২৭/০৮/২০২৪
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বৃন্দ,
অফুরান ভালোবাসা আর অনেক শুভকামনা রইলো।তোমরা আগামীর কান্ডারী দেশ গড়ার রূপকার তাই তোমাদের কাছে যেমন অনেক প্রত্যাশা তেমন তোমাদের দায়িত্বও অনেক।
ছাত্রদের শক্তির কাছে সব তূচ্ছ্য।অনেক শক্তিধর সরকার প্রধান বা রাষ্ট্র নায়কও তোমাদের কাছে পরজিত।তোমরা অন্যায়ের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, জুলুমকারীর বিরুদ্ধে অগ্রনায়ক শক্তি।তোমরা অসাধ্যকে সাধন করতে পিছপা হওনা। বাবা মায়ের ভরসা।
দেশের ক্রান্তিলগ্নে তোমরা ঢাল হিসেবে নিজেদের কাজে লাগাও।তোমাদের এসব কাজে আমরা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষক হিসেবে গর্বিত।
কিন্তু এখন তোমাদের কিছু শিক্ষার্থীদের আচরণে আমরা লজ্জিত,আমরা শঙ্কিত, আমরা নিরাপত্তা হীন।
যেখানে তোমাদেরকে দেশ গড়ার রূপকার বলছি সেখানে তোমরা শিক্ষকদের লাঞ্চিত করছো গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করছো না।এই বাংলাদেশ তো আমরা চাইনা। যদি কেউ অন্যায় করে থাকে তার জন্য আইন আছে কিন্তু তোমরা ছাত্র হয়ে শিক্ষককে এভাবে হেনস্থা করবে সেটা আর যেই ভাবুক আমি শিক্ষক হিসেবে ভাবিনি।বাবা মায়ের পরেই শিক্ষকের স্থান।
আচ্ছা তোমরা কি তোমাদের বাবা মায়ের সাথেও এমন আচরণ করবে? অ আ ক খ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তোমাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে কাদের জন্য সেটা ভুলে যেও না।
আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় তোমাদের আচরণ সমাজের কাছে দৃশ্যমান। আমি একজন অভিভাবক একজন শিক্ষক হিসেবে সত্যিই লজ্জিত। জোর করে পদত্যাগপত্রে যেভাবে তোমরা সাইন করাচ্ছো সেই চিত্রগুলো যখন তোমার সন্তানরা দেখবে তখন কি তোমাদের ভালো লাগবে?
আবু সাইদ বুক পেতে গুলি খেয়েছে, মীর মুগ্ধ সহ যারা শহীদ হয়েছে সেটা নিয়ে সবাই গর্ব করবে। কিন্তু তোমরা যারা শিক্ষকদের লাঞ্চিত করলে তারা কি গর্ব করতে পারবে?
ভুল মানুষই করে আবার সুযোগ পেলে শুধরেও নেয়। তেমনি তোমার শিক্ষক যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাকে শুধরানোর সুযোগ দাও। কিন্তু নিজেদেরকে আর এভাবে উপস্থাপন করোনা।
সত্যিই আজ আমার শিক্ষকদের খুব মনে পড়ছে।যাদের দেখলে এখনো পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে ভালো লাগে। তাদের সামনে উচ্চস্বরে কথা বলবো এটা কল্পনাও করতে পারিনা। আর তোমরা আমাদের সন্তান হয়ে শিক্ষকদের অসম্মান করছো।
আবারও বলছি তোমাদের অনেক ভালোবাসি তোমাদের মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। গায়ের শক্তি দিয়ে নয় মেধা দিয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ করো। পরীক্ষায় জিপিএ ৫ না পেয়েও যদি ভালো মানুষ হও সেটাই হবে তোমার ভবিষ্যতের সম্পদ। তোমরা আলোর দিশারী তাই আঁধারে নিমজ্জিত হইও না।
শিক্ষকদের পক্ষে
আজিজুন নাহার আঁখি
প্রধান শিক্ষক, সদর,মানিকগঞ্জ।






