মোমবাতি চারিদিকে আলো ছড়ালেও তার নিচে কিন্তু অন্ধকারই থাকে। মোমবাতি হতে না চাইলেও কেউ কেউ মোমবাতির মতো আলো ছড়ায়।
- মানুষের প্রতি সৌজন্য কথাবার্তায় আপনার ভদ্রতা ফুটে ওঠে। প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে যখন আমরা আন্তরিক হই বিনয়ী হই। মুখে এক চিলতে হাসি একটু সহানুভূতি আপনাকে অনন্য করে তুলতে পারে।তাই নিজের সৌন্দর্য বিকাশে আন্তরিক হউন সৌজন্য শিষ্টাচারবোধ জাগ্রত করুন ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখুন।
- আমরা সবাই ছুটে চলেছি নিজেদের স্বপ্ন পূরণে কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও ভাবিনা যে জীবন ঘড়ি থেমে গেলেই সব স্বপ্ন শেষ। ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে স্বপ্ন পূরণে যতোই ছোটাছুটি করোনা কেন তোমার কর্মফলের হিসেব-নিকেশ তোমাকেই দিতে হবে। তাই সততার আলোক মশাল হয়ে আলোয় ভরিয়ে দাও চারিপাশ।
- মুখে এক চিলতে হাসি হাজারো প্রাণের প্রশান্তি। হাসিমাখা মুখটা দেখলে সব ক্লান্তি ঘুচে যায়। বুকের ভেতর জমা নোনা ব্যথা আড়াল করে ঠোঁটের কোণে একটু হাসি রাখো তোমার ঐ হাসিই চারিদিক আলোকিত করবে।
- তেজ দীপ্ত সূর্যকে আড়াল করে রাখার সাধ্য কারোর নাই। সে তার কিরণে সবাইকে উজ্জীবিত করছে করবে ইনশাআল্লাহ।
- কারোর জীবন ফুলের মতোই রঙিন সাজানো গোছানো পরিপাটি থাকে। আমরা আমাদের সততা,নিষ্ঠা,একাগ্রতা,নৈতিকতা, মানবতা দিয়ে নিজেকে পরিপাটি রাখতে পারি। ফুলের সৌন্দর্য দেখে আমরা যেমন মুগ্ধ হই, নয়নের তৃষ্ণা মেটাই। তেমনি আমাদের পরিপাটি জীবন, মানবতা,সততার জন্য সবাইকে কাছে পেতে পারি। জানি আমরাও ফুলের মতোই ঝরে পড়বো তবুও যতোদিন আছি নিজেকে পরিপাটি রাখি পরিশুদ্ধ থাকি।
- আপনার মন খারাপ হলে আপনি সাগর বা নদীর কাছে যান।নদীর জলের দিকে তাকালে আপনার মনের মধ্যে প্রশান্তি আসবে। মানুষ মানুষকে কষ্ট দিলেও প্রকৃতি মানুষকে কাছে টানে।তাই একে অপরের পাশে থাকুন প্রকৃতির মতোই আপনিও ভালোবাসুন।
- চাঁদের আলোয় নির্জনতাকে একাকীত্বকে উপভোগ করো। তোমার মন্দ লাগা গুলোকে ছুড়ে ফেলে দাও একসময় ভালো সময় ফিরে আসবে।
- জীবনটা পদ্ম পাতায় বৃষ্টির জলের মতো একটু খানি হাওয়া এলেই গড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি পদ্ম পাতা যেনো একেকটা জীবনের প্রতিচ্ছবি। এই ঠুনকো জীবন নিয়ে আমাদের কতো দম্ভ কতো বাহাদুরি। এতো অল্প আয়ুকাল যে মানুষ কতো কিছু করতে চেয়েও পারেনা।একটা চাহিদা পূরণ হলে আমরা নতুন স্বপ্ন দেখি নতুন আশার জাল বুনি, অনেক সময় আশার আলোয় পরিপূর্ণ হই অনেক সময় হতাশার ডুবে যাই। আসলেই জীবন এক অদ্ভুত পরিক্রমা যার পুরোটা জুরে শুধু রহস্য আর রহস্য। কোন সিকোয়েন্সের পরে কোনো সিকোয়েন্স আসবে তা কিন্তু আমাদের হাতে নাই। তাই আসুন হিংসা,নিন্দা,অহংকার,মিথ্যচার,পরচর্চা একেবারে ঝেরে ফেলে দেই।একতায় থাকি,সততায় বাঁচি,পরিশুদ্ধ রাখি চারিপাশ।
- আকাশের বিদ্যুৎ চমকানো দেখেছো তাই না? হটাৎ করে চারিদিকে আলোয় ভরে দিয়ে চলে যায়। বিদ্যুৎ চমকানোই বলি আর বিজলি চমকানোই বলি সবই কিন্তু ক্ষণিকের। আর এই চমকানোতে কিন্তু পৃথিবীতে কারোর উপকার হয়না বরং ক্ষতিই হয়। সূর্য সারাদিন তেজস্ক্রিয়তায় উত্তাপ ছড়ায় যা আমাদের ক্ষতি না করে আমাদের উপকার করে। আবার চাঁদের আলোও কিন্তু আমাদের ক্ষতি করে না। তাহলে আমরা কি চাঁদ সূর্যের আলোকে উপেক্ষা করে হটাৎ করে বিদ্যুৎচমকানোর আলোকে সাদরে গ্রহণ করে ঝলসে যাব? আর চাইলেই কি সে ধরা দিবে? তাহলে আমরা মানুষ হয়ে কেনো চাঁদ সূর্যের মতো মানুষকে উপেক্ষা করে বিদ্যুৎ চমকানোর কাছে ছুটছি। যারা এমন চমকের পিছনে ছুটে বেড়াচ্ছো তারা কিন্তু ঠিক ঝলসে যাবে তাই হটাৎ করে পাওয়া আলোর ঝলকে কাছের মানুষকে উপেক্ষা বা অবহেলা করতে নেই।
- বারবার একই ভুল করা মানুষ নিজেও শান্তি পায় না আশেপাশের অন্যদেরকেও শান্তিতে থাকতে দেয় না। আসলেই অদ্ভুত আমাদের জীবন। আর যে জেনে শুনে একই ভুল দ্বিতীয় বার করে তাকে সংশোধন করার কথা বলাও যেনো অন্যায়। জীবন তো একটাই আর জন্ম হবে না তাই আসুন ভুল থেকে বেরিয়ে আসি আপনার আমার ছোট্ট ভুলের জন্য পারিবারিক,সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি না করি।
- “সম্মান দিলে সম্মান মিলে” এই কথাটি আমরা ভুলে যাই। ক্ষমতার দম্ভে যিনি অসম্মান করছেন একদিন তিনিও অসম্মানিত হবে এটা সূর্যের কিরণের মতো ধ্রুব সত্য। আপনি যার সাথে এমন করলেন সে আপনাকে অসম্মান না করলেও অন্য কেউ করবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তাই কাউকে অসম্মান করার আগে নিজের সম্মানের পথটা বন্ধ এটা ভেবে নিয়েন।
- ক্ষমতার দাপটে যে অন্যকে ঝাড়ি মারে সে কখনো চিন্তা করেনা যে ক্ষমতা আজ আছে কাল নাও থাকতে পারে। মানুষ হয়ে মানুষের উপর খবরদারি করার মতো নিকৃষ্ট কোনো কাজ হতে পারেনা। তুমি নিজেকে যতোই শক্তিধর মনে করো না কেন স্রষ্টার কাছে কিন্তু সবাই সমান তাই নিজের দাম্ভিকতা না দেখিয়ে বিনয়ী হও। প্রমাণ করো যে সবার উপরে মানুষ সত্য তার উপরে নাই। আজ যাকে তোমার ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে একদিন সে হয়তো তার কাজ দিয়ে তোমাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সবই সময়ের ব্যাপার আজকে দাপট আছে কালকে হয়তো কথা বলার শক্তি বা সুযোগই থাকবে না।
- আমাদের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা নীরবে নিভৃতে আমাদের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করে। আমাদের ভালো লাগায় তার বা তাদের হৃদয় পুলকিত হয় আবার আমাদের কষ্টে দুচোখে অশ্রুপাত হয়।আমরা কখনো এদের হাসির অর্থ বুঝিনা আবার এদের কান্নার অর্থও বুঝি না বা বুঝতে চাইনা। সবাই তো আর নিজের আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করেনা। চোখের অগোচরে যারা চোখের জল ফেলে তাদের ভালোবাসার বিনিময়ে শুধু তাচ্ছিল্যের পাত্র হয়। আজকে যাদের তাচ্ছিল্য করছি কালকেই যে তাদেরকে মনে পড়বে না সেটা বলা যায়না।হয়তো যখন তাদেরকে বুঝতে পারবো তখন হয়তো তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। তাই মুখে মুখে ভালোবাসি লোকের পাশাপাশি আড়ালে যারা অশ্রুপাত করে যারা প্রার্থনায় আমাদের ভালো চায় তাদেরকেও পাশে রাখি।
- আমরা কিছু অনুষ্ঠান আলোকিত করতে লাইটিং করি মানে রঙিন বাতির আলোক সজ্জায় চারিদিক সাজাই। ভাড়ায় এই আলোক সজ্জার ব্যবস্থা করি অনুষ্ঠানকে আকর্ষণীয় করতে। কিন্তু এর স্থায়িত্ব একদিন,দুইদিন,তিনদিন বা এক সপ্তাহের। আর ঘরের ভেতর ছোট্ট একটা লাইট জ্বালাই তা কিন্তু দীর্ঘদিনের জন্য। মানুষের জীবনেও কিছু মানুষ আসে মরিচা বাতির মতো জ্বলে আর নিভে। তারা শুধু অনুষ্ঠানে আলো ছড়ানোর মতোই আলো ছড়ায় যা আকর্ষণ করে। তাই আমরা ক্ষণিকের রঙিন আলোর ঝলকে চমকিত না হয়ে আসুন ঘরের ভেতরের আলোয় আলোকিত হই।
- শিক্ষকতা পেশা ধবধবে সাদা পোশাকের মতো যাকে সব সময় সাবধানে রাখতে হয় যত্নে রাখতে হয়। সাদা পোশাকে যে কোনো সময় দাগ লেগে যাবার ভয় থাকে আবার অনিচ্ছায় কোনো না কোনো দাগ লেগে যেতেই পারে, আর একবার দাগ লেগে গেলে তা উঠাতে অনেক অনেক কষ্ট করতে হয় আর কিছু দাগ তো উঠেই না বরং সাদা কাপড়টাই ছিড়ে যায়। সবাই মুখে মুখে মুখে শিক্ষকদের জাতি গড়ার কারিগর বললেও তাদেরকে যখন তখন যে কেউ অপমান করে। সাদা পোশাকে যেমন দাগ লাগানোর ভয়ে আমরা এটাকে এড়িয়ে চলি তাহলে শিক্ষকদেরকেও কি উচিত অনেক কিছু এড়িয়ে চলা? দেখেও না দেখার ভান করতে পারলেই আপনি আমি পারফেক্ট। আমি আমার সকল শিক্ষকদের শ্রদ্ধাভরে তাদের অবদান স্বীকার করি,আজকের আমি তাদের হাতেই গড়া। ভালো থাকুন শিক্ষক সমাজ ভালো থাকুন সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ।
- বিনয়ী আচরণ অন্যকে মুগ্ধ করে ঠিকই কিন্তু অতি বিনয়ী আচরণে সে ন্যায্য অধিকার হারায়।কেননা বিনয়ী মানুষ আজীবন নিরব থাকে বলেই তার প্রাপ্য অধিকার থেকে সে বঞ্চিত হয়। কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয় হোক সে বিনয় হোক সে ঔদ্ধত্যতা। আমরা বিনয়ী মানুষের প্রশংসা করি ঠিকই কিন্তু তার পাওনা বুঝিয়ে দিতে চাই না। আসুন বিনয়ী ব্যক্তিকে সম্মানে রাখি তার অধিকার খর্ব না করি।






