আমি ছবির এই মানুষটির কথাই বলছি। আজ মানিকগঞ্জ শহরের প্রানকেন্দ্র শহীদ রফিক সড়কে তার সাথে দেখা আর তাই অনুমতি নিয়ে ক্যামেরা বন্দী করলাম নিষ্পাপ মুখ। যারা মানিকগঞ্জ শহরে বাস করেন তারা সবাইকে উনাকে চেনেব বলে আমার বিশ্বাস। শহরের আনাচে কানাচে এই ছোট্ট ঠেলাগাড়ি করে শবজি বিক্রি করেন। অনেক দিন ধরেই আমার ইচ্ছা ছিলো উনার সাথে আলাপ করার কিন্তু এভাবে সামনাসামনি পায়নি। আজ স্কুল থেকে ফেরার পথে ছেলের জন্য বই কিনতে গিয়ে উনাকে দেখতে পেয়ে আর উনাকে হাতছাড়া করিনি। উনার কাছে এসে খালা বলে ডাক দেওয়ায় উনি দাঁড়ালেন আর আমিও উনার সম্পর্কে কিছু কথা জানতে পারলাম যা আমাকে ব্যথিত করেছে।
বাবা মা আদর করে নাম রেখেছিলেন চাঁনমতি। তাদের কাছে মেয়েকে চাঁদই মনে হয়েছিলো। যেমন আমরাও আমাদের সন্তানদের এমন ভাবি কিন্তু সন্তানেরা বৃদ্ধ বাবা মাকে বোঝা মনে করে। চাঁনমতি খালার স্বামী মারা গেছেন অনেক বছর আগে। ছেলে মেয়ে সবাই আছে কিন্তু ছেলেরা মায়ের কোন খোঁজ নেয় না। স্বামীর শেষ সম্বল যে ভিটে বাড়ি ছিলো ছেলেরা সেটুকু বিক্রি করে দিয়ে যার যার বউ নিয়ে আলাদা থাকে। আর এই মায়ের আশ্রয় হয়েছে মেয়ের কাছে। কিন্তু মেয়ের জামাই-ও দিনমজুর। তাই নিজের ভরনপোষণ নিজেই করবেন বলে শবজি ফেরি করে বিক্রি করেন। শবজির আরত থেকে তুলনামূলক ততো ভালো শবজি কেনার সামর্থ্য উনার নেই। তাই কম দামে যে সব শবজি পাওয়া যায় তাই ফেরি করে বিক্রি করেন। বয়স সত্তরের উপরে আর এই বয়সে উনার নাতি নাতনির সাথে গল্প করার কথা, ইবাদতে মশগুল থাকার কথা। সমাজে হাজারো চাঁনমতি আছে যাদেরকে একমুঠো খাবারের জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
আমরা ছেলে সন্তানকে বংশের বাতি বলি আর মেয়েদের করি অবহেলা কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম আর কঠিন।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি চাঁনমতি খালা সুস্থ থাকুক, আল্লাহ পাক উনাকে নেক হায়াত দান করুন।
বিঃদ্রঃ এই লেখাটি মানিকগঞ্জের ‘সাপ্তাহিক কড়চা’ পত্রিকায় ৩০ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিলো…







