আজিজুন নাহার আঁখি

ইচ্ছে হলেই সকাল বিকাল
তোর কাছেতে আসি
মনটা চায় তোর বুকে
যখন তখন ভাসি।

তোর গায়ের শীতল পরশ
লাগে যখন গায়
এক নিমিষেই সব ক্লান্তি
দূর হয়ে যায়।

তোর বুকে রবির কিরণ
ঝলমল করে ঝরে
সেই রূপের আলোক ছটায়
প্রাণটা যায় ভরে।

নানান রঙের নানান নৌকা
ভাসছে রাশি রাশি
তাই দেখে পল্লী বধুর
মুখে ঝরে হাসি।

তোর পানে তাকাই যখন
হয়ে যাই কবি
স্মৃতিপটে অম্লান রবে
তোর রূপের ছবি।

একলা মনে মাঝি যখন
দাঁড় বেয়ে যায়
ভাটিয়ালি গানের সুরে
প্রাণটা যে জুড়ায়।

তোর পানে তাকাই যখন
হতাশা যায় ঘুচে
জমে থাকা দু:খ বিষাদ
নিমিষেই যায় মুছে।

ইচ্ছে করে খড়কুটোর মতো
তোর বুকেতে ভাসি
তাইতো আমি যখন তখন
ফিরে ফিরে আসি।

একেঁবেঁকে যাচ্ছিস কোথা
কেউ নাহি জানে
তোর ঢেউয়ে মাঝি ভাই
উলটা বৈঠা টানে।

হইতাম যদি তোর মতো
ঘুরতাম কতো দেশ
আমায় রূপের মাধুরীতেও
লাগতো সবার বেশ।

আষাঢ় এলেই দুকূল ছাপিয়ে
অথৈজলে ভরে
মেঘ বালিকা যখন তখন
অঝোর ধারায় ঝরে।

তোর জলে বাস করে
মাছ শত শত
সেই মাছ আহার করে
পুষ্টি পাই কতো।

ভাঙাগড়ার খেলায় মাতিস
তোর ইচ্ছেমতো
আপন মনে ছুটে চলিস
দেশে বিদেশে যতো।

কতো লোক ছুটে আসে
তোর জলের কাছে
তোর মতো যাদুর ছোঁয়া
আর কি কারোর আছে?

কালিগঙ্গা নামটি তোর
হৃদয়ে আছে গাঁথা
গদ্যে পদ্যে তোকে নিয়ে
আছে অনেক কথা।

Leave a Comment