আজিজুন নাহার আঁখি

রুমা আর সোমা দুই বোন। রুমা বড় আর সোমা ছোটো। রুমা দেখতে ফর্সা আর সোমা কালো। তাই রুমা সব সময় সোমাকে তাচ্ছিল্য করে। ওদের বাবা-মা দুইজনের জন্য পোশাক বা খাবার যা কিছুই আনুক না কেন রুমা সব সময় আগে নেয় এবং বেশি নেয়। ভালো ভাল খাবার সোমাকে না দিয়ে নিজে খেয়ে ফেলে।সোমা অবশ্য রুমার সাথে হিংসা করেনা।

একদিন দুই বোন নানার বাড়ি থেকে ফেরার পথে হেলে যাওয়া একটা পেঁপেঁ গাছ দেখতে পায়। সোমা গাছটাকে একটা লাঠি দিয়ে ঠেকনা দেয়।আর রুমা বলে কিরে তুই আবার গাছের ঠেকনা দিলি কেন?
তখন গাছটা বলে উঠে তুমি আমার প্রাণ রক্ষা করলে ,এর জন্য তুমি কি চাও? সোমা গাছের কথা শুনে অবাক হয় এবং বলে আমার কিছু চাইনা। পেঁপেঁ গাছ বলে উঠে, তুমি সন্ধ্যা বেলায় আমার কাছে এসো তোমাকে আমি সোনার পেঁপেঁ দিব। রুমা গাছের কথা শুনে খলখলিয়ে হেসে উঠে।

দুই বোন বাড়ি ফিরে যায়। সন্ধ্যার সময় মা সোমা আর রুমাকে পড়তে বসতে বলে। সোমা বই নিয়ে পড়তে বসে। কিন্তু রুমার তখন পেঁপেঁ গাছের কথা মনে পরে যায়।রুমা কাউকে না বলে পেঁপেঁ গাছের কাছে গিয়ে বলে ,এই পেঁপেঁ গাছ আমি এসেছি তুমি আমাকে সোনার পেঁপেঁ দাও। রুমা পেঁপেঁ গাছের কাছে চাওয়া মাত্র একটা সোনার পেঁপেঁ মাটিতে ফেলে। তা দেখে রুমার চোখ খুশিতে আর লোভে চকচক করে উঠে। সে গাছের কাছে আবার সোনার পেঁপেঁ চায় তখন গাছ বলে উঠে আজ আর নয়, কাল এসো তখন দিব। তখন রুমা বলে উঠে তুমি যদি আমাকে আরও সোনার পেঁপেঁ না দাও তাহলে তোমার ঠেকনা সরিয়ে তোমার সব পেঁপেঁ নিয়ে যাব। পেঁপেঁ গাছ বলে দোহাই তোমার তুমি আমাকে মেরো না ।আগামীকাল এসো তখন তোমাকে দিব।

এ কথা শুনে রুমার রাগ হয় আর সে গাছের ঠেকনা ধরে টান দেবার সাথে সাথে পেঁপেঁ গাছে তার উপর চাপা দেয়। পেঁপেঁ গাছের সব পেঁপেঁ পাথরের মতো ওজন হয়ে রুমার সারা শরীরে চাপা দেয় যার জন্য রুমা উঠতে পারে না। চাপা পরে সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। এদিকে সোমা ,বড় বোন রুমাকে খোঁজার জন্য বাড়ির বাইরে এসে দেখে রুমা গাছের চাপায় মুমূর্ষ অবস্থায় পরে আছে। সোমা তখন সব পেঁপেঁ সরিয়ে রুমাকে বাঁচায়। বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে রুমাও বুঝতে পারে যে তার লোভ করা ঠিক হয়নি। আর সোমাকে যে সে এতোদিন তাচ্ছিল্য করতো সেটাও ঠিক হয়নি। ছোটো বোন সোমাকে বলে আমি আর তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করব না। পেঁপেঁ গাছ রুমার মনের পরিবর্তন দেখে সব পাথর পেঁপেঁ সোনার পেঁপেঁতে রুপান্তর করে তাদেরকে নিতে বলে।

গল্পের সারমর্ম হলো অতি লোভ করা ভালো না। আর অন্যায় করে সেটা বুঝে অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে সংশোধন করলে পুরুষ্কার লাভ করা যায়।

Leave a Comment