আজ খুব ইচ্ছে করছে
ভোরের সোনা ঝরা মিষ্টি
রোদ্দুরের উষ্ণতা গায়ে মাখি,
সমীরণের পরশে তনুমনে শিহরণ জাগুক
আর এই শিহরণে সে আমায়
জড়িয়ে কাছে টানুক ,
দুর্বাঘাস যেমনি শিশিরকে জড়িয়ে রাখে
আমিও তেমনি তাকে জড়াতে চাই।
ইচ্ছে করছে তার হাতটি ধরে
হেঁটে যাই অনেকটা পথ,
যেখানে নদী এসে মিশেছে
সেই নদীর পাড়ের উত্তপ্ত বালু মাড়িয়ে
নদীরে জলে সিক্ত হই তার সনে,
সাঁতার কাটি তার কাঁধ ছুঁয়ে ,
নদীতে যে পালতোলা নৌকা চলে
মাঝি গান গায় আপন মনে ,
আমার যে ইচ্ছে করছে
সেই পালতোলা নৌকায় চড়ে
দুজনে ভেসে বেড়াই অজানায়।
হাঁসফাস করা তপ্ত দুপুরে
গাঁয়ের যেথায় মিঠাপুকুর আছে
যেখানে পানকৌড়ি খেলছে আপন মনে
সে ছায়াশীতল ঠাণ্ডা জলে
তাকে নিয়ে জলকেলীতে মেতে উঠি।
মধ্য পুকুর থেকে নীল পদ্ম
এনে আমার খোঁপায় গুঁজে দিক।
ঐ যে পথের ধারে
কৃষ্ণচূড়া গাহ ফুলেফুলে সেজেছে
সেই গাছের নীচে ফুলের বিছানায়
তার পাশে বসে থাকি,
হটাৎ দমকা হাওয়ায় ফুলগুলো
যেনো ঝরে পরে মোদের গায়।
গোধূলীর লাল আভায় তার
সাথে রঙিন হতে ইচ্ছে করছে,
পশ্চিম আকাশটা যেমনি আবিরে মাখামাখি
তার সাথেও তেমনি জড়াতে ইচ্ছে করছে।
সাঁঝের বেলায় জোনাক পাখি
যখন পিদিম জ্বালায়
তখন ঘরেতে মন টিকে না
ছুটে যেতে ইচ্ছে করে,
আলো আঁধারের ঐ সৌন্দর্যের মাঝে
তাকে নিবিষ্ট করে জড়িয়ে
বলতে চাই ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’।
ঐ যে তারা ভরা আকাশ
যেথা তারাদের অবিরাম ছুটোছুটি
আর সেই ছুটোছুটি দেখে
তাকে আরও শক্ত করে
বাহুডোরে বাঁধতে ইচ্ছে করছে
যেনো সে কোথাও যেতে না পারে।
ঐ যে নিশিরাত ,চারিদিক স্তব্ধ
আকাশে পূর্ণ শশীর আলোক বিচ্ছুরণ
জোছনার প্লাবনে চারিদিক প্লাবিত
আর আমার ভাবনায় শুধু সে আর সে
জানালার ফাঁকে এক ফালি চাঁদ
আমায় হাতছানিতে ডাকছে,
আর আমার যে তার সাথে
জোছনায় অঙ্গ ভেজাতে ইচ্ছে করছে।
বাড়ির উঠোনের হাসনাহেনার সুরভি
ভেসে আসছে ক্ষণে ক্ষণে
আর আজ আমার খুব ইচ্ছে করছে
এই উঠোনেই তার বুকে মাথা রাখি
ঘুমিয়ে পরি নিশিন্তে নিভৃতে।
ঘুমের ঘোরে হারিয়ে যেতে চাই
স্বর্গ সুখের মোহনায়।
যতো দূরে থাকুক সে
তবুও সে মিশে আছে
আমার অস্তিত্বে আমার হৃদয়ে।






