ইট পাথরের শহরে থাকতে থাকতে
তোমার মনটা ইস্পাতের মতো
শক্ত কঠিন হয়ে গেছে,
তাইতো কারো দুঃখ কষ্টে
আগের মতো বিচলিত হও না,
আবেগহীন মন আর কাউকে
আপন করে কাছে ডাকে না
কারো জন্যে তোমার হৃদয়ে অশ্রু ঝরে না।
ব্যস্ত শহরের কংক্রিটের রাস্তায় চলতে চলতে
তোমার মনটাও কংক্রিটের মতো হয়ে গেছে,
হাজারো মানুষ আর গাড়ির বহরের সাথে
ছুটতে ছুটতে ভুলে গিয়েছো
প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে
অনায়াসেই দুর্গম পথও সহজে পারি দেয়া যায়,
শিশির ভেজা দূর্বাঘাসের হাতছানিতে
তুমি আর সেখানে ফিরে আসো না,
মনটা আবেগহীন নিষ্ঠুর হয়ে গেছে
তাইতো কারো আবেগী ইশারায়
তোমার হৃদয় আর পুলকিত হয় না।
নিকোটিনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় মোড়ানো শহরে
প্রতিনিয়ত চলতে চলতে
তোমার মনটাও ধোঁয়ায় আচ্ছাদিত হয়ে গেছে,
শিল্প-কারখানার নিকষকালো ধোঁয়ায়
নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছো,
এখন মনে হয় আর খারাপ লাগে না
হাসনাহেনার সুবাস কি মনে আছে?
ধোঁয়ায় মোড়ানো ব্যস্ত শহরে
ফুলের সুবাসে আর সুবাসিত হয় না
তাইতো তোমার ধোঁয়াটে হৃদয়
কাউকে আবেগে জড়াতে চায় না।
নিয়নবাতির আলোয় পথ চলতে চলতে
আর দামী রেস্টুরেন্টের কৃত্রিম আলোয়
চাঁদনী রাতের রূপালী জোছনার সৌন্দর্য্য
একেবারেই ভুলে গিয়েছো,
ভরা পূর্ণিমার জোছনার হাতছানিতে
তুমি আর ঘরের বাইরে বের হও না
জোছনায় মাখামাখিতে যে কতো সুখ
হয়তো সেটা আজ ভুলে গিয়েছো,
হারিয়েছো আবেগময় ক্ষণ।
যান্ত্রিক শহরে হাজারো কাজের মাঝে
যন্ত্রের সাথেই তোমার বসবাস,
আর এই যান্ত্রিক শহরে
তোমার নরম কোমল হৃদয়টাও আজ
যন্ত্রে পরিণত হয়ে গেছে,
যেখানে ভালোবাসা নামক বস্তুটির
কোনো অস্তিত্ব বিদ্যমান নেই,
আছে শুধু যন্ত্রের মেলা
ভালোবাসাহীন জীবনে ভালো আছো তো?
তোমার এই ব্যস্ত শহরের কাজের ফাঁকে
তোমার একটুখানি অবসরে
মনে পড়ে কি তাকে?






