আজিজুন নাহার আঁখি

কোনো অসহায় মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করোনা।বরং তার দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দাও।এমন হতে পারে তোমার সহযোগী মনোভাবে সে নিজেকে শক্তিশালী মনে করতে পারে। তার ক্রান্তিলগ্নে তাকে মানসিক সাপোর্ট দিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে তুমিই হতে পারো তার ভরসার পাত্র।কারোর সংকট কালে তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করে বিদ্রুপ না করে তাকে আশ্বাস দাও।সে-ও যে ভালো কিছু করতে পারে সেটা তাকে মনে করিয়ে দাও,তার মনে আশার বীজ বপন করো।এমন কোনো কথা বলো যে সেটা শুনে মনোবল ফিরে পাবে আর নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যাবে।তাই কারোর হতাশাকে না বাড়িয়ে ভরসার পাত্র হয়ে তাকে ভালোবাসো তাকে আগলে রাখো।

  • দুর্বলকে কখনো তাচ্ছিল্য করোনা বা তার উপর আধিপত্য বিস্তার করোনা।বরং দুর্বলের সহযোগী হয়ে তাকে সামনের দিকে এগিয়ে নাও।মনে রেখো যে দুর্বল সেও স্বপ্ন দেখে সবল হবার। তাকে উৎসাহ দিয়ে অনুপ্রেরণা দিয়ে সবল করলে তোমার ক্ষতি হবেনা।আত্মপ্রতিষ্ঠা ক্ষণিকের তাই দুর্বল সবল মিলে পরিশ্রম করো দেখবে সফলতা আসবে।
  • আলো আঁধারের সংমিশ্রণে মানুষের জীবন। কারোর জীবনে অর্থ সম্পদে ভরপুর কারোর জীবনে অভাবে নিমজ্জিত।তোমার ধনসম্পদ আভিজাত্য নিয়ে কখনো অহংকার করোনা।সৃষ্টি কর্তা তোমাকে দু’হাত ভরে দিয়েছে সেজন্য শোকরানা আদায় করো। কারণ আল্লাহ পাক উত্তম ফয়সালা কারী।আজকে তোমার সব আছে কালকে নাও থাকতে পারে।আভিজাত্য আর সম্পদ নিয়ে অহংকারী হয়ে অন্যকে কষ্ট দিও না।আজ যার কিছু নাই কালকে তাকে অঢেল দিতে পারেন।কোনো কিছু অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করি কঠিন।তাই অহংকার করে নিজের পতন ডেকো না।
  • যাকে ভালোবাসো তাকে কখনো অবহেলা করো না। অবহেলায় দুরত্ব বাড়ে। বিশ্বাসে আর সম্মানে ভালোবাসা টিকে থাকে।ভালোবাসার মানুষকে যদি কখনো ভালো না লাগে তাহলে তাকে ছেড়ে চলে যাও কিন্তু জোর করে কাছে থেকে অবহেলায় বুঝিও না এখন আর তাকে ভালো লাগছ না।ভালো নাই বাসলে কিন্তু তাকে অবহেলা করা মানে অসম্মান করা।তাই কাউকে অবহেলা নয় ভালোবাসো।
  • অতিথি আল্লাহর দেয়া রহমত ও বরকত নিয়ে আসে। তাই বাড়িতে অতিথি এলে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানান। ঘরে যে খাবারই থাকুক না কেন তা হাসিমুখে পরিবেশন করুন। আর যদি দেবার মতো কোনো খাবার না থাকে তাহলে মুখে এক চিলতে হাসি রেখে পরিষ্কার গ্লাসে পানি পান করান। কখনো অতিথিকে এড়িয়ে যাবেন না বা মন খারাপ করবেন না। রিজিকের মালিক আল্লাহ পাক তাই আপনার তৈরি খাবারে তার রিজিক লেখা থাকলে আপনার কম পড়বেনা। আল্লাহ পাক অতিথির কারণেই আপনার বরকত দিবেন ইনশাআল্লাহ।
  • তুমি কাউকে সব জায়গায় স্পেশাল ভাবে উপস্থাপন করার পরেও সে যদি তোমাকে প্রায়োরিটি না দেয় বুঝে নিও তার কাছে তোমার মূল্য সাধারণ সবার মতো।
  • ঈদুল আজহা ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবব্ধ হবার দিন,আত্মত্যাগে নিমজ্জিত হয়ে যাওয়ার দিন। আজহা মানে ভোরের ঝলমলে আলো হয়ে মনের অন্ধকার দূর করে দেয়া।রাতের আঁধার কাটিয়ে নতুন সকালের শুভ বার্তা নিয়ে আসে।আসুন মনের পশুত্বকে বর্জন করি একে অপরের সুখে দু:খে পাশে থাকি।সকলের সুখ,শান্তি,সমৃদ্ধি আর কল্যাণ কামনা করি।
  • সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচির পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু সেই পরিবর্তন যেনো অন্যের ক্ষতি না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি মানবের কল্যাণে না আসতে পারি তাহলে জীবনটাই বৃথা।
  • ইগো মানুষের মধ্যে দুরত্ব বাড়ায়। পারস্পরিক সম্পর্কে মান অভিমান স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু আমরা যখন সেই অভিমানকে ইগোতে পরিণত করি তখনই সম্পর্কে দুরত্ব বাড়ে। তাই ইগো নয় আসুন নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক টেকসই রাখি।
  • কাউকে পাখির মতো ভালোবেসে খাঁচায় বন্দী করোনা তুমি যতোই আদর ভালোবাসা দাও না কেন সুযোগ পেলেই সে উড়ে যাবে,আবার কাউকে ফুলের মতো যত্ন করো না তুমি যতোই যত্ন করো না কেন সে কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পরে ঝরে যাবে,তুমি বরং মাটির মতো আঁকড়ে ধরো দেখবে সেও তোমাকে আগলে রাখবে। তাই কাউকে ফুল,পাখি নয় মাটির মতো ভালোবাসা দাও সে তোমাকে ছেড়ে যাবে না।
  • ক্ষণিকের পৃথিবীতে মানুষ এতো মায়ায় জড়িয়ে পড়ে বলেই মায়ার বাঁধন ছিড়ে গেলে নিজেকে নি:স্ব মনে হয়, মনে হয় এই বুঝি সবশেষ হয়ে গেল।
  • যদি সৎ থাকো তাহলে পিছন থেকে আঘাত করো না সামনে থেকে লড়াই করো, পিছন থেকে আঘাত করা মানে তোমার সৎ সাহস নাই। হ্যাঁ পিছনে থেকে আঘাত করলে তুমি হয়তো ক্ষতি করতে পারবে কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকবে তো? আর যাকে আঘাত করছো সে একবার যদি উঠে দাঁড়াতে পারে তখন তুমি তোমার মুখ লুকানোর জায়গাও পাবে না।
  • পৃথিবীতে কারোর শূন্যস্থান কিছুতেই পূরণ হয় না। আমাদের জীবনে একেকজন মানুষের গুরুত্ব একেক মতো। কেউ কারোর বিকল্প হতে পারে না। আপনি যতোই ঢেলে সাজাতে চান না কেন মানুষ তার নিজস্বতা থেকে বের হতে পারে না।
  • “যতো বেশি কথা ততো বেশি ভুল” এই কথার উপর ভিত্তি করে আমরা কি কথা বলবো না? অবশ্যই আমরা কথা বলবো তবে আমাদের কথা যেনো ইতিবাচকতা থাকে। এমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করবো না যাতে অন্যের হৃদয়ে আঘাত লাগে। সর্বাবস্থায় আমরা বিনয়,শিষ্টাচার, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবো।
  • মানুষ তার সব ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কিন্তু মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সবাই বলে আকাশের রঙ আর মানুষের মন সব সময় পরিবর্তনশীল। সত্যিই তাই মানুষের মন কারণে অকারণে পরিবর্তন হয়। কিন্তু সেই পরিবর্তন সীমার মধ্যে রেখে চলতে পারাটাই জীবনের প্রশান্তি।
  • প্রকৃতিকে আঘাত করলে সে ভেঙে না পড়ে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ফিরে আসে। ছবিতে যে পেঁপেঁ গাছ দেখতে পাচ্ছেন চারা অবস্থায় কেউ তার মাথা ভেঙে দিয়েছিল আর সেই কিন্তু থেমে থাকেনি বরং সে তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। আপনাকে অনেকেই আঘাত করতে পারে সেই আঘাতে থেমে থাকা মানে জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ানো। তাই আসুন প্রকৃতির কাছ থেকে আমরা শিক্ষা নিয়ে নিজেকে আরও শক্তিশালী করি, এগিয়ে যাই আলোর দিকে।
  • তোমার জন্য কেউ যদি একটু উপকৃত হয় সেটাই হবে তোমার পরম পাওয়া। একটু খেয়াল করে দেখো একটু সহানুভূতি, একটু যত্ন,একটু ভালোবাসা পেলে তুমি কতোটা আনন্দ পাও। ঠিক তুমিও যখন কারোর জন্য কিছু করো তখন তোমার মনের ভেতর আলো জ্বলে উঠে। শুধু অর্থসম্পদ দিয়ে নয় একটু সহানুভূতি, যত্ন, ভালোবাসা দিয়ে তুমিও হতে পারো কারোর হৃদয়ের মানুষ, আপন মানুষ, কাছের মানুষ।
  • স্বার্থ ছাড়া কেউ কিছু করেনা হয় অর্থের স্বার্থ নয়তো কোনো কাজের স্বার্থ। একমাত্র মা-ই নি:স্বার্থে সন্তানের পাশে থাকে। তবে যাদের নৈতিক শিক্ষা আছে তারা স্বার্থহীন কাজ করে থাকে। আসুন আমরা মানবিক হই, সবার পাশে ভালোবেসে আগলে রই।
  • যে তোমাকে হাসাতে পারে সে তোমাকে ভালোও রাখতে পারে, যে তোমার অশ্রু মুছিয়ে দিতে পারে সে তোমার ভরসাও হতে পারে। যে তোমার কণ্ঠস্বর শুনেই বুঝতে পারে তুমি ভালো আছো কি না আসলে সেই তোমাকে আগলে রাখতে পারে। যে তোমার আপদে বিপদে সাহস যোগান দেয়, মনোবল বাড়াতে বলে “আমি আছি তো” আসলে সেই তোমার কাছের মানুষ।
  • পৃথিবীতে কারোর শূন্যস্থান কিছুতেই পূরণ হয় না। আমাদের জীবনে একেকজন মানুষের গুরুত্ব একেক মতো। কেউ কারোর বিকল্প হতে পারে না। আপনি যতোই ঢেলে সাজাতে চান না কেন মানুষ তার নিজস্বতা থেকে বের হতে পারে না।
  • কেউ জয়ের উল্লাসে খুশিতে ভরপুর থাকে আবার কেউ জিতিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে।কেউ আছে নিজে পরাজিত হয়ে অন্যকে জেতার পথ দেখায়, আর যে বিজয়ীর বেশে আনন্দ উপভোগ করে সে হয়তো জানেই না তার এই জয়ের জন্যই একজন ইচ্ছে করে হেরেছে। নিজে জয়ী হবার আনন্দের চেয়ে অন্যকে জিতিয়ে দেবার আনন্দ অনেক অনেক গুণ বেশি। মাঝে মাঝে হেরে যাবার মধ্যেও অনেক সুখ আছে।
  • “সম্মান দিলে সম্মান মিলে” এই কথাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কাউকে সম্মান করলে অবশ্যই আপনি সম্মানিত হবেন কিন্তু সেই সম্মান পাওয়ার পরে আপনি দাম্ভিকতা দেখালে, আধিপত্য বিস্তার করলে একদিন দেখবেন আপনাকে আর সম্মান করবে না। তাই নিজের সম্মান বজায় রাখতে কাউকে ছোটো না করে, আধিপত্য বিস্তার না করে বিনয়ী হউন।আপনার বিনয়ী আচরণ আপনার কথাবার্তায় আপনার সম্মান নির্ভর করে। তাই আসুন সবার সাথে ভালো ব্যবহার করি, বিনয়ী হই,সম্মান করি,সম্মানিত হই,সম্মান ধরে রেখে নিজের ব্যক্তিত্বের উন্মেষ ঘটাই।
  • দুধের রঙ সাদা আর দুধকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সাদাই দেখায়। তবে দুধে যদি অন্য কোনো কিছু মেশানো হয় তাহলে রঙটা চেঞ্জ হবার সাথে সাথে স্বাদটাও চেঞ্জ হয়ে যায়। আমরা দুধের মতো তরল কোনো জিনিস না তাইতো আমাদের বদলে যাওয়া সহজ নয়। মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা বদলে ফেলা যায়না হয়তো কারোর সান্নিধ্যে সে নিজেকে বদলাতে চেষ্টা করে। কিন্তু সেই বদলে যাওয়ায় তার স্বকিয়তা কিন্তু নি:শেষ হয়না সুযোগ পেলেই সে আগের রূপে ফিরে আসে। কেউ যদি নিজেকে ঢেলে সাজাতে চায় তাহলে তাকে নিজ থেকেই তার অভ্যাস বদলাতে হবে কারোর কথায় বা প্ররোচনায় বদলানোটা ক্ষণিকের আর নিজের ভেতর থেকে বদলে যাওয়াটা আগামী দিনের জন্য শুভ হবে তখনই যখন সেটা ইতিবাচক হবে।
  • চোখের জল তো যে কেউ ঝরাতে পারে কিন্তু চোখের জল মুছে দেবার মানুষের সংখ্যা অতি অল্প। আমরা জেনে বা না জেনে অনেকের কান্নার কারণ হই কিন্তু ভালোবেসে কাছে টানি না। এক ফোঁটা অশ্রুর অনেক মূল্য তাই কারোর কান্নার কারণ না হয়ে আসুন হাসির খোড়াক হই, কাউকে অবহেলা না করে প্রেরণা দেই।
  • গন্তব্য দূরে বা কাছে যাই হোক না কেন সেই দুরত্বের পথ যদি চেনা থাকে তাহলে অনায়সে দুরত্ব অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। আর অচেনা পথ হলে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করে আমরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি। আমাদের জীবনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের সাথে সম্পর্ক হয় সেই মানুষের সম্পর্কে যদি আমরা না জানি না চিনি তাহলে নানা সময়ে নানান সমস্যায় পড়তে হয়। অচেনা পথ অতিক্রম করা যতোটা কঠিন তার চেয়ে বেশি কঠিন হচ্ছে অচেনা মানুষের সাথে চলা।
  • মানুষ শুধু যেখানে অর্থসম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, খ্যাতি-যশ আছে সেদিকে হন্যে হয়ে দৌড়াচ্ছে। এসবের চেয়েও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক শান্তি। আমরা সেই মানুষকে গুরুত্ব দেই যে আমাদের জন্য মুখে মুখে ভালোবাসার কথা বলে নিজের স্বার্থ আদায় করে আর নিরবে নিভৃতে যে মানুষগুলো আমাদের জন্য চোখের জল ফেলে, কোনো কিছু প্রত্যাশা করেনা বরং স্রষ্টার কাছে মঙ্গল কামনা করে। আমরা এতোটাই ব্যস্ত থাকি যে নিরবে ভালোবেসে যাওয়া মানুষের খোঁজ তো নেই-ই না বরং তাদের অবহেলা করি। আমরা বুঝেও না বোঝার ভান করে চলি এটাই বুঝি বাস্তবতা।
  • *আর নয় অপচয়,মূল্যবান থাক সকল সময়*✔️✔️অপচয় করা পাপ জেনেও আমরা এই কাজটাই বেশি করি। খাবারের অপচয় তেমন ভাবে না করলেও পানির অপচয় করতেই থাকি,অপচয় করি বিদ্যুতের, অপচয় করি পোশাকের, অপচয় করি প্রসাধনীর। এইতো গেলো নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর কথা এছাড়া সবচেয়ে বেশি অপচয় করি সময়ের। ✔️✔️👉🏼👉🏼আমরা যথাসময়ে যথা কাজ না করে সময়ের অপব্যবহার করি অপচয় করি মুল্যবান মুহূর্ত। আর আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ অপচয় হচ্ছে মানুষের শব্দচয়ন।আমরা যেখানে যা বলা দরকার তার চেয়ে বেশি বলি,প্রাসঙ্গিক কথা না বলে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলি, যার উদ্দেশ্যে আমার মূল্যবান কথা ও সময় ব্যয় করি সে এটাকে অবহেলা করে। আমরা শুনি কম বলি বেশি আর এভাবেই কথার অপচয় করি।👈🏼👈🏼❤️❤️আসুন আমরা সব কাজে মিতব্যয়ী হই,কথার অপচয় রোধ করে সময়ের মূল্য দেই।❤️❤️
  • কথায় আছে কাক ময়ূরের পেখম লাগালেও কাক ময়ূর হয়না কাক কাকই থাকে। তেমনি কিছু মানুষ যতোই নিজেকে উদার, ভালো, বিনয়ীর ভাব ধরুক না কেন সত্যিকারে তার মধ্যে এসব না থাকলে কোনো না কোনো সময় তার কথায় বা কাজে আসল রূপ বের হয়ে আসে। আমরা কথায় বিশ্বাসী না হয়ে আসুন কাজে বিশ্বাসী হই। নিজের ভেতর জমে থাকা সব সংকীর্ণতা, দুর্বলতা, অহমিকা, দম্ভ,হিংসা, পরচর্চা,নেতিবাচক সমালোচনা পরিহার করি। আমরা কাকের মতো ময়ূরপুচ্ছ না লাগিয়ে নিজেরাই ময়ূরের মতো সৌন্দর্য বর্ধন করি।
  • ❤️কোনো মানুষের আন্তরিকতা, সহজ সরলতাকে দুর্বলতা ভাবা ঠিক নয়। আসলে মিশুক স্বভাবের বলে তারা সবার সাথে মিলেমিশে থাকে ।তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করে সবার সংকট মুহূর্তে পাশে থাকার। আর এই পাশে থাকাকে তার দুর্বলতা তার ব্যক্তিত্বহীনতা ভাবা ঠিক নয়। ❤️যে তোমার পাশে থাকতে পারে সে তোমার অবহেলার কারণে যোজন যোজন দূরেও যেতে পারে। তাই কারোর আন্তরিকতাকে এড়িয়ে না গিয়ে তার সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখো। সম্পর্ক ভালো রাখায় তোমার লাভ না হোক, কোনো ক্ষতি হবে না।❤️ সহজ সরল মানুষ গুলো সহজেই আপন করে নেয়,অল্পতেই তারা খুশি হয় আবার অল্পতেই কষ্ট পায় আর একটুখানি ভালো ব্যবহারে কষ্ট ভুলেও যায়। কিন্তু অবহেলায় তারা নিজেকে গুটিয়ে নিলে আর আগের অবস্থায় ফিরে না।
  • লবণ তেতো হলেও খাবারকে উপাদেয় করতে লবণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কিন্তু যে খাবারে যতোটা লবণ প্রয়োজন তার কম দিলে যেমন সুস্বাদু হয়না তেমনি বেশি দিলে খাবারের উপযোগী থাকে না। তাই লবণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম হলেও তার ব্যবহার কিন্তু পরিমিত। শুধু লবণ নয় সব কিছুই পরিমিত থাকলেও সেটা সুন্দর।কেউ তোমাকে অধিকার দিলে তা সীমার মধ্যেই প্রয়োগ করো। অধিকার পেয়েছ বলে তার অপপ্রয়োগ করবে সেটা কিন্তু ঠিক নয়। অধিকারের সীমা অতিক্রম কখনো ভালো কিছু বয়ে আনবে না।তোমাকে দেয়া অধিকারের মাত্রা ছাড়ালে দেখবে একদিন তোমার প্রতি সম্মানবোধও থাকবে না তাই পরিমিত লবণের মতোই অধিকার প্রয়োগে সচেতন হও।
  • আমরা এমন মানুষকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করি যে সব চেয়ে বেশি বিশ্বাসঘাতকতা করে।আসলে মানুষের চেহারা দেখলেই যদি বুঝা যেতো সে বিশ্বাসী কি না তাহলে কেউ আর প্রতারিত হতো না। তাই বিশ্বাস করা ভালো কিন্তু অন্ধবিশ্বাস করা ঠিক নয়।
  • মানুষ তার মস্তিষ্ককে যতো ব্যস্ত রাখবে ততো ভালো কোনো কাজের পথ উন্মোচিত হবে। ধারালো জিনিস দিয়ে যতো কাজ করবে ততো সেটা শাণিত হবে। মানুষের মস্তিষ্ক ঠিক তেমনই,কথায় আছে অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। কাজেই পজিটিভ চিন্তা করো পজিটিভ কাজে নিজেকে যুক্ত রাখো দেখবে জীবনে হতাশা দূর হবে। মনে রেখো তুমি একা,তোমার চলার পথ একা আর এই সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার জন্য মাথা ঠান্ডা করে নিজেকে সৎ কাজে ব্যস্ত রাখো।
  • চিনি যদি খোলা রাখো তাহলে সেখানে পিঁপড়া ছুটে আসে আর চিনির স্বাদ গ্রহণ করতে থাকে, অর্থাৎ পিঁপড়া তার নিজের চাহিদা পূরণ করতে খাবারের কাছে ছুটে আসে আর আমরা যদি সেই পিঁপড়াকে( লাল পিঁপড়া) হাত দিয়ে সরাতে যাই তাহলে সে আমাদের কামড়ে দেয়। একদল মানুষও পিঁপড়ার মতো যতোদিন তুমি তাদের উপকারে লাগবে ততোদিন তোমার আশেপাশেই থাকবে আর যখন দেখবে তুমি তার কোনো কাজেই আসবে না তখন তোমার ছায়াও মাড়াবে না বরং সুযোগে তোমার ক্ষতি করবে এটাই বাস্তবতা। তাই বিপদ আপদ যাই আসুক না কেন নিজের লড়াই একাই লড়ে যাও, সুসময়ে পাশে থাকা মানুষের কাছ থেকে স্বান্তনার বাণী পর্যন্ত শোনার আশা করো না।
  • পানির ভিতর থেকে শিং মাছ ধরলেও বিপদ ধরে ছেড়ে দিলেও বিপদ কারণ শিং মাছ সুযোগে থাকে কাঁটা বিঁধাতে।এই কাঁটার আঘাত যে পেয়েছে সেই বুঝে —
  • সুঁই সুতো একটা আরেকটার পরিপূরক হলেও একটা সুঁইয়ের ভেতর বিভিন্ন সুতো দেয়া যায় তাই মানুষের সম্পর্ক সুঁই সুতোর মতো হওয়া উচিত নয়। মানুষের সম্পর্ক হওয়া উচিত তালা চাবির মতো, তালা ভেঙে গেলেও অন্য চাবি দিয়ে যেমন তালা খুলবে না। তেমন মানুষের মাঝে ঝগড়া বিবাদ যাই হোক না কেন কখনো ছেড়ে যাবে না। ছায়া যেমন কখনো ছেড়ে যায়না তেমনি সম্পর্কও ছায়ার মতোই হওয়া উচিত।
  • বিচ্ছেদে আত্মমর্যাদা রক্ষা হলেও সুখটা হারিয়ে যায়।যে সম্পর্কে সম্মান নাই সে সম্পর্ক না থাকা তখনই ভালো যখন সন্তান না থাকে।সন্তানের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের জন্য বিচ্ছেদ নয় প্রয়োজন বোঝাপড়া, কিছুটা সময় নিজেকে গুটিয়ে নেয়া,ভুল না বুঝে শুধরানোর চেষ্টা করা। কেউ কারোর নয় এটাকে মনে রেখে নিজেকে সময় দেয়া।সর্বোপরি সন্তানের জন্য মানসিকভাবে নিজেকে প্রফুল্ল রাখা। বিচ্ছেদ কখনো মানসিক,সামাজিক, পারিবারিক শান্তি দেয়না। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিচ্ছেদ নয় সম্পর্কে থেকে নিজের মনের পরিচর্যা করা।
  • অবহেলা জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে দরজায় দুরত্ব এসে দাঁড়ায়।তাই ভালোবাসার জানালা খুলে রাখুন যাতে দুরত্ব কড়া নাড়তে না পারে।
  • কারোর অধীনে থাকা বা নিয়ন্ত্রণে থাকার চেয়ে কাউকে অধীনে রাখা বা নিয়ন্ত্রণ করা বেশি কষ্টকর। আপনি কারোর অধীনে থাকলে হয়তো আপনার স্বাধীনতা কিছুটা খর্ব হবে,আপনার মতামত কম গুরুত্ব পাবে,আপনার ইচ্ছা পূরণে বিলম্ব হবে এরকম আরো কিছু অপ্রাপ্তি আপনার ঝুলিতে যোগ হবে কিন্তু ভেবে দেখুন আপনি যদি কাউকে নিয়ন্ত্রণ করেন তাহলে তার ভালো মন্দের সব কিছুর দায়িত্ব কিন্তু আপনার। আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকা মানে তার সবটা দায় আপনার। তাই কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে নিজেকে আগে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রণ হীন গাড়ি যেমন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় পড়ে তেমনি নিয়ন্ত্রণ হীন কোনো মানুষ অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। নিয়ন্ত্রণ করা মানে আটকে রাখা নয়,সব কাজে বাঁধা দেয়া নয় নিয়ন্ত্রণ হলো সুষ্ঠু সুন্দর অভ্যাসের মাধ্যমে জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পাশে থাকা। যদিও নিয়ন্ত্রিত জীবন কারোরই পছন্দ নয় তবুও অবাধ স্বাধীনতার মাঝেও কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত।
  • গাছ তার শেকড়ের মাধ্যমে মাটিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচে। গাছের প্রধান অংশই হচ্ছে শেকড় আর এই শেকড়ের মাধ্যমেই মাটি থেকে পানি শোষণ করে। আর আমরা যখন এই শেকড়কে উপড়ে ফেলি তখন গাছের জীবনটাও শেষ হয়ে যায়।গাছের পাতা ফুল ফল ডাল কাটলে কিন্তু গাছ মরে না কিন্তু শেকড় উপড়ে ফেললে গাছ মরে যায়। আমরা যদি আমাদের শেকড়কে গাছের শেকড়ের মতো উপড়ে ফেলি তাহলে আমাদেরও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। আপনি অর্থ সম্পদ প্রতিপত্তিশীল হউন না কেন নিজের শেকড়কে কখনো উপড়ে ফেলবেন না। আপনার শেকড় যদি অর্থ সম্পদে আপনার চেয়ে দুর্বলও হয় কিন্তু সেই আপনার বেঁচে থাকার আশ্রয়। আসুন নিজের শেকড়ের যত্ন নেই, নিজে ভালো থাকি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভালো রাখি।শেকড়ের অস্তিত্ব যেনো ঠিক থাকে সে জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি।
  • আমাদের বাঙালিদের একটা বড়ো সমস্যা হলো আমরা অন্যের ভালো কাজের প্রশংসা শুনে বা ভালো কাজ দেখে ঈর্ষান্বিত হই। আমরা ভাবি আমার চেয়ে অন্য কারোর ভালো কিছু করার যোগ্যতা নাই আমিই সেরা আমিই সবচেয়ে ভালো বুঝি। আমি বা আমার কাছের মানুষের চেয়ে আরেকজন ভালো করতেই পারে, তার কাজ অন্যদের মুগ্ধ করতেই পারে। আমরা প্রতিনিয়ত প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আড়ালে যে সমালোচনার ঝড় তুলি এটা যে আমাদেরকে হেয় করতে পারে এটা ভাবিই না। একজন মানুষের ভালো কাজ অনুসরণ না করতে পারি কিন্তু ঈর্ষা করা ঠিক নয়। তাই আসুন প্রতিহিংসাপরায়ণ না হয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করি।
  • ঘরের দরজা বন্ধ করা গেলেও মনের দরজা বন্ধ করা যায়না। ঝড়-বৃষ্টি এলেই আমরা ঘরের দরজা বন্ধ করে দেই যাতে ঝড়ো হাওয়ায় ঘরের জিনিসপত্র উল্টাপাল্টা না হয়,বৃষ্টির জলে যাতে সব ভিজে না যায়। জানালা খোলা রাখলে সদর দরজা কিন্তু বন্ধ করে রাখি,বাড়ির বাইরে কোথাও গেলেও তালাবদ্ধ করি আবার রাতের বেলায়ও বন্ধ করে রাখি। এভাবে সময়ে অসময়ে ঘরের দরজা অবরুদ্ধ করে রাখি। কিন্ত মানুষ তার মনের দরজায় কখনো খিল দিতে পারেনা। মনের ভেতর খুশির বন্যা বয়ে যাক,বিদ্যুৎ চমকাক,বজ্রপাত হোক,ঝড় উঠুক, ভূমিকম্পে সব লণ্ডভণ্ড হোক,প্রচুর বৃষ্টিপাত হোক,বেদনার সাগরে ঢেউ উঠুক,আগ্নেয়গিরির মতো অগ্নিতাপ গ্রাস করুক যাই হোক না কেন মনের দরজা অবরুদ্ধ করে রাখার হিম্মত কারোর নাই। আর মন বেশিরভাগ সময় স্বৈরাচারী অবস্থানে থাকে। ঘরে নিজেকে আটকে রাখা গেলেও মনকে আটকে রাখে এমন সাধ্যি কার আছে?
  • মানুষের কাছে সহজলভ্য জিনিসের কোনো কদর নাই যদিও সেই জিনিস মানুষের প্রয়োজনে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। আর যে মানুষকে সহজেই পাওয়া যায়,যে কোনো প্রয়োজনে যে সবার আগে আসে,যার মধ্যে কোনো অহংবোধ নেই আমরা তাকে সস্তা মনে করি। প্রয়োজনে সেসব মানুষকে পাশে পেয়েও আমরা তার কদর করিনা। মানুষ তার প্রয়োজনে যাকে কাছে পায় সুখের সময় তাকেই ভুলে যায়।সহজে পাশে থাকা মানুষেরা নিজের সুখের কথা না ভেবে অন্যের পাশে থাকে আর দিনশেষে তারা অবহেলার পাত্র হয়।আমরা প্রয়োজন মেটাই প্রিয়জন বানাই না।
  • একটা সময়ের পরে মানুষ সৌন্দর্যের মোহে পড়ে না, অর্থ সম্পদের মোহে পড়ে না, মায়া-মমতা,আবেগের মোহেও পড়ে না। আসলে একটা সময়ের পরে মানুষ কোনো কিছুর মোহেই পড়ে না, সেই সময়ে মানুষ আস্থাশীল, বিশ্বাসী কারোর সান্নিধ্যে থাকতে চায়। মোহ তো এক সময় কেটে যায় কিন্তু আস্থা ভরসা,বিশ্বাস কখনো কাটে না। তাই কারোর মোহে না পড়ে বিশ্বাসী মানুষের সাথে কথা বলুন।
  • ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বা ভূমিকম্পের দাপটে সব তছনছ হলেও মানুষ সেই ধ্বংসস্তুপের মাঝে নিজেকে হারায় না বরং সেখান থেকেই উঠে দাঁড়ায়। কখনো কখনো মানুষের মনের ভেতরেও ঝড় উঠে সব উলটপালট করে দেয়,হৃদয়ের ভাঙ্গনে সব তছনছ হয় কিন্তু সেটা আঁকড়ে ধরে নিজেকে থামিয়ে দেয়া মানে জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ানো। ক্ষণিকের পৃথিবীতে আজ আছি তো কাল নাই তাই হাজারো কষ্ট বুকে চেপে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই জীবন। কেউ না থাকুক পাশে স্রষ্টা আছে এই বিশ্বাস অটুট রেখে থমকে থাকা নয় যুদ্ধ করে এগিয়ে যাওয়াই জীবন।
  • ঘন ঝোপঝাড়ও সময়ে পথ দেখায়,যখন মানুষের স্বাভাবিক চলার পথে বাধাবিপত্তি আসে তখন নতুন কোনো পথের সন্ধান করে। যেখানে মানুষের চলাচল নাই সেই জায়গাও চলাচলের রাস্তা দেখায়। তাই কোনো কিছুকে ছোটো করা বা অবজ্ঞা করা ঠিক নয় আজ যা অযত্নে পড়ে আছে হয়তো ভবিষ্যতে সেই কাজে লাগবে। মানুষ নিজের চলার জন্য ঠিক একটা উপায় বের করে হোক সেটা অবহেলার ছিলো বা অযোগ্য ছিলো।হয়তো আমাদের আশেপাশে কেউ ঝোপঝাড়ের মতো অযত্নে পড়ে আছে তাদেরকে অবহেলা না করে পাশে রাখি,পাশে থাকি, তিনিই হয়তো কোনোদিন এরকম রাস্তার মতোই পথ দেখাবে।
  • মানুষ তার সাথেই পাগলামো করে যে তার পাগলামোকে সাদরে গ্রহণ করে। পাগলামো মানেই নেতিবাচক না নানা কারণে মানুষ তার কাছের মানুষের সাথে পাগলামো করে থাকে। আমরা অনেক সময় সেই পাগলামোকে এড়িয়ে যাই আবার কোনো সময় তাতে সায় দেই। আসলে যে সত্যিকারের আপন মানুষ সে তার প্রিয় মানুষের সব কিছুকেই সাদরে গ্রহণ করে।
  • অর্থের ঋণ পরিশোধ করা যেমন জরুরি তেমনি জরুরি কথার ঋণ পরিশোধ করা। কাউকে কথার আঘাতে জর্জরিত না করে কথায় প্রশান্তি দেয়া উত্তম।

Leave a Comment