দাম্পত্য জীবন সুখকর হওয়া সৌভাগ্যের। ক’জন স্বামী স্ত্রী আজীবন একে অপরের পরিপূরক হতে পারে? এসব প্রশ্ন অনেকের মনেই নাড়া দেয়। বিবাহ এমন একটা সামাজিক স্বীকৃতি ও সামাজিক, পারিবারিক বন্ধন।
যেখানে দু’জন মানুষ দুই পরিবেশে জন্ম নিয়ে ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠে বিবাহ নামক বন্ধনে তারাই কাছের মানুষ হয়ে উঠে। মতের মিল না হলেও অনেকে মানিয়ে নিয়ে আজীবন একসাথে থাকে। একজন দম্পতির ঘরে আলো করে যখন সন্তান আসে তখন হয়তো দুজনের মাঝে কিছুটা দুরত্ব সৃষ্টি হয় কিন্তু সেটা ক্ষণিকের জন্য। আসলে তারা একে অপরের অবলম্বন।
স্বামী স্ত্রী তাদের দাম্পত্য জীবনে সুখী না হলেও যদি তারা এক ছাদের নীচে বাস করে তাহলে বৃদ্ধ বয়সে দুজনেই হয়ে উঠে দুজনের পরিপূরক। ঝগড়া হোক তবুও কেউ কাউকে ছাড়া থাকে না। দুজন দুজনের অবলম্বন হয়ে উঠে।আমাদের সমাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরাই পুরুষের সেবা শুশ্রূষা করে কিন্তু এর ব্যতিক্রমও কম না। নারী পুরুষে কিছু যায় আস না।
সেদিন হাসপাতালে একজন দম্পতির দেখা পেলাম।পুরুষ মানুষের বয়স আনুমানিক ৭৫/৮০ বছর আর মহিলার বয়স ৬৫/৭০ হবে। উনারা স্বামী স্ত্রী। স্ত্রী কিডনি পেসেন্ট তাই নিয়মমাফিক ডায়ালাইসিস করাতে হয়। আর ডায়ালাইসিসের সময় রোগীর নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এই সময়ে হাত পা মেসেজ করতে হয়। খাইয়ে দিতে হয়। সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখতে হয়।
আমার আব্বার প্রতি সপ্তাহে তিনটি ডায়ালাইসিস নিতে হয়। তাই আমি জানি এর যন্ত্রণা কতটা ভয়াবহ। আজ আমি আব্বার কাছে ছিলাম আর তখন পাশের বেডে এই কাকাকে দেখলাম স্ত্রীর হাত-পা মেসেজ করে দিচ্ছে। এই বয়সে এসে যখন উনার বিশ্রামে থাকার কথা সেখানে উনি স্ত্রীর বেডের পাশে বসে সেবা করে যাচ্ছেন। আসলে এমনই তো হওয়া উচিত। আমাদের পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবহেলা করা হয়। কিন্তু আজ যে দৃশ্য নিজ চোখে দেখলাম একটু সময়ের জন্য হলেও অশ্রুসিক্ত হয়েছিলাম। একজন বৃদ্ধ মানুষ আপন মনে স্ত্রীর সেবা করে যাচ্ছেন।
নার্সের কাছে জানতে পারলাম উনার তিন ছেলে,বউমা,এক মেয়ে,জামাই সহ নাতি নাতনি আছে কিন্তু এই অসুস্থতায় কেউ পাশে নেই। বৃদ্ধ বয়সে এসেও স্ত্রীকে খাইয়ে দিচ্ছে সেবা করছে। একেই বলে ভালোবাসা।
আল্লাহ পাক উনাদের ভালো রাখুন, নেক হায়াত দান করুন। সত্যিই ঐ আন্টি ভাগ্যবতী। আল্লাহ পাক উনাকে সুস্থ করে দিন।অসুস্থ স্ত্রীর জন্য যে ব্যকুলতা দেখেছি তা আমাদের সমাজে খুব কমই দেখা যায়। পরিবারের নারীদের অবদান থাকে কিন্তু অসুখ বিসুখে তারা উপযুক্ত চিকিৎসা বা সেবা পান না। কিন্তু উনি তার ব্যতিক্রম।আল্লাহ পাক উনাদের ভালো রাখুন, নেক হায়াত দান করুন। সত্যিই ঐ আন্টি ভাগ্যবতী। আল্লাহ পাক উনাকে সুস্থ করে দিন।
যাদের স্বামী বা স্ত্রী নেই অথবা কোনো কারণে দূরে আছে তারা ব্যতীত অন্যান্য সবার কাছে একটা অনুরোধ নিজেদের স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল হোন। কার ভাগ্যে কি আছে আল্লাহ পাক জানে। আজ যে সন্তানকে আমরা জীবন দিয়ে ভালোবাসি বৃদ্ধ বয়সে তারা কাছে আসবে না। হোক তাদের কাজের ব্যস্ততা হোক তাদের মানসিকতা। তাই সবাই নিজেদের পার্টনারকে গুরুত্ব দেই।
ভালো থাকুক সুখে থাকুক পৃথিবীর সকল দম্পতি। বিশ্বাসে নিঃশ্বাসে, ভরসায়,নির্ভরতায় এক আরেকজনের অবলম্বন হোক।






