আজিজুন নাহার আঁখি

শেষ থেকে শুরু পর্ব-৫

রুমের ভেতর পায়চারি করতে থাকে ঠিক তখন বিমর্ষ অবস্থায় মেঘ আসে।
আচ্ছা এতো রাতে কোথায় গিয়েছিলে? আর এমন দেখাচ্ছে কেন? শরীর খারাপ করেছে?
না তেমন কিছু না। বমি হয়েছে তাই ছাদে গিয়েছিলাম। খোলা হাওয়ায় যদি ভালো লাগে তাই ছাদে গিয়েছিলাম।
এতো রাতে একা একা ছাদে যায়? ইদানীং দেখছি তুমি আমাকে এড়িয়ে চলছো।,যাকগে এখন ঘুমাও। আগামীকাল ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।

পরের দিন বিকেলে অফিস থেকে ফিরেই শাহেদ মেঘকে নিয়ে ক্লিনিকে যায়। ডাঃ শায়লা সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলেন, শাহেদ সাহেব আপনি বাবস হতে চলেছেন। কথাটা শুনে শাহেদ যেনো চিন্তায় পরে গেলো। মেঘও তেমন খুশি হয়নি কিন্তু আল্লাহ পাক যেহেতু দিয়েছে তাই হাসিমুখেই মেনে নেয়। ডাঃ শায়লা এবার মিসেস শাহেদ আপনি নিজের প্রতি খেয়াল রাখবেন। আপনার শারীরিক দুর্বলতা আছে যা আপনার ও আপনার সন্তানের ক্ষতির কাড়ণ হতে পারে।

বিষণ্ণ মন নিয়ে মেঘ আর শাহেদ বাড়ি ফিরে। মেঘের শরীরটা খুব দুর্বল লাগছে। এদিকে বাচ্চারা এটা সেটা নিয়ে মেঘকে সারাক্ষণ বিরক্ত করতেই থাকে। মেঘের শরীর খারাপ তাই মায়ের কাছে রোদেলাকে পাঠিয়ে দেয়। রোদেলাও মা আর নানীর কাছে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকে। শাহেদের কাজের চাপ যেনো বেড়েই চলেছে। অফিস করে বাড়ি ফিরলেও মেঘের কাছে তেমন আসে না। এসেই দীপ শিখাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়।এভাবেই মানসিক টানাপোড়েন আর শারীরিক দুর্বলতার মধ্যে মেঘের প্রেগন্যান্সির পাঁচ মাস পার হয়েছে। ডাক্তার আলট্রাসোনোগ্রাফের রিপোর্ট দেখে বললেন যে মেঘ জমজ সন্তান ধারণ করেছে এই জন্য এক্সট্রা কেয়ার করতে হবে। শারীরিক নানা জটিলতার মাঝে মেঘ দুইটা কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। দুই মেয়ের নাম রাখা আলো আশা।

মেঘ এখন আর রোদেলাকে আর নিজের কাছে রাখতে পারে না। দীপ শিখা আর আগের মতো নেই এটা সেটা নিয়ে রোদেলাকে হেনস্থা করতেই থাকে। শাহেদ দেখেও না দেখার ভান করে। মেঘ ছোটো দুই জনকে নিয়েই সব সময় অস্থির থাকে। ইদানিং রোদেলাকে আর আগের মতো মেঘ আদর করে না তবুও শাহেদ সব সময় রোদেলাকে নিয়ে মেঘের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। সারাক্ষণ বাসায় অশান্তি দেখে মেঘ রোদেলাকে একেবারে মায়ের কাছে দিয়ে আসে।রোদেলা মাঝে মাঝে নানীর সাথে এসে মায়ের সাথে দেখা করে যায়। আদর অনাদরের মধ্যেই রোদেলা বেড়ে উঠতে থাকে। যে দীপ শিখা রোদেলার সাথে খেলাধুলা করতো এখন ওরা বাবার কাছে মিথ্যা কথা বলে রোদেলাকে বকা খাওয়াতো। মেঘের যেনো কোনো চাওয়া পাওয়া নাই। শাহেদের হুকুমের ব্যক্তিতে পরিণত হয়ে গেছে। খারাপ লাগলে কেঁদে বুক ভাসায়। আবার কান্না করতে গেলেও লুকিয়ে কাঁদতে হয়। যতোই সময় যাচ্ছে মেঘের সাথে শাহেদের দুরত্ব বেড়েই চলেছে। শাহেদ ভেবেই নিয়েছে মেঘ শুধু তার সন্তানের খেয়াল রাখবে এখানে মেঘেরও যে কিছু চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না।

বারো বছর পার হয়ে গেছে। এর মাঝে বদলে গেছে অনেক কিছু। গত বছর মেঘের বাবা পরলোক গমন করেছে। রোদেলা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। দীপ শিখা ভার্সিটিতে পড়ে। মেঘের জীবন যন্ত্রে পরিণত হয়েছে সে কবেই। এতো বছরেও রোদ্দুরকে ভুলতে পারেনি। মাঝে মাঝে মেঘের মনে হয় রোদেলার কাছে রোদ্দুরকে নিয়ে কথা বলতে । কিন্তু মেয়ে কি ভাববে তাই আর বলা হয় না। রোদেলাও জানে শাহেদ তার বাবা নয়। অনেক দিন আগেই তার বাবা হারিয়ে গেছে । রোদেলা মায়ের কাছে বাবার কথা জিজ্ঞেস করতে গিয়ে অনেক বার থেমে গেছে। চোখের সামনে মায়ের এই কষ্ট তাকেও কষ্ট দেয়। তাইতো বাবার কথা আর জানা হয়নি। এমন কপাল রোদেলার বাবার একটা ছবিও নেই যা দেখে একটু হলেও শান্তি পাবে।

রোদ্দুর কানাডায় থাকাকালীন বিভিন্ন ভাবে মেঘের খোঁজ নেয়ার অনেক চেষ্টা করেছে। পড়াশোনার ফাঁকে কানাডায় বসবাসকারী বাঙ্গালীদের কাছে মেঘকে নিয়ে কথা বলেছে। কিন্তু কেউ মেঘের কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। দীর্ঘ এই সময়ে রোদ্দুরের জীবনে আর নতুন কেউ মেঘের স্থানে বসতে পারেনি। ছাত্র অবস্থায় বাংলাদেশী সহ বিদেশী মেয়েরাও রোদ্দুরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়তে চেয়েছে কিন্তু রোদ্দুর এই বিষয়টি বরাবর নাকচ করেছে। মন দিয়ে পড়াশোনা করেছে আর বাকী সময় মেঘকে খুঁজেছে দেশে বিদেশে। পড়াশোনা শেষে কানাডায় জব করেছে । মেঘকে না নিয়ে দেশে ফিরবে না এটাই ছিলো তার ব্রত।

দেশে বন্ধুদের দিয়েও মেঘের খোঁজ নেবার চেষ্টা করেছে কিন্তু কেউ কিছু জানতে পারেনি। মেঘের বাবা ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে স্থায়ী হয়েছিলেন সেটা কেউ জানেনা। আর মেঘ ভার্সিটিতেও কখনো আসেনি। পৃথিবীর একপ্রান্তে মেঘ মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে সংসার নামক গণ্ডিতে বন্দী জীবন যাপন করছে আর আরেক প্রান্তে রোদ্দুর মেঘকে হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরেছে। রোদ্দুরের বাবা মা অনেকবার আর দেশে আসতে বলেছে কিন্তু রোদ্দুর আসেনি। প্রতিনিয়ত বাবা মাকে দেখার অদম্য ইচ্ছাকে সংবরণ করেছে । প্রাবাসে একাকী জীবনে শুধু মেঘের স্মৃতি বুকে আগলে থেকেছে। এভাবেই কেটে গেছে বারো বছর।

হটাৎ করে রোদ্দুরের মায়ের অসুস্থতার খবরে রোদ্দুর অস্থির হয়ে উঠে। মাত্র এক মাসের থাকার প্রস্তুতি নিয়ে রোদ্দুর মায়ের কাছে ফিরে আসে। দীর্ঘ বারো বছরে ঢাকা শহরের অনেক পরিবর্তন দেখে রোদ্দুর বিস্মিত। তবে এই পরিবর্তন রোদ্দুরকে মেঘের কথা ভুলাতে পারেনি। এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ি ফেরার সময়ও রাস্তার চারিদিকে শুধু মেঘকে খোঁজে। রোদ্দুরের মা হাসপাতালে ভর্তি তাই এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি মায়ের কাছে । দীর্ঘ দিন পরে ছেলেকে কাছে পেয়ে বাবা মায়ের চোখে অশ্রু গড়িয়ে পরে। রোদ্দুরের মায়ের হার্টে ব্লক ধরা পরেছে ।ডাক্তার বলেছে খুব দ্রুত হার্টে রিং পরাতে হবে। রোদ্দুর বাড়ি না ফিরে মায়ের কাছেই থাকে।

রোদ্দুরের মায়ের অপারেশন শেষে সুস্থ হলে গতকাল সকালে বাড়ি নিয়ে আসে। এ কয়দিন রোদ্দুর সারাক্ষণ মাকে আগলে রেখেছে। হাসপাতাল বাড়ি করতে করতে পনেরো দিন কেটে যায়। মা একটু সুস্থ হওয়ার পর রোদ্দুর বন্ধুদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে। বন্ধু বান্ধবরা সবাই বিয়ে করেছে। সবারই ছেলে মেয়ে আছে কিন্তু রোদ্দুর সে একাই আছে। রনি এখন লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে । তাই প্রিয় বন্ধুর সাথে দেখা হলো না। সবার সাথে আড্ডা দিচ্ছে গল্প করছে কিন্তু মাথায় সারাক্ষণ মেঘের কথাই ঘুরপাক খায়। রোদ্দুরকে সবাই প্রশ্ন করে এই একাকী জীবনের অবসান হবে কবে? রোদ্দুরের স্পষ্ট কথা এই জীবনে আর কেউ নয়।

রাতের খাবার টেবিলে রোদ্দুরকে বাবা মায়ের কাছে সংসার করা নিয়ে অনেক কথা শুনতে হয়। বাবা মা ছেলেকে স্নেহভরে বলেন বাবা আমাদের বয়স হয়েছে আর কতো টেনশনে রাখবি? এবার বিয়েশাদী করে আমাদের একটু শান্তি দে। অসুস্থ মায়েরও একই কথা আর না করিস না বাবা অনেক তো বিদেশ থাকা হলো তুই এবার দেশে চলে আয় আর সংসারের চিন্তা কর। তোর কাউকে পছন্দ থাকলে তাকেই বিয়ে কর কিন্তু আমরা আর তোর কোনো আপত্তি শুনব না। বাবা মায়ের সাথে বড়ো ভাই ভাবীও সুর মেলান। রোদ্দুরকে সবাই এমন ভাবে চেপে ধরেছে যে বেচারার মুখে কিছু বলার উপায় নাই। তবুও রোদ্দুরকে মায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে মা আমাকে আর কিছুদিন সময় দাও। ছেলের বিমর্ষ এই রূপ দেখে মায়ের চোখ অশ্রুসজল হয়ে পরে।

মায়ের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো আছে আর রোদ্দুরেরও যাবার সময় ঘনিয়ে আসছে। এবার রোদ্দুরের আর কানাডা ফিরতে ইচ্ছা করছে না কিন্তু ওখানে যে সব ফেলে এসেছে তাই যেতেই হবে। আরও একটিবার কানাডায় মেঘের খোঁজ করতে হবে। যাবার আগের দিন রাতে মায়ের কাছে গিয়ে সেই একই আবদার করে , মা তুমি তো জানো আমি কেনো বিয়ে করছি না। আমাকে আরও কিছুদিন সময় দাও আমি নিশ্চিত মেঘের খোঁজ পাব। আমার মন বলছে ও আমার কাছে ফিরবে। তুমি আমার জন্য দোয়া করো আমি যেনো ওকে খুঁজে পাই। আড়াল থেকে রোদ্দুরের ভাই সব কথা শুনতেছে। মেঘ রোদ্দুরকে যে চিঠি দিয়েছিল সে কথা আজ অবধি কেউ জনেনা। যে মেয়ের জন্য ভাইকে কারাবাস করতে হয়েছে তার কোনো চিঠি রোদ্দুরকে দিতে তার মন সায় দেয়নি। এমনকি চিঠিগুলো কখনো খুলে পড়েওনি।আর কোনো দিন পড়বেও না ।রোদ্দুর এবার ফিরলে বাবা মাকে বলে ওর বিয়ে দিতেই হবে। ভাইয়ের মন থেকে ঐ মেয়েটাকে মুছে ফেলতে হবে। রোদ্দুর বের হবে সেই মুহূর্তে ওর ভাই ভেতরে ঢুকে মায়ের উদ্দেশ্যে বলে মা তোমার গুণধর ছেলেকে বলো তাড়াতাড়ি দেশে ফিরতে আর ফিরলেই বিয়ের সানাই বাজাবো। মুচকি হেসে রোদ্দুর নিজের রুমে চলে যায়। পরের দিন সকালে সবার কাছে বিদায় নিয়ে রোদ্দুর কানাডার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়।

কানাডা পৌঁছেই রোদ্দুরকে কাজে ব্যস্ত হয়ে পরে। তবে দেশেই স্থায়ী হবে এটা মনে মনে স্থির করে ফেলেছে। আর সে অনুযায়ী কানাডায় সব গুছাতেভ থাকে। বাবা মায়ের এই বৃদ্ধ বয়সে তাদের পাশে থাকাটা জরুরি। প্রায় চার /পাঁচ মাস সময় লেগে যায় সব গুছিয়ে নিতে। আর এসব কাজের ফাঁকে মেঘের খোঁজও চালিয়ে যায়। রোদ্দুর দেশে ফিরে ব্যবসা করবে এটাই স্থির করে মনে মনে। কানাডায় থেকে যে টাকা পয়সা আয় করেছে তার একটা অংশ সঞ্চয় করেছে যা দিয়ে অনায়াসে ভালো কিছু করা যাবে। এতোদিনে বাড়িতে নতুন বিল্ডিং দিয়েছে ,বাবা মায়ের জন্য গাড়ি কিনেছে। বড়ো ভাই একটা ব্যবসা দাঁড় করেছে যার অর্থের যোগান দিয়েছে রোদ্দুর। তাই দুই ভাই মিলে ব্যবসাটাকে আরও বড় করার পরিকল্পনা নিয়ে এবার দেশে ফিরবে। এরই মধ্যে রোদ্দুর একটা মানবধিকার সংগঠনের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অর্থ দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে সংগঠনের উত্তোরোত্তর সমৃদ্ধিতে অবদান রেখে যাচ্ছে।

কানাডার সব গুছিয়ে রোদ্দুর দেশে ফিরে আসে। পরিবারের সবার সাথে বেশ কয়েকদিন আনন্দে উল্লাসেই কাটছিলো কিন্তু হটাৎ করে রোদ্দুরের বাবা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পরে। মুমূর্ষু অবস্থায় বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার রোগীকে আইসিওতে শিফট করে। এভাবে সাত দিন থাকার পরে রোদ্দুরের বাবা একটু সুস্থ হলে কেবিনে দেয় কিন্তু উনার শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় পরিবারের শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রায় মাস খানেক হাসপাতালে থাকার পর বাবাকে বাড়ি নিয়ে আসে। বাবাকে নিজের সন্তানের মতো সেবা যত্ন করতে কোনো ত্রুটি রাখেনি। কিন্তু প্যারালাইজড বাবার পানে তাকে কষ্টে বুক ফেটে যায়। কথাও স্পষ্ট বুঝা যায়না শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। তবে ডান হাত ভালো তাই বেশির ভাগ কথা লিখে বুঝায়।

সেদিন বিকেলে বাবার কাছে বসাতেই বাবা কাগজ কলম চাইল। আমি কাগজ কলম হাতে দিলাম আর বাবা সেখানে লিখলেন রোদ্দুর বাবা আমার তোর কাছে আজ আমার একটা অনুরোধ তুই বিয়ে করে সংসারী হ। মৃত্যুর আগে আমাকে একটু শান্তি দিবি না? কাগজটা হাতে দিয়েই বাবা আমার দিকে তাকিয়ে কেঁদে দেয়। আমি আর তখন বাবাকে না করতে পারিনি। আমি শুধু বাবার হাতে মৃদু চাপ দিয়ে নিরব থাকি। বাবা বুঝে ফেলে আমার সম্মতি আছে তাই মা ও বড়ো ভাইকে ডেকে পাত্রী দেখতে বলে। মাকে শুধু বলি আমাকে দিয়ে গতানুগতিক সংসার হবে না তাই কোনো বিপদগ্রস্থ কাউকে দেখো যাকে বিয়ে করলে তার বা তার পরিবারের উপকার হয়। কিন্তু তারা আমার এ কথাকে গুরুত্বই দেয়না। টানা কয়কদিন ভাই ভাবী মিলে আমার জন্য পাত্রী খুঁজে। শেষ অবধি বড়ো ভাবীর এক পরিচিত মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হয়। আর আমি আমার জীবনের ব্রত ত্যাগ করে বাবা মায়ের জন্য বিয়ে নামক গণ্ডিতে নিজেকে আবদ্ধ করি। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আমার আর সীমার বিয়ে হয়। সবাই বললেও আমি বিয়ের আগে সীমাকে একবারের জন্যেও দেখিনি।

আজ আমাদের ফুলশয্যা কিন্তু এতে আমার কোনো আগ্রহ নেই বরং রাতটা ফুরালেই যেনো বাঁচি। বড়ো ভাবী সেই কখন থেকে আমাকে ঘরে যাবার জন্য তাড়া দিচ্ছে কিন্তু আমার কিছুতেই যেতে ইচ্ছে করছে না ।কিন্তু আজ না হোক কাল মেয়েটির মুখোমুখি হতেই হবে তাই আর দেরি না করে ভাবীর সাথে ঘরে গেলাম। ভাবী তমাকে উদ্দেশ্য করে বলে গেলো এই যে আমার দেবর দিয়ে গেলাম তুমি ওর যত্ন করো। দেখো ও যেনো কোনোদিন তোমার দিক থেকে মুখ না ফেরায়। আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে শুধু সেই দিনের কথা ভাবছিলাম। তমা বিছানা ছেড়ে কখন আমার পাশে এসেছে আমি টের পায়নি। আপনি আর কতোক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন এখন বসুন। ওর দিকে না তাকিয়েই বললাম ঠিক আছে আপনি বসুন। মেয়েটা আমার কাছেই দাঁড়িয়ে আছে তাই আমি বিছানায় গিয়ে বসলাম। সাথে সাথে তমাও আমার পাশে এসে বসলো।

দেখুন তমা আমার বিয়ের বয়স পার হয়েছে অনেক আগেই। আর এতো দিন কেনো বিয়ে করিনি তার নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। আমি কিছু কঠিন সত্যি কথা সেদিন ফোনে বলেছিলাম আর আপনি সব জেনেই বিয়েতে মত দিয়েছেন। আজ আবারও বলছি আমার অতীত আমার সব সময়ের সঙী ।আমি এক মুহূর্তের জন্যেও মেঘের স্মৃতি ভুলতে পারিনি ও পারব না।আপনার প্রতি দায়িত্ব কর্তব্যের অবহেলা হবে না তবে আমার হৃদয়ের রাণী শুধুই মেঘ। জানি আমার কথায় আপনার কষ্ট হচ্ছে কিন্তু সরি আমার কিছুই করার নাই। তমা এতোক্ষণ কিছুই বলেনি । তমা রোদ্দুরকে বলে আমার একটা সমস্যা আছে যা আপনাকে বলা হয়নি। জানিনা এখন বললে আপনি কিভাবে নেবেন? অবশ্য সেদিন আমি আপনাকে ফোনে বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু আপনিই শোনেননি। আমি তমাকে বললাম ঠিক আছে বলুন কি বলতে চান? আমার বড় ধরনের একটা অপারগতা আছে যা মেনে নেয়া কষ্টকর। বলুন আমার দিক থেকে কোনো সমস্যা নাই। আমার একটা অপারেশন হয়েছিলো আর সেই অপারেশনে আমার জরায়ু কেটে ফেলা হয়েছে। আমি কোনোদিন মা হতে পারব না। আমার পরিবার হয়তো বিষয়টি গোপন করে থাকতে পারেন। না তারা গোপন করেননি। তবে কথাটি ভাবী আর আমি ছাড়া অন্য কেউ জানেনা তাই আপনিও কাউকে বলবেন না। আমি বাবা মায়ের জন্য বিয়েতে রাজি হয়েছি সন্তানের জন্য নয়।আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন এ বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে না। তমা টুপ করে রোদ্দুরের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে। আরে এ কি করছেন? প্লিজ আমাকে আপনি বলবেন না। আমি আপনার বয়সেও ছোটো আর আপনার স্ত্রী তাই আপনি বললে অস্বস্তি লাগছে। এভাবেই বিভিন্ন আলাপনে ভোরের সূর্যোদয় হয়।

Leave a Comment