আজিজুন নাহার আঁখি

তোমার ইট পাথরের প্রাণহীন শহরে
আবেগ অনুভূতির মূল্য কতটুকু?
ব্যস্ততায় মোড়ানো জীবন তোমার
আর আমি সেখানে বারবার আসি
তোমার ঐ কংক্রিটের শহরে আমি অচল আধুলি
না রাখা যায় বুক পকেটে
না রাখা যায় ঘরের মূল্যবান জিনিসের সাথে
তাইতো তোমার ঐ অমূল্য শহুরে জীবনে
আমি ক্ষণিকের অতিথি মাত্র
আসলে আমি কি এখানে বেমানান?

শহরের নিয়ন বাতির ঝলমলে আলোয়
আমাকে কি একটুও মানায়?
আমি তো সাদাসিধে সেকেলে মানুষ
তোমার ঐ রঙিন জীবনে
তাইতো ক্ষণিকের জন্য আমার যাওয়া আসা।

যদিও আমি শহুরে জীবনে অভ্যস্ত নই
শুধু তোমাকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে যাই
তোমার কথা, তোমার হাসি, তোমার অনুভব
আমাকে বারবার তোমার কাছে নিয়ে যায়।

অবশ্য আমি তোমার নিবিড় সান্নিধ্য চাইনা
দামী রেস্টুরেন্টে খেতেও চাইনা
দামী গাড়িতে ঘুরতেও চাইনা
ফুটপাতের রাস্তায় পাশাপাশি হাটলেই চলবে
নয়তো পার্কের কোনো বেঞ্চে বা নরম ঘাসে
তোমার মুখোমুখি বসে গল্প করতে পারলেই হবে।

মাঝে মাঝে তোমায় খুব মনে পড়ে
খুব ইচ্ছে করে তোমার কাছে যেতে
তাইতো দূর থেকে ছুটে যাই
আর তুমি আমাকে না পারো রাখতে
না পারো এটা সেটা বলে ফিরিয়ে দিতে
আচ্ছা আমি গেলে কি শহরে কারফিউ জারি হয়?

শহরের প্রবেশ দ্বারে কি পাহারায় বসে?
তোমাকে দেখার জন্য আমাকে কি বন্দী করবে?
না কি তুমি অস্বস্তি বোধ করো
আমি সেকেলে আমি বেমানান বলে।

তুমি কি জানো আমি যখন ফিরে আসি
তখন আমার বুক ফেটে কান্না আসে
আমার হৃদ স্পন্দন দ্রুত উঠানামা করে
চোখের জল গড়িয়ে পড়ে
কিছুক্ষণের জন্য আমি নিজেকে কোথায় যেন হারিয়ে ফেলি
ইচ্ছে করে আবার ছুটে যাই
তোমার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলি
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।

মনে হয় তুমিও আমার সান্নিধ্য পছন্দ করো
আমার সাথে পথ চলতে তোমারও ভালো লাগে
কি এক অদৃশ্য সূতোর টান অনুভব করি।
না হোক সারাবেলা কাছে থাকা
না হোক মুখোমুখি বসে গল্প করা
না হোক একটুখানি ছুঁয়ে দেয়া
না হোক হাতে হাত রাখা
তবুও আমি ক্ষণিকের জন্যই ছুটে যাব বারেবারে।

এই যে আমার জন্য তোমার অপেক্ষা
পথ চলতে আমাকে আগলে রাখা
আমার গন্তব্যে পৌঁছাতে এগিয়ে দেয়া
এসবই আমাকে ভালো রাখে।

আমি তোমার স্পর্শময় ভালোবাসা চাইনা
আমি তোমার হৃদয় গহীনে লেগে থাকতে চাই
আবার আসব ফিরে তোমার ঐ প্রাণহীন শহরে
হয়তো শিশির ভেজা স্নিগ্ধ সকালে
হয়তো কোনো রোদ মাখা দুপুরে
নয়তো বা বৃষ্টিভেজা বিকেলে।

Leave a Comment