স্কুলের ঐ কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে
এক পাগলীর ছিলো বাস,
কারো সাথে বলতো না কথা
এভাবেই কাটছিলো বারো মাস।
ছেঁড়া আর নোংরা কাপড়ে সে
ঢাকতো তার মলিন দেহখানি,
সবার দেয়া খাবার খায়নি সে
আধপেটা খেয়ে কাটাতো দিনখানি।
বয়স তার পঁচিশ কি ত্রিশ
বুঝার নেই যে উপায়,
কোন কারণে পাগলী সে আজ
একজন শুধু অন্যজনে শুধায়।
পাগলী বলে সে বুঝতো না কিছু
খিলখিলিয়ে হাসতো শুধু দিনভর
পরের কথায় কভু রাগ করেনি
শিশু দেখলেই করতো আদর।
সারাবছর রাতের বেলায় ঘুমাতো সে
স্কুলের ঐ গাছের নিচে,
ভয় পায়নি একা থাকতে সেথায়
যদি কেউ আসে পিছে।
এমনি করেই চলছিলো এক নিয়মে
পাগলীর স্কুলে বসবাস,
হটাৎ সেদিন রাত্রিবেলা এক নরপশু
তার করলো মহা সর্বনাশ।
ভোরবেলায় তাকে পাওয়া গেলো
স্কুল ঘরের পিছন দিকে
হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখেছে
কাপড় বেঁধেছে মুখে।
পাড়ার কয়েকজন মা বোনেরা
সেবা করলো আপনমনে
জানা গেলো না পাগলীর এই
সর্বনাশ করলো কোন জনে?
কয়েক মাস কাটার পরে তাকে
দেখেই বুঝা গেলো বিপদ
নরপশুর নৃশংসতায় তার গর্ভে
বেড়ে উঠছে এক আপদ।
এমনি করেই কাটলো নয় মাস
প্রসব যন্ত্রণায় করছিলো ছটফট
এগিয়ে এলো গ্রামের এক দাইমা
স্বাস্থ্যসেবা দিলো ঝটপট।
ভোরের আলো ফোটার একটু আগে
জন্ম নিলো একপুত্র সন্তান,
তখন কান্নার শব্দে জাগলো সবাই
পাগলী হয়ে থাকলো অজ্ঞান।
সদ্যোজাত শিশুর ঠাঁই হলো গিয়ে
সন্তানহারা এক মায়ের কোলে,
পাগলী মা বুঝলো না কিছু
কোথায় যেনো গেলো চলে।
দিন মাস বছর পেরিয়ে গেলো
খোঁজ মেলেনি তার আর,
হয়তো কেউ তার জীবন নিয়েছে
যে সর্বনাশ করেছিলো তার।
ভবে পুরুষ হয়ে জন্মেছো বলে
কেনো করছো এমন বাহাদুরি?
তোমার পাপে তুমি ভুগবে সদা
থাকবে না কোনো জারিজুরি।
তোমার মতো নরপশুদের জন্য
আজ অরক্ষিত হচ্ছে ভূমি,
সময় আছে শুধরে যাও এবার
পার পাবেনা পরকালে তুমি।






