আজিজুন নাহার আঁখি

বৃষ্টি রাত ও কুপি বাতি

আষাঢ় মাসের বৃষ্টি যখন তখন অঝোর ধারায় ঝরে। সেই কিশোর বেলা থেকে রাজনের ইচ্ছে সে বৃষ্টির দিনে বিয়ে করবে।

আর তার বাসর ঘর হবে টিনের ঘরে। ঘরে কুপির আলো আর টিনের চালে বৃষ্টির রুনুঝুনু শব্দে আবেগে হারিয়ে যাবে। আল্লাহর অশেষ রহমতে পারিবারিক ভাবে ভরা বর্ষায় রাজনের বিয়ে ঠিক হয়েছে।

রাজনের বাবা পুলিশের কর্মকর্তা ছিলো তাই ওদের বেশিরভাগ সময় শহরে সরকারি কোয়ার্টারে কেটেছে তারপরও রাজনের সেই কিশোর বেলার স্বপ্ন গ্রামেই তার বাসর হবে।

পারিবারিক ভাবে তুলির সাথে বিয়ে ঠিক হলেও ফোনে রাজনের সাথে বেশ সখ্যতা গড়ে উঠেছে।
দুই পরিবারের কেউ বৃষ্টির দিনে গ্রামে অনুষ্ঠান করতে রাজি হলো না। তাই সিদ্ধান্ত হলো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শহরেই হবে আর বাসর হবে রাজনের দাদা বাড়ির টিনের ঘরে।

রাজনের দুই চাচাতো ভাই, বোন আর বোনের জামাইকে নিয়ে সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছে গেলো। আগে থেকেই পুরনো টিনের ঘর সুন্দর করে তাজা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে আর ঘরে জ্বালানো হয়েছে সেই পুরোনো আমলের কুপি।

খাটের উপর তুলি চুপচাপ বসে আছে কুপির আলো নিভু নিভু করছে , চালে বৃষ্টির অবিরাম ছন্দময় নৃত্য চলছে, বইছে মাতাল হাওয়া।জানালার কপাট বাতাসে একবার খুলছে তো আরেকবার বন্ধ হচ্ছে। এমন সময় রাজপুত্র রাজন এক গুচ্ছ কচুরিপানা ফুল নিয়ে তুলির সামনে এসে বসলো।
তুলি রাজনের হাতে কচুরিপানা ফুল দেখে মিটমিট করে হাসছে আর ভাবছে বাসর রাতে স্বামীর কাছ থেকে কচুরিপানা ফুল হয়তো আমিই প্রথম উপহার পাচ্ছি।

রাজন তুলিকে কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক তখনই আচমকা হাওয়ায় ঘরের কুপি নিভে গেলো আর তুলি ভয়ে রাজনকে শক্ত করে ধরে চিৎকার করতে থাকলো। রাজন মনে মনে এটাই চেয়েছিলো। বৃষ্টির রাতে টিনের চালে বৃষ্টির রুনুঝুনু শব্দ আর আঁধার ঘরে তুলিকে বুকে জড়িয়ে সুখের সাগরে ডুব দিলো।

Leave a Comment