নিস্তব্ধ আঁধার কালো রাতের পরে ভোরে সূর্য উদয়ে চারিদিকের প্রকৃতির মধ্যে স্নিগ্ধতা সজীবতা ফিরে আসে ।মানুষের জীবনেও মাঝে মাঝে আঁধারে ঢেকে গিয়ে চারিদিকে গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়। মনে হয় এখনই শ্বাস যন্ত্র বিকল হয়ে যাবে।তারপরও মানুষকে উঠে দাঁড়াতে হয় জীবনকে টেনে নিতে।রাতের শেষে যেমন সূর্য কিরণে আলোকিত হয় চারিপাশ তেমনি তোমার জীবনের আঁধারও একদিন কেটে আলো ফুটবে।যা হারিয়েছে তা হয়তো ফিরে পাবে না কিন্তু তাই বলে থেমে থেকো না।তুমি সব না পেলেও তোমার কাছে এই প্রকৃতি অনেক কিছু পেতে চায় তাই আল্লাহর উপর ভরসা করে উঠে দাঁড়াও।
- নিকষকালো আঁধারে ছোট্ট জোনাকির আলোও কিন্তু আমাদেরকে সাহস দেয় পথচলতে শক্তি জোগায়। তাই নিজেকে ছোটো ভেবো না আত্মপ্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাও সাফল্য আসবে ইনশাআল্লাহ।
- কোনো কিছু ধ্বংস মানেই একেবারে নি:শেষ হয়ে যাওয়া নয়।ধ্বংস থেকেই নতুন কিছু সৃষ্টির পথ খুলে যায়। ভাঙা জিনিস জোরা লাগানো একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। আসুন কোনো কিছুর ধ্বংস অবহেলায় না রেখে তা গড়তে চেষ্টা করি।
- সৃষ্টিকর্তার অপার সৃষ্টি যা আমাদের কল্যাণের জন্য।গাছের পাতা,ফুল,ফল একই সাথে সবাই জড়িয়ে আছে, কেউ কাউকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়নি তাহলে আমরা কেনো অন্যদের সাথে মিলেমিশে থাকতে পারিনা। আসুন আমরা হিংসা বিদ্বেষ ভুলে সবাই সাম্যের চাদরে মিলিত হই।
- নিজের পরিশ্রমে ছোট্ট সাফল্যও অনেক প্রশান্তি দেয়। পরগাছা হয়ে প্রাচুর্যের মধ্যে বাঁচার চেয়ে একা একা দারিদ্রের মধ্যে লড়াই করে বাঁচো।নিজের শক্তিই নিজেকে আত্মতৃপ্তি দেয়।
- রাতের গভীরতা শুধু আঁধারে ঢাকা নয় বরং নতুন দিনের আলোর হাতছানি। আর রাত নিরব কান্নার সাক্ষীও নয় বরং নিজেকে ঢেলে সাজানোর উত্তম সময়।
- বাইরের পরিপাটি হওয়ার চেয়ে মনকে পরিপাটি করো। মানুষ পোশাকে পরিপাটি থেকে যদি মনকে এলোমেলো করে রাখে তাহলে সেই পরিপাটি তাকে সাফল্য এনে দিতে পারেনা। তাই নিজেকে পরিপাটি রাখতে আগে মনকে পরিপাটি করো।
- সম্মান ফিক্সড ডিপোজিটের মতো যতো সময় পার হবে সম্মান বাড়তে থাকবে।
- বাহ্যিক সুন্দর ক্ষণস্থায়ী তাই বাহ্যিক রূপের মোহে না পড়ে মনের সৌন্দর্য্যকে যত্ন করো।
- একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে তার কথনে তার বিচক্ষণতায়,বুদ্ধিমত্তায়,উপস্থাপনে। আপনি যদি প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে থাকেন,আপনার যদি স্বাভাবিক বিবেকবোধ থাকে তাহলে অবশ্যই পোশাকে নয় স্মার্টনেস ফুটিয়ে তুলুন আপনার আচরণে।
- সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাসে আর সম্মানে ,পারস্পরিক সম্পর্কে বিশ্বাস হতে হবে কাঁচের মতো স্বচ্ছ,ইস্পাতের মতো শক্ত । যেখানে থাকবে না কোনো আড়াল, থাকবে না কোনো লুকোচুরি, থাকবে না সন্দেহ,থাকবে না মিথ্যার জাল।
- খ্যাতি, যশের নেশায় আজকে যাকে বা যাদেরকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছো সে বা তারা তাদের স্বার্থ পূরণ হলেই কেটে পড়বে কারণ তারা তোমাকে সত্যিকারের ভালোবাসেনা তারা তোমাকে ব্যবহার করছে। আর তোমার কাছের মানুষকে গুরুত্বহীন মনে করছো, তাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখছো মনে রেখো সে বা তারা তোমার মঙ্গলের জন্য সর্বদা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।
- পথ স্থির কিন্তু পথিক ঠিক সেই পথ ধরে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথের বাঁকে আর জীবনের বাঁকে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে সেটা তার অজানাই থাকে আর এটাই বাস্তবতা এটাই জীবন।
- নিম তেতো হলেও তার উপকারী গুণাগুণ অনেক বেশি তাই আমি নিমকে তেতোমিঠাই বলি। মুখে মধু অন্তরে বিষ না রেখে নিমের মতো তেতোমিঠা অনেক ভালো।
- জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আলো আঁধারের খেলা চলে। কোনো সময় আঁধারে ডুবে থাকে আবার কোনো সময় আলোয় ঝলমলে থাকে। আলো আঁধার যাই থাকুক না কেন স্রষ্টাকে ভরসা করে চলতে হবে।
- আস্থা করো,ভরসা করো, বিশ্বাস করো কিন্তু কারোর উপর নির্ভরশীল হইও না। অন্যের কাঁধের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক তৃপ্তির।
- রাতের আঁধার চারিপাশ ঢেকে রাখে তেমনি তুমিও তোমার দু:খকে ঢেকে রাখো। মনে রেখো তোমার কাছে তুমিই সবচেয়ে আপন সবচেয়ে প্রিয়। তাই বেদনার নীলে নীলাভ না হয়ে ভোরের আলোয় উজ্জীবিত হতে নিজেকে প্রস্তুত করো।
- আগুন,পানি,বাতাস এই তিনে সর্বনাশ” কারণ আগুন পুড়িয়ে দেয়, পানি ভাসিয়ে নেয়,বাতাস উড়িয়ে নেয়।কিন্তু মাটি বুকে টেনে নেয় তাই সর্ব অবস্থায় মাটির দিকে তাকাও মাটির মতো হবার চেষ্টা করো। মাটির মতো নিরব ঠাণ্ডা হলে দেখবে মনের ভেতর শান্তি আসবে।
- বিশ্বাস অর্জন করার চেয়ে ধরে রাখা কষ্টের। নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করো যাতে বিশ্বাসের ভীত নড়বড়ে না হয়। বিশ্বাস হতে হবে কাচের মতো স্বচ্ছ ও ইস্পাতের মতো কঠিন।
- যে মানুষ কথার বরখেলাপ করে তার থেকে দূরে থাকাই উত্তম। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব তাই তার কথা মূল্যহীন হওয়া ঠিক নয়। কাউকে কথা দেবার আগে ভেবে নেওয়া উচিত সেই কথা রাখতে পারবেন কি না। হাসির ছলেও এমন কোনো কথা বলা উচিত না যা আপনার কাছে কথার কথা হলেও অন্যের কাছে তার মূল্য অনেক।আসুন কথা দিয়ে কথা রাখি-নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখি।
- যে তোমাকে হাসাতে পারে সে তোমাকে ভালোও রাখতে পারে, যে তোমার অশ্রু মুছিয়ে দিতে পারে সে তোমার ভরসাও হতে পারে। যে তোমার কণ্ঠস্বর শুনেই বুঝতে পারে তুমি ভালো আছো কি না আসলে সেই তোমাকে আগলে রাখতে পারে। যে তোমার আপদে বিপদে সাহস যোগান দেয়, মনোবল বাড়াতে বলে “আমি আছি তো” আসলে সেই তোমার কাছের মানুষ।
- নিস্তব্ধ রাতে প্রশান্তির ঘুম তখনই আসে যখন আপনার বিবেক আপনাকে সাপোর্ট করে।সারাদিনের কাজের পর্যালোচনায় যদি আপনি বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকেন তাহলে যে কোনো জায়গায় আপনার প্রশান্তির ঘুম হবে।আর যদি ছোট্ট কোনো ঘটনা বা কাজের জন্য নিজের ভেতরে অস্বস্তি অনুভব করেন, বারবার বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হউন তাহলে আরামদায়ক বিছানায়ও নিদ্রাহীন রাত কাটবে। তাই যে কাজই করুন না কেনো তা যেনো বিবেক বর্জিত না হয়।
- “অর্থ অনর্থের মূল” এই কথাটি সবার পরিচিত। জীবনের জন্য অর্থ অপরিহার্য কিন্তু সেই অর্থ যেনো অসৎ উপায়ে অর্জিত না হয়। জীবিকার প্রয়োজনে আমাদের যে অর্থের প্রয়োজন তা আমরা হালাল উপায়ে অর্জন করে মানসিক প্রশান্তি পেতে পারি। অন্যায় কাজ করে অর্থের পাহাড় গড়লে তার হিসেব কিন্তু নিজেকেই দিতে হবে। তাই লোক ঠকিয়ে,প্রতারণা করে কারোর হক নষ্ট করে অর্থের সাম্রাজ্য না গড়ে শান্তিতে বসবাস করুন। নি:শ্বাস বন্ধ হলেই কিন্তু সব বাহাদুরি শেষ।
- অর্থের স্বার্থ নয়তো কোনো কাজের স্বার্থ। একমাত্র মা-ই নি:স্বার্থে সন্তানের পাশে থাকে। তবে যাদের নৈতিক শিক্ষা আছে তারা স্বার্থহীন কাজ করে থাকে। আসুন আমরা মানবিক হই, সবার পাশে ভালোবেসে আগলে রই।
- তোমার জন্য কেউ যদি একটু উপকৃত হয় সেটাই হবে তোমার পরম পাওয়া। একটু খেয়াল করে দেখো একটু সহানুভূতি, একটু যত্ন,একটু ভালোবাসা পেলে তুমি কতোটা আনন্দ পাও। ঠিক তুমিও যখন কারোর জন্য কিছু করো তখন তোমার মনের ভেতর আলো জ্বলে উঠে। শুধু অর্থসম্পদ দিয়ে নয় একটু সহানুভূতি, যত্ন, ভালোবাসা দিয়ে তুমিও হতে পারো কারোর হৃদয়ের মানুষ, আপন মানুষ, কাছের মানুষ।
- জয়ের আশায় এগিয়ে যাও কিন্তু জয়ের নেশায় আপন মানুষকে দূরে সরিয়ে দিওনা। তুমি জয়ী হলে তোমার চেয়ে ঐ মানুষটাই বেশি খুশি হবে যে তোমার মঙ্গল কামনায় স্রস্টার কাছে সদা প্রার্থনা করে।
- জীবনে যতো সমস্যাকে এড়িয়ে যাবেন ততো নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হবেন। তাই সমস্যা ছোটো থাকতে তার সমাধান করার চেষ্টা করুন। ছোটো চারাগাছ যেমন ধীরে ধীরে বড়ো হয় তেমনি জীবনের সমস্যাগুলোও ধীরে ধীরে বড়ো হয়। তাই গাছ ছোটো থাকতে আগাছা পরিষ্কার করার মতো সমস্যাকেও উপড়ে ফেলুন।
- আঁধারের পরে আলোক রশ্মি যেমন প্রকৃতিকে উজ্জ্বল করে তেমনি কান্নার পরে এক চিলতে হাসিও মনকে প্রফুল্ল করে। আসুন রাতের নিরবতায় দু:খকে এক পাশে রেখে প্রশান্তির ঘুমে বিভোর হই। সকাল বেলায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর থাকি, নতুন উদ্দীপনা নিয়ে এগিয়ে যাই।
- সম্পর্ক ততোক্ষণ সুন্দর যতোক্ষণ সেই সম্পর্ক বোঝা না হয়। অতিরিক্ত ভার বহন করা সব সময় কষ্টের হয় , অনেক সময় আমরা জোর করে অতিরিক্ত ভার বহন করতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি। তেমনি সম্পর্কের অতিরিক্ত ভার বহন করলেও ভারসাম্য থাকে না তাই সম্পর্ককে বোঝা বানাবেন না।
- গোলাপের ঘ্রাণ আর সৌন্দর্য আমাদের বিমোহিত করে ঠিকই কিন্তু এই গোলাপকে ছিড়তে গেলে কাঁটার আঘাত সহ্য করতে হয়। ভালো কিছু অর্জন করতে ঠিক গোলাপের কাঁটার মতো আঘাত সহ্য করতে হতে পারে তাই বলে কি আমরা ভালো কাজ করব না? আসলে কষ্টে অর্জিত সব কিছুর আনন্দ অনেক অনেক বেশি।
- রাতের নিস্তব্ধতা কেটে ভোরের আলোর সাথে শুরু হয় কর্ম চাঞ্চল্য দিনের শুভারম্ভ। এসময়ে কেউ স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যায় কেউ হতাশাগ্রস্থ হয়ে নিরবে শুরু করে। দিন যেমনই কাটুক শুরু তো করতেই হয়। আলহামদুলিল্লাহ এখনো ভালো আছি সুস্থ আছি।
- তোমার পোশাকের শালীনতা তোমার পরিবারের পরিচয় বহন করে। তেমনি তোমার কথার শালীনতাও তোমার পারিবারিক শিক্ষার প্রতিফলন ঘটায়। তাই আধুনিকতার নামে অশালীন পোশাক ও অশালীন কথা থেকে নিজেকে এখনই থামাও নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কি জবাব দিবে? আসো আমরা পোশাকে,চালচলনে কথায় স্মার্টনেসের নামে অশালীনতা পরিহার করি নিজেদের মার্জিত রূচির বহি:প্রকাশ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন জীবন রেখে যাই।
- মনটা নদীর মতো করো কেউ অবহেলা করলেও খারাপ লাগবে না।
- অপেক্ষার প্রহর পার করা অত্যন্ত ধৈর্য্যের কিন্তু অপেক্ষার পর যদি কাঙ্খিত জিনিস পাওয়া যায় সেটা হয় মধুময়।
- নিম পাতা তিতা হলেও তা মানব দেহের জন্য উপকারী।আপনার আশে কিছু মানুষ আছে যারা স্পষ্টবাদী তাদের কথায় কষ্ট না পেয়ে তাদেরকে ভালোবাসুন দেখবেন সেও আপনাকে ভালোবাসবে।কারোর মুখের মিষ্টি কথায় না ভুলে তার ব্যক্তিত্ব দেখুন দেখবেন নিম পাতার মতো আপনাকে আগলে রেখেছে।
- যে মানুষ কথার বরখেলাপ করে তার থেকে দূরে থাকাই উত্তম। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব তাই তার কথা মূল্যহীন হওয়া ঠিক নয়। কাউকে কথা দেবার আগে ভেবে নেওয়া উচিত সেই কথা রাখতে পারবেন কি না। হাসির ছলেও এমন কোনো কথা বলা উচিত না যা আপনার কাছে কথার কথা হলেও অন্যের কাছে তার মূল্য অনেক। “আসুন কথা দিয়ে কথা রাখি নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখি।”
- কারোর কথার সমালোচনা করা,কারোর দোষ ধরতে আমরা এতোটাই ব্যস্ত থাকি যে নিজের দোষ ত্রুটি চোখেই পড়েনা। কারোর সম্পর্কে নেতিবাচক শব্দ উচ্চারণ করার আগে ভেবে নাও তোমার মাঝে নেতিবাচকতা আছে কি না। আত্ম মূল্যায়ন মানুষকে সংশোধন করার সুযোগ করে দেয়। তাই কোনো বিষয়ে কথা বলতে নিজেকে আগে শুধরে নাও। জীবন তো একটাই তাই মনটাকে উদার করো ভালোবেসে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যাও।
- বাহিরের চাকচিক্যের জন্য ব্যস্ত না হয়ে মনের ভেতরের আবর্জনা পরিষ্কার করো। বাহিরে অপরিষ্কার থাকলে সাবান জলে ধুয়ে নিলেই চকচক করে কিন্তু মনের ভেতর অপরিষ্কার থাকলে সাবান জলে কাজ হবে না তাই মনের ভেতরের অপরিষ্কার ঘুচাতে মিথ্যাচার, লোভ, হিংসা,অহমিকা,পরচর্চা দূরে সরিয়ে দাও। এই তো এখন নি:শ্বাস বন্ধ হলেই সব শেষ তাহলে কিসের এতো অন্যায় জুলুম,প্রতারণার বেসাতি।
- রাতের গভীরতায় রাজপথ নিয়ন আলোয় আলোকিত।এই রাজপথ যুগ যুগ ধরে মানুষের সুখ দু:খের সাক্ষী হয়ে আছে।মানুষ তার বিভিন্ন প্রয়োজনে এই রাতেও ছুটে চলে। দূরপাল্লার গাড়ি গুলো হর্ণ বাজিয়ে অতিদ্রুত চলে যায় আবার স্থানীয় বাহনে মানুষ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে যায়। এই রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয় কখনো গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে আবার কখনো রঞ্জিত হয় প্রতিবাদের ঝড় উঠলে। যে পথ মানুষের গন্তব্যে পৌঁছে যাবার মাধ্যম সেই রাজপথ যেনো আর রক্তে না ভিজে। আমরা আর রক্ত ভেজা রাজপথ দেখতে চাইনা।
- “মায়ের চেয়ে আপন কেহ নাই” এই কথাটি সবার ক্ষেত্রে ঠিক নয়। কোনো সন্তানের কাছে “মা” মানেই প্রশান্তি,সাধনা,বিশ্বাস, ভালোবাসার নিরাপদ আশ্রয়। মা যাই বলুক যাই করুক না কেন মা তাদের কাছে সবার উপরে। আবার কারোর কাছে মা বিরক্তিকর, সেকেলে,ঝগরাটে,কড়া,বোঝা, জন্মের দায়। এই মা সন্তানের জন্য জীবন বিলিয়ে দিলেও মাকে অসহ্য লাগে। মায়ের সব কথাতেই রাগ হয়, কেনো যে এমন মায়ের গর্ভে জন্ম নিলাম এটাও ভাবে। আসলেই পৃথিবীতে অদ্ভুত সব মানুষের বসবাস। বর্তমানে মায়ের কাছে সন্তান নিরাপদ নয় আর সন্তানের কাছে মা একটা আবর্জনার স্তুপ।তবে এর মধ্যে যে মা সন্তানের ভালো সম্পর্ক নাই তা কিন্তু নয়। এখনো অনেক সন্তান শুধু মাত্র মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে আবার অনেক মা তার সর্বস্ব দিয়ে সন্তানের মঙ্গলের জন্য অমানুষিক কষ্ট সহ্য করছে।মুখে মুখে আমরা যতোই নিজেকে সমৃদ্ধ মনে করি না কেন নিজের বাবা মাকে অসম্মান করলে কখনো ভালো কিছু করা সম্ভব নয়।
- মানুষ তার কর্মে নিজেকে অসাধারণ করে তোলে।সাধারণ কথা অসাধারণ ভাবে উপস্থাপন করতে পারাটাই ট্যালেন্ট, সাধারণ কোনো খাবার সুন্দর করে পরিবেশন করাটাই শিল্পকর্ম, সাধারণ কম দামী পোশাক পরিপাটি করে পরিধান করা রুচিশীলতা। এরকম অনেক সাধারণ কাজে আমরা নিজের উপস্থিত বুদ্ধি,মেধা,আন্তরিকতা,ধৈর্য্য, একাগ্রতা, নিষ্ঠা, ভালোবাসা দিয়ে নিজেকে অসাধারণ করে তুলতে পারি।
- অভিমানের পাহাড়ের চূড়ায় বসে ভালোবাসার শীতল পরশ পেতে চেওনা কেননা পাহাড়ের বুক চিরে যে ঝর্ণাধারা বয়ে যাবে সেটা পাহাড়কে শীতলতা দিবে না বরং পাহাড়ের বুকে রক্তক্ষরণ হবে। প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে ঐ পাহাড়সম অভিমানের চূড়া থেকে হৃদয় উঠোনে নেমে এসো। অভিমানে দুরত্ব বাড়ে আর দুরত্ব সম্পর্কে অবনতি ঘটায়। তাই অভিমানের পাহাড়ের চূড়ায় আরোহন না করে ভালোবাসার সাগরে নিমজ্জিত হও।
- রাতের নিয়ন আলোয় শহরের অলিগলি আলোয় ঝলমল করে, ব্যস্ততায় মোড়ানো প্রতিটি মানুষের জীবন চলছে তো চলছে। এই নিয়ন আলোর দেখা কিন্তু সব জায়গায় মিলে না।যেমন কিছু মানুষের জীবনও ঝলমলে তাদের আলোয়ও আলোকিত হয় তবে এমন আলোকিত মানুষের সংখ্যা খুবই নগন্য। এমন আলোকিত মানুষের আলোর ঝলকে কেউ পথ দেখে কেউ পুড়ে যায়। আর যদি সততা আর আদর্শের আলোয় আলোকিত হয় তবে তাদের আলোয় মানুষ পথের দিশা খুঁজে পায়,তাদের আলোয় নিজেদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যায়। আসুন সততা ও ন্যায়ের আলোর মশাল প্রজ্জ্বলনে আলোকিত মানুষের সন্ধান করে নিজেকে আলোকিত করি ও অন্যদের আলোর পথ দেখাই।
- একই কথা বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে কেউ হয়তো বিনয়ের সাথে নিজেকে উপস্থাপন করে আবার কেউ প্রভাব খাটিয়ে কথা বলে।বিনয়ী ব্যক্তি কখনো তার কথায় প্রভাব খাটায় না বা কাউকে দমিয়ে রাখেনা কিন্তু কিছু মানুষ আছে সব সময় এমন ভাবে কথা বলে যে তার চেয়ে অন্য কেউ বেশি বুঝে না বা সেই পারফেক্ট। আর বিনয়ী ব্যক্তির নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবে। বিনয়ী ব্যক্তি দুর্বল নয় বরং সে বেশি শক্তিশালী, চাপার জোরে যা আদায় করা বা প্রতিষ্ঠিত করা যায় না বিনয়ের সাথে কথা বললে কিন্তু সেটা সহজেই প্রতিষ্ঠা করা যায়। প্রতিবাদের ভাষাও কিন্তু বিনয়ের সাথে করা যায়। আপনি শত্রুর মোকাবিলা করতেও বিনয়ী হউন,আপনার ধৈর্য্য, বিনয়,সহমর্মিতা, সহনশীলতা একদিন আপনাকে উত্তম ফল দিবে ইনশাআল্লাহ।
- আকাশের উদারতা আর সাগরের বিশালতার মতোই মনটাকে বড়ো করো। মনের ভেতর সংকীর্ণতা থাকলে তা সাগরের জলে ভাসিয়ে দাও, আকাশের ছায়ায় মনের দীনতা ঢেকে রাখো। মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যাওয়াই হোক ব্রত। আসো সকলে মিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিপাটি পরিশুদ্ধ পরিবেশ রাখার জন্য কাজ করি।
- বাহ্যিক রূপ ক্ষণস্থায়ী আজ আছে তো কাল নাই তাই কারোর রূপের মোহে না পড়ে মানসিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দাও। আমাদের বিনয়ী আচরণ, শিষ্টাচার, সহমর্মিতা, উদারতা, সততা মনের সৌন্দর্য বাড়ায়।আর মানুষের মন সুন্দর হলে তার প্রভাব বাইরে ঠিক প্রকাশ পায়। আসো আমরা নিজেদের মনের যত্ন করি, চারিদিকের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ রাখি।
- রঙধনু দেখেছো? সাত রঙের মেলবন্ধন দেখেছো?জানো আকাশের বুকে সাত রঙের উজ্জ্বল আভা দেখে হৃদয় পুলকিত হয়। ইচ্ছে করে ঐ রঙে মিশে যেতে। কিন্তু রঙধনুর স্থায়িত্ব একেবারেই অল্প সময়ের জন্য হয়। দেখতে দেখতে আকাশেই মিলিয়ে যায়।মানুষের প্রতি মানুষের মোহও রঙধনুর মতো অল্পতেই মোহ কেটে যায়। কারোর বাহ্যিক রূপ,কথা, কাজ,আচরণ যেটার মোহেই পড়ো না কেন সেটা অল্পতেই কেটে যায় কিন্তু মায়ায় পড়লে সেখানে ভালোবাসার জন্ম নেয়। আসলে মোহ কখনো স্থায়ী হয়না মোহ হলো রংধনুর মতো অল্প সময়ের জন্য থাকে আর রংধনুর রঙ মিলিয়ে যাবার মতো মোহও মিলিয়ে যায়।
- *সন্দেহ একটা ভয়ানক ব্যধি”সন্দেহপ্রবন মানুষ নিজেও ভালো থাকেনা অন্যকেও ভালো থাকতে দেয়না। যে বা যারা কাছের মানুষের পিছনে গোয়েন্দাগিরি করে বা অন্য কাউকে গোয়ান্দার কাজ দেয় একদিন সেই গোয়েন্দাই তার বিরুদ্ধাচারণ করে। আজকে তুমি যাকে আপন মনে করে অন্যের গতিবিধি দেখার জন্য রাখলে আর সে তোমাকে ভালোমন্দ ইনিয়েবিনিয়ে বললো বা কিছু প্রমাণও দিলো কিন্তু এই ব্যক্তিই যে তোমার সাথেই থাকবে সেই নিশ্চয়তা নাই।স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস রাখো তুমি যদি সৎ থাকো তাহলে কেউ তোমাকে সাময়িক সমস্যায় ফেললেও স্রষ্টা তোমার সততার পুরুষ্কার ঠিকই দিবে।আসো সন্দেহপ্রবন না হই বিশ্বাস রেখে সৎ পথে এগিয়ে যাই।
- নারী হলো ঘরের কোণে পড়ে থাকা আসবাবপত্র, আজকে এখানে তো কাল ওখানে।আসবাবপত্রের মতোই নারীর জায়গা বদল হয়। কোনো বাড়িতে তাকে আদর যত্নে রাখে ধুলোবালি পড়তে দেয়না আবার কোনো বাড়িতে অযত্নে অবহেলায় ধুলোয় জমে থাকে। নারীর জীবন এমনই কখনো চকচকে আসবাবপত্রের মতো শোভা বর্ধন করে কখনো ধুলো জলে অবহেলায় অযত্নে এক কোণে পড়ে থাকে।
- কাউকে সহযোগিতা করলে সেটা গোপনে করো,সবাইকে জানিয়ে সহযোগিতা করা মানে নিজেকে জাহির করা। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যাকে সহযোগিতা করবে তার কাছে প্রতিদানের আশা করা যাবে না। মনে রেখো সবাইকে জানিয়ে যাকে সহযোগিতা করবে সে হয়তো এতে অপমানিত বোধ করতে পারে। তাই সহযোগিতা করার নামে কাউকে অপমান করো না। যদি সত্যিই তুমি পাশে থাকতে চাও তার বিপদে সহযোগিতা করতে চাও তাহলে লোকচক্ষুর আড়ালেই করো। তুমি তোমার মতো করে গোপনেই সহযোগিতা করে যাও এভাবে সৃষ্টিকর্তাও ঠিক তোমার পাশে থাকবে।
- আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের সাথে অভিমান করি আর এটা তেমন দোষের কিছু না। আসলে আমরা সবাই নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি, আমরা ভাবি যে আমার কাছের মানুষ আমাকে অবহেলা না করুক ইগনোর না করুক। মূলতঃ যখন নিজেকে গুরুত্বহীন মনে হয় তখনই মানুষ অভিমান করে। অভিমান করা মানে দূরে যাওয়া নয়, অভিমান মানে পূর্বের চেয়ে আরও বেশি আপন হওয়া। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আমরা অভিমানে এতোটাই মানসিক দুরত্ব তৈরি করি যে সেই অভিমান কখনো কখনো অনুশোচনায় পরিণত হয়। তাই কেউ অভিমানে দূরে যেওনা আর যে তোমার উপর অভিমান করেছে তাকে তোমার ভালোবাসা দিয়ে বুঝিয়ে দাও যে সে তোমার কাছে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
- জীবনে সব কিছু তোমার মনের মতো হবে না তাই কিছু কিছু জিনিস মেনে নাও, মানিয়ে নাও আর মনে নাও এই তিনটি ঠিকঠাক করে করতে পারলেই তুমি পারফেক্ট।
- ঝড় আসলে বড়ো গাছেই আগে লাগে। আর সেই ঝড়কে মোকাবিলা করতে নিজের শাখা-প্রশাখায় আঘাত পেলেও গাছ আমাদের রক্ষা করতে রুখে দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করে। সত্যের পথে লড়াই করতে যদি গাছের শাখা-প্রশাখার মতো আঘাতপ্রাপ্ত হও তবুও থেমে থেকো না। কারণ সত্য সব সময় সুন্দর,সত্য চলার পথকে আলোকিত করে।
- জীবন একটা রেসের ঘোড়ার মতো,প্রতিটি রেসে যেতার জন্য শুরু দৌড়েই যাচ্ছে। কেউ রেসে জয় পায় কেউ মাঝপথেই থেমে যায় বা রেস করতে গিয়ে কেউ মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। আসলে রেসে যেতার জন্য ধৈর্য্য, পরিশ্রম, একাগ্রতা,নিষ্ঠা আর সততার প্রয়োজন। প্রতিটি রেসে জয়ী হওয়া হয়তো সম্ভব নয় তাই বলে হেরে যাবার ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে নাই। মনোবল দৃঢ় রেখে আল্লাহর উপর ভরসা করে এগিয়ে যাও দেখবে তুমিও একদিন জয়ী হবে।
- পিতার পাপের দায় ছেলেকে দেই আর ছেলের অন্যায়ের দায় বাবাকে দেই। আচ্ছা কোনো পিতা বা সন্তান কি চায় তার সন্তান বা বাবা অপরাধ করুক। সারাদিন অনাহারে থাকলেও অন্যায়কে সমর্থন করে না,আর এর মধ্যে দুই একজন করে থাকলে সেটা ব্যতিক্রম। আমরা কিছু না জেনেই অপরাধীর দায় তার কাছের মানুষের উপর চাপিয়ে দেই। পাপীকে ঘৃণা না করে পাপকে ঘৃণা করুন। কেউ মাতৃগর্ভ থেকে অন্যায় শিখে আসেনা, সময়ে কেউ কেউ অপরাধ করে। আসুন সত্য কথা বলি সৎ পথে চলি।
- *বিত্তবান বনাম দরিদ্র* বাজারে হরেক রকম ক্রেতার চাহিদা মেটাতে হরেক রকমের মাছের ডালা সাজিয়ে বিক্রতারা অপেক্ষায় থাকে। যাদের পকেটে বেহিসেবী টাকা থাকে মাছ বিক্রেতার কাছে তারা অত্যন্ত প্রিয় কারণ দেখা মাত্র তারা দরদাম না করেই দামী দামী মাছ ক্রয় করেন। মাছের প্রয়োজন না থাকলেও ব্যাগভর্তি করে ঘরে ফেরেন।অপরদিকে দরিদ্র ক্রেতা দূর থেকে দাম শুনে কাছে যাবার সাহস পর্যন্ত পায় না। দরিদ্ররেও খেতে ইচ্ছে করে কিন্তু পকেট যে গড়ের মাঠ তাইতো মুখ দিয়ে নয় চোখ দিয়েই খাবারের চাহিদা পূরণ করেন। আর মুখে তোলার জন্য সস্তা পুঁটি নিয়ে ঘরে ফেরেন। একই ভূখণ্ডে বাস করে কেউ খায় কেউ পায় না, কেউ বিলাসিতা করে কেউ অভাবে মরে।আসলে দরিদ্রদের বেশির ভাগ দামী খাবারই মুখ দিয়ে নয় চোখ দিয়ে খেতে হয় এটাই বাস্তবতা এটাই জীবন।
- অসম্মান যতো ক্ষুদ্রই হোক না কেন তা হৃদয়ে গেঁথে থাকে। কাউকে অসম্মান করার আগে ভাবুন কেউ আপনাকে অসম্মান করলে আপনার কেমন লাগবে?
- বদলে দেই বদলে যাইকিছু অপ্রিয় কথা লিখতে ইচ্ছে করল তাই লিখছি। আমি নির্দিষ্ট কাউকে উদ্দেশ্য করে লিখছি না লেখাটি সবার উদ্দেশ্যে লেখার চেষ্টা করছি।আমরা বিভিন্ন পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যেমন ( বিয়ে,জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, সুন্নতে খাতনা,মুখে ভাত) হাসিমুখে অংশগ্রহণ করি। আর এসব অনুষ্ঠানে নিজেদের স্ট্যাটাস বজায় রাখতে দামী উপহার উপঢৌকন হিসেবে নিতে কার্পণ্য করি না। অনেক সময় হাতে গচ্ছিত টাকা না থাকলেও ঋণ করে হলেও শুধুমাত্র সামাজিকতা রক্ষার জন্য ঐ সব অনুষ্ঠানে যাই। অবশ্য বর্তমানে উপহারের পরিবর্তে খামের আড়ালে নগদ অর্থের প্রচলন শুরু হয়েছে। কেউ কিন্তু উপহারের জন্য দাওয়াত দেয় না কিন্তু আমরাই খালি হাতে যেতে পারিনা। কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে কার চেয়ে কে বেশি দামী উপহার দিলো বা কে বেশি নগদ অর্থ দিলো। যদিও আয়োজকদের অর্থ ব্যয়ের তুলনায় এটা নগন্য কিন্তু মর্যাদার লড়াইয়ে যে কিছু দিতেই হবে। আমিও আমার সাধ্যমতো দিয়েই অনুষ্ঠানে যাই এটাই রীতি হয়ে গেছে।অপরদিকে পরিবারের বা বাইরের কেউ অসুস্থ হলে আমরা কি এভাবে এগিয়ে আসি? আমরা অসুস্থ রোগীকে দেখতে যাই ফলমূল নিয়ে যা অনেক রোগী খেতে পারে না এবং তার কোনো উপকারেই আসেনা বরং আমাদের সাধ্যমতো যদি খামের আড়ালে নগদ অর্থ দেই তাহলে তার ও তার পরিবারের কাজে লাগে। সুখের সময়ে আমরা যেভাবে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হই কার চেয়ে কে বেশি দিব কিন্তু বিপদে আমরাই পিছু হটি।আমরা সবাই বলি রোগীকে দেখতে যাওয়া সুন্নত, হয়তো আমরা রোগীকে দেখতেও যাই কিন্তু তাকে দেখতে গিয়ে উপকারের চেয়ে বিড়ম্বনায় ফেলে দেই। অসুস্থ রোগীর বাড়িতে আমাদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। তাই বলে কি আমরা কারোর অসুস্থতায় পাশে থাকব না? অবশ্যই পাশে থাকব সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দিয়ে,সেবা দিয়ে, শ্রম দিয়ে,পরামর্শ দিয়ে রোগী ও তার পরিবারের মনে সাহস যোগাব। আমি কারোর সুখের সময়ে পাশে না থাকলেও কারোর বিপদে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করি, কারোর অসুস্থতায় অর্থ দিতে না পারলেও সেবা দিয়ে শ্রম দিয়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়াই। আমার আপনার ছোট্ট ছোট্ট সহযোগিতা বিপদগ্রস্ত মানুষটাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে। আসুন শুধু সামাজিকতা রক্ষায় সুখের অনুষ্ঠানে অর্থ দিয়ে নয়, ঐ অনুষ্ঠানে অর্থ দেবার পাশাপাশি অসুস্থ মানুষের কল্যাণে ভালোবাসার হাত বাড়াই।তাই আবারও বলছি ” বদলে দাও বদলে যাও” না বলে আজ থেকে সবাই মন থেকে বলি” বদলে দেই বদলে যাই”।
- ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বা গায়ের জোরে কাউকে অসম্মান করার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নাই,বাহাদুরি সেই কাজে থাকে যেখানে বিনয়ের সাথে কোনো কর্ম সম্পাদন করা যায়। একজনের মন রক্ষার্থে অপরপক্ষকে অসম্মান করার মধ্যে দাম্ভিকতা প্রকাশ পায়। ক্ষমতার অপব্যবহার করতে গিয়ে আমরা হিতাহিতজ্ঞান ভুলে যাই, যাকে যতোটা সম্মান করা যায় তার কাছ থেকে ততোটাই সম্মান অর্জন করা যায়। আমরা ভুলেই যাই যে সব ক্ষমতার মালিক স্রষ্টা। ভালোবেসে, সম্মান আর বিনয়ের মাধ্যমে অনেক কঠিন কাজও সহজে করা যায় কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা ক্ষমতার দাপটে একজনকে সম্মান দেখাতে গিয়ে অন্য জনের মনে কষ্ট দেই। আসুন গায়ের জোরে বা ক্ষমতার দাপটে কাউকে অসম্মান না করে সকলের প্রতি বিনয়ী হই।
- গোলাপের সৌন্দর্য যেমন গাছেই সুন্দর তেমন যে মানুষ যেখানে মানায় তার সৌন্দর্য সেখানেই। যদিও আমরা সব পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারি কিন্তু সব জায়গায় আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠত্য দেখাতে পারিনা। একেকজনের পারদর্শিতা একেক মতো কেউ হয়তো ভালো ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে,কেউ ভালো বক্তব্য দিতে পারে,কেউ গাইতে, কেউ নাচতে,কেউ আঁকতে,কেউ লিখতে, কেউ রান্না করতে,কেউ পড়াতে,কেউ দৌড়াতে,কেউ সাজাতে,কেউ সেবা করতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি কাজে পারদর্শী। সব কাজে পারদর্শী হতেই হবে এমন নয়।আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ দক্ষতা যেথায় দেখাতে পারি সেখানেই মনোযোগ দিতে পারি গোলাপকে ছিড়ে হাতে রাখলে বা ফুলদানিতে রাখলে তার সম্পূর্ণ সৌন্দর্য ফুটে ওঠে না।তাই আসুন আমরা নিজেদের সেরাটা দেবার চেষ্টা করি।
- তুমি যতোই সম্পদশালী, ক্ষমতার অধিকারী, প্রতাপশালী ও আধিপত্য বিস্তারকারী হওনা কেনো তোমার সব কিছু তখনই সার্থক হবে যখন তুমি নিজেকে মানব কল্যাণে কাজে লাগাবে।জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য বা সুখ যেটাই বলো না কেনো সেটা ফুটে উঠে অন্যকে সহযোগিতা করার মধ্যে, অন্যের পাশে থাকার মধ্যে। তোমার দ্বারা কারোর নূন্যতম উপকার আজীবন তোমার মঙ্গল কামনায় উত্তম কাজ। অর্থ দিয়েই যে পাশে থাকা যায় তা কিন্তু নয় তুমি তোমার শ্রম,মেধা,বুদ্ধি,পরামর্শ, সেবা দিয়ে মানুষের কল্যাণ বয়ে আনতে সহযোগী হতে পারো।
- নিজের জীবন আঁধারে ঢেকে গেলেও কেউ কেউ অন্যের চলার পথে আলো ছড়ায়। মানুষ চেষ্টা করতে পারে কিন্তু নিয়তি পরিবর্তন করতে পারে না। তাই কারো কারোর জীবন আলোর মুখ দেখে না। আর এরা নিজে পারেনি বলে কেউ কেউ অন্যের জীবনে আলোক শিখা হয়ে আসে। ঝলমলে রঙিন আলো ছড়াতে না পারো কিন্তু ছোট্ট জোনাকির আলোয় অন্যকে পথ দেখাও। হয়তো তোমার মিটিমিটি জোনাকির আলোও জীবনের আঁধার ঘুচিয়ে আলোকিত করবে।
- শেষ থেকেই নতুন করে শুরু করতে পারাটাই জীবন। হাজারো ব্যথা বুকে লুকিয়ে মুখে হাসি রেখে চলাই জীবন নয়,জীবন মুখ থুবড়ে পড়ে থাকাও নয় নিজের সব কষ্ট বুকে জমা রেখে জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই জীবন।চলতে পথে হাজার ঘাত প্রতিঘাত আসবে, এগিয়ে যাবার পথ রোধ করবে,হতাশা হাতছানি দিয়ে ডাকবে, আশে পাশে হয়তো কেউ থাকবে না তারপরও স্রষ্টার হুকুম না হলে চিরপ্রস্থান হবে না তাই সকল আঁধার ঘুচিয়ে আলোর পথে এগোতে হবে। তোমার পাশে কেউ না থাকুক সৃষ্টি কর্তা ঠিক তোমাকে তোমার গন্তব্যে পৌঁছে দিবে। কথা ও কাজে সৎ থেকো আর যতোই বিপদ আসুক কখনো ভেবো না এটাই বুঝি তোমার পরাজয়, না তুমি পরাজিত হবে না এটাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করো দেখবে বুকে জমানো ব্যথায় আর কষ্ট পাবে না বরং আলোয় ভরে যাবে তোমার হৃদয়ের উঠোন।
- ছবির মতো সময়কে যদি ফ্রেমে বন্দী করে রাখা যেতো তাহলে হারানো সময়ের স্মৃতি মনে করে কষ্ট হতো না। হে আল্লাহ এতো মায়া দিলে কেন? প্রিয় মানুষ দূরে চলে যায় কেন? আপনজন হারিয়ে যায় কেন? বুকের ভেতর নোনা ব্যথার চাপ যে পাহাড়ের মতো ওজন, মাঝে মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসে। স্বজন হারানোর শোক যে কাটানো যায় না, মানুষ শুধু বাঁচার জন্য ছুটতে থাকে। যে চলে যায় সে শুধু একাই যায় যেমন ঠিক তেমনি একবুক শূন্যতা দিয়ে যায় এটাও ঠিক। একজনের শূন্যতা হাজারজনেও পূরণ করতে পারে না।
- পড়ন্ত সূর্যের আলো বলে যায় আমি আরও তেজ নিয়ে ভোরেই ফিরে আসছি। গোধূলির এই লগন ক্ষণিকের জন্য হলেও এর সৌন্দর্য কিন্তু অনেক বেশি। কেউ ঠিক গোধূলির আলোর মতোই বলে যায় সে আরও তেজ নিয়ে ফিরবে।
- আপনার কথা তখনই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে যদি আপনার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ সম্পদ থাকে। আবার অর্থ না থাকলেও যদি চাপার জোর থাকে তাহলেও আপনার কথা মেনে নিবে। আসলে হয় টাকা নয় ঝাড়ি দিতে জানলেই তার কথা প্রতিষ্ঠা পায়। আর মাঝামাঝি অবস্থানে যাদের অবস্থান তারা চিরকাল শুধু অন্যের ভালোর জন্যে লড়ে যায় কিন্তু মূল্য পায় না।
- কিছু দাগ উঠাতে কাপড়টাই ছিঁড়ে যায় তবুও দাগ রয়ে যায় তেমন কিছু কথা হৃদয়ে এমন দাগ লাগায় যে সেই দাগ হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে।
- ধুলোয় মাখামাখি ঝরা ফুলের মতোই মানুষও মাটিতে মিশে।ফুল যতো সুন্দরই হোক না কেন ঝরে গেলে তার জায়গা মাটিতেই হয় আর এই দুনিয়ায় অর্থ প্রতিপত্তি যতোই থাকুক না কেন মৃত্যুর পরে মানুষের জায়গাও মাটিতেই। তবে কিছু ফুল ঝরে গেলেও তাকে যত্নে তুলে রাখে তার সুঘ্রাণের জন্য। আর কিছু মানুষ মৃত্যুর পরে তার সৎ কর্মের জন্য পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকে। তাই জন্ম যেমনই হোক কর্ম এমন হতে হবে যাতে মরণের পরে প্রশংসা করে।
- প্রকৃত জ্ঞানী মানুষ কখনো অমানবিক হতে পারেনা। প্রতিষ্ঠিত হলেই কি সে সব জানে? পদমর্যাদায় বড়ো হবার চেয়ে মানসিকতায় বড়ো হওয়া উত্তম।
- কালো রঙ শুধু অন্ধকারের প্রতীক নয় কালো রঙই আলোর পথ দেখায়। আমরা যে বই পড়ি তার প্রতিটি অক্ষর কালো রঙেই ছাপা,পত্রিকায় বিভিন্ন খবর পড়ি সেও কালোর রঙেই লিখিত,ল্যাপটপে বা কম্পিউটারে কালো রঙেই মুদ্রিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্লাস রুমের ব্ল্যাকবোর্ডও কিন্তু কালো আর কালো বোর্ডে সাদা চকের ব্যবহার আমাদের জীবনকে আলোকিত করে। সাদা কাগজে গুরুত্বপূর্ণ লেখা কিন্তু কালো রঙের কালি দিয়েই লিখিত। সাদা কাগজের কোনো মূল্যই থাকত না যদি কালো রঙে লেখা না হতো।শিক্ষাগত জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত জীবন সব কিছুতেই কালোর আধিক্য। অফিসিয়াল আদেশ নির্দেশ বা আইনি রেকর্ড কালো রঙেই মুদ্রিত।পবিত্র কাবা শরীফের কালো পাথর সবচেয়ে মূল্যবান যা কোনো অর্থ দিয়ে কেনা যাবে না। অন্যদিকে বাঙালি রমণীর দীঘল কালো চুল দেখেই অনেক প্রেমিক ভালোবাসার মুগ্ধতায় ডুব দেয়। কালো চোখের কদরও কিন্তু কম না।আমরা বেশির ভাগ মানুষ যা দেখি সবই কিন্তু কালো চোখেই দেখি। বৃষ্টির দিনে কালো ছাতাটাই হাতে তুলে নেই আবার রোদেও কালো ছাতা ব্যবহার করি। গ্রাম বাংলায় একটা প্রবাদ আছে “জাতের মেয়ে কালো ভালো নদীর জল ঘোলা ভালো”। তাই সব সময় কালোকে শোকের প্রতিচ্ছবি বা কালো মানেই ঘুটঘুটে আঁধার সেটা না ভেবে কালো রঙ যে আমাদের জীবনকে আলোকিত করে সেটা ভাবি।আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কালো রঙ কোনো মৌলিক রঙ নয়। সব রঙের মিশ্রণেই কালো রঙ হয় তাই কালো একতায় বাঁচে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কালো রঙ জীবনকে আলোর পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- বিনয়ী মানুষ শুধু নিজেকে আলোকিত করেনা আলোকিত করে পুরো সমাজকে আর উশৃংখল আচরণ শুধু নিজের ধ্বংস ডেকে আনেনা পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। কিছু মানুষ জেদের বশবর্তী হয়ে এমন আচরণ করে যা অন্যের মনে শুধু সাময়িক কষ্ট দেয় না তার মনের গভীরে ক্ষত সৃষ্টি করে। ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে আমরা সব ক্ষেত্রেই নিজের জেদ বজায় রাখতে চাই কিন্তু কখনো ভাবিনা আমাদের এই জেদের জন্য কেউ অসম্মানিত হতে পারে কষ্ট পেতে পারে। কারোর মনে কষ্ট দিয়ে কেউ কখনো ভালো থাকতে পারে না। আসুন নিজের আধিপত্য প্রমাণ করতে বিনয়ী হই, সম্মান করি, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই।
- তেলে আর জলে কখনো মিল হয় না* এই কথাটি আমরা সবাই জানি। কিন্তু উপাদেয় খাবার তৈরিতে তেল ব্যবহার করি তবে এই তেলও কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জলের সাথেই রান্না করা হয়। অর্থাৎ তেল যতো দামীই হোক না কেন তার গুণগত মূল্য পানির চেয়ে কম। পানি বা জল কিছু না মিশিয়েই পান করা যায়,কিন্তু তেল কি সেভাবে পান করা যায়? বর্তমানে তেলের দাম যেমন বেড়েছে তার সাথে বেড়েছে তেলের ব্যবহার, খাবারে তেল কম বেশি যাই ব্যবহার হোক না কেন বেশি ব্যবহার হয় মানুষকে তেল দিয়ে কাজ হাসিল করতে। যেহেতু পানি বা জল আমাদের তৃষ্ণা মেটায়,পানির অপর নাম জীবন। তাই তেল মালিশ না করে আসুন বিশুদ্ধ পানি পান করি। নিজে বিশুদ্ধ চর্চা করি চারিপাশ বিশুদ্ধ রাখি।
- আমরা গুরুজনের শাসনটাই দেখি কিন্তু আমাদের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ,তাদের স্যাক্রিফাইস,তাদের ভালোবাসা দেখিনা। তারা আমাদের প্রতি শুধু দায়িত্বশীল আচরণ করেনা আমাদের ভালো রাখতে নিজেকে বিলিয়ে দেয় অকৃত্তিম ভাবে ভালোবাসে।
- কোনো অযুহাতে কাউকে ব্যস্ততা দেখাবেন না,এমন এক দিন আসতে পারে যখন আপনার কাউকে প্রয়োজন তখন সেও ব্যস্ততা দেখাবে।যতোদিন বেঁচে আছেন কাজ তো থাকবেই কিন্তু সময় চলে গেলে বা মানুষ চলে গেলে তখন আফসোস করবেন। আপনার কাজের ক্ষতি হবে বলে আজকে যাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন কালকে আপনাকেও কেউ এড়াতে পারে।স্রষ্টা ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না এটা যদি বিশ্বাস করেন তাহলে আপনার মূল্যবান সময় থেকে একটু সময় খরচ করুন দেখবেন আল্লাহ পাক আপনার খরচ ঠিক পূরণ করে দিবেন।
- যারা আত্মত্যাগ করে তারা মহান হবার জন্য করেনা,তারা অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের সুখ বিসর্জন দেয়।আসুন অন্যের মুখে হাসি ফুটাই, অন্যের সুখের জন্য নিজের ভালোলাগা ত্যাগ করি,আত্মত্যাগেই সুখ খুঁজি।
- যে পথ তোমার একাই চলতে হবে সেই পথে কাঁটাই থাকুক আর ফুলই থাকুক সেসব নিয়ে উদ্বেগ করতে নেই। মনে সাহস রেখে আল্লাহর উপর ভরসা করে এগিয়ে যাও দেখবে দুর্গম পথও সুগম হয়ে যাবে। জীবনে চলতে গেলে বাঁধা তো আসবেই তাই বলে থমকে গেলে চলবে না কেননা জীবন হলো বহমান নদীর মতো। নদী যেমন হাজারো বাঁক পেরিয়ে শুধুই সামনের দিকে এগোয় তেমনি আমাদেরও এগিয়ে যেতে কাঙ্খিত স্থানে।
- শান্ত কোমল নদীও এক সময় ঢেউয়ে ঢেউয়ে এপাড় ভাঙে ওপার গড়ে। নিস্তব্ধ পাহাড়ের গায়ে বয়ে যাওয়া শান্ত স্থির ঝরণার ঢলেও কখনো সব ভেসে যায়।






