আজিজুন নাহার আঁখি

রহস্যময় ভালোবাসা

শহরে কোল ঘেসে খরস্রোতা নদী বহমান। আর এই নদীর অদূরে শহর তলীর ছায়াঘেরা গ্রামে ছিমছাম চারচালা টিনের ঘরে রাহেলা তার মেয়েকে নিয়ে বাস করে। রাহেলা তার বাবার দেয়া জায়গায় বাড়ি করে বসবাস করেন। রাহেলার বিয়ে হয়েছিলো তাদের পাশের জেলায়। স্বামী সরকারি অফিসে করণিকের কাজ করতেন। বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে সে সুখেই ছিলো। বিয়ের বছর দুই পরে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় নাম রাখেন চাঁদনী।সত্যি চাঁদনী নামের সাথে তার চেহারার পুরোটা মিলে গেছে। মুখের দিকে তাকালেই মনে হয় চাঁদের আলো ঠিকরে পড়ছে।


একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বেশ সুখে শান্তিতে ছিলো রাহেলা ও তার স্বামী। কিন্তু এই সুখ তার কপালে বেশি দিন টিকেনি। মেয়ের বয়স যখন বয়স দুই বছর তখন হটাৎ স্ট্রোক করে রাহেলার স্বামী মারা যায়। অল্প বয়সে বিধবা হয়ে রাহেলা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে। রাহেলার বাবার জমিজমা বেশ ভালোই ছিলো আর শহরের কাছেই বাড়ি হওয়ার তার জমির দামও বেশ চড়া। মেয়েকে আবার বিয়ে দেবার জন্য অনেক চেষ্টা করেন কিন্তু রাহেলা কোনোভাবেই রাজি হয় না। দেখতে দেখতে চাঁদনী বড় হতে থাকে রাহেলার দুশ্চিন্তাও বাড়তে থাকে। মা মেয়ে যেন দুই বান্ধবী। চাঁদনী এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। রাহেলা সব সময় মেয়ের সাথে সাথে থাকে। মেয়েও মায়ের অন্ত প্রাণ।
রাহেলার মা চাঁদনী কে বিয়ে দেবার কথা বলে। একটা ভালো সম্বন্ধ এসেছে ছেলে ও ছেলের পরিবার অনেক ভালো। ছেলে ব্যবসা করে , বড় দুই ভাই সরকারি চাকরি করে। বাবা মারা গেছে অনেক আগে। ভাই বোনের মধ্যে এই ছেলেই ছোট। জমি জমা বেশি না থাকলেও সচ্ছলতা আছে। শুনলাম ছেলে নাকি অনেক ভদ্র। ছেলের পক্ষ আমাদের চাঁদনীকে দেখতে চায়, পছন্দ হলে বিয়ের পাকা কথা দিবে। তোর মামা এই প্রস্তাব দিছে।


মা আমার মেয়েকে এখনই বিয়ে দিতে বলছো? ওকে আমি আরও পড়াশোনা করাতে চাই। বিয়ের পরে পড়াশোনা করব। দেখ রাহেলা সব সময় ভালো ছেলে পাওয়া যায় না। আচ্ছা তারা আসুক আমরাও দেখি। দুই পক্ষের পছন্দ হলে হবে না হলে হবে না। আমার নাতনীকে তো যার তার হাতে তুলে দিব না। দেখে শুনে তারপর পাকা কথা দিব।

দুই পক্ষের দেখাদেখি আর আলাপে চাঁদনী আর বাদলের বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গেলো। আগামী মাসেই তাদের বিয়ের তারিখ ধার্য্য হলো।
চাঁদনীকে ছেলের বাড়ির সবাই দেখলেও বাদল দেখেনি আর চাঁদনীও দেখেনি। কিন্তু চাঁদনী বাদলের ছবি দেখেছে আর মনে মনে তাকে পছন্দ করেছে। বাদলের যেনো কোনো আগ্রহ নাই। ভাবীদের বলে দিল যে তোমরা যখন সবাই সুন্দর বলছো তখন আমার কাছেও সুন্দর লাগবে তাই দেখতে হবে না। এমন কি চাঁদনীর ছবিও দেখাতে চাইলেও সে দেখল না।
বাদল এমনিতেই কম কথা বলে তাই সে সবাইকে জানিয়ে দেয় যদি তোমাদের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করি তাহলে আমার দেখার দরকার নাই। আর যদি আমার পছন্দের মেয়ে বিয়ে করাও তাহলে তোমাদের মতামতের কোন জায়গা নাই। বাদলের মা বললেন ঠিক আছে তাহলে আমাদের পছন্দের পাত্রীকে তোমার বিয়ে করতে হবে। এভাবেই বিয়ের দিন ধার্য হয়।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার মাঝে আয়নায় প্রথম চাঁদনীকে দেখে। বাদল মনে মনে বলে বাহ সত্যিই তো সুন্দরী। তারপর বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ১২ টা বেজে যায়। এদিকে বাদলের দুই ভাবী ফুল দিয়ে বাসর ঘর সাজিয়ে রেখেছে।
ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বর কনেকে বাসর ঘরে দিয়ে সবাই চলে গেল।

চাঁদনীর মনে অনেক স্বপ্ন তার স্বামীকে নিয়ে। বাদলের যেনো আগ্রহ নাই। বাদল জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আকাশের চাঁদ দেখছে কিন্তু আজ তো তার ঘরেই জীবন্ত চাঁদ। তবুও কেন সে বাহির পানে তাকিয়ে আছে? এভাবেই কিছুক্ষণ কেটে গেলো। এদিকে চাঁদনী বাদলের মুখও ভালো মতো দেখেনি তাই সে আগ্রহ নিয়ে খাটে বসে আছে আর ভাবছে তাহলে কি বাদল তাকে পছন্দ করে নি? একটু পরে বাদল চাঁদনীর কাছে এসে বললো তুমি সত্যিই চাঁদের চেয়েও সুন্দর। চাঁদনী লজ্জায় লাল হয়ে যায় সেও আস্তে বলে আপনিও সুন্দর। এভাবেই দুজনের মধ্যে ভাব বিনিময়ে সময় কেটে যায়। ভালোবাসায় আচ্ছাদিত ছিলো সারারাত। ভোরের সোনালী রোদ্দুরের হাতছানিতে আর পাখির কলরবে ওদের ঘুম ভাঙে।

বাদল আর চাঁদনীর সংসারে ভালোবাসায় মাখামাখি। দুজনেই দুজনকে সারাক্ষণ চোখে হারায়। এভাবে প্রায় তিন মাস কেটে যায়। এক সপ্তাহ হলো চাঁদনী মায়ের কাছে বেড়াতে গেছে। মাঝে বাদল একদিনের জন্য গিয়েছিলো। শুক্রবার সকাল বেলায় বাদল চাঁদনীদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার জন্য ঘর থেকে বের হতেই হাতে ব্রিফকেস দেখে বাদলের মা জিজ্ঞেস করে কি রে এটা নিয়ে কোথায় যাস?
মা এখানে চাঁদনীর কিছু পোশাক আছে যা ওর লাগবে তাই নিয়ে যাচ্ছি। আর আমিও ২/৩ দিন থাকব।

ঠিক আছে বাবা সাবধানে যাও। মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে একটা রিক্সা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। চাঁদনী গোসল করতে নদীতে গেছে আর এমন সময় বাদল এসে পৌঁছে। চাঁদনীর মা জামাইকে ঘরে বসতে দিয়ে খাবারের জন্য ব্যস্ত হয়ে পরে। চাঁদনী গোসল করে কাপড় পালটে ঘরে ঢুকে বাদলকে দেখে খুব খুশি হয়ে। বাদল বিছানায় হেলান দিয়ে আছে আর চাঁদনী তাড়াতাড়ি স্বামীর কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে আর বাদলও তাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে ফেলে। এ যেনো স্বর্গ সুখের মোহনায় ওরা দুজন এক হয়ে গেছে।
খাটের কাছে বড় ব্রিফকেস দেখে চাঁদনী জিজ্ঞেস করে এটা এনেছ কেন? বাদল স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বলে আমরা দুজনে বেড়াতে যাব আজ রাতেই। এক্ষুনি গোছগাছ করে নাও। এটা আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য গিফট। আমাকে আগে বলোনি কেন?
আচ্ছা কোথায় যাব? আমরা কুয়াকাটা যাব ২/৩ দিন পরে ফিরব। তোমাকে সারপ্রাইজ দিব বলে আগে জানাইনি।

মেয়ে আর জামাইকে খাবার খেতে ডাকছে। খেতে বসে বাদল বলে আম্মা আমি আর চাঁদনী আজ রাতে কুয়াকাটা যাব। বাসের টিকিট কেটেছি, রাত ৯ টায় গাড়ি। ইস কি বলছ বাবা আমার মেয়েকে নিয়ে এতো দূরে যাবে? আমার খুব ভয় হয়। যদি কোনো বিপদ আপদ হয়। মা কি যে বল না তুমি? আমরা দুজন কি ছোটো মানুষ যে হারিয়ে যাব? মা তুমি দোয়া করিও। হ্যাঁ আম্মা আপনি আমাদের জন্য দুশ্চিন্তা করিয়েন না। আর আমি তো এর আগেও কয়েকবার গিয়েছিলাম। ব্যাবসায়ীক কারণে আমি তো চাঁদনীকে তেমন সময় দিতে পারি নাই। খুব কষ্ট করে সময় বের করছি আপনি আর না করিয়েন না।
খাওয়া দাওয়া করে চাঁদনী লাগেজে পোশাক গুছিয়ে নিলো। রাহেলার মন কেমন যেনো করছে। কেন যেনো মেয়েকে ছাড়তে ইচ্ছা করছে না কিন্তু জামাই নিয়ে যাবে সেখানে না করতেও পারছে না। অশ্রুসজল চোখে মেয়ে আর জামাইকে বিদায় দিয়ে ঘরে ফিরলো।

রাতের গাড়ি তাই চাঁদনী বাদলের হাতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যায়। আগে থেকেই বাদল রুম বুকিং দিয়েছে তাই বাস থেকে নেমে সোজা হোটেলে গিয়ে উঠলো। সকাল ৯ টা বাজে দুজনে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করতে নীচে নামলো। চাঁদনীর জীবনে এই প্রথম দূরে কোথাও বেড়াতে আসা। বাদল চাঁদনীকে রুমে রেখে বাদল বাইরে যেতে চায়। কিন্তু চাঁদনী একা একা ভয় পাবে তাই বাদলকে যেতে না করে। সারারাত গাড়ি জার্নির জন্য দুজনেই ক্লান্ত তাই বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পরে।
দুপুরে লাঞ্চ করে তারা বেরিয়ে পরে সমুদ্র দেখতে। চাঁদনী সাগরের বিশালতা দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। বাদল চাঁদনীকে সাগরের পানিতে নামার জন্য হাত ধরে টানে কিন্তু সে যেতে চায় না। বারবার বলে আমি ভয় পাই। আমি আছি তো ভয় কিসের? অনেক জোড়াজুড়ি করায় সাগরের পানিতে একটু খানি দাঁড়িয়েই তীরে উঠে আসে। বাদল চাঁদনীকে অনেক জোর করেও বেশী পানিতে নিতে পারে না। খানিকক্ষণ সৈকতে থেকে তারা হোটেলে ফিরে আসে।

চাঁদনীকে নীল রঙের শাড়িতে বেশ লাগছে। বিকেলে তারা সৈকতে গিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বাদল চাঁদনীকে চুড়ি, মালা, দুল ইত্যাদি কিনে দেয়। খুব ফুরফুরে মেজাজে তারা সময় পার করে।এভাবেই ২ দিন তারা কুয়াকাটা থাকে। বাদল বারবার জোরাজুরি করেও চাঁদনীকে সমুদ্র স্নান করাতে পারে না। এটা নিয়ে সে চাঁদনীকে আফসোসের কথা শোনায়। চাঁদনী আদুরে গলায় বরের কাছে তার ভয়ের কথা বলে।
রাতে ঘুমানোর আগে বাদল বলে যে এখান থেকে তারা রাজশাহী যাবে এক বন্ধুর বাড়িতে। চাঁদনী বলে ওখানে যাব কেন? আমরা বাড়ি ফিরব কবে?

আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু বারবার যেতে বলেছে তাই যাচ্ছি। আর বাড়িতে তো ফিরবই। আর বাড়ি ফিরলে আবার কবে বের হতে পারব জানি না। চাঁদনীর মায়ের কথা মনে পরছে। কেন যেনো তার মনে মায়ের জন্য দুশ্চিন্তা হচ্ছে।
রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ওরা যাত্রা শুরু করলো। একটা প্রাইভেট কার করে রওনা দিয়েছে। চাঁদনী বাদলের হাতে হাত রেখে বসে আছে। এরমধ্যে সে একবার জিজ্ঞেস করে আচ্ছা আমরা তো বাসেই যেতে পারতাম। প্রাইভেট কারের ভাড়া তো অনেক। বাদল মুচকি হেসে বলে আরে তুমি আমার একমাত্র সুন্দরী বউ তার জন্য আমি সব করতে পারি। লোকালয় ছেড়ে ওরা এখন নিরিবিলি রাস্তা দিয়ে ছুটছে। রাত প্রায় ২ টা বাজে তখন ওদের গাড়ি শুনশান নিরব একটা স্টেশনে এসে থামল।
বাদল ড্রাইভারকে ভাড়া দিয়ে চাঁদনীকে নিয়ে নেমে পরে। গাড়ি চলে যাবার পরে চারিদিকে ঘোর আঁধারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। চাঁদনী ভয়ে কাঁপছে আর শক্ত করে বাদলের হাত ধরে আছে। মোবাইলের আলোতে তারা হেঁটে চলছে। কিছুদূর যাবার পরে চারিদিকে খোলা কিছুই দেখা যাচ্ছে না। জমির পরে জমি আছে হয়তো নয়তো কোনো বিল বা হাওড় হবে।

মসজিদে মাগরিবের আজান হচ্ছে আর এসময় বাদল চাঁদনীদের বাড়ি এসে শাশুড়িকে ডাকে আম্মা ও আম্মা। রাহেলা ওযু করতে ছিলো, জামাইয়ের ডাক শুনে ছুটে আসে। কই রে মা কেমন আছিস?
আম্মা চাঁদনী আসেনি ওকে আমার খালাতো বোনের বাসায় রেখে আসছি। আগামী সপ্তাহে গিয়ে নিয়ে আসব। কি বলো বাবা আমার মেয়েটা অচেনা জায়গায় কেমনে থাকব? আম্মা চিন্তা কইরেন না আমার বোন ওকে দেখে রাখব। আর ও-ই তো এলো না। ঠিক আছে বাবা তুমি হাতমুখ ধুয়ে আসো আমি নামাজ পড়ে তোমার খাবার দেই।
রাতের খাবার খেয়ে বাদল ঘুমিয়ে পরে। পরের দিন সকালে রাহেলা জামাইয়ের জন্য পিঠা বানান। জামাইকে কাছে বসিয়ে যত্ন করে খাবার দেন। শাশুড়ির অনুরোধে বাদল বিকেল পর্যন্ত থেকে যায়।সন্ধ্যার একটু আগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

বাড়িতে ফিরে যাবার পরে বাদলের মা চাঁদনীর কথা জিজ্ঞেস করলে বলে ওকে ওর মায়ের বাড়ি রেখে আসছি। ২/৩ দিন পরে গিয়ে নিয়ে আসব। পরের দিন সকালে বাদলের ভাই সজল বাজারে গিয়ে মানুষের মুখে একটা মানুষ খুনের কথা শুনতে পায়। আজকের পত্রিকায় লিখেছে রাজশাহীর একটা হাওড়ের পাশে একজন মেয়ে মানুষের লাশ পাওয়া গেছে কিন্তু পরিচয় মেলেনি। বাদল ঘর থেকে সব শুনতে পাচ্ছিল।

পরিচয় মেলেনি এই কথা শোনার পরে স্বস্তি ফিরে পেলেও মনের ভিতর কেমন যেন করতে থাকে। বিকেলে সজলের মোবাইলে ওর বড় ভাই তমাল ফোন করে বড়ির সবার কথা জিজ্ঞেস করে। তমাল দিনাজপুর চাকরি করে। সন্ধ্যায় রাজশাহী থানা থেকে তার মোবাইলে ফোনে জানায় গতকাল যে নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তার কাছে না কি আমার ফোন নাম্বার পাওয়া গিয়েছে। আমি এখন রাজশাহী যাচ্ছি। দেখি কে খুন হয়েছে আর আমার মোবাইল নাম্বার তার কাছে কিভাবে পেল? তমাল আর সজলের সব কথা আড়াল থেকে শুনে বাদল তখনই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

তমাল রাজশাহী পৌঁছে গিয়ে চাঁদনীর মৃতদেহ দেখে প্রথমে না চিনলেও পরে পরনের শাড়ি আর গলায় লকেট দেখে চিনে ফেলে এ আর কেউ নয় তার আদরের ছোটো ভাইয়ের স্ত্রী। সব দেখে তার মাথা ঘুরতে থাকে এবং সে ধপাস করে মাটিতে বসে পরে। তাকে আটকে রাখার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসে পরেন। তমাল তাদের কাছে বলে কিভাবে খুন হয়েছে কে খুন করেছে আমি কিছুই জানিনা। মুখের কথা কেউ বিশ্বাস করে না। দিনাজপুর তমালের অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তমাল এক মাসের মধ্যে কোথাও যায়নি তারপরও তাকে আটকে রাখে। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে তার চুলের ব্যান্ডের ভিতরে ভাঁজ করা এক টুকরো কাগজ দেখে বের করে আনে আর সে কাগজে শুধু একটা মোবাইল নাম্বার ছিলো যেটা তমালের। চাঁদনী কেন তার ভাসুরের মোবাইল নাম্বার লুকিয়ে রেখেছিলো ? তাহলে কি সে আন্দাজ করতে পারছিলো যে তার বিপদ আছে? কি রহস্য লুকিয়ে আছে এই খুনে?

নিমিষেই বাদলের বাড়ির সবাই সব জেনে যায়। তারা কোনোভাবেই চাঁদনীর খুনের খবর বিশ্বাস করতে পারছে না।পুলিশের গাড়ি ময়নাতদন্ত করার পর লাশ নিয়ে চাঁদনীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। চাঁদনীর মাও জেনে গেছে তার বুকের ধন নয়নমণি আর বেঁচে নাই। তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি এও জেনেছেন যে বাদলই চাঁদনীকে খুন করেছে। সে কিছুতেই মেলাতে পারছে না খুনের ঘটনা। কতো মধুর সম্পর্ক ওদের। কেন খুন হতে হলো? একজন মানুষ আমার মেয়েকে খুন করে কিভাবে স্বাভাবিকভাবে আমার বাড়িতে এসে খাওয়া-দাওয়া করে?
সবার মুখে একই প্রশ্ন কি হয়েছিল ওদের মধ্যে? কেন এভাবে একটা মেয়ের প্রাণ চলে গেল? কি রহস্য লুকিয়ে আছে? কিভাবে খুলবে এই রহস্যের জট?

পুলিশ বাদলকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি। এই খুনের জন্য বাদলের নিরপরাধ ভাই বোনদের হাজতবাস হয়েছে। হদিস মেলেনি বাদলের, জানা যায়নি খুনের কারণ। পুলিশের তদন্তে চলছে কিন্তু চাঁদনীর মৃত্যুরহস্য আজও উদঘাটন হয় নি।
আর কতো আর কতো নারীদের খুন হতে হবে? আর কতো মায়ের বুক খালি হবে?

Leave a Comment