রিক্সা থেকে হাতে ছোটো ট্রলি আর কাঁধে ল্যাপটপের ব্যাগ নিয়ে গেটে নক করতেই দারোয়ান জালাল চাচা গেট খুলেই জিজ্ঞেস করেন আপনে কে?
চাচা আমি অয়ন হাসান এটা রাহাত সাহেবের বাসা না?
হুম স্যার আপনের কথা আমারে বলছে।
চলেন আপনার ঘর দেখাইয়া দেই। ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে অয়নের গায়ে বৃষ্টির দুই একটা ফোঁটা পরে গেলো।
রুমের বাইরে টবে লাগানো ক্যাকটাস দেখে মনটা বেশ ভালো লাগছে।
এইটা আপনের ঘর , ভেতরে সব দেয়া আছে, আপনে বিশ্রাম করেন।
আমি আসি মেডামকে বলে আসি আপনার কথা।
অয়নের রুমে পা রাখতেই টেবিলে ফুলদানিতে এক গুচ্ছ রজনীগন্ধার স্টিক ও আরেকটা ঝুড়িতে তরতাজা বেলিফুল দেখে সব ক্লান্তি এক নিমিষেই ঘুচে গেলো।
রুমটা সুন্দর করে গোছানো। জানালায় হালকা আকাশী রঙের পর্দা,বিছানা পরিপাটি।
রুমের সৌন্দর্য দেখে অয়নের আজ শুধু তিথীর কথা মনে পড়ছে।
তিথী ছাড়া আর কেউ তো জানেনা আমার প্রিয় ফুল বেলি আর রজনীগন্ধা।
অনেকটা পথ জার্নি করে এসেছে তাই বাথরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে বিছানায় আরাম করে গা এলিয়ে দিলো।
রিক্সায় বসে ছাদ থেকে এক মেয়েলি কণ্ঠের গানের আওয়াজ এখনো কানে লেগে আছে।
কণ্ঠস্বর খুব পরিচিত লাগছিল। মনে হচ্ছিলো তিথীই গায়তেছিলো ” আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়েছিলে”।
রবীন্দ্র সংগীত তিথী দারুণ গায়।
অয়নের মনে হচ্ছে ৩ বছর পরে তিথীর গানই যেনো শুনতে পেলো।
হটাৎ দরজায় কলিংবেলের শব্দ।
আসতে পারি?
মা আপনার জন্য চা নাস্তা পাঠালো।
কে? মনের ভেতর কি তোলপাড় চলছে।
আমি এ বাড়ির মেয়ে। আসব?
হ্যাঁ আসুন আসুন প্লিজ।
তিথী চায়ের ট্রে টেবিলে রেখে ঘুরে দাঁড়াতেই অয়ন বিছানা থেকে দ্রুত দাঁড়িয়ে কে কে তিথী?
তুমি এখানে? আমি কি স্বপ্ন দেখছি?
না মশাই আপনি স্বপ্ন দেখছেন না। আমিই তিথী।
আমি গেটে এসেই ছাদ থেকে তোমার সুরেলা কণ্ঠস্বর শুনেই তোমাকে ভাবছিলাম।
অয়ন তিথীর হাতটা স্পর্শ করে যাচাই করে দেখছে একি সত্যি না কি স্বপ্ন?
তিথি খিলখিলিয়ে হেসে বলে উঠলো কি এবার বিশ্বাস হলো তো?
অয়ন তিথীকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলে ” ভালোবাসি ভালোবাসি প্রাণপ্রিয়া “






