রাকিব সাহেব ও রাহাত সাহেব দুই ভাই। টাকা -পয়সা ও সম্পত্তি দুজনেরই সমান। তাদের দুই ভাইয়ের দুই ছেলে রনি আর জনি।রনি আর জনির বয়স প্রায় কাছাকাছি তাই তারা একই ক্লাসে পড়ে।রাকিব সাহেবের ছেলে রনি যখন যা চায় তখন তা পায়। রেস্টুরেন্টের খাবার তার প্রতিদিন চাই। ঘরে বসে বসে শুধু অর্ডার করে। ঘরের তৈরি কোনো খাবার সে পছন্দ করে না । বাইরের ফাস্টফুড খেয়ে খেয়ে তার দেহ অনেক মোটা হয়ে গেছে।পড়াশোনার দিকেও তেমন খেয়াল নেই। তার সব কথা সাথে সাথে পালন করা হয় বলে কোনো সময় তার চাওয়া পূরণ হতে দেরি হলে সে রেগে যায়। কারোর সাথে মিশে না, খেলাধুলা করে না।
অপরদিকে নিয়মিত জনি তার মায়ের হাতের তৈরি খাবার খায়। মাঝে মাঝে জনিও বাইরের খাবারের বায়না ধরে কিন্তু তার মা বাড়িতেই সেরকম খাবার রান্না করে খেতে দেয়। জনি মায়ের কাজেও টুকটাক সাহায্য করে। স্কুল ছুটির দিন সে তার বাবার সাথে বাজারে যায়। তাদের বাড়ির বাগানের কাজে সে সাহায্য করে। বিকেল হলেই সে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করে। জনির তেমন অসুখ বিসুখ হয় না। জনি নিয়মিত স্কুলে যায় ও মন দিয়ে পড়াশোনা করে। পরীক্ষায় বরাবর সে ভালো ফলাফল করে। তাই তাকে সবাই পছন্দ করে ও ভালোবাসে।
বার্ষিক পরীক্ষার কয়েকদিন আগে হটাৎ করে রনি অসুস্থ হয়ে যায়। তার ডায়রিয়ার প্রকোপ এতো বেশি হয় যে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। রনির কিডনীর সমস্যা ধরা পরে ও মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে থাকার দরুণ বার্ষিক পরীক্ষা দিতে পারে না। এদিকে জনি বার্ষিক পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতি নিয়ে অংশগ্রহণ করে। জনি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নিত হয়।
এই গল্পের শিক্ষনীয় দিক হলো সহজে কোনো কিছু পেলে সে নিজে কিছু করতে পারে না। আর বাইরের ফাস্টফুড সহ অন্যান্য খাবার নিয়মিত খেলে ডায়রিয়া সহ কিডনী ডিসিজের মতো বড় কোনো রোগ হবার ঝুঁকি তাকে। তাই বাড়ির তৈরি খাবার খেতে হবে ,নিয়মিত খেলাধুলা করতে হবে, নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে তাহলেই জীবনে সাফল্য আসবে।






