আজিজুন নাহার আঁখি

জানো,এখনো ভোরবেলায় আমার উঠোনে
শিশির বিন্দু জড়িয়ে থাকে ঘাসে,
সোনালী রোদ্দুরের উজ্জ্বল আলোকে
শিশির ফোঁটা মুক্তোর মতো চকচক করে,
মিষ্টি সমীরণ শিহরণ জাগায়
পাখির কলকাকলীতে মুখরিত হয় চারিপাশ,
জানালার ফাঁকে এক চিলতে রোদ্দুর
আমায় হাতছানিতে ডাকে।
কিন্তু তোমার বিহনে আমি তো সাড়া দিতে পারি না
এই মধুর ক্ষণে কি একা ভালো থাকা যায়?
আচ্ছা, তোমার সকালবেলা কি এমন কাটে?
এখনো কি আমায় মনে পরে?

জানো, এখনো উদাস দুপুরের প্রচণ্ড তাপদাহে
হঠাৎ করে প্রশান্তির এক পশলা বৃষ্টি ঝরে,
তার ছোঁয়ায় তনুমন শিহরিত হয়
বৃষ্টি ভেজা মাটির সুধাময়ী গন্ধে
প্রকৃতি বিমোহিত হয়।
এ বারিধারায় সিক্ত হতে কার না ভালো লাগে?
এই ক্লান্ত দুপুরের বিশ্রামে
মনটা তোমাকে খুব কাছে পেতে চায়।
কিন্তু তোমার বিহনে ক্লান্তিতে অবসন্ন হয়ে পরি
বলো তো তোমাকে ছাড়া কি ভালো লাগে?
তোমার পরিশ্রান্ত ক্লান্ত মন কি আমায় খুঁজে?

জানো, এখনো অলস বিকেলে
দক্ষিনা সমীরণ দোলা দেয়,
প্রকৃতির স্নিগ্ধতা হাতছানিতে ডাকে।
ডায়েরির পাতা খুলে বসে থাকি
কবিতা লিখবো বলে,
কিন্তু তোমার বিহনে কবিতার ভাষা খুঁজে পাইনা
সব শব্দ যেনো হারিয়ে গেছে অতলে।
একাকী আনমনে বসে থাকি তোমার আশে
তুমিও কি ভাবো আমায়?
খুঁজে বেড়াও শব্দতরঙ্গে?
আচ্ছা এভাবে কি ভালো থাকা যায়?

জানো, এখনো গোধূলির লাল আভায়
রঙ্গিন হয় পশ্চিম আকাশ,
আলো আঁধারের অপরূপ সৌন্দর্য্যে
প্রকৃতি লাল রঙে সাজে।
এই লাল আভায় সাজতে কার না ভালো লাগে?
তুমি হীনা আমি যে রঙিন সাজে সাজতে পারিনা।
এ সময়ে পাখিরাও নীড়ে ফিরে
কিন্তু তুমিতো ফিরলে না।
সত্যি করে বলো তো এভাবে ভালো লাগে?

জানো, এখনো সন্ধ্যা আকাশে
তারাগুলো মিটমিট করে জ্বলে ,
শুকতারাটা জ্বলজ্বল করে জ্বলে
জোনাক পাখি পিদিম জ্বালায়,
মসজিদের আযানের সুমধুর ধ্বনিতে
শান্তির আবেশ ছড়ায় ভূবনে।
প্রার্থনায় মশগুল থাকতে চাই নিমগ্ন চিত্তে
কিন্তু বারবার তোমার শূন্যাতা গ্রাস করে।
একাকী নিভৃতে প্রাণটা কেঁদে মরে
বলো তো কি ভাবে ভালো থাকি?
আমার কথা কি একেবারেই ভুলেছো?

জানো, এখনো নিশুত রাতে পূর্ণ শশীর
আলোক বিচ্ছুরণে ধরণী আলোকিত হয়,
রূপালী জোছনায় মাখামাখি চারিপাশ
জানালার ফাঁকে এক ফালি চাঁদ
আমায় হাতছানিতে ডাকে।
কিন্তু একা একা কি বাইরে যাওয়া যায়?
তোমাকে ছাড়া কি জোছনা অঙ্গে মাখা যায়?
এই মিষ্টি রাতে তুমি যোজন যোজন দূরে
তাইতো জোছনা স্নান করতে পারি না।
তুমিই বলো এভাবে কি ভালো লাগে?
আচ্ছা,এভাবেই কি জীবন প্রদীপ নিভে যাবে?

Leave a Comment