কোনো এক শরতের স্নিগ্ধ ভোরে
মুক্তোদানা শিশিরে ভিজে,
আঁচল ভরে শুভ্র শিউলি আর
এক মুঠো সোনালো রোদ্দুর নিয়ে
তোমার দ্বারে এসে কড়া নাড়বো,
তুমি কি তখন দোর বন্ধ করে থাকবে?
না কি আড়মোড়া ভেঙে ঘুম চোখে,
দোর খুলে আমায় দেখে আহ্লাদিত হবে?
আমি আসবো ফিরে,
তোমার ঐ সুখের নীড়ে।
তপ্ত দুপুরের হাসফাস গরমে
তুমি যখন অনেক পরিশ্রান্ত,
ক্লান্তিতে ঘরেতে বিশ্রাম নিচ্ছো
তখন এক পশলা বৃষ্টি নিয়ে,
তোমার উঠোনে এসে দাঁড়াবো।
তখন ঐ রিমিঝিম বরিষণে,
তুমি কি ঘরেতে আনমনে বসে থাকবে?
না কি বাইরে এসে আমার সাথে বৃষ্টিস্নান করবে?
আমি আসবো ফিরে,
তোমার ঐ সুখের নীড়ে।
কোনো এক অলস বিকেলে
যখন ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরবে,
রঙধনুর সবটুকু আবিড় নিয়ে
তোমার বাড়ি ফেরার পথে দাঁড়িয়ে থাকবো।
তখন কি আমায় পাশ কাটিয়ে চলে যাবে?
না কি আমার সাথে আবিড় মেখে রঙিন হবে?
আমি আসবো ফিরে,
তোমার ঐ সুখের নীড়ে।
পশ্চিম আকাশে যখন সূর্য ঢলে পড়ে
আলো আঁধারের অপ্ররূপ সৌন্দর্য্য খেলা করে,
তোমার মন অবসন্ন হয়ে পড়ে
মুঠোভরে লাল রঙ নিয়ে তোমার সামনে দাঁড়াবো।
তুমি কি তখন আমায় না চেনার ভান করবে?
না কি গোধূলীর সৌন্দর্য্যের মাঝে
আমাকে পেয়ে উচ্ছসিত হবে।
আমি আসবো ফিরে,
তোমার ঐ সুখের নীড়ে।
সন্ধ্যা আকাশে যখন তারাদের অবিরাম ছুটোছুটি
শুকতারাটা মিটমিট করে জ্বলে,
জোনাক পাখি পিদিম জ্বালায়,
আনমনে তুমি আকাশ পানে নিমগ্নচিত্তে তাকিয়ে থাকো
ঠিক তখন মাটির প্রদীপ হাতে
তোমার ঘরের সামনে এসে দাঁড়াবো।
তখন কি তুমি আনমনে কিছু ভাববে?
না কি প্রদীপের আলোয় আমায় দেখে পুলকিত হবে?
আমি আসবো ফিরে,
তোমার ঐ সুখের নীড়ে।
নিশুত রাতে যখন পূর্ণিমার জোছনায়
চারিদিক আলোতে আলোতে মাখামাখি,
হাসনা হেনার সুবাসে চারিপাশ মোহবিষ্ট,
তখন রূপোলী জোছনা অঙ্গে মেখে
মুঠোভরে হাসনা হেনার সুবাস নিয়ে,
তোমার দ্বারে এসে দাঁড়াবো।
তুমি কি ফুলের মিষ্টি সুবাসেও ঘুমিয়ে থাকবে?
রূপোলী জোছনা অঙ্গে মাখবে না?
না কি জোছনামাখা আমাকে দেখে আবেগে আপ্লুত হবে?
ভালোবেসে বাহুডোরে বাঁধবে ?
আমি আসবো ফিরে,
তোমার ঐ সুখের নীড়ে।






