সকল ধর্মেই নারীর মর্যাদা সর্বোচ্চ আসনে
কিন্তু বাস্তবে নারী কি পায় সেই সম্মান?
ভিন্ন ভিন্ন রূপে নারীর বিচরণ এই ধরায়
আর সব ক্ষেত্রেই পায় ধিক্কার আর অপমান।
যে নারীর গর্ভে জন্ম নিয়ে পৃথিবীতে আগমন
তাকেই আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেই বৃদ্ধাশ্রমে বা রাস্তায়
নারী মানেই খেলার পুতুল
যার মন যেভাবে চায় সেভাবেই খেলে যায়।
হোক সে বাবা,ভাই,প্রেমিক, স্বামী, পুত্র
কারোর কাছে নারীর ইচ্ছার দাম নাই
বাবার কাছে মেয়ে রাজকন্যা ততক্ষণ
যতক্ষণ তার পুত্র না জন্মায়
ছেলে জন্মালেই মেয়ে হয় পর
তাইতো বাবাও আগের মতো করে না আদর।
যেখানে জন্মদাতা পিতাই মেয়েকে অবহেলা করে
সেখানে আর কারোর কাছে কিছু প্রত্যাশা করা ভুল,
আজীবন ভাইয়ের জন্যে বোন অন্ত প্রান
বোন ভাইয়ের কাছে আহ্লাদী ততক্ষণ
যতক্ষণ বাবার সম্পত্তিতে বোন ভাগ না নেয়।
আর প্রেমিক সেতো বড় স্বার্থপর
তার মনের চাওয়া মেটাতে না পারলে
ওখানেই সম্পর্কের যবনিকা টানে।
নারীর কাছে স্বামী পরম ধন আরাধনার পুরুষ
যার কাছে মনের সব ইচ্ছে অবলীলায় বলা যায়
যাকে আঁকড়ে ধরে আজীবন থাকতে চায়
সেই স্বামী নামক প্রাণীও নারীকে ভালোবাসে না।
স্ত্রীকে মনে করে ভোগের সামগ্রী
মনে করে স্ত্রী মানেই সংসার ঠিক রাখার মেশিন
তার ইচ্ছে অনিচ্ছা কিছু থাকাই অপরাধ।
তাইতো দাম্পত্য কলহ লেগে থাকে
না হয় নারী তার আমিত্বকে বিসর্জন দিয়ে সংসার করে।
আর নিজ গর্ভে দশ মাস ধারণ করে
তীব্র প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করে
যে সন্তান ভূমিষ্ট হয়
যাকে দেখে মা সব কষ্ট ভুলে এক নিমিষে
সেই সন্তান বড় হলেই ভুলে যায় মায়ের অবদান
তাইতো মাকে মনে হয় সেকেলে
মনে হয় সংসারের বোঝা
মাকে অপমান করতে একটুও খারাপ লাগে না।
আমরা বর্তমান সমাজকে সভ্য বলে দাবী করি
কিন্তু আমরা কি সত্যিই সভ্য হতে পেরেছি?
যদি সভ্যই হতাম তাহলে
কি করে যেখানে সেখানে ধর্ষিতা হয়
চার বছরের শিশু কন্যা,বৃদ্ধা,পাগলী?
কর্মক্ষেত্রে পায় না শ্রমের উপযুক্ত মূল্য
বাসে ট্রামে হতে হয় নাজেহাল
নারী দিবস এলেই মঞ্চে উঠে
হাজারো বক্তা নারীদের সম্মান নিয়ে বক্তব্য দেয়
কিন্তু সারাবছর অনাদরে অবহেলায় নারীর পথচলা
কেউ দেখে না কেউ বোঝে না।
যারা মঞ্চে উঠে নারীর স্বাধীনতার কথা বলে
খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তার পরিবারেই নারী অবহেলিত।
মুখে মুখে নারীদের মর্যাদার কথা অনেকেই বলে
কিন্তু বাস্তবে সবাই এর বিপরীতে।
তাই তো সবার কাছে বলছি করজোড়ে
আর কোনো নারীকে করোনা অপমান
সম্মান আর শ্রদ্ধায় বেঁচে থাক মাতৃ কূল
তাদের কাছে করি না যেন কোনো ভুল।






