মানুষের স্মার্টনেস কি তার পোশাকে?
না কি তার চলনে-বলনে?
ইদানীং আমাদের সমাজে কতিপয় নারীরা
নিজেদের স্মার্টনেস জাহির করতে
সকলের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে
কিছু অশালীন পোশাককে বেছে নিচ্ছে।
যেমন নারীরা স্বামীর সাথে পাল্লা দিয়ে
ম্যাচিং জিন্স টি-শার্ট পরছে,
আচ্ছা সে জিন্স টি-শার্ট পরতেই পারে
কিন্তু তাই বলে গায়ের সাথে লেপ্টে যাওয়া
পোশাক পরে স্বামী সন্তানের সাথে বাইরে ঘুরবে?
আবার কেউ কেউ ফ্রক,লেহেঙ্গা, টপস পরছে
আর সেখানেও সেই একই চিত্র
পোশাক তৈরিতে কাপড় কি সব সময় কম হয়?
একটু ঢিলেঢালা পোশাক পরলে কি ক্ষতি?
সে কি তখন আনস্মার্ট হয়ে যাবে?
অনেকে আবার মাথায় হিজাব পরছে ঠিকই কিন্তু
ওড়নাটা হয় একপাশে নয়তো গলায় পেচিয়েছে।
আবার পুরুষেরা শর্ট প্যান্ট পরে দিব্বি বেরুচ্ছে
নারীদের মতো হাতে কানে গলায় অলংকার পরে
মাথায় ঝুঁটি বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আচ্ছা এসব পোশাকেই কি আধুনিকতা?
এমন আধুনিকতায় কখনো রুচিশীলতা থাকে না
তাই আধুনিকতার নামে এসব থেকে দূরে থাকি
নিজের দেশের কৃষ্টি কালচারকে অক্ষুন্ন রাখি।
আমার লেখাটি হয়তো অনেকের পছন্দ হবে না
বিশেষ করে যারা নিজেদের এরকম ভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন।
তারা হয়তো বলবেন এসব বলার আমি কে?
আপনার অর্থে কেনা পছন্দের পোশাক পরেছেন
কেনো অন্যেরা এসব নিয়ে কথা বলবে?
কিন্তু আমি কেনো বলছি সেটার ব্যখ্যা দিচ্ছি
আপনাদের এই আধুনিকতায় আমার মতো
সেকেলে অচল আধুলি যারা তাদের
অনেক লজ্জা হয় নিজেকে ছোটো মনে হয়।
জানি আমার এটা পড়ে অনেকের গা জ্বালা করবে
আমাকে মনে মনে বকবেন
সামনে পেলে হয়তো দু’চার কথা শোনাবেন
তবুও লিখছি ক্ষীণ আশায়
যদি আমার এই নগন্য লেখা পড়ে
কারোর ভেতরে নাড়া দেয় কারোর রূচি পালটায়।
একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে তার কথনে
তার বিচক্ষণতায়,বুদ্ধিমত্তায়,উপস্থাপনে,
আপনি যদি প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে থাকেন
আপনার যদি স্বাভাবিক বিবেকবোধ থাকে
তাহলে অবশ্যই পোশাকে নয়
স্মার্টনেস ফুটিয়ে তুলুন আপনার আচরণে।
নিজেদের মর্যাদাকে হেয় করতে না চাইলে
এসব অশালীন পোশাক পরিত্যাগ করে
রুচিসম্মত পোশাক নির্বাচন করুন
নিজের নৈতিকতার উন্মেষ ঘটান।
ক্ষণিকের এই ছোট্ট জীবনে
নিজের অস্তিত্ব নিজের ব্যক্তিত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে
সত্যিকারের আধুনিকতায় নিজেদের সাজাই।






