আজিজুন নাহার আঁখি

অশ্রু বিন্দুর গল্প

গাছের পাতা ছিড়লে দেখা যায় সেখানে বিন্দু বিন্দু জলধারা তেমনি মানুষের অশ্রুজলও কোনো না কোনো কারণে ঝরে। কারোর কথায় বা কোনো ঘটনা হৃদয়ে নাড়া দিলেই তা অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে।প্রতিটি অশ্রুকণার পিছনে গল্প থাকে যা সবাই বুঝতে পারে না।আর আমরা সেই গল্প কখনো পড়তে পারি না।সেই অশ্রু ঝরার গল্প আড়ালেই থেকে যায়।যার অশ্রু ঝরে সেই বুঝে তার গল্পের শুরু আর শেষ কি? তবে মানুষের মনটা যদি আয়না হতো আর সেই আয়নায় যদি গল্পের ছবি ফুটে উঠতো তাহলে হয়তো অশ্রু বিন্দুর গল্প বুঝা যেতো।

  • প্রতিটি অশ্রুকণার পিছনে গল্প থাকে যা সবাই বুঝতে পারে না।আর আমরা সেই গল্প কখনো পড়তে পারি না।সেই অশ্রু ঝরার গল্প আড়ালেই থেকে যায়।যার অশ্রু ঝরে সেই বুঝে তার গল্পে কতোটা বেদনা কতোটা অবহেলা কতোটা অনাদর সে আড়াল করে রাখে।
  • যাকে আর কখোনও দেখা যাবে না,আর কখনো কথা বলা যাবে না,কখনো তার সান্নিধ্য পাওয়া যাবে না, সে যে কাছে না থেকেও কাছে থাকে। আলোক বর্ষ দূরে যার অবস্থান তাকে অনুভবে পাওয়ার নাম কি শুধু মায়া না কি ভালোবাসা?
  • তুমি কারোর কান্নার কারণ হইও না কারণ এক ফোঁটা অশ্রুজলের মূল্য অনেক,তোমার কারণে কেউ কাঁদলে সৃষ্টিকর্তা ঠিক তোমাকেও কাঁদাবে । তাই কারোর জীবনের কান্নার কারণ না হয়ে হাসির খোড়াক হও। নিজে হাসিখুশি থাকো অপরকে হাদিখুশি রাখো।
  • কাউকেই মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসা বা অবহেলা কোনোটাই করা ঠিক নয়। মাত্রাতিরিক্ত কিছু করবেন তো আপনি দোষী হবেন।
  • যে পিতা পরিশ্রান্ত হয়েও সন্তানকে কাঁধে নিয়ে প্রশান্তি পায় আবার সেই পিতার কাঁধে সন্তানের লাশের বোঝা বইবার শক্তি থাকে না।
  • দিন যায়,সপ্তাহ যায়,মাস যায়,বছর যায় কিন্তু যে চলে যায় সে আর ফিরে আসে না। আসলে যার হারায় সেই বুঝে কতোটা মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।আসলে শূন্যস্থান কিছুতেই পূরণ হয়না। পৃথিবীর সব নিয়ম মতো চলে কিন্তু প্রিয়জন হারানোর শোক ঘুচে না। এতো এতো লোকের ভীড়ে প্রিয় মুখটা হাজার খুঁজে বেড়ালেও পাওয়া যায় না। পিতৃহীন সন্তান বুঝে বটবৃক্ষের মতো আর কেউ তাকে ছায়া দেয় না, মাতৃহীন সন্তান স্নেহের আঁচলে নিজেকে আবৃত করতে পারে না, সন্তান হারা বাবা-মা প্রতি মুহূর্তে টের পায় তার বাঁচার অবলম্বন বলতে কিছু নাই, একজন বিধবা স্ত্রী প্রতিক্ষণে উপলব্ধি করে চারপাশে অনেকে থাকলেও সে শুধু একা শুধু একা।কেনো এতো মায়ার বাঁধন কেনো এতো শূন্যতা?
  • ছোট্ট এই জীবনে কতো স্বপ্নের জাল বুনি। কোনো কিছুই তো আমাদের হাতের নাগালে থাকে না তবুও কতো আশা নিয়ে আমরা পথ চলি। হটাৎ করে কাছের মানুষের শূন্যতা আমাদের জীবনের চলার গতি রোধ করে।এই যে ২১ শে জুলাইয়ের এই ভয়াবহতা কেউ কি জানতো? কেউ জানতো না যে ছোট্ট ছোট্ট কচি মুখ আগুনে দগ্ধ হয়ে নি:স্ব করে দিয়ে চলে যাবে,কেউ জানতো নে যে তার আদরের ধনকে সে আর কোনোদিন দেখতে পারবে না, স্পর্শ করতে পারবে না,তার গায়ের ঘ্রাণ নিতে পারবে না,আর কখনো তার মুখের কথা শুনতে পারবে না। আমাদের সবার জীবনেই এরকম একরাশ শূন্যতা আছে আর এভাবেই চলতে হয়।আসলে নিয়তির বেড়াজালে বন্দী জীবনে আমরা শূন্যতার করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারিনি পারব না।

Leave a Comment