আজিজুন নাহার আঁখি

সর্বনাশী দরিয়া

ঐ দরিয়া আমার পরাণ মাঝি কবে আইব?

হেই যে মাছ ধরবার তোর দরিয়ায় নাও ভাসান দিল

আর তো ফিরা আইল না।

তারে কত্তোবার বারণ করছিলাম

এই ভরা অমাবস্যায় দইরায় নাও নিয়া যাইও না।

হেই মানুষডা যাওনের পরের দিন থিক্যা দরিয়া যেন ভয়ংকর অইছিল

হেদিন আসমানডা কত্তো কালা অইছিল

আচমকা বিজলী আর বিজলী চমকায়ছিল

ম্যাগের গুড়ুম গুড়ুম শব্দে পরাণডা ডরে কাঁপতেছিল।

একদিকে আসমান ফাইটা তুমুল ঝড়ি তুফান

আরেকদিকে দরিয়ার বুকে ঢেউয়ের পরে ঢেউ

দরিয়ার গোঙানির শব্দে বুকের ভেতর

ভূমিকম্পের লাহান কাঁপন উঠলো।

তুই শান্ত হ, আমাগো মাফ কইরা দে

তোর বুকে কত্তো কি আছে

তাও কেন তুই আমাগো সব কাইড়া নিবার চাস?

আল্লাহ গো আমাগো বাঁচাও আমাগো বাঁচাও

মানুষডারে ভালোই ভালোই ঘরত ফিরাও।

ঐ দরিয়া তুই এ কি করলি?

আমার ঘর বাড়ি সব কাইড়া নিলি?

আর আমার পরানের মানুষডারে?

দে দে ফিরাইয়া দে ——

তোর পেটে এতো খিদা?

আমার সব কাইড়া এহন চুপ অইছস?

হেই মানুষডাতো তোরে অনেক ভালো বাসতো

আর তুই কি না তারেও খাইলি?

সর্বনাশী দরিয়া তুই আর কতো নিবি?

তুই কি শুনতেছস আমার বুকের ভেতর মোচড় দিতাছে

বুকের পাঁজর ভাইঙ্গা যাইতাছে

চক্ষের পানির বান বইতাছে।

বুকের ভেতর এ কি আগুন জ্বলাইলি?

আমি কি করে সইমু,কই গিয়া পরাণ জুরামু?

ঐ সর্বনাশী ঐ রাক্ষুসী

দে তারে ফিরাইয়া দে

নাইলে আমারেও তার কাছে নে।

Leave a Comment