আমার সতেজ স্নিগ্ধ ভোর ছিলো
যার মিষ্টি আবেশে তনুমনে শিহরণ জাগতো
রবির আলোয় আলোকিত হতো চারিপাশ
আমার জীবন থেকে সেসব হারিয়ে গেছে অতলে।
এখনো ভোর হয় পাখি ডাকে
সমীরণ মিষ্টি আবেশ ছড়ায় ভূবনে
রবির কিরণ ঝলমলিয়ে উঠে
কিন্তু কিছুই আমাকে স্পর্শ করে না
আমি যেনো অনুভূতিহীন এক পাথর মানব।
গ্রীষ্মের রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুর ছিলো
প্রচুর তাপদাহে অবসর নেবার জায়গা ছিলো
ক্লান্ত দুপুরে ঘরে ফেরার নেশা ছিলো
সবই আজ বিলীন হয়ে গেছে।
হ্যাঁ এখনো রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুরে
কেউ কেউ অবসরে ঘরে ফিরে
ক্লান্ত দেহমন প্রিয়জনের সান্নিধ্যে আসে
কিন্তু আমার জীবনে সেই ক্ষণ
আর কখনো আসার নয়
গ্রীষ্মের খরতাপ আমার নিত্যসঙ্গী
যেখানে বিশ্রামের ফুরসত নাই
আছে শুধু এক বুক হাহাকার
আর হৃদয়ে জমে থাকা কষ্টের স্ফুলিঙ্গ।
চমৎকার উদাসী বিকেল ছিলো
যেথায় দখিনা হাওয়ার দোলে
পরিশ্রান্ত দেহমন প্রশান্তি পেতো
কিন্তু আমার আর কোনো উদাসী বিকেল নাই
ব্যস্ততায় মোড়ানো প্রতিটি মুহূর্ত
শুধু দায়িত্ব কর্তব্যের বেড়াজালে আটকে থাকা।
রঙিন গোধূলি বেলা ছিলো
যেথা রঙধনুর আবিরে মাখামাখি থাকতো
গোধূলির আলোমাখা আকাশপটের মতো
নিজেকে রঙিন মনে হতো।
আজ আমার গোধূলি বেলা শুধুই কালো
রঙধনুর সব রঙ মিলে মিশে
পুরো আকাশটাকে আঁধারে মুড়িয়ে দিয়েছে।
মনোরম শ্রাবণ সন্ধ্যা ছিলো
পাখিদের নীড়ে ফেরার তাড়া ছিলো
যেথায় জোনাকিরা পিদিম জ্বালাতো
ঝিঝি পোকার ডাকে মুখরিত ছিলো।
আজ যেনো সবই অচেনা
কোথায় যেনো ঘাপটি মেরে বসে আছে
আমার চারিপাশে কারোর আনাগোনা নেই
আছে শুধু ফেলে আসা সময়ের জন্য দীর্ঘশ্বাস।
সুন্দর তারাভরা জোছনা মাখা রাত ছিলো
জোছনার প্লাবনে তনুমন ভেসে বেড়াতো
হাস্নাহেনার সুবাসে মুগ্ধ হতো চারিপাশ।
কিন্তু আমার চারিপাশে শুধুই শূন্যতা
যেদিকে তাকাই শুধুই অমানিশার ঘোর আঁধার
হ্যাঁ এখনো তারাভরা রাতে জোছনার প্লাবন হয়
হাস্নাহেনার সুবাস ছড়ায় ভূবনে
কিন্তু সেসব কোনোকিছুই আমাকে স্পর্শ করেনা
আমার অনুভূতি মরিচা ধরে গেছে
সত্যিই আমি অনুভূতিহীন পাথর মানব।






