আজিজুন নাহার আঁখি

নয়া মাঝি তোমার লাইগ্যা মনটা বড় পুড়ে

হেই যে তুমি আশ্বিন মাসে ফেরার

কতা কইয়া চইল্যা গেলা

আর তো ফিরা আইল্যা না

গাঙের জলে কতো নাও আহে আর যায়

খালি তোমার নাও আহে না।

হেই যে আষাঢ় মাসে যহন গাঙ

ভরা অথৈ পানি আর পানি

তহন বিহান বেলায় তোমার

লগে আমার পরথম দেহা

তোমার কি মনে আছে?

আমি কলসি কাঁকে পানি

আনবার যেই গাঙে গেছি

ঠিক তহন একখান নয়া নাও

আমাগো ঘাটে ভিরল।

পানির মধ্যে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ

শব্দে আমি তহন চাইয়া তোমারে দেহি

একবার দেইহাই শরমে মুখটা

নিচের দিকে লুকাইছিলাম।

ও নয়া মাঝি তোমার মনে পরে?

তুমি আমাগো পাশের গেরামের

মন্ডল বাড়িতে কামের জন্য আইছিলা

আর তহন আমার লগে তোমার

পরাই পরাই গাঙের ঘাটে দেহা অইতো

একদিন তুমিই তো আমারে ভালোবাসার কথা কইছিলা

আমারে নিয়া ঘর বাঁন্দার স্বপন দেহাইছিলা

ও নয়া মাঝি তোমার মনে পরে?

হেই যে হাজের বেলায় বট গাছের তলে

আমার হাতে হাত রাইখ্যা কইছিলা

তুমি আমারে ছাড়া বাঁচবা না

আমিও তোমার কথা বিশ্বাস করছিলাম।

তুমি যেদিন চইল্যা গেলা

হেদিন বুকের ভেতর মোচড় দিয়া উঠছিল

তোমার লাইগ্যা চক্ষের পানি গড়াইয়া মাটিতে পরছিল

আর তুমি তহন তোমার গামছা দিয়া

আমার গাল মুখ মুছাইয়া দিয়া কইছিলা

এই যে কলমিলতা কান্দো কেন

আমি তো আশ্বিন মাসেই ফিরা আমু।

নয়া মাঝি তোমার লাইগ্যা চক্ষের পানি

আর গাঙের পানি এক অইয়া যায়

গাঙের পানিতে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ

শব্দে বুকের পাঁজর ভাইঙ্গা পড়ে

অন্তরডা পোড়ে আর জ্বলে

নয়া মাঝি কতো আশ্বিন আইলো আর গেলো

কতো নাও ঘাটে ভিরল

খালি তুমিই আইলা না

ভিনদেশের মানুষ তুমি কেমনে তোমারে খুঁজি?

আমারে ভুইলা তুমি ভালো আছো নি?

Leave a Comment