আজিজুন নাহার আঁখি

আমি এক লড়াকু সৈনিকের কথা বলছি

যিনি মেহনতী মানুষের দাবী আদায়ে

রাজপথে আন্দোলন করেছেন,

ভূমিহীন মানুষের আশ্রয়ের জন্য

অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

আমি এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কথা বলছি

দেশের জন্যে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন

নিজের জীবন বাজি রেখে

শত্রুর মোকাবিলা করেছেন

ছিনিয়ে এনেছেন স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য।

আমি এক প্রতিবাদী বীরের কথা বলছি

যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন

নিজের জন্যে নয় অন্যের ভালোর জন্য

আজীবন লড়াই করে গেছেন।

আমি এক অগ্র পথিকের কথা বলছি

যিনি ন্যায়ের পথের দিশারি ছিলেন

যার আদর্শে হাজারো জনতা

সাম্যের চাদরে মিলিত হয়েছেন।

আমি এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের কথা বলছি

যার বক্তৃতায় মানুষ উজ্জীবিত হতো

যার আহবানে হাজারো জনতা ছুটে আসতো

ঘন্টার পর ঘন্টা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতো

যার কথনে তনুমনে শিহরণ লাগতো

অসহায় মানুষের মনে আশার সঞ্চার হতো

নিপীড়িত জনতার মনে সাহস জোগাতো।

আমি এক ন্যায় বিচারকের কথা বলছি

গ্রামে গঞ্জে মানুষের বিবাদ দমনে

যিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখতেন

কখনো পক্ষপাতিত্ব করেননি

ধনী গরীব কখনো ভেদাভেদ করেননি,

তিনি সদা জুলুমকারীকে প্রতিহত করেছেন।

আমি এক সাহসী নেতৃত্বের কথা বলছি

যিনি নিজের বিপদ হবে জেনেও

সব অন্যায়ের প্রতিবাদে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন

অর্থের কাছে নিজেকে বিকিয়ে দেননি

মানুষের বিপদে অদম্য সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতেন।

আমি এক সমাজ সংষ্কারকের কথা বলছি

যিনি সমাজের বিভিন্ন অসংগতি দূর করতে

সবার মনে আশার আলো জাগাতেন

যিনি ধনী গরীব এক কাতারে শামিলের জন্য

আজীবন কাজ করে গেছেন

নির্যাতিত নিপীড়িত জনতার পাশে থেকেছেন।

আমি এক সংগঠকের কথা বলছি

যিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সগঠন

প্রতিষ্ঠা করতে নিবেদিত প্রাণ ছিলেন

তরুন যুবক প্রবীন সকলের সাথে

বন্ধুর মতো মিশেছেন

সবাইকে সংগঠিত করার জন্য

আজীবন কাজ করে গেছেন।

আমি এক শিক্ষাবিদের কথা বলছি

যিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন

শিক্ষায় তিনি সেরা সাফল্য পেয়েছেন

যিনি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন

যিনি অজপাড়াগাঁ থেকে শহরের

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আমি এক নির্লোভ আইনজীবীর কথা বলছি

অবসর কালীন সময়ে আইন পেশায়

দক্ষতার সাথে প্রতি পক্ষের সাথে লড়েছেন

যিনি আইনজীবী হয়েও মক্কেলকে

নিজের বাসায় আশ্রয় দিতেন

নিজ পরিবারের সদস্যদের মতো

তাদের দেখাশোনা করতেন।

আমি এক রাজনীতিবিদের কথা বলছি

যিনি আজীবন একটা দলের সাথে থেকেছেন

সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য মেহনতী দরিদ্র

মানুষের দাবী আদায়ে রাজপথে নেমেছেন

যাকে পদমর্যাদা, ক্ষমতা গ্রাস কর‍তে পারেনি

নিজের বসবাসের বাড়ির একটা অংশ

তার দলের জন্য দিয়ে গেছেন।

হ্যাঁ আমি এক মহা নায়কের কথা বলছি

যিনি পরের তরে নিজের জীবন বিলিয়ে

দিতে কভু কুন্ঠা বোধ করেননি

যিনি এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গিয়েও

আজও সবার অন্তরে গেঁথে আছেন

হে মহা নায়ক তোমার মৃত্যু নাই

তুমি অমর তুমি চিরঞ্জীব

যতদিন আলো বাতাস থাকবে

ততদিন তুমিও বেঁচে রবে

তোমার আদর্শে তোমার কর্মে

তুমি আজীবন মহা নায়কের মতো থাকবে।

Leave a Comment