্পনাতেই সম্ভব। আবার একই কাজ করে কেউ সাফল্যের দেখা পেয়েছে বলে নিরাশ হওয়া যাবেনা তোমার জন্য হয়তো এর চেয়ে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।তাই হতাশায় ডুবে না গিয়ে অধৈর্য্য না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে এগিয়ে যাওয়াই বাস্তবতা।
  • তাকানো আর দেখা এক নয়। তাকানো হল চোখের একটা পলকে কিছু নজরে আসা আর দেখা হলো কোনো কিছুকে মন দিয়ে অবলোকন করা। এক পলকের তাকানো কিছু মানুষের মনে থাকতেও পারে নাও পারে কিন্তু কেউ যদি মন দিয়ে দেখে সেটা তার হৃদয়ে গেঁথে যায়। দেখার ক্ষেত্রে মন আর মস্তিষ্ক একসাথে কাজ করে। তাই দেখা কোনো ঘটনা কেউ ইচ্ছে করে ভুলতে পারেনা শুধু ভুলে যাবার অভিনয় করতে পারে।
  • সহজ সরল মানুষের জীবনেই কষ্ট বেশি। তারা যাকে বা যাদের বিশ্বাস করে মনপ্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করে কিন্তু বিনিময়ে শুধুই প্রতারিত হয়।
  • ধৈর্য্য, পরিশ্রম,নিষ্ঠা,একাগ্রতার সাথে অধ্যবসায় সাফল্যের উচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়। সফলতার জন্য নিজের আত্মবিশ্বাস, সততা,উপস্থিত বুদ্ধি সবটাই প্রয়োজন। কোনো কাজে অধৈর্য্য হয়ে ছেড়ে দিলেন তো হেরে গেলেন। তাই হতাশায় ডুবে না গিয়ে ধীরস্থির ভাবে এগিয়ে যান।
  • সম্পর্কের গভীরতা মুখে প্রকাশ করে বুঝানো যায় না। যে সম্পর্কে গভীরতা বেশি সে সম্পর্কে প্রকাশ ততো কম। প্রকৃত ভালোবাসার বাহ্যিক প্রকাশ কম সঠিক প্রকাশ পায় অনুভবে।
  • কিছু কিছু না বলা কথা অনুভূতির মাধ্যমে প্রকাশ করাটাও সৌভাগ্যের। এমন কাউকে জীবনে খুব প্রয়োজন যাকে মুখে বলতে হয়না সে অনুভবেই মনের কথা বুঝে।মানুষের নিজস্ব কিছু কথা এমন ভাবে হৃদয়ে লুকোনো থাকে যাকে টেনে বের করার জন্য পারফেক্ট কাউকে প্রয়োজন কিন্তু ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে কেউ কারোর জন্য পারফেক্ট না। তাই তো মানুষের কিছু অনুভূতি অসমাপ্ত থাকে যা কেউ কখনো জানেনা।
  • আকাশে হাজারো মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায় কিন্তু সব মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরে না, গাছে গাছে নানান রঙের ফুল ফুটে কিন্তু সব ফুলে সুরভি ছড়ায় না, ছোটো বড়ো অনেক বৃক্ষের ফুল হয় আবার ফুল থেকে ফলও হয় কিন্তু সব ফল খাওয়া যায় না। নানান প্রজাতির পাখি উড়ে বেড়ায় কিন্তু সব পাখি মধুর সুরে ডাকে না। প্রকৃতির মাঝেও কিছু অসম্পূর্ণতা বিদ্যমান যা কোনোভাবেই পরিপূর্ণ করা যাবে না। আর আমরা মানুষ, আমাদের তো অসম্পূর্ণ কাজের ইয়ত্তা নাই। আবার ইচ্ছে থাকা সত্বেও অনেক কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে যেতে হয়।
  • কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায় না, কিছু কথা কাউকে বলা যায় না, কোনো কান্নার কারণ থাকে না, কোনো হাসির অর্থ জানা থাকে না। এমন কিছু বিষয় শুধু অনুভবে বুঝে নিতে হয়।
  • পথের প্রতিটি বাঁক আলাদা হয় কোথাও সমতল কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু। আমাদের জীবনের প্রতিটি বাঁকও সমান নয়, কোথাও হাসি কোথাও কান্না কোথাও জয় কোথাও পরাজয়। জীবনের বাঁকে বাঁকে কোন গল্প থাকে তা কেউ জানেনা তবুও জীবন থেমে থাকেনা জীবন চলে জীবনের নিয়মে।
  • নেতিবাচক কথা বলা মানে শুধু অন্যকে কষ্ট দেয়া নয় বরং নিজেকে হেয় করা। কারোর কথা বা কাজ ভালো না লাগলে এড়িয়ে চলুন কিন্তু কোনো নেতিবাচক কথা বলা ঠিক নয়। আপনার ছোট্ট একটা শব্দ বা বাক্য কাউকে উৎফুল্ল করতে পারে আবার কোনো শব্দ বা বাক্য হৃদয় ভেঙে দিতে পারে। আসুন আমরা সর্বাস্থায় নেতিবাচকতা পরিহার করি।
  • কষ্টের কথা শেয়ার করা মানে অন্যের কাছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ। মানুষ সুখের সময়ে পাশে থাকে ঠিকই কিন্তু দু:সময়ে কিভাবে আরও কষ্ট পায় সেই কাজটাই করে। এমন কিছু কথা যা বললে নিজেকে হালকা মনে হয় কিন্তু যাকে বলবেন সে কথাটার দাম দেয় না। তাই চিন্তাভাবনা করে নিজের দু:খের কথা শেয়ার করুন।
  • জীবন বহতা নদীর মতোই বয়ে চলে। নদীর ভাঙা গড়া যেনো মানুষের জীবনের ভাঙা গড়ার প্রতিচ্ছবি। নদীর একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এভাবেই ছুটে চলে কিছুতেই তার চলার গতি থেমে থাকে না তেমনি আমাদেরও ভাঙা গড়া নিয়েই ছুটতে হয়,ছুটতে হবে। চলার পথে হটাৎ করে থমকে গেলে চলবে না নতুন উদ্যোমে চলাই জীবন।
  • মানুষ মরে গেলেও তার কর্মে বেঁচে থাকে। এমন কর্ম করে যাও যাতে তোমার মৃত্যুর পরে তোমাকে কেউ গালি না দিয়ে তোমার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। আসো আজকে থেকেই নিজের মনুষ্যত্ব বিকাশ করি সকল কাজে সৎ থাকি,মানব কল্যাণে নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখি। অর্থ দিয়েই যে শুধু পাশে থাকা যায় তা নয় একটু সহানুভূতি একটু ভালোবাসা একটু ভরসা দিয়েই তুমি মানুষের পাশে থাকতে পারো।তোমার ছোট্ট একটা কথাও কারোর জীবনে প্রেরণা জোগাতে পারে।
  • কেউ পুড়ে আর কেউ পোড়ায় এখানে দুজনেই উত্তাপের সাথে জড়িত থাকলেও যে পোড়ায় সে সহনীয় তাপ অনুভব করে আর যে পুড়ে সেই বুঝে দহন জ্বালা কতোটা যন্ত্রণার। যেমন কেউ কাঁদে আর কেউ কাঁদায় দুজনেই কান্নার সাথে জড়িত থাকলেও যে কাঁদায় সে মনে মনে খুশি হয় আর যে কান্না করে তার বুকের জমানো ব্যথা অশ্রু হয়ে ঝরে। তুমি মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব তাই কাউকে দহন যন্ত্রণা দিও না কারোর অশ্রুপাতের কারণ হইও না।
  • অন্যের কাজে যতোটা সহযোগিতা করবেন সে ততোটা অবহেলা করবে এটা মেনে নেয়ার সাথে মনেও নিতে হবে। প্রয়োজনে
  • কাউকে প্রয়োজনে ব্যবহার না করে তাকে ভালোবাসুন, যত্ন নিন, সম্মান করুন।
  • রাতের সৌন্দর্যকে সবাই উপভোগ করতে পারেনা।আঁধার কালো রাতের নিস্তব্ধতার সৌন্দর্যের মাঝে নিজেকে বিলীন করে দেখো প্রশান্তিতে ভরে যাবে মনপ্রাণ।
  • নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করো যে তোমার কর্মে তোমার আচরণে সবাই মুগ্ধ হয়। তোমার সাফল্যে তোমাকে ভালোবেসে আগলে রাখে।
  • মনের সব যাতনা ভুলে নব উদ্যোমে শুরু হোক দিনের শুভারম্ভ। জীবনের বাঁকে বাঁকে যেন স্বপ্ন বুনি তা যেনো বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।ভালোর সাথেই থাকি ভালো কিছু করি আর মন্দকে ভালো করার চেষ্টা করি।সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই চাওয়া যেনো সততায় চলি সদা সত্য কথা বলি।
  • জীবনে যতো সমস্যাকে এড়িয়ে যাবেন ততো নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হবেন। তাই সমস্যা ছোটো থাকতে তার সমাধান করার চেষ্টা করুন। ছোটো চারাগাছ যেমন ধীরে ধীরে বড়ো হয় তেমনি জীবনের সমস্যাগুলোও ধীরে ধীরে বড়ো হয়। তাই গাছ ছোটো থাকতে আগাছা পরিষ্কার করার মতো সমস্যাকেও উপড়ে ফেলুন।
  • জয়ের আশায় এগিয়ে যাও কিন্তু জয়ের নেশায় আপন মানুষকে দূরে সরিয়ে দিওনা। তুমি জয়ী হলে তোমার চেয়ে ঐ মানুষটাই বেশি খুশি হবে যে তোমার মঙ্গল কামনায় স্রস্টার কাছে সদা প্রার্থনা করে।
  • নিস্তব্ধ রাতে প্রশান্তির ঘুম তখনই আসে যখন আপনার বিবেক আপনাকে সাপোর্ট করে।সারাদিনের কাজের পর্যালোচনায় যদি আপনি বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকেন তাহলে যে কোনো জায়গায় আপনার প্রশান্তির ঘুম হবে।আর যদি ছোট্ট কোনো ঘটনা বা কাজের জন্য নিজের ভেতরে অস্বস্তি অনুভব করেন, বারবার বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হউন তাহলে আরামদায়ক বিছানায়ও নিদ্রাহীন রাত কাটবে। তাই যে কাজই করুন না কেনো তা যেনো বিবেক বর্জিত না হয়।
  • সন্তানের ঘর্মাক্ত কপোলে চুমু খাওয়ার ভাগ্য সব বাবা মায়ের হয়না।কিন্তু এই অনুভূতি যে কতোটা সুখকর সেটা শুধু বাবা-মায়ের পক্ষেই অনুভব করা সম্ভব।কথায় আছে “দিয়া ধন কাইড়া নিতে কতোক্ষণ”। আসলে সেই বাবা-মা হতভাগা যারা সন্তানকে ধরে রাখতে পারে না। হে দয়াময় সবার মনে শান্তি দাও, নেক আমল করার তৌফিক দাও, নেক হায়াত দাও আর নেককার সন্তান দাও যাকে রেখেই বাবা- মায়ের চিরপ্রস্থান ঘটে।
  • মাঝে মাঝে অপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসও আকৃষ্ট করে। প্রকৃতির সব সৃষ্টির মাঝে সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে যা আমরা দেখেও দেখিনা। জমিতে পরে থাকা আগাছার সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করে দিয়েছে।
  • যতোই ভাবি অতীতের স্মৃতি মনে করবো না ততোই আরও বেশি পিছু টানে। সময় গড়িয়ে যায় বদলে যায় মানুষের পুরোনো অভ্যাস কিন্তু হৃদয়ে যার নাম খোদাই করা সেটা ভোলা যায়না। প্রিয়জন দূরে থাকলে বুকের ভেতর নোনা ব্যথা অশ্রু হয়ে ঝরে আর সে যখন ফিরে আসে তখন দ্বিগুণ খুশিতে হৃদয় পুলকিত হয়। আর যে একেবারে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় তার শূন্যতা কিছুতেই পূরণ হয়না, চোখের অশ্রু ঝরতে ঝরতে একসময় হয়তো চোখের কোণে এক ফোঁটা জল টলমল করে কিন্তু হৃদয়ের ক্ষত শুকোয় না। এমন মায়ার বাঁধনে ছিড়ে প্রিয়জন হারিয়ে গেলে মানুষ বাঁচে কিন্তু তার প্রাণটা আধমরা হয়েই থাকে।
  • জীবনে এমন কাউকে প্রাধান্য দিও না যে তোমাকে সবার কাছে হেয় করে। অধিকার দেবার আগে একটু ভেবে নাও যে সে অধিকার পেয়ে তোমাকে সবার সামনে কিভাবে উপস্থাপন করবে? কাউকে নিজের ব্যক্তিগত কথা বলার আগে একবার দুইবার নয় তিনবার ভেবে দেখো যে সেই কথা জনসমক্ষে সামনে আনবে কি না। নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে অপরের মুখে হাসি ফোটালে তুমি মহান না হয়ে সস্তা হয়ে যাবে। “মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য” এই কথাটি অবশ্যই পালন করতে হবে কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে নয়। এমন কিছু মানুষকে আমরা এতোই গুরুত্ব দেই যে তার করা বড়ো ভুলও আমাদের কাছে ঠিক মনে হয় আর এটা সে বুঝে বলেই আমাদেরকে সে ব্যবহার করে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করে।
  • কাউকে তোষামোদ করে সফল হওয়া যায় না,কারোর অনুগ্রহ নিয়ে বড়ো হওয়া যায় না,কাউকে তেল দিয়ে কিছু আদায় করা যায় না। জীবনে সাফল্য পেতে চাইলে ধৈর্য্য ধরে পরিশ্রম করতে হবে। কারোর নাম ভাঙিয়ে কিছু প্রাপ্তিতে আনন্দ থাকে না,নিজের শ্রমে ঘামে অর্জিত ফলাফল ক্ষুদ্র হলেও সেটা তৃপ্তিদায়ক।
  • এক সেকেন্ডের নাই ভরসা তবুও মানুষের দাম্ভিকতা কমে না। এই বাড়ি গাড়ি অর্থ সম্পদ কিছুই সাথে যাবে না, অতি আপনজনও সাথে যাবে না তবুও মানুষের গায়ের জোরে অমানবিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। কি হবে এতো রংবাহারি জীবন দিয়ে যদি সেখানে শান্তি না থাকে। কাউকে ছোটো করে কখনো বড়ো হওয়া যায় না। বড়ো হতে হলে বিনয়ী হতে হয়। “মানুষ মরে গেলে পচে যায় বেঁচে থাকলে বদলায়”আর কিছু মানুষ তার কথায়,কাজে মরেও অমর রয়। ক্ষণিকের এই অতিথিশালায় আমরা স্বপ্নের মতো এসেছি আর কখন চলে যাবো সেটাও জানিনা কিন্তু যেতে হবে এটা কিন্তু জানি। তাই প্রাপ্তির চেয়ে প্রত্যাশা কম থাকাই শ্রেয়।
  • নিজের ক্ষতি হবে জেনেও আমরা অনেক সময় অন্যের মুখে হাসি ফোটাই। কিন্তু যার বা যাদের জন্য আমাদের এই ত্যাগ তারা প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ফিরেও তাকায় না। কারোর জন্য কিছু করতে পারাতে খুব আনন্দ হয় কিন্তু সেই মানুষই যখন পিছন থেকে সমালোচনা করে তখন কষ্টও বেশি হয়।”ভালো মানুষের ভাত নাই ” গ্রাম্য প্রবাদের এটা আজ প্রমাণিত। তারপরও যারা পরোপকারী তারা মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়।আসুন মানব সেবায় এগিয়ে আসি প্রাণখুলে সবাই হাসি।
  • পানি বা তরল জাতীয় কিছু দিয়ে কাউকে আঘাত করে কষ্ট দেয়া যায় না, কাউকে আঘাত করতে চাইলে পানিকে বরফে পরিণত করতে হয় আর পানি যখন বরফ হয় তখন বরফের আঘাতে ক্ষত সৃষ্টি হয়।আবার সেই বরফকে আগুনে তাপ দিয়ে তরলে পরিণত করে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা হয়। মানুষের মনও যদি পানির মতো তরল থাকে সে কাউকে আঘাত করতে পারে না। কাউকে আঘাত করতে হলে মনকে বরফের মতো কঠিন বানাতে হবে আর প্রয়োজনে কঠিন মনকে পুনরায় তরল করার জন্য ভালোবাসার উষ্ণতা দিতে হবে। আসুন মনটাকে তরলই রাখি কাউকে আঘাত করে নিজেও কষ্ট না পাই অন্যকেও কষ্ট না দেই। তবে প্রয়োজনে এই সহজ সরল মনটাকে বরফের মতো কঠিন করতে হতে পারে।
  • খরস্রোতা নদীতে বাঁধ দিয়ে তার স্রোতকে আটকানো যায় না, যতোই আটকানোর চেষ্টা করা হোক না কেন সে ঠিকই তার গতিপথে এগিয়ে যায়। স্রোতের তোড়ে সব ভাসিয়ে নিয়ে ছুটে চলে। তেমনি কোনো মানুষকে হাতে-পায়ে ধরে, চোখের জল ফেলে, মোটিভেশনাল কথা বলে ধরে রাখা যায় না। হাত-পা বাঁধা গেলেও মন বাঁধা যায় না, যে চলে যাবার সে নানান অযুহাতে চলে যাবে। তার চলে যাওয়ায় কে কষ্ট পেলো সেটা তার দেখার বিষয় না,কার হৃদয় ভেঙে টুকরো টুকরো হলো,বিরহ জ্বালায় জ্বলে পুড়ে গেলো এসবের জন্য তার একটু মায়া হয় না। যদি মায়াই থাকতো সে চলে যেতো না। আর যে থাকার তার সাথে ভালো করে কথা না বললেও সে থেকে যায়। তাই কাউকে জোর করে ধরে না রাখার বৃথা চেষ্টা না করে তাকে ছেড়ে দাও ফেরার হলে সে ফিরবে আর না ফিরলে তাকে তার মতো থাকতে দাও।
  • বুকের ভেতর কষ্ট চেপে মুখে এক চিলতে হাসি তো সবাই রাখতে পারে,হাসির আড়ালে অনেক বেদনা লুকানো যায় কিন্তু কেউ কি ইচ্ছা করলেই মনে হাসি রেখে চোখের জল ফেলতে পারে? চাইলেই কাঁদা যায় না, এক ফোঁটা অশ্রুজলের মূল্য অনেক। কারোর কথায় বা ব্যবহারে হৃদয়ে ব্যথা পেলে চোখে জল আসে,শারীরিক যন্ত্রণায় জল আসে,কেউ ছেড়ে গেলে জল আসে আবার বেশি খুশিতেও জল আসে কিন্তু আপনি চাইলেই যখন তখন কাঁদতে পারবেন না। তাই আমরা যেনো কারোর কান্নার কারণ না হই, কারোর অভিশাপ না কুড়াই,কারোর চলার পথের বাঁধা না হই।কাউকে হাসাতে না পারলেও কখনো যেনো না কাঁদাই।
  • জন্মেছি একা যেতেও হবে একা মাঝের অল্প সময়ে যে মায়াময় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি তা যেনো বেদনায় শেষ না হয়।সবাই মায়ার বাঁধন ছিন্ন করতে পারে না,কেউ চলে গেলে মেনে নিতে হয় কিন্তু তার জন্য হৃদয় গহীনে যে ক্ষত হয় সে ক্ষত কিছুতেই সারে না। আর যার চলে যাওয়ায় শূন্যতা তৈরি হয় সেই শূন্যতা শূন্যতাই থাকে। মানুষের আবেগকে সম্মান করতে না পারলে তার সাথে মায়াময় সম্পর্ক তৈরি করা ঠিক নয়। কাউকে মায়ার বাঁধনে জড়ালে তাকে মাঝপথে ছেড়ে দিওনা,মতের অমিল হলে তাকে সময় দাও, তাকে বোঝার জন্য উপায় বের করে দাও কিন্তু মায়ার বাঁধন ছিন্ন করো না।
  • চারিদিকে শুধু লোক দেখানো থরে থরে সাজানো ভালোবাসার পসরা।কেউ ছুটছে অর্থের পিছনে কেউ ছুটছে প্রভাব প্রতিপত্তির পিছনে,কেউ ছুটছে খ্যাতি যশের পিছনে। আর এসবের পাওয়ার জন্য লোক দেখানো ভালোবাসার লোকের অভাব হয় না। যারা প্রকৃত ভালোবাসে তারা অযত্নে,অবহেলায়,আড়ালে শুধু স্রষ্টার কাছে নিরবে চোখের জল ফেলে।
  • জীবন একটা উড়ন্ত ঘুড়ি যাকে কোনো সুতো দিয়ে ধরে রাখা কষ্টকর।ঘুড়ি যেমন একটু একটু করে উপরে উড়তে থাকে। যে ঘুড়ি উড়ায় সে লাটাই থেকে সুতো ছাড়তে থাকে আর ঘুড়িও উপরে উড়তে থাকে। ঘুড়ি যতো উপরে যায় যে ঘুড়ি উড়ায় তার খুশিও বাড়তে থাকে। কিন্তু একসময় বেশি উপরে গিয়ে বাতাসের তোড়ে সুতো ছিড়ে ঘুড়ি হারিয়ে যায়। মানুষও এমন, যাকে বেশি ভালোবাসবেন তার জন্য আপনি নিজেকে বিলীন করে দিবেন একদিন সে আপনাকে কাঁদিয়ে চলে যাবে ঠিক ঘুড়ি যেমন হারিয়ে যায়।যতো শক্ত করে লাটাই ধরে রাখুন না কেন এক সময় ঘুড়ি আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই কাউকে উড়তে দিয়ে ফেরার আশা করবেন না, সে হয়তো ফিরবে কিন্তু আপনার কাছে নয়।
  • এই জগতে মায়ের চেয়ে আপন কেহ নাই। ‘মা’ ছোট্ট একটা শব্দ কিন্তু তার মায়া মমতা সীমাহীন। সন্তানের জন্য মা পারেনা এমন কাজ নাই। মায়ের বিকল্প কেউ হতে পারে না। মা সত্যিই মধুর শব্দ,ক্লান্ত মনে প্রশান্তি,এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা।
  • রাত শুধু সুখনিদ্রার জন্য নয় রাত সাধনার,আরাধনার অপেক্ষার,ভুল সংশোধনের উপযুক্ত সময়,নিজেকে তৈরি করার ক্ষণ, স্রষ্টার কাছে নিজেকে সমর্পণ।
  • জীবন কোনো সহজ সমীকরণ নয় যে একবারেই মিলে যাবে। জীবন একটা জটিল সমীকরণ যা সবার পক্ষে মেলানো সম্ভব নয়।এই ক্ষণিকের পৃথিবীতে হাজারো ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেই একটু ভালো থাকার জন্য আমরা ছুটে চলছি। সবার উদ্দেশ্য একটাই একটু ভালো থাকা। কিন্তু নিয়তিতে সবার ভালো থাকেনা তবুও জীবন থেমে থাকেনা জীবন চলে জীবনের নিয়মে। আসলেই জীবন দুর্বোধ্য এক সমীকরণ যা অমিমাংসিত রেখেই চলে যেতে হয়।
  • কাছের মানুষ যে সব সময় পারফেক্ট হবে তা নয়। অবশ্য কোনো মানুষই পারফেক্ট নয়। তবুও আমাদের আপনজন ঠিকঠাক না হলে আমরা হতাশায় নিমজ্জিত হই,দুশ্চিন্তায় স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে অস্বস্তি বোধ করি কিন্তু এসব থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় নাই। স্রষ্টার উপর ভরসা করা আর সময়ের উপর ছেড়ে দেয়া ছাড়া কিছুই করার নাই। যে নিজে ভালো থাকে না তার জন্য যে অন্যদের সমস্যা হয় সে সেটা যদি বুঝতে পারতো তাহলে নিজেকে গুছিয়ে রাখতো। আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া হে দয়াময় তুমি সবাইকে হেদায়েত করো, দুশ্চিন্তামুক্ত-সুস্থ জীবন দাও, ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে প্রাণভরে নির্ভেজাল প্রশ্বাস নিতে দাও।
  • কারোর কারোর জীবনে সমস্যা যেনো গাছের পাতার মতো। গাছের পাতা যেমন একদিকে ঝরে পড়ে আরেকদিকে নতুন পাতা বের হয় কিছু মানুষের জীবনের সমস্যাও ঠিক তেমনি একটা সমস্যা দূর হতে না হতে নতুন সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ায়। ছোট্ট এই জীবনে এতো টেনশন নিয়ে কি ভালো থাকা যায়? যতোই মনোবল শক্ত রাখতে চান না কেন দুশ্চিন্তা যাকে আঁকড়ে ধরে সে কখনো ভালো থাকতে পারে না।
  • এমন স্নিগ্ধ শান্ত কোমল যদি মানুষের জীবন হতো যেখানে হতাশা,দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, অপারগতা, অবহেলা, অসম্মান কিছুই থাকতো না তাহলে প্রতিটি মুহূর্ত নিশ্চিন্তে কাটানো যেতো।ছোট্ট এই জীবনে শুধু নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলতে চলতে জীবনের আসল মানেই খুঁজে পাওয়া যায় না। হে দয়াময় সবাইকে শান্তি দাও, সঠিক পথ দেখাও।
  • যতোই চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করবে ততোই হাজারো সমস্যা তোমাকে ঘিরে ধরবে। জীবন মানেই নতুন চ্যালঞ্জের সম্মুখীন হওয়া জীবন মানেই উঁচুনিচু পথ পার হওয়া। জীবন ফুলের মতো সুন্দর নয় জীবন ফুলের মতো ঝরে পড়া।
  • গন্তব্য কাছেই হোক আর দূরেই হোক নিরাপদে পৌঁছে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত কিছুটা ভয় কিছুটা শংকার মধ্যে কাটে। পথের দুরত্ব যেনো নিরাপদ হয় শংকা মুক্ত হয় সেটাই প্রার্থনা।
  • কিছু চাওয়া কখনো পূরণ হয়না,কিছু পাওয়া ধরে রাখা যায়না, চাওয়া পাওয়ার হিসেব কষতে কষতে জীবন চলে জীবনের নিয়মে।
  • নদীর বাঁকে বাঁকে হাজারো গল্প থাকে, কিছু গল্প হয় সুখের কিছু গল্প দু:খের তাতে নদীর চলার পথ পরিবর্তন হয় না। নদী তার আপন গতিতে বয়ে চলে।
  • মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক একবারই ছিন্ন হয় জন্মের সময় নাড়ী কাটার মাধ্যমে আর মায়ের সাথে এই ছিন্ন সম্পর্ক নিয়েই সে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখে। নাড়ী কেটে মায়ের দেহ থেকে আলাদা করা হলেও মায়ের সাথে রক্তের বন্ধন আত্মার বন্ধন কিছুতেই ছিন্ন করা যায়না( কিছু অমানুষ সন্তান ব্যতিত)।কোনো সম্পর্ক যতো গভীরই হোক না কেন এক মুহুর্তেই ছিন্নভিন্ন করা যায় কিন্তু বাবা-মায়ের সম্পর্ক ছিন্ন করা যায়না।আল্লাহর কাছে সকল জীবিত বাবা মায়ের সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনা করি আর কবর বাসী সকল বাবা মায়ের জায়গা যেনো জান্নাতে হয় সেটাই চাই।
  • জীবনের হিসেবে অনেক জটিল, বেশিরভাগ সময় এলোমেলো ভাবে জীবন এগিয়ে চলে। কিছু প্রত্যাশা, কিছু প্রাপ্তি আর অনেক অপ্রাপ্তি নিয়েই জীবন চলে জীবনের নিয়মে।
  • সময়ের সাথে সাথে বদলে যায় মানুষ বদলে যায় মানুষের সম্পর্ক। মানুষ নতুন নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে আর পুরনো সম্পর্ক আলমারিতে উঠানো পোশাকের মতো পড়ে থাকে। মাঝে মাঝে পুরনো পোশাক নাড়াচাড়া করে ঠিকই কিন্তু তাকে আর আগের মতো ব্যবহার করে না। মানুষও ঠিক তেমনি সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে পুরনো সম্পর্ক শুধু স্মৃতিতে থাকে কিন্তু তাদের সাথে আগের মতো যোগাযোগ থাকেনা এটাই প্রকৃতির নিয়ম এটাই বাস্তবতা।
  • এক সেকেন্ড পার হওয়া মানে মৃত্যুর দিকে এক সেকেন্ড এগিয়ে যাওয়া। মৃত্যু চিরন্তন সত্য জেনেও আমরা ক্ষণিকের পৃথিবীতে নিজেদের স্বার্থ পূরণে অন্যায় কাজ করে থাকি। মৃত্যুর স্বাদ সব প্রাণিকে গ্রহণ করতে হবে এটা যে আমাদের নিজের বেলায়ও ঘটবে সেটা ভুলে যাই। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে নিজেকে তৈরি করাই শ্রেয়।
  • বেলুনের ভেতর যতোই হাওয়া বা গ্যাস ভরা হোক না কেন উড়িয়ে দিলে সে আর ফিরে আসবে না দিগন্তেই মিলিয়ে যাবে আবার ফোলানো বেলুন ঘরে রাখলেও ধীরে ধীরে চুপসে যাবে। মানুষের জীবনও বেলুনের মতো চলতে চলতে একদিন ফুরিয়ে যাবে। তবুও ছোট্ট এই জীবন নিয়ে আমরা কতোই না বাহাদুরি করি,কতো দম্ভ অহংকার,কতো হিংসা বিদ্বেষ, কতো প্রভাব প্রতিপত্তি। বেলুনের হাওয়া বের হলেই যেমন বেলুনের সৌন্দর্য কার্যকারিতা শেষ তেমনি মানুষের দম বের হলেই সব দেনা পাওনা শেষ। তাই হিসেবের খাতা শুধু শূন্য না রেখে আসুন পূণ্য অর্জন করার চেষ্টা করি। স্রষ্টার উপর ভরসা রেখে সততার সাথে মানবিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখি।
  • কারোর প্রায়োরিটি লিস্টে থাকা সবার ভাগ্যে জুটেনা। মানুষ এমন কাউকে তার প্রায়োরিটি লিস্টে রাখে যাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায় যাকে ভরসা করা যায়। তুমি কাউকে প্রায়োরিটি দিলে সেও যে তোমাকে দিবে সেটা আশা করা বোকামি ছাড়া কিছু নয়। মানুষের মন এক নয় মানুষের চাওয়াও এক নয় তাই কারোর প্রিয় হতে না চেয়ে প্রয়োজন হবার চেষ্টা করো। হয়তো কোনোদিন প্রয়োজন থেকেই প্রিয়জনের কাতারে দাঁড়াতে পারবে।
  • মানুষের দেহ আগুনে পুড়ে গেলে যেমন কষ্ট হয় তার চেয়েও বেশি কষ্ট হয় যখন স্বামী বা স্ত্রী অন্য কারোর সাথে সম্পর্কে জড়ায়। পোড়া জায়গা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে গেলেও স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তির আগমনে যে দগদগে ক্ষত হয় তা কিছুতেই ভালো হয় না।
  • দম্ভ,অহংকার, হিংসা,বিদ্বেষ, পরনিন্দা,পরচর্চা কখনো কারোর জীবনে সুফল বয়ে আনেনা। আপনি যতোই ক্ষমতাশালী হোন না কেন আপনার চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী হচ্ছে স্রষ্টা। তাই দম্ভ অহংকার দূর করে বিনয়ী হোন। আল্লাহ পাক ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না। সম্মান করলে সম্মান পাবেন অসম্মান করলে অসম্মানিত হবেন এটা সূর্যের কিরণের মতো সত্য।
  • সুখ স্বাচ্ছন্দ্য সময়ের খাঁচায় বন্দী করা যায় না। সুখ এমন একটা আপেক্ষিক বিষয় যা সঞ্চয় করা যায় না,যা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না। তাই যখন যেভাবে যেটুকু সুখ পাও সেটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো। আজকে তুমি সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে খুব ভালো সময় পার করতেছ আগামীকাল যে এমনই থাকবে তার নিশ্চয়তা নাই। আল্লাহ পাক যেভাবে রেখেছেন তার উপর শোকর আদায় করো আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ পাক আমাকে ভালো রেখেছেন।
  • এক সময় মৃত ব্যক্তির লাশ দেখে ভয় লাগতো আর মৃত ব্যক্তিকে ছুঁয়ে দেখাতো কল্পনাও করিনি তারপর আমার দাদা মারা যাবার পরে সেই ভয়টা ধীরে ধীরে কাটতে থাকে। কবরস্থানের পাশ দিয়ে গেলে গায়ের লোম কাঁটা দিয়ে উঠতো। কবরস্থানের কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে যতো দ্রুত সম্ভব চলে আসতাম কিন্তু এখন সকাল, বিকাল,দুপুর,রাতে গেলেও ভয় করেনা।ইচ্ছে করে আরও একটু সময় থাকতে পারলে ভালো লাগবে। কবরস্থানের বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে দোয়া পড়ায় কোনো ক্লান্তি আসেনা ভয় তো করেই না। আসলে পরিস্থিতি মানুষকে বদলে দেয়। হে দয়াময় সকল কবর বাসীকে ক্ষমা করো,তাদের সওয়াল-জবাব সহজ করে দাও। আমাদের হেদায়েত করো,ক্ষমা করো,নেক আমল করার তৌফিক দাও,নেক হায়াত দাও আমিন।
  • কেউ দু:খ আড়ালে রেখে মুখে কৃত্রিম হাসি রেখে চলে, কেউ নীরবে নিভৃতে চোখের অশ্রুতে প্রার্থনায় স্রষ্টার কাছে দুহাত তুলে করুণা ভিক্ষে করে।কেউ তাচ্ছিল্য আর অবহেলায় এড়িয়ে যায়,কেউ সব বুঝেও তারই মঙ্গল কামনা করে। আমরা শুধু বাইরের চাকচিক্য দেখে মনুষ্যত্ব বিচার করি, আমরা কখনো ভেতরের আর্তনাদ শুনি না,কখনো আশীর্বাদ আর ভালোবাসার মূল্যায়ন করিনা।
  • মন্দের বাজারে ভালো খুঁজে বেড়ালে কি আর ভালো পাওয়া যাবে? মন্দের বাজারে তো মন্দই থাকবে সেটা জেনেও আমরা মন্দের মধ্যে ভালো খুঁজছি। ভালোর মধ্যে ভালো যেনো অতলে হারিয়ে গেছে। এমন একটা পরিস্থিতি যে কিছু পেলেই হলো। এমন যদি হতো সব অনাচার ঘুচে যেতো আর আমরা ভালোর মধ্য ভালো খুঁজে নিতাম, সেরাদের মধ্যে সেরা হতাম। কিন্তু এসব এখন অলীক স্বপ্ন।এ যেনো অন্ধ লোকের গভীর জলে মাছ ধরার মতো।
  • মানুষ শুধু অসাধারণের পিছনে ছুটে চলে কিন্তু সাধারণ থেকে অসাধারণের গল্প আড়ালেই থেকে যায়। কেউ জন্ম থেকেই অসাধারণ হয় না,স্রষ্টার প্রতি অগাধ বিশ্বাস,অনেক ধৈর্য্য পরিশ্রম আর একাগ্রতা মানুষকে সাফল্য এনে দেয়। অসাধারণের মধ্যে বাস করে অসাধারণ হবার চেয়ে সাধারণের ভীড়ে নিজেকে অসাধারণ করার চেষ্টা করো। জীবন তো একটাই তাই আসো “বদলে যাই বদলে দেই”, ইতিবাচক হই ইতিবাচকতা ছড়াই।
  • না চেয়ে কিছু পেলে বেশি খুশি হইও না কারণ যা সহজে পাওয়া যায় তা অল্পতে হারিয়েও যেতে পারে। পরিশ্রম করে কিছু অর্জন করো যা তোমাকে তৃপ্তি দিবে আর অর্জিত ফলাফলকে আগলে রাখতে পারাটা তোমার সৌভাগ্য নয় সেটা তোমার কর্মফল।
  • ঝড় এলে তার দমকা হাওয়া বড়ো গাছকেই আঘাত করে। বড়ো গাছের ডালপালা ভাঙে,অনেক সময় পুরো গাছই উপড়ে ফেলে আর সেখানে ছোটো গাছ গুলোতে একটু আঁচড়ও লাগেনা। আবার প্রখর রোদে বড়ো গাছই ছায়া দিয়ে শীতল করে কিন্তু বিনিময়ে তাদেরকেই জীবন দিতে হয়। আমরা ছোট্ট চারাগাছকে যত্ন করে বড়ো করে তুলি গাছ থেকে সেবা পাওয়ার জন্য। আর যখনই গাছের বয়স বাড়তে থাকে তাকেই কেটে ফেলি নিজেদের প্রয়োজন মেটাই।আমাদের জীবনুও বৃক্ষের মতো।ছোটো বেলায় বাবা মায়ের আদর যত্নে বড়ো হই। ধীরে ধীরে পরিবারের, সমাজের,দেশের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেই আর যখন বয়সের ভারে শরীর নিস্তেজ হত থাকে তখন গাছের মতোই আমাদের প্রতি অবহেলা বাড়তে থাকে। বয়োজ্যেষ্ঠদের দিকে তাকিয়ে আমরা একবারও ভাবি না যে আজকের আমি তাদেরই আদর ভালোবাসার ফল। শুধু প্রয়োজন মেটাই প্রিয়জন বানাই না।
  • চলার পথে রাস্তার বাঁক যেমন এক রকম নয় তেমন জীবনের প্রতিটি বাঁক আলাদা হয়ে থাকে। কোনো বাঁকে হাজারো সমস্যা আছে বলে সেখানে থেমে যেওনা। দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যাও কেননা সামনের বাঁকে হয়তো তোমার জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। আসলে জীবন যখন যেমন তখন তেমন।
  • কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উপর রাগ করে, অভিমান করে নিজেকে আড়াল করাটা ঠিক নয়।একজন স্বপ্নদ্রষ্টা সবার স্বপ্ন পূরণে পিছপা হয়না ।
  • সূর্য অনেক দূরে থাকার পরেও আমরা তার উষ্ণতায় উজ্জীবিত হই।সূর্য হটাৎ করে মেঘের আড়ালে ক্ষণিকের জন্য ঢাকা পরে ঠিকই কিন্তু মেঘ সূর্যকে আটকে রাখতে পারেনা। বরং একটানা কয়েকদিন বৃষ্টির পরে সূর্য আরো তেজ নিয়ে আমাদের কিরণ ছড়ায়। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের স্থায়িত্ব খুবই কম, সূর্য তার তাপশক্তি দিয়ে সবাইকে উজ্জীবিত করতে নিজেকে বিলীন করতে কিরণ ছড়ায়। উদীয়মান সূর্য তার আপন শক্তিতে নিজেকে ঢেলে সাজায়। ইনশাআল্লাহ মেঘের ঘনঘটা কাটিয়ে তেজদীপ্ত সূর্য কিরণ ছড়াবেই।
  • অসুস্থ বিবেকের ভীরে সুস্থ কে? চারিদিকে শুধু বিবেকের দুর্ভিক্ষ! বিবেকের দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা আজ মারাত্মক ব্যধিতে পরিণত।
  • কাগজের ফুল যতোই সুন্দর হোক না কেন তা মানুষের মনকে প্রফুল্ল করতে পারেনা।তার ঘ্রাণহীন সৌন্দর্য ক্ষণিকের জন্য কাউকে আকৃষ্ট করলেও স্থায়িত্ব কম।পথের ধারের জংলী ফুল আমরা কেউ কেউ যখন তখন মাড়িয়ে যাই কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি যে জীব হত্যা করা কি ঠিক? আসুন আমরা সকল জীবের প্রতি যত্নশীল হই, স্রস্টার সকাল সৃষ্টিকে অবহেলা না করে ভালোবাসি,আগলে রাখি।
  • ধারালো জিনিস দিয়ে যতো কাটাকুটি করবে সেটা ততোই ধারালো হবে তেমনি যতো টেনশন করবে ততো টেনশন এসে ভর করবে। তাহলে এখন উপায় কি?
  • একজন নাবিকের কাজ শুধু জাহাজ নিয়ে সাগরে ভেসে বেড়ানো নয়। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের দোলা,সাগরের ভয়াবহ গর্জন,হটাৎ করে আসা ঝড়োমেঘ, ঝড়ো হাওয়ায় জাহাজকে নিরাপদে তীরে ভিরানো। নাবিক কখনো মৃত্যু ভয়ে হাল ছেড়ে দেয়না,শুধু নিজেকে রক্ষা করেনা সে যেমন একদিকে জাহাজে থাকা সকলকে বাঁচাতে জলের সাথে প্রাণপণে লড়ে যায় তেমনি সকলের মনোবল বাড়াতে নিজেকে উজ্জীবিত রাখে। জীবনটা ঠিক সমুদ্রে ভাসা জাহাজ যেখানে প্রখর বুদ্ধিমত্তা, অসীম সাহস,ধৈর্য্য ধরে এগোতে হয়।
  • “বিত্তবান বনাম দরিদ্র“বাজারে হরেক রকম ক্রেতার চাহিদা মেটাতে হরেক রকমের মাছের ডালা সাজিয়ে বিক্রতারা অপেক্ষায় থাকে। যাদের পকেটে বেহিসেবী টাকা থাকে মাছ বিক্রেতার কাছে তারা অত্যন্ত প্রিয় কারণ দেখা মাত্র তারা দরদাম না করেই দামী দামী মাছ ক্রয় করেন। মাছের প্রয়োজন না থাকলেও ব্যাগভর্তি করে ঘরে ফেরেন।অপরদিকে দরিদ্র ক্রেতা দূর থেকে দাম শুনে কাছে যাবার সাহস পর্যন্ত পায় না। দরিদ্ররেও খেতে ইচ্ছে করে কিন্তু পকেট যে গড়ের মাঠ তাইতো মুখ দিয়ে নয় চোখ দিয়েই খাবারের চাহিদা পূরণ করেন। আর মুখে তোলার জন্য সস্তা পুঁটি নিয়ে ঘরে ফেরেন। একই ভূখণ্ডে বাস করে কেউ খায় কেউ পায় না, কেউ বিলাসিতা করে কেউ অভাবে মরে।আসলে দরিদ্রদের বেশির ভাগ দামী খাবারই মুখ দিয়ে নয় চোখ দিয়ে খেতে হয় এটাই বাস্তবতা এটাই জীবন।
  • অস্ত্রের আঘাতে যতো বড়ো ক্ষতই হোক না কেন ঔষধে ঠিক সেরে উঠে কিন্তু শব্দের আঘাতে যে ক্ষত হয় তা কিছুতেই সারে না। যে দাম্ভিকতা দেখিয়ে গলাবাজি করে অন্যের মনে কষ্ট দিচ্ছো এই দাম্ভিকতা ক্ষণিকের। আজ যে মুখ দিয়ে কড়া ভাষায় কাউকে আঘাত করছো কালকে এই মুখে কথা ফুটবে কি না সেটা কেউ বলতে পারবে না। জীবন তো পদ্মপাতায় বৃষ্টির জলের মতো একটু বাতাসে গড়িয়ে পড়ে। বিনা কারণে আমাদের ক্ষমতার দাপটে কেউ কষ্ট পেলে মানুষের আদালতে কিছু না হলেও তার জন্য স্রষ্টার কাছে আমাদেরকেই জবাবদিহি করতে হবে।কারোর উপর শক্তি খাটানোর আগে একবার ভাবা উচিত যে ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে আমরা সবাই অতিথি।আল্লাহ পাক ক্ষমাশীল কিন্তু বান্দার মনে কষ্ট দিলে সেই বান্দা মন থেকে ক্ষমা না করলে স্বয়ং আল্লাহ পাক ক্ষমা করবেন না।
  • আমরা সব সময় ভুল মানুষকে প্রায়োরিটি দিয়ে থাকি। আপনি যাকে বেশি সম্মান করবেন সে যদি আপনার সম্মানের মূল্য না দেয় তাহলে বুঝে নিন সে আপনার সম্মানের যোগ্য নয়। “সম্মান দিলে সম্মান মিলে” এই কথাটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি বলেই কখনো কাউকে অসম্মানজনক কথা বলিনি। কিন্তু আজকাল এসব বিষয় যেনো হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। জীবনে এমন কিছু মানুষের সন্ধান পাবেন যাদেরকে সম্মানের আসনে স্থান দেবার পরে তারা নিজের ক্ষমতা আর দম্ভের অহমিকায় সুযোগে আপনাকে অসম্মান করবে। এসব মানুষ সব সময় ঝাড়ি দিয়ে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে যখন তখন আপনাকে অসম্মান করতে পারে তাই মাথায় রাখুন ” খালি কলস বাজে বেশী”। আপনার সম্মানের মর্যাদা না রাখলে একদিন তাকেও যে কারোর কাছে অসম্মানিত হতে হবে তাই ধৈর্য্য ধরুন আর এসব মানুষকে ইগনোর করুন মানে ইগনোর করুন।
  • জীবন কখনো কখনো গোলাকার বৃত্তের মতো। যে বৃত্তে সুখ দু:খ চক্রাকারে ঘুরতে থাকে। ইচ্ছে করলেও সুখকে হাতের মুঠোয় বন্দী করা যায়না আবার দু:খকে বৃত্তের বাইরে ছুড়ে ফেলা যায় না। বৃত্তের ভেতরে ঘুরতে ঘুরতে মাঝে মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসলেও বাইরে বের হবার পথ নাই। বৃত্ত যেমন একটা আবদ্ধ বক্ররেখা মানুষের জীবনও তেমনি আবদ্ধ।
  • নিজে জানি তারপর অন্যকে জানাই এটা না করে আমরা শুধু বলি জানো আর জানাও। সবাইকে কিছু জানাতে হলে আগে সেটা সম্পর্কে নিজে জানতে হবে তারপর জানাতে হবে। তাই কিছু না জেনে অন্যকে জানানোর কথা বলা ঠিক নয়।
  • মোমবাতি নিজেকে নি:স্ব করে নিজে জ্বলে অপরকে আলোকিত করে,ধূপ নিজেকে শেষ করে নিজে পুড়ে চারিদিকে সুগন্ধি ছড়ায়। তেমনি মানুষের মাঝেও এমন কিছু মানুষ আছে যারা নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে অন্যকে সুখী করে। যারা অন্যের জীবন আলোকিত করতে নি:স্বার্থভাবে নিজেকে সমর্পণ করে তাদের ঘর আঁধারে ঢাকা থাকে। পরের ঘরে বাতি জ্বালিয়ে নিজের ঘরে অন্ধকার থাকলে সেই বুঝে এর যন্ত্রণা কতোটা ভয়াবহ।
  • ঘরে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন জিনিস আমরা সযতনে গুছিয়ে রাখি,মাঝে মাঝে ধুলো পরিষ্কার করি যাতে তার সৌন্দর্য ঠিক থাকে। মূল্যবান জিনিসের যত্ন যেভাবে করি নিজের প্রতি সেটা করিনা। ঘরে ব্যবহার্য জিনিসপত্র যেভাবে আগলে রাখি সেভাবে নিজেকে আগলে রাখি না। আসলে আমরা সবচেয়ে অবহেলা করি নিজের প্রতি। বেশিরভাগ মানুষ শুধু অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজেকে ব্যস্ত রাখে কিন্তু নিজের যত্নের বেলায় সব আলসেমি ভর করে। দিন যায় মাস যায় বছর যায় নিজের আয়ু কমতে থাকে সেটা জেনেও আমরা নিজের প্রতি সবচেয়ে বেশি উদাসীন।মুখে মুখে যতোই বলি নিজের ভালো নিজেকেই দেখতে হয় কিন্তু নিজের বেলায় সেটার ছিটেফোঁটাও নাই। আমরা যেনো শেষ গন্তব্যে পৌঁছতে পারলে জীবনের স্বার্থকতা খুঁজে পাব।
  • যে কোনো সম্পর্কে দায়বদ্ধতা মানেই জবাবদিহিতা নয়, অধিকার থেকেই দায়বদ্ধতা জন্ম নেয়। যে সম্পর্কে অধিকার নাই সেখানে দায়বদ্ধতাও নাই,সেখানে চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেশ নাই । দায়বদ্ধতা মানুষকে কিছুটা শৃঙ্খলিত করে রাখে, রুটিন অনুযায়ী চলতে হয় তাই বলে একেবারে বন্দী থাকতে হয়না। আমরা মুখে যতোই বলি না কেনো যে, মানুষের মনের সম্পর্ক সবচেয়ে কাছের সবচেয়ে আপন আসলে বাস্তবতা ভিন্ন। আমাদের বিপদে আপদে পরিবারের লোকজনই পাশে থাকে, তারাই সাপোর্ট করে শ্রম দিয়ে সেবা দিয়ে মাঝে মাঝে অর্থের যোগান দিয়ে । আর অধিকারের বাইরে যাদের অবস্থান তারা চাইলেও এই গুরু দায়িত্ব পালন করতে পারে না, একদিকে যেমন তাদের দায়বদ্ধতা নাই আরেকদিকে তাদের জোর খাটানোর অধিকার নাই। আসুন নিজ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করি, অধিকারের জায়গায় কাউকে অবহেলা না করি, যত্ন করি প্রতিটি সম্পর্ক প্রতিটি মানুষকে।
  • ঘোড়া দৌড়ে যে ঘোড়াটার তেজ বেশি সেটাই কিন্তু প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়।আর এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য,সবাইকে ছাড়িয়ে জয়ী হবার জন্য ঘোড়াটাকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করা হয়। শুধু শারীরিক সক্ষমতা, তেজ থাকলেই হয় না এর জন্য প্রয়োজন কঠোর অনুশীলন। শুধু ঘোড়া দৌড়ের জন্য নয় যে কোনো প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে ধৈর্য্য, পরিশ্রম, একাগ্রতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। মানুষের জীবনও একটা প্রতিযোগিতা যেথায় প্রতিনিয়ত দৌড়াতে হয়। শুধু মাঠের প্রতিযোগিতাই প্রতিযোগিতা নয় মানুষের জীবনে সাফল্য অর্জন করতে আরও বেশি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। যে মানুষ ধৈর্য্য ধরে কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে একাগ্রচিত্তে এগিয়ে যায় সে সফলতা পায়। তাই জীবনে কিছু হারিয়েছ বলে থমকে দাঁড়িও না বরং মনোবল দৃঢ় করে এগিয়ে যাও ইনশাআল্লাহ সফলতা আসবে।
  • মানুষ ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক তবে সেই ভুলের পরিমাণ যেনো নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে না যায়। তবে যারা ভুল করে তারা শুধু ভুলই করে আর ভুলের সাম্রাজ্য গড়ে তুলে। জীবনে চলার শুরুতে যে ভুলটা আমরা করি সেটা থেকে যদি শিক্ষা নিতে পারি তাহলে জীবন হয় সুন্দর কিন্তু সব সময় সবাই এটা করতে পারেনা বলেই কারোর জীবন হতাশায় নিমজ্জিত হয়। আবার কেউ কেউ ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে জীবনটাকে জটিলতায় মুড়িয়ে ফেলে। নিয়তির বেড়াজালে কখন কে আটকে যায় সেটা স্রষ্টা ছাড়া কেউ জানে না। হে দয়াময় আমাদের ক্ষমা করো জীবনের সব ভুলকে ফুলে পরিণত করার তৌফিক দাও।
  • নারী তুমি নিজেকে যতোই সম্পদশালী, প্রতাপশালী, আধিপত্য বিস্তার কারী,ক্ষমতাবান মনে করো না কেন চলতে পথে তোমাকে পুরুষের সহযোগিতা নিতেই হবে।নারী জীবনের শুরুতে বাবা হলো নির্ভরতা,বাবার অবর্তমানে ভাই হয় ভরসা, সময় গড়িয়ে যখন যৌবনে পদার্পণ করে তখন স্বামী নিরাপদ আশ্রয়, একসময় স্বামী যখন দূরে চলে যায় তখন সন্তান হয় অভয়ারণ্য, একসময় আঁকড়ে ধরতে হয় নিজের ছেলে সন্তানকে আর যাদের ছেলে সন্তান নাই তারা মেয়ের জামাইকেই আঁকড়ে ধরে। আর যে নারীর এরা কেউ থাকেনা তাদের জীবনও কিন্তু থেমে থাকেনা কেউ না কেউ আশার আলো দেখায়। যেহেতু পুরুষকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নারীর দায়িত্ব নিতে হয় তাই তাদেরকে উদাসীন হলে চলবে না। একজন পুরুষকে হতে হয় দায়িত্বশীল পিতা,নির্ভরশীল ভাই,প্রেমিক স্বামী,বাধ্যগত সন্তান,চলার পথের কাণ্ডারী। একজন পুরুষের জীবনে নারীর এই দায়িত্বশীলতা ছিলো, আছে, থাকবে ইনশাআল্লাহ।
  • কেউ মুখে মুখে ভালোবাসার কথা বললেও প্রকৃত ভালোবাসা অনুভবেই বুঝা যায়। মানুষের মন ঠিক বুঝে কে আপন কে পর ভাবে,কে স্বার্থ উদ্ধার করে কে নি:স্বার্থ ভালোবাসে তাই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করার জন্য মুখের কথা দিয়ে নয় অন্তর দিয়ে অন্তর ছোঁয়ার চেষ্টা করো।
  • নদীতে নতুন পানির জোয়ার আসে, ভরা বর্ষায় নদী কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়।ঋতু পর ঋতু আসে,গরম যায় শীত আসে,ঘুরে ফিরে গ্রীষ্ম, বর্ষা,শরত,হেমন্ত,শীত বসন্ত আসে শুধু মানুষ চলে গেলে আর ফিরে আসেনা। সময় কতো দ্রুত চলে যায়,স্মৃতির এলবামে শুধু জমা থাকে প্রিয় মানুষের সুন্দর সব মুহূর্ত। কাছের মানুষের অনুপস্থিতিতে তার দেয়া আঘাত নয় তার সাথে কাটানো ভালো মুহূর্ত স্মরণ করো দেখবে দম বন্ধ লাগবে না, কোনো অভিযোগ থাকবে না।
  • শামুক দেখেছো? শামুকের বাইরের আবরণ যতোটা শক্ত ভেতরটা ততোটাই কোমল নরম। ভেতরের প্রাণকে আগলে রাখতে শক্ত আবরণে নিজেকে ঢেকে রাখে। শামুকের বাইরের খোলসে জোরে আঘাত করেই ভেতরকে ক্ষতবিক্ষত করা যায়। কিছু মানুষও নিজেকে শামুকের মতো বাইরে শক্ত থাকলেও তাদের ভেতরটা ঠিক শামুকের প্রাণের মতো কোমল। আর এই শক্ত মানুষের বাইরের রূপ দেখে আমরা ভাবি তার কোনো কষ্ট নাই তার কোনো যন্ত্রণা নাই। ভেতরটা পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেলেও তারা নিজেকে শক্ত করেই উপস্থাপন করে। আর আমরা সেই সব শক্ত মানুষকে ভুল বুঝে তাদের হৃদয়কে নির্দ্বিধায় ক্ষতবিক্ষত করি। ভালো থাকুক সকল মানুষ আমরা যার বা যাদের জন্য নীরবে চোখের জল ফেলি,জায়নামাজে বসে প্রার্থনা মঙ্গল কামনা করি সেই সব মানুষ কখনো আমাদের চোখের জলের মূল্য দেয়না। তারা কখনো জানার বা বুঝার চেষ্টা করেনা তাদের জন্য মনের ভেতর কতোটা ভালোবাসা পুষে রাখি। মানুষ শুধু কথার যাদুতে আর বাইরের লোকদেখানো ভালোবাসায় বিশ্বাসী হয় কিন্তু যারা আড়ালে থেকেও শুধু মাত্র ভালোর জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, বিপদে পাশে থাকে তারা শুধু অবহেলায় থাকে। আসলেই রহস্যময় এই পৃথিবীতে মানুষ সবচেয়ে বেশি রহস্যময়।ভালো কাটুক সবার সময়।
  • ফুলের শুভ্রতার মতোই হোক মানুষের জীবন। সব দম্ভ অহংকার, হিংসা,নিন্দা, মিথ্যার অবসান হোক। আসো একতায় থাকি সততায় বাঁচি পরিশুদ্ধ রাখি চারিপাশ।
  • আমরা বাঙালীরা চিলে কান নিয়েছে শুনে চিলের পিছনে দৌড়াই কিন্তু কানে হাত দিয়ে দেখিনা কান ঠিকঠাক আছে কি না। চিলে কান নেয়া এতো সহজ নয়। ক্ষত বিক্ষত করে রক্তাক্ত করার পর সে চিলে কান নিবে আমরা বরাবরই বোকার মতো কানের জায়গায় কান আছে কি না সেটা না দেখেই চিলের পিছনে ছুটি।আসো সঠিক তথ্য জেনে কারোর পিছনে দৌড়াই অযথা অন্যের কথায় সম্পর্ক নষ্ট না করি।
  • আমাদের আশেপাশে কিছু মানুষ আছে যারা কথার যাদুতে মানুষকে বশীভূত করে।তারা এমনভাবে মিশে এমনভাবে কথা উপস্থাপন করে যে শুনে মনে হয় পৃথিবীতে শুধু সেই বিশ্বাসী আর সবাই অবিশ্বাসী। নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করতে অন্যের উপর মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে।তারা এমন ভাব দেখায় যে সেই একমাত্র আমার আপনার মঙ্গল চায়। কথার যাদু এমনই যাদু যা মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করে দুরত্ব বাড়ায়। যে মানুষ অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়,তাদেরকে ভুল ব্যাখ্যা করে আমাদের ভাবা উচিত আজ যে অন্যের নামে নিন্দা করছে সে ভবিষ্যতে আমার আপনার নামেও এই কাজ করবে কারণ এরা শুধু নিজের ভালো চায় নিজের স্বার্থ দেখে। এখন এমন অবস্থা বিরাজমান যে নিজেকেই বিশ্বাস করা কঠিন সেখানে যদি এমন বুদ্ধিসম্পন্ন নীরব যাদুকরী মানুষ থাকে সেখানে তো চলাই দায়। আসুন নিজে ভালো থাকি সবাইকে ভালো রাখি অযথা নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কোনো মানুষের কাছে অন্যের নামে বিষ না ঢালি। কেউ না জানুক কেউ না দেখুক সৃষ্টিকর্তা জানেন দেখেন আমরা কে কেমন। সত্য সব সময় সুন্দর সত্য আলোর দ্বার উন্মোচন করে।
  • আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমরা নিজেকে পরিপাটি করি। নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করার জন্য আমরা আয়নায় নিজেকে দেখি। কিন্তু বাইরের পরিপাটি তো আয়না দেখে করা যায় মনকে পরিপাটি করার জন্য কি আমরা আয়নার মতো কিছু ব্যবহার করি? মানুষের মনকেও পরিপাটি করতে হয় আর আয়নায় মন না দেখা গেলেও আমাদের বিবেকের কাছে দাঁড়িয়ে ঠিক মন গোছানো যায়। সারা দিনের ভালোমন্দ কাজের হিসেব করেন দেখবেন বিবেকই বলে দিবে আপনি কোন কোন কাজ ভুল করেছেন। আসুন আমরা বিবেক সজাগ রাখি শুধু বাইরে পরিপাটি না থেকে নিজের মনকে পরিপাটি করি পরিশুদ্ধ এক পরিবেশ তৈরি করি।
  • মানুষ বদলে যায় এটা কি আদৌ ঠিক? নারী কি পুরুষ হয় বা পুরুষ কি নারী? আসলে মানুষ বদলে যায় না, বদলে যায় তার ব্যবহার তার মানসিকতা তার কর্ম। আমাদের আশেপাশের মানুষ গুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন তারা ঠিক আগের মতো ব্যবহার করে না।কারো কারোর অর্থ হলে সে নিজেকে পোশাকে, চালচলনে, কথা বার্তায় নতুন করে সাজায়,কাছের মানুষদের সাথে দুরত্ব তৈরি করে। আবার কেউ যদি অভাবে পড়ে তখন সেও নিজেকে গুটিয়ে নেয়। আবার কেউ কেউ দম্ভ অহংকার করে আপন মানুষের খোঁজ পর্যন্ত রাখে না।যে বন্ধুটির সাথে সব চেয়ে মধুর সম্পর্ক ছিলো সময়ে সেও দূরে চলে যায় তাই বলে কি মানুষ বদলায়? না মানুষ বদলায় না বদলে ।যায় তার ব্যবহার বদলে যায় সামাজিকতা, আন্তরিকতা, মানবিকতা। তাই কেউ আপনার সাথে দুরত্ব তৈরি করলে আপনি চুপ হয়ে যান। সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচিবোধ, মানসিকতা পরিবর্তন হবে এটা মেনে নিন। যে কোনো পরিস্থিতি মেনে নিন মানিয়ে নিন এভাবেই জীবনের সময় পার করুন। আসুন চিন্তাভাবনায় কাজেকর্মে ইতিবাচক হই ইতিবাচক থাকি ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দেই।
  • যে জিনিস অনেক প্রতীক্ষার পর পাওয়া যায় সেটা অনেক মূল্যবান আর যেটা সব সময়ই পাওয়া যায় সেটা যতো প্রয়োজনীয় হোক না কেনো তার এতো মূল্য থাকে না।যেমন টানা কয়েক দিন কুয়াশাজড়ানো থাকার পরে যখন এক চিলতে রোদ্দুরের দেখা মিলে তখন এটা হয় অনেক অনেক সাধনা আরাধনার ক্ষণ সেরকম একাধারে কয়েক দিন বৃষ্টির পরে যদি সূর্য উঁকি দেয় সেটাও অতি মূল্যবান আবার প্রচণ্ড খরতাপের পরে যখন আকাশে মেঘ করে বৃষ্টিপাত হয় সেটাও মূল্যবান। সূর্যের উষ্ণতা আর বৃষ্টির স্নিগ্ধতা বা কুয়াশার শীতলতাও আমাদের জন্য উপকারী কিন্তু সব সময় যদি এগুলো থাকে তখন এদের গুরুত্ব কমে যায়। আর অপেক্ষার পর যখন পাওয়া যায় তখন সেটা অনেক অনেক বেশি মূল্যবান।নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করুন যাতে আপনার কথা বা কাজের জন্য মানুষ অপেক্ষা করে, নিজেকে সময় দিন,তৈরি করুন,গ্রহণযোগ্যতা বাড়ান,আস্থাশীল হউন,বিশ্বাসের ভীত শক্ত করুন,সৎ থাকুন,ব্যক্তিত্ব বজায় রাখুন। বৃষ্টির পরে যে সূর্য তাপ দেয়,কুয়াশার জাল ছিন্ন করে যে সূর্য উঁকি দেয় খরার পরে যে বৃষ্টিপাত হয় আপনি ঠিক তেমন হবার চেষ্টা করুন। ক্ষণিকের জন্য আসুন কিন্তু সেটা যেনো সবার আরাধনার হয় সাধনার হয়।
  • জীবনে চলার পথে যদি কিছু মানুষ ইচ্ছে করে বা ভুল করে আপনাকে দেখেও না দেখার ভান করে বা সামান্য কুশল বিনিময়টুকুও করে না তখন আপনিও কি তার সাথেই একই আচরণ করবেন?আমি বলবো না এমন করবেন না বরং আপনি নিজ থেকে তার সাথে কথা বলবেন, তার কুশলাদি জানার চেষ্টা করবেন। সে যদি ইচ্ছে করে আপনাকে এড়িয়ে থাকেন তাহলে সে মনে মনে লজ্জিত হবেন, আর যদি অজান্তে বা ভুল করে এড়িয়ে থাকেন তাহলে সে অনুতপ্ত হবে। আপনার ছোট্ট কথায় সে ভবিষ্যতে অন্য কারোর সাথে এমন করবেন না।ধরুন কেউ আপনাকে অসহযোগিতা করলেন বা বিপদে ফেললেন তখন আপনি কি করবেন? আপনিও কি তার সাথে একই আচরণ করবেন?আপনি তার কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন, বিপদে পাশে থাকবেন দেখবেন ঐ ব্যক্তি আপনার সাথে এমন করলেও অন্য কারোর সাথে হয়তো ভালো আচরণ করবেন।❤️কথায় আছে শত্রুকে আগে বসতে দিতে হয় আর এটার মানে হলো সে যতোই শত্রুতা করুক না কেন আপনার এই আন্তরিকতা তাকে ঠিক বদলে দিবে।মানুষকে অর্থ সম্পদ দিয়ে ধরে রাখা যায় না,খ্যাতি যশের মোহে আটকে রাখা যায় না।মানুষের আন্তরিকতা, বিনয়, সততা,শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্বাস মানুষকে আপন করা যায়।কেউ আপনার সাথে খারাপ আচরণ করলেই তার মতোই খারাপ আচরণ করলে আপনিও এক কাতারে সামিল হবেন। আসুন নিজেকে ইতিবাচক রাখি অন্যের সাথে ইতিবাচক হই।সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা শুধু অন্য কি করলো তারাও সেটাই করতে চায় হোক সে কাজ খারাপ। একজন আপনার সাথে ভালো ব্যবহার করলো না বলে সেই অযুহাতে আপনিও একই আচরণ ❤️করলেন তাহলে তফাৎ রইলো না।অন্যের ভুলের সাথে নিজেকে না জড়িয়ে নিজেকে এমন ভাবে উপস্থাপন করুন যাতে আপনার কারণে সেও অন্যের সাথে ভালো আচরণ করে।
  • আম গাছে কখনো কাঁঠাল ধরেনা,বড়ই গাছে আমড়া ধরে না, জলপাই গাছে তেতুল ধরেনা,লিচু গাছে জাম ধরে না এটা চিরন্তন সত্য। কিন্তু একই গাছের একই ফলের স্বাদও এক হয়না। এক ডালের আম মিষ্টি অন্য ডালের আম টক,তেমনি আমড়া,জাম,জলপাই,লিচু ইত্যাদির ক্ষেত্রেও গাছ এক হলে স্বাদের ভিন্নতা দেখা দেয় এটা প্রকৃতি প্রদত্ব আমরা চাইলেও এক করতে পারব না। আর ভিন্নতার জন্য কিন্তু আমরা গাছকে দোষারোপ করতে পারিনা।হাতের পাঁচ আঙ্গুল যেমন অসমান তেমনি গাছের বেলায়ও অসমান। সমাজের মানুষের মধ্যেও ভিন্নতা আছে। ভালোমন্দ মিলিয়েই আমাদের জীবন ব্যবস্থা। তাই সর্বত্র বিনয়ী আচরণ করার চেষ্টা করি।
  • “ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো’ এটা শুধু কথার কথা না এটা বাস্তবের সাথে সমন্বিত।আজকে যাকে ইগনোর করছো একদিন তাকেই হয়তো কাজে লাগবে। বলা যায় না জীবনের পথ পরিক্রমায় কখন কাকে প্রয়োজন? আমরা না বুঝেই একজন আরেকজনকে ইগনোর করি। আর এই থেকে যে অবহেলার দেয়াল তৈরি হয় তা এক সময় ফেরার পথ বন্ধ করে দেয়। আমরা কেউই বলতে পারবো কে কখন চিরতরে চলে যাবো তারপরও ক্ষণিকের পৃথিবীতে আমরা অন্যের মনে আঘাতের ক্ষত চিহ্ন রেখে যাই। আল্লাহ পাক স্বয়ং বলেছেন মানুষের মনে আঘাত দেয়া মানে তার মনে আঘাত দেয়া।ভালো না বাসুন পাশে না থাকুন সহযোগিতা না করুন কিন্তু অবহেলা করবেন না প্লিজ।
  • লোক দেখানো ভালোবাসায় ভাসিয়ে দেয়ার চেয়ে মন থেকে প্রার্থনায় আপনজনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করাই শ্রেয়। যাকে মন থেকে ভালোবাসি সে যতো দূরেই থাকুক না কেনো তার জন্য মন থেকে এমনিতেই দোয়া আসে। গোলাপের সৌন্দর্য আর সুরভীতে ভরে থাকুক চারিপাশ।
  • ইচ্ছা করলেই কাউকে অপমান করা যায়, ইগনোর করা যায়, চরমভাবে অসম্মান ও অপমান করা যায় কিন্তু কারোর ডাক আসলে তাকে ধরে রাখা যায়না। অল্প সময়ের দুনিয়ায় আমরা ক্ষণিকের অতিথি মাত্র। আমি না জেনে কারোর মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে সবাই ক্ষমা করে দিয়েন প্লিজ। ছোট্ট এই জীবনে আমরা শুধু চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিয়েই ব্যস্ত থাকি কিন্তু সঠিক মূল্যায়ন করি না। হিংসা বিদ্বেষ সব ছুড়ে ফেলে দেই ভালোবেসে জীবন এগিয়ে নেই।
  • দশ বছর আগে ভ্যালেন্টাইন্স ডে -তে অবনী গগন বিদারি চিৎকার করে কেঁদেছিলো, আর কেঁদেছিলো তার পাশে থাকা আপনজন কেঁদেছিলো সব প্রাণীকুল, বৃক্ষলতা,আকাশ,বাতাস সব কিছু। অবনীদের জীবনে ভালোবাসা দিবস মানেই এক বুক হাহাকার। দীর্ঘ সময় পার হলেও আজো অবনী কাঁদে কিন্তু সেই কান্নায় কেউ কাঁদেনা কাঁদে শুধু তার হৃদয়।
  • লবণ আর চিনি দেখতে এক মতো হলেও স্বাদ ভিন্ন লবণ তেতো আর চিনি মিষ্টি। শুধু স্বাদের ভিন্নতা নয় প্রয়োগের ভিন্নতাও দেখা যায়।হ্যাঁ এটা ঠিক যে চিনির প্রয়োগ বেশি হলেও খাওয়া যায় কিন্তু লবণ বেশি হলে খাওয়া যায় না।আবার সাধারণত সব খাবারে লবণ প্রয়োগ করা গেলেও চিনি প্রয়োগ করা যায় না। কিছু খাবারে চিনির অনুপস্থিতিতে খাবার খাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু লবণের অনুপস্থিতিতে খাবার খাওয়া যায়না। মানুষের বাহিরের রূপ এক দেখা গেলেও ভেতরে কেউ চিনির মতো মিষ্টি কেউ লবণের মতো তেতো। জীবনে চিনির মতো কেউ না থাকলেও জীবন চলে কিন্তু লবণের মতো কেউ না থাকলে জীবন এলোমেলো হয়ে যায়। মানুষ মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য এই কথাটি মাথায় রেখে আসুন চিনি না হয়ে লবণের মতো আগলে রাখি।
  • আগে নিজেকে জেনে পরে অন্যকে জানি। যেখানে নিজের সম্পর্কে অজানা থাকে কোথাও ঘাটতি থাকে সেখানে অন্যের ঘাটতি খুঁজে পাওয়া দু:স্বপ্ন।
  • যে কথা বেশি বলে তার ভুলের পরিমাণও বেশি হয়ে থাকে তারপরও সে বলতে পছন্দ করে। আর কিছু মানুষের কথার যাদুতে যেমন মানুষ মুগ্ধ হয় তেমনি তাদের কথায় মানুষ অনুপ্রাণিতও হয়। তাই যে বলতে পছন্দ করে, যে গঠনমূলক কাজে প্রেরণা দেয়,সবার মনে আশার আলো জাগায়, আসুন তাদের কণ্ঠরোধ না করে বলার সুযোগ করে দেই। আমাদের চলার পথে নানান টানাপোড়েনের মাঝে কেউ কেউ উঠে দাঁড়াতে শক্তি যোগায়, হতাশা নয় লড়াইয়ের মাঝে নিজেকে যুক্ত করতে শেখায়,শুধু জয় পাওয়া নয় জয়ের জন্য এগিয়ে যাবার শক্তি জোগানোটা কেউ কেউ পারে।তাই আসুন অন্যকে বলতে দেই, বলার পরিবেশ তৈরি করি,কথার মর্যাদা রাখি,বক্তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করি, বিনয়ী হই, ভুল হলে সেটাকে শুধরে এগিয়ে চলি।
  • ইগো আর অভিমান পাশাপাশি অবস্থান করলেও দুটো এক নয়। আমরা ইগো আর অভিমানকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করি।ইগো ছোট্ট একটা শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তিতে পরিবর্তন আনে।ইগো মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করার পাশাপাশি মানুষকে অহংকারী করে তুলে। ইগোকে আকড়ে ধরার কারণেই অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায়, অনেক সময় অতি আপনজনের সাথেও দুরত্ব তৈরি হয়। ইগো ধরে রাখার কারণে মানুষের সহমর্মিতা, সহনশীলতা, সামাজিকতা ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। ইগো ধরে রাখাকে ব্যক্তিত্ব বুঝায় না।আমরা এই ছোট্ট শব্দ ইগোকে দূরে সরিয়ে দিতে পারলেই অনেক খারাপ সম্পর্কের অবসান হতো না। আমরা ইগোকে এতোই প্রাধান্য দেই যে কাছে দূরের পার্থক্য করতে পারি না।অভিমানে মানুষের মধ্যে দুরত্ব বাড়ে,কিছু সুন্দর সময় হেলায় হারিয়ে যায় আবার অভিমান ভুলে কাছে এলে সম্পর্কটা আরও বেশি গভীর হয়।সম্পর্কে মান অভিমান থাকতেই পারে কিন্তু সেটা যেনো দুরত্ব সৃষ্টি না করে। অভিমান করে ক্ষণিকের জন্য দূরে থাকা যায় কিন্তু অভিমানকে ইগোতে রূপান্তর করা ঠিক নয়।ক্ষণিকের এই জীবনে ইগো,অভিমান ভুলে সহমর্মি হতে পারলেই জীবন হয় মধুময়।
  • আমাদের সমাজে যারা সকলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বাস্তবে তারাই তাদের পরিবারের প্রতি উদাসীন। পরিবারের প্রতিও যে তাদের দায়িত্ব কর্তব্য আছে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা, ন্যায্যতা নিশ্চিত করা,মানসিকভাবে ভালো রাখা এটা মনে করে না। অন্যের ঘরে আলো জ্বালালেও নিজের পরিবারের অন্ধকার থেকে যায়। আসলে আমরা ভালো মানুষ হতে চাই সমাজের কাছে, আমরা ভাবি পরিবারের সবাইতে জানে তাদের পাশে আছি,এই ভালো মানুষকে পরিবারও মেনে নেয় তবে তাদের ভেতরের কষ্ট থাকে। মানুষ শতভাগ ভালো কারোর কাছেই হতে পারেনা কিন্তু স্বাভাবিক ন্যায্যতা নিশ্চিত তো করতে পারে। তাই আমি মনে করি, আগে পরিবারের মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হবার পর সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই শ্রেয়।
  • “বিবেকহীন নামধারী শিক্ষিত ধনাঢ্য সন্তানের চেয়ে মানবিক অশিক্ষিত দরিদ্র সন্তানই উত্তম”মায়ের কাছে সন্তান যে কতোটা আপন সেটা সেই মা-ই জানে। নারীর সার্থকতা তার মাতৃত্বে। একজন নারী পরিপূর্ণ হয় মাতৃত্বের স্বাদ পেলে। মায়ের গর্ভে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠা সন্তান কখনো মাকে অসম্মান করবে, অবহেলা করবে এটা ভাবাও যায় না। সন্তানেত প্রতিটি রক্তবিন্দুতে মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত এই কথাও যেনো আজ অবিশ্বাসের।পুস্তকে লেখা বা গুরুজনের বলা উক্তি কি আজ শুধু অবহেলার?কয়েকদিন যাবত মিরপুরের এক অভাগী মায়ের গলিত মৃতদেহের বিভিন্ন লেখা ভিডিও দেখে নিজেকে মানুষ ভাবতে পারছি না। আমরা কি সত্যিই মানুষ না কি মানুষ নামের নরপশু??একজন মায়ের লড়াই শুরু সন্তান গর্ভধারণ করার সময় থেকে আর সেই লড়াই শেষ হয় মৃত্যু দিয়ে।আমরা সন্তানদের সব চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে নিজদের সকল ইচ্ছাকে হাসিমুখে বিসর্জন দেই শুধু মাত্র সন্তানের মুখে হাসি দেখতে। আর সেই সন্তান মাকে চরম অবহেলায় দূরে সরিয়ে দেয়।যে মা সন্তানকে শুকনো বিছানায় রেখে নিজে ভেজা জায়গায় থাকতো, নিজে না খেয়ে সন্তানদের খাওয়াতো,ভালো পোশাক কিনে দিত,একটু অসুস্থতায় সারা রাত জেগে সেবা করতো, প্রার্থনায় সন্তানের জন্য চোখের জল ফেলতো সেই সন্তান মাকে ফেলে রাখে আবর্জনার ভাগাড়ে।আমরা কি নিজেদের সভ্য দাবি করতে পারি? না আমরা কেউ কেউ অসভ্য বর্বর বিবেকহীন কুলাঙ্গার সন্তান। অর্থ আছে সামাজিক প্রতিপত্তি আছে লোকবল আছে কিন্তু মায়ের জন্য কিছুই নাই।আবর্জনার স্তুপে মৃত মায়ের নাম নূরজাহান। যার অর্থ পৃথিবীর আলো। তার বাবা মায়ের কাছে এই নূরজাহান ছিলো তাদের আলো আর সন্তানদের কাছে এই আদরের নূরজাহান ছিলো অনেক ভারি বোঝা যা বইবার বা ধরে চলার যোগ্যতা সন্তানদের ছিলো না।একটা ভিডিওতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার মেয়েকে বলতে শুনলাম এই ঘরে “উনি” থাকতেন। মাকে মা বলতেও দ্বিধা করে। যে রুমটায় উনার মৃতদেহ পাওয়া গেছে ওটা বসবাসের উপযোগী ছিলো না।আচ্ছা ধরলা নূরজাহান মা সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন, তিনি কারোর সাথে থাকতে চাননি, তিনি একাই থাকতেন সবই মানলাম। তাই বলে উনার চিকিৎসা করানো যেত না? সন্তানদের হাতে মায়ের জন্য সময় না থাকলে, উনাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে পারতেন।বৃদ্ধাশ্রমে রাখলে মানুষ জানলে সন্তানদের স্ট্যাটাস নষ্ট হবে,মানুষ ছি ছি করবে তাহলে কোনোলোক না থাকলে উনার জন্য টাকা দিয়ে লোক রাখতে পারতেন, সেটাও না পারলে হাসপাতালে ভর্তি রাখতে পারতেন।কিন্তু উনারা কিছুই করেন নাই। একজন মায়ের মৃত্যুতে তাদের হয়তো কিছু যায় আসেনি কিন্তু অনেকের রাতের ঘুম হারাম হয়েছে। আমরা এমন বিত্তবান বিবেকহীন কুলাঙ্গার সন্তান চাই না আমরা মানবিক সন্তান চাই মানুষের মতো মানুষ চাই।
  • মানুষের জীবনের পরিক্রমা এমনই কলি থেকে ফুল, এক থেকে দুই-এ, দুই থেকে তিন-এ, তিন থেকে চার- এ আর তারপর একা শুধু একা। অবশেষে ফুলে যেভাবে ঝরে পড়ে মানুষও মরে যায় এটাই বাস্তবতা।
  • যদি কোনো কারণে মন খারাপ হয় তাহলে প্রকৃতির কাছে যাও,প্রকৃতির সুধা পান করো আর সম্ভব হলে জলধারার কাছে গিয়ে বসো।ইনশাআল্লাহ ভালো লাগবে।
  • গাছ থেকে মাটিতে ফুল ঝরে গেলে মাটিতেই মিশে যায় তেমনি মানুষ মরে গেলেও মাটিতেই মিশে যায়। তবে কিছু ফুল যেমন বকুল ফুল ঝরে যাবার পরেও চারিদিকে সুবাস ছড়ায় তেমনি কিছু মানুষ তার কর্মের মধ্যে বেঁচে থাকে। জন্ম যেমনই হোক না কেন আমরা যেনো কর্মের মাঝে সবার হৃদয়ে থাকতে পারি সেটাই প্রার্থনা।
  • অর্থ থাকলে প্রতিষ্ঠা পাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু এই অর্থই মানুষকে বিপথে নিয়ে যায়, অর্থ নয় মানবিকতা দিয়ে নিজেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন।
  • আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, পারিবারিক নিরাপত্তা, পেশাগত নিরাপত্তা ইত্যাদি নিশ্চিত হলে আত্মিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
  • “বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়” এই কথাটির সাথে আমরা পরিচিত। বৃক্ষের মতো আমরাও যদি বাবা-মায়ের আদর্শ নিয়ে চলি তাহলে আমাদের বেলায়ও একই কথা হবে। একজন নেককার সন্তানের গুণে বাবা মা মৃত্যুর পরেও সম্মান পায়।নিজের কৃতকর্ম আর সন্তানের কৃতকর্ম যদি ইতিবাচক হয় তাহলেই জীবন স্বার্থক। আল্লাহ পাক আমাদের সৎ ও ন্যায়ের পথে চলার তৌফিক দান করুন। বাবার পরিচয়ে নিজেকে সম্মানিত করা অবশ্যই গৌরবের পাশাপাশি সন্তানের পরিচয়ে বাবা মায়ের সম্মান পাওয়া গর্বের অহংকারের।
  • ধুলোয় মাখামাখি ঝরা ফুলের মতোই মানুষও মাটিতে মিশে।ফুল যতো সুন্দরই হোক না কেন ঝরে গেলে তার জায়গা মাটিতেই হয় আর এই দুনিয়ায় অর্থ প্রতিপত্তি যতোই থাকুক না কেন মৃত্যুর পরে মানুষের জায়গাও মাটিতেই। তবে কিছু ফুল ঝরে গেলেও তাকে যত্নে তুলে রাখে তার সুঘ্রাণের জন্য। আর কিছু মানুষ মৃত্যুর পরে তার সৎ কর্মের জন্য পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকে। তাই জন্ম যেমনই হোক কর্ম এমন হতে হবে যাতে মরণের পরে প্রশংসা করে।
  • পুরুষ্কার যেমন অনেক অনেক সম্মানের অনেক গৌরবের।যিনি পুরুষ্কৃত হন তিনি কাজের প্রতি আরো আগ্রহী হয়ে উঠেন। পুরুষ্কার ছোটো হলেও সেটা পাওয়া মানে নিজের প্রতি আস্থাশীল হওয়া।আবার আরেকদিকে তিরষ্কার অপমানের,অসম্মানের, অবহেলার। মানুষ তার কাজে ভুল করতেই পারে আবার সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে,ভুল সংশোধনের পথ খুঁজে। কারোর ভুল ধরা পড়লে তাকে একাকী বলা উচিত,তার ভুল সনাক্ত করে সেই ভুল সংশোধনের পথ খুঁজে দেয়া উচিত। মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে তাই বলে কারোর ভুলের জন্য তাকে অন্য আরো মানুষের সামনে অসম্মান না করে আলাদাভাবে বলা উচিত। ক্ষমতার দাপটে আমরা সমাজের জুনিয়র সিনিয়রসকলকে পাবলিকলি অসম্মান করতে পারি না।আসুন সকলে ক্ষেত্রে আমরা বিনয়ী হই।
  • দৃষ্টি সব সময় সামনের দিকে রাখাই শ্রেয়।নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে গেলে গর্তে পা ঢুকতে পারে আবার নাও পারে কিন্তু দুর্ঘটনা এড়ানো যায়না।
  • প্রচন্ড তাপদাহের পরে এক পশলা বৃষ্টির ছোঁয়া পেতে যেমন প্রকৃতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে তেমনি হৃদয়ের খরতাপে কারোর কথার জন্য মানুষ তৃষিত হৃদয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনে।এই পৃথিবীতে অনেক মানুষ থাকে যাদের সাথে কথা হয় কিন্তু হৃদয়ের কোণে যে থাকে তার কথা যে বৃষ্টির চেয়েও মধুর। সবার ভাগ্যে কি আর কথার বৃষ্টিতে ভেজা হয়? কথার মায়ার জাল ছিন্ন করার উপায় কারোর নাই, মানুষটা ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে গেলেও তার কণ্ঠস্বর শোনার তৃষ্ণা যে মিটে না।
  • যদি কেউ এড়িয়ে যায় তাহলে নিজেকে গুটিয়ে নেয়াটা স্বাভাবিক।এভাবেই গুরুত্ব কমে গেলে দুরত্ব বাড়ে। গুরুত্বহীন সম্পর্ক হলো পাহাড়সম দুরত্ব তৈরির সোপান। যাকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি সেও যদি একই ভাবে তাহলে দুরত্ব সৃষ্টি হয়না।কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই সে আমাদের অবহেলা করে আর অবহেলার পরিমাণ যতো বাড়ে দুরত্বও ততো বাড়ে।
  • মানুষ তার প্রিয় জিনিস বা সম্পর্ক হারালে তা ফিরে পাবার জন্য ব্যকুল হয়ে ওঠে। হয়তো কিছু জিনিস বা সম্পর্ক ফিরেও পায়। কিন্তু হারানো ঐ একই জিনিস বা সম্পর্ক যদি আবার হারায় তখন মানুষ শুধু ব্যাকুল হয়না সে শূন্যে ভাসে। হটাৎ করে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায় সম্বল হারানোর পরে যদি ফিরে পায় তাহলে ওঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দ্বিতীয় বার হারালে সেটা মানুষকে নি:স্ব করে দেয়। তাই দ্বিতীয় বার হারানো জিনিস বা সম্পর্ক মানুষের মনকে ভেঙে দেয়,বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাও মরে যায়।যদিও উত্তম পরিকল্পনা কারী মহান আল্লাহ পাক তবু্ও কুল হারা নদীই জানে তার ভাঙন কতোটা কষ্টের তেমনি স্বজন হারা বা সম্পর্ক হারিয়ে মানুষ মরার মতো বাঁচে যে বাঁচায় শূন্যতা গ্রাস করে।কিছু হারানোর আর ভয় থাকেনা ঠিকই সাথে বাঁচার সাধও থাকে না।
  • যে জিনিস আগুনে দিলে খুব তাড়াতাড়ি আগুন ধরে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সেই আগুনের লেলিহান শিখা যতোই জ্বলজ্বল করুক না কেনো আগুন কিন্তু তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়ে যায়। আর যে জিনিসে আগুন ধরতে দেরি করে, ধীরে ধীরে পুড়তে থাকে আর পুড়ে ছাই হতে অনেক সময় নেয় এবং ছাইয়ের মধ্যেও ধূপের মতো জ্বলতে থাকে সেই আগুনের তাপ অনেক উপরে উঠে জ্বলজ্বল না করলেও সেই পোড়ায় কষ্ট বেশি। একেবারে জ্বলে পুড়ে শেষ হবার চেয়ে ধিকধিক করে পুড়ে যাওয়া অনেক অনেক কষ্টের।
  • জীবন মানেই শুধু পাওয়া নয়, শুধু হাসির ফোয়ারা নয়,অর্থ সম্পদের স্তুপের পর স্তুপ গড়া নয়, প্রভাব প্রতিপত্তির সাম্রাজ্যের অধিকারী হওয়া নয়,নিজের মতামত অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া নয়,অমানবিক রূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা নয়,কাউকে ঠকিয়ে নিজের সাধ্য সুখের উল্লাসে মেতে উঠা নয়,বিশ্বাসের অমর্যাদা করা নয়,কারোর অধিকার হরণ করা নয়,কাউকে অসম্মান করা নয়,জীবনের প্রকৃত আনন্দ সেখানে খুঁজে পাওয়া যায় যেখানে অন্যের ভালোর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা,নিজের পছন্দ অন্যের জন্য ত্যাগ করা,সততার আলোয় এগিয়ে যাওয়া,অন্যের আস্থাভাজন হওয়া,কারোর নির্ভরতার প্রতীক হওয়া, অঙ্গীকার রক্ষা করা,সময়ের মূল্য দেওয়া, নিজের স্বার্থ বলিদান করা।মোট কথা জীবনের প্রকৃত সুখই হচ্ছে স্যাক্রিফাইস করা,মানবিক হওয়া,স্রষ্টার প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখা। কোনো কিছুতে থমকে না যাওয়া।
  • নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ না থাকলে কোনো কিছুতেই ঝামেলা হতো না। আমরা যতো বাধাপ্রাপ্ত হই সেই জিনিস পাওয়ার জন্য ততো উদগ্রীব হই।
  • জীবন বহতা নদীর মতোই বয়ে যায়।নদীর বাঁকে যেমন আলাদা গল্প থাকে মানুষের জীবনের বাঁকেও আলাদা গল্প থাকে।নদীর শান্ত কোমলতা দেখে ভেবো না যে সে এমনই থাকবে। নদী গড়তেও জানে ভাঙতে জানে তুমিও নদীর মতো ছুটে যাও মিথ্যার জাল ছিন্ন করে সত্যের আলো ছড়াও।
  • প্রকৃত ভালোবাসায় অদৃশ্য সূতোর টান থাকে যা দেখাও যায় না ছোঁয়াও যায় না কিন্তু একজনের সূতোয় টান লাগলেও অপরজনেরও লাগে। আর এই অদৃশ্য সূতো কেউ ছিড়তে পারে না। মুখে মুখে ভালোবাসা বলে যারা ফেনা তুলে তারা সহজেই আঘাত দিয়ে দূরে চলে যায় কিন্তু যারা হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসে তারা নীরবে ভালোবেসে যায়।ভালোবাসায় অনুভব যতোটা গভীর সেখানে বিশ্বাসও গভীর আর হারানোর ভয়ও থাকে না। আমরা বেশিরভাগ সময় অনুভবে নয় মুখের কথাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতারিত হই।
  • আমরা ভালো কাজের কদর না করে তার সমালোচনা করি, সেখানে হয়তো নেতিবাচকতা খুঁজে পাই না বা পাবো না এটা জেনেও আমরা ঈর্ষান্বিত হই কারণ ঐ ভালো কাজ করার ইচ্ছা বা সামর্থ্য কোনোটাই আমাদের নাই। আসলে আমরা কারোর ভালো দিক মেনে নিতে পারিনা,আমরা ভাবি নিজে পারি না তাহলে অন্যরা পারবে কেনো? আমরা নিজেদের দুর্বলতা খুঁজে বেড়াই না কিন্তু অন্যের সমালোচনা করতে পিছপা হই না। কাউকে ভালো কাজে এগিয়ে দেবার জন্য উৎসাহ দিলে কি নিজের ক্ষতি হবে? আমরা নিজেদের অনেক জ্ঞানী বিজ্ঞ ভাবি তাই অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হই।
  • বিপদে ধৈর্য্য ধরে রাখার সামর্থ্য সবার থাকে না তাই বলে বিপদ থেকে পালিয়ে বেড়ানো যায়? সব কিছুর ফয়সালার মালিক আল্লাহ তাই তার কাছে ধৈর্য্য ধরার শক্তি প্রার্থনা করা উচিত।
  • আমাদের মূল্যবান কোনো জিনিস কাঁদায় পড়ে গেলে বা আরও নোংরা স্থানে পরে গেলে আমরা কি সেই মূল্যবান জিনিস পরিষ্কার করে ব্যবহার করব না কি নোংরা লেগেছে বলে ফেলে দিব? শুধু কি মূল্যবান জিনিস? না কিছু পুরোনো জিনিসও মায়ার জন্য আমরা ফেলে দেই না।আসলে কিছু জিনিসে যতোই নোংরা লাগুক না কেন তা ফেলে দেয়া যায়না বরং নোংরা পরিষ্কার করে সেই জিনিস আরও যত্ন করি। মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্ক আছে যা ছিন্ন করা যায় না তাতে যতোই কাঁদামাটি লাগুক যতোই নোংরা লাগুক। প্রকৃত সম্পর্ক তাকেই বলে যেখানে মায়া থাকে।

Leave a Comment