আজিজুন নাহার আঁখি

প্রমত্তা পদ্মায় স্রোতের ধাক্কায়
পাড়ি দিতে হতো ভয়,
জানোনি কভু জানেন প্রভু
মনে জাগে সংশয়।

স্রোতস্বিনী নদী চলে নিরবধি
থামে না কারোর জন্য,
নদীর দু’ধার করে হাহাকার
নাই লোক লোকারণ্য।

দুর্ভোগ ঘুচাতে প্রশান্তি মিটাতে
এ সেতুর পরিকল্পনা,
অপেক্ষার ক্ষণ সহ্য করে জন
শেষে যে পেলো সান্ত্বনা।

বাংলার দক্ষিণে শত জনগনে
পদ্মা পারাপারে ভয়,
সব দূর করে সাহসী অন্তরে
বাঙালি করলো জয়।

বিশ্বলোকে জানে বাঙালির প্রাণে
সেতু গড়ার প্রত্যয়,
নিন্দুকের কথা সব আজ বৃথা
তারা হলো পরাজয়।

হাসিনার ডাকে এলো ঝাঁকে ঝাঁকে
আপামর জনগন,
ঋণ করে নয় নিজ অর্থে হয়
আজ তা বাস্তবায়ন।

আষাঢ়ের ক্ষনে খুশি জনে জনে
সেতুর খুললো দ্বার,
বরণের জন্যে ছেলে বুড়ো কন্যে
লোকারণ্য পদ্মা পাড়।

বাংলার নদীতে বৃহৎ সেতুতে
জনতার অবদান,
সকলের দামে পদ্মা সেতু নামে
বাড়ালো আজ সম্মান।

বহুদিন পরে খুশি ঘরে ঘরে
মিটলো মনের আশ,
অপেক্ষা ঘুচিয়ে বিষাদ মুছিয়ে
প্রাণ ভরে নেই শ্বাস।

বাংলার সম্মান রবে যে অম্লান
আমাদের এ বাংলায়,
প্রধানমন্ত্রীর প্রতীজ্ঞা যে স্থির
প্রমাণ সেতু পদ্মায়।

পঁচিশ তারিখে রব দিকে দিকে
বাজলো খুশির বীণ,
গাড়ি সারি সারি পদ্মা সেতু ছাড়ি
চারিদিক যে রঙ্গিন।

দীপ্ত পদক্ষেপে উঠে কেঁপে কেঁপে
বিজয়ের জয়ধ্বনি,
লোকে লোকারণ্য এ সেতুর জন্য
মিলেছে গরীব ধনী।

যারা করে জব্দ তারা আজ স্তব্ধ
হয়েছে বাংলার জয়,
পদ্মা সেতু করে গেলো প্রাণ ভরে
শত্রুদের হলো ক্ষয়।

সেতু পাড়ি দিতে টোল সাথে নিতে
যেনো মনে রাখি সবে,
নিজেদের শ্রমে সৎ কাজ কর্মে
মাথা উঁচু করে রবে।

বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে
বাঙালি দাঁড়ালো আজ,
এমনিই করে আজীবন ধরে
থাকবে বাংলার সাজ।

ওহে দয়াময় নাহি করি ভয়
পাশে আছো পাশে রবে,
বাঙালির প্রাণে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে
তোমা নাম রবে সবে।

Leave a Comment