ছায়াশীতল সবুজে ঘেরা হিজলতলী গাঁয়ের মানুষেরা মিলেমিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করে। সুখে দুখে একে অপরের আত্মার আত্মীয় । রফিক হাসান শান্তশিষ্ট ভদ্র মানুষ। গ্রামের বিভিন্ন সমস্যায় তিনিই অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। কারোর বিপদ হলে রফিক সেখানে ছুটে যায়। তাই গ্রামের সকলে রফিক ও তার পরিবারের সবাইকে অনেক ভালোবাসে।রফিকের ছেলে শফিকও বাবার মতো ভালো। আবার এই গ্রামেই বাস করে দুষ্টু রুবেল। কথায় কথায় মানুষকে বোকা বানাতে খুব পছন্দ করে।
একদিন ভরদুপুরে গাঁয়ের রাস্তায় সে হেঁটে বাড়ি যাচ্ছিল।তখন একটু দূরে শফিককে দেখে আছাড় খাওয়ার ভঙিতে রাস্তায় বসে জোরে জোরে বলতে থাকে বাবা গো মা গো আমাকে কুকুরে কামড়েছে।কে আছো বাঁচাও বাঁচাও। দূর থেকে শফিক রুবেলের ডাক শুনে দৌড়ে কাছে এসে রুবেলের পায়ের কাছে এসে বসে পরে আর তখনই রুবেল খিলখিল করে হেসে উঠে।বসা থেকে দাঁড়িয়ে বলতে থাকে শফিক তুই এতোদিনেও আমাকে চিনলি না। যা আমার কিচ্ছু হয়নি। আমি তো দেখলাম তুই কি করিস।
শোন রুবেল মিথ্যা বলা মহাপাপ।এভাবে মিথ্যা কথা বলে আর কাউকে ডাকিস না। ভালো থাকিস ।এই বলে শফিক চলে গেলো। কিন্তু দুষ্টু রুবেলের চরিত্র একটুও বদলায়নি সে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মিথ্যা কথা বলে অন্যদের হয়রানি করে।
এইতো সেদিন নদীতে গোসল করতে গিয়ে দুষ্টু বুদ্ধি আঁটে। নদীতে অনেকেই এক সময়ে গোসল করতে যায়।আজ শফিকের সাথে ছোটো বাচ্চারাও গোসল করতে নামছে। রুবেল গোসল করতে গিয়ে নিজের পায়ে নিজেই নখের আঁচড় দিয়ে উপরে উঠে বলতে থাকে এই দেখ আমার পায়ে সাপে কামড়েছে। এই কথা শুনে শফিক তাড়াতাড়ি রুবেলের কাছে আসে। পায়ের ক্ষত দেখতে গেলেই বলে আমার কিচ্ছু হয়নি । এভাবেই দিনের পর দিন বিভিন্ন মিথ্যা গল্প বলে অন্যদেরকে বোকা বানায়।
সেদিন রাতে চারিদিক যখন ঘন আঁধারে ঢাকা ছিলো।তখন রুবেলের মাথায় মিথ্যা গল্পের চিন্তা ভর করে। সে ভাবতে থাকে কিভাবে এই রাতে ঘরের বাইরে আনা যায়। একটা রশি কালো কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে সাপের মতো করে আগে থেকেই বিছানায় রেখে দেয়। সবাই যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন জোরে জোরে বলতে থাকে বাঁচাও বাঁচাও আমার বিছানায় সাপ এসেছে। আমাকে কামড়ে দিলো। রুবেলের ডাকে সবাই দৌড়ে রুবেলের ঘরে আসার সাথে সাথে বলতে থাকে ঐ যে দেখ সাপ। রুবেলের বাবা লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করতে থাকে আর রুবেল তখন হাসতে হাসতে বলে বাবা ওটা সাপ না ওটাতো রশি। ছেলের কথায় রেগে রুবেলকে মারতে গেলে দৌড়ে মায়ের পিছনে লুকায়। রুবেলকে সবাই মিলে বুঝিয়েও ঠিক করতে পারছেনা। দিন দিন ওর মিথ্যা বলে মানুষকে হয়রানি করা বেড়েই চলছে।
সেদিন একাই বিকেলে রুবেল ওদের বাগানে হাঁটতেছিলো। আর মনে মনে ভাবে কিভাবে শফিক আর অন্যদের বোকা বানাবে।আনমনে হাঁটার সময় ওর মনে হলো পায়ে কাঁটার মতো কি যেনো বিঁধেছে। নিচু হয়ে তাকাতেই দেখে একটা সাপ। তখনই জোরে জোরে বাঁচাও বাঁচাও বলতে থাকে। ওর ডাক অনেকের কানে গেলেও কেউ সেদিন এগিয়ে আসে না। সবাই ভাবে ও আজও মিথ্যাই বলছে। একসময় ওর সারা শরীর সাপের বিষে নীল হতে থাকে এবং মাটিতে লুটিয়ে পরে। ঐ বাগানের পাশের রাস্তা দিয়ে শফিক ফিরছিলো । রুবেলের গোঙানির শব্দে বাগানে এসে দেখে রুবেল মাটিতে পরে গোঙাচ্ছে। রুবেলের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে কি রে আজ আবার কোন নাটক করছিস? রুবেল আস্তে আস্তে বলে আজ আর মিথ্যা নয় আজ সত্যিইইই সাপে কেটেছে। এই কথা বলে জ্ঞান হারায়। শফিক রুবেলকে কলের উপর তুলে ওর বাবা মাকে ডাকতে থাকে। সবাই মিলে ওকে হাসপাতালে নেবার পরই ডাক্তার বলে যে রুবেল আর নাই। রুবেলের বাবা মা সহ সবাই কান্নায় ভেঙে পরে। শফিক শুধু বলে মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে এটাই ধ্রুব সত্যি কথা।
( দুষ্টুমি করেও কখনো মিথ্যা কথা বলতে নেই। মিথ্যা মানুষকে বড় ধরণের বিপদে ফেলে দেয়।মিথ্যাই ধ্বংস করে সব।)







Your articles are consistently top-notch. Keep up the great work!
Thanks a lot