আমাদের উপার্জন করা যেমন জরুরি, সঞ্চয় করাও তেমনি দরকারি। বিশ্বের সেরা ধনীদের একজন ওয়ারেন বাফেট বলেন, অন্যরা আগে খরচ করে, তারপর যেটা বেঁচে যায়, সেটা জমায়। আর তিনি আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমিয়ে রাখেন। তারপর যা বাকি থাকে, সেটা খরচ করেন। তাই আপনার সন্তানকে এখন থেকেই সঞ্চয়ী হওয়ার শিক্ষা দিন। কেননা, শিশুকালই শেখানোর সেরা সময়। এ সময় যা কিছু শেখাবেন, তা সারা জীবনের জন্য মাথায় গেঁথে যাবে। কীভাবে সেটা করবেন, জেনে নেওয়া যাক তার কয়েকটি উপায়।
সন্তানকে সঞ্চয়ী বানাতে চাইলে আগে নিজে সঞ্চয়ী হোন। কেননা, শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। আপনি যদি বেহিসেবী হন আর সন্তানের সামনে যদি সঞ্চয় কেন জরুরি, কীভাবে করতে হবে, সে বুলি আওড়াতেই থাকেন, তাতে কোনো লাভ হবে না। তাই আপনি নিজে সঞ্চয়ী হোন। আপনার সন্তানকে সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।
চাইলেই কিছু পাওয়া যায়, এমন ধারণা যেন আপনার সন্তানের না হয়। প্রয়োজন বুঝে তার চাহিদা পূরণ করুন।শিশুরা বিভিন্ন জিনিসের জন্য বায়না ধরে কিন্তু আপনি সে চাওয়া মাত্র দিলে তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।আজ কিছু চাইলে আপনি আগামীকাল বা পরশু তার প্রয়োজনীয়তা দেখে কিনে দিন।শিশু বয়সে প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে বিলাসিতাকে একটু দূরে রাখুন । মাঝেমধ্যে আপনার সন্তানকে দিয়ে ঘরের কাজ করান। যেমনঃ ঘর পরিষ্কার করা,বাগানে কাজ করা,নিজের জিনিসপত্র নিজেই গুছিয়ে রাখা। আর এসব কাজের জন্য তাকে অর্থ দিন। একটা শিশু যখন পরিশ্রম করে টাকা পাবে, তখন সে সেই কষ্টে উপার্জিত অর্থ খরচ করার বিষয়ে ভাববে ও সচেতন হবে।
সন্তানকে কোনটা প্রয়োজন আর কোনটা বিলাসিতা, সেটা বুঝিয়ে বলুন। বলুন যে প্যান্ট মাপে ছোটো হয়ে গেছে,তাহলে একটা প্যান্ট কিনতে হবে। সেটা প্রয়োজন। অন্যদিকে বাসায় আরও তিনটা /চারটা খেলনা আছে। তাই যে খেলনাটা সে নেবেই বলে জেদ করছে, সেটা বিলাসিতা। ছোটবেলা থেকে সন্তানকে বিলাসিতার নেতিবাচক দিকগুলো বোঝান। বিলাসদ্রব্যে যেন অভ্যস্ত না হয়ে পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘরের খাবারে অভ্যস্ত করুন।বাইরের খাবারে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে সেটা বুঝিয়ে বলুন তাতে অপচয়ের পরিমাণ কমবে। সঞ্চয় যে শক্তি, সেটা বুঝিয়ে বলুন।
আপনার সন্তানকে একটা মাটির ব্যাংক বা কাঠের তৈরি সঞ্চয় ব্যাংক কিনে দিন। শুরুতে সেখানে টাকা জমানোর অভ্যাস করুক। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকে শিশুদের জন্য টিফিন একাউন্ট খোলা যায় ।তাই তার একটা ব্যাংকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলে দিন। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি আপনার তত্ত্বাবধানে থাকবে। তার বয়স ১৮ বছর হলে সে বেশ কিছু টাকার ‘মালিক হয়ে যাবে।
আপনার সন্তানের সামনে তিনটা ঢাকনাযুক্ত বক্স রাখুন। যখনই সে কোনো জায়গা থেকে কোনো টাকা পাবে, সেটা সে তিন ভাগ করে একবক্সে খরচের জন্য এক বক্সে দানের জন্য, এক বক্সে জমানোর জন্য এভাবে রেখে দেবে। তাহলে তার দান করা ও জমানো—দুটি ভালো অভ্যাসই গড়ে উঠবে।
সন্তানকে টাকা জমাতে অনুপ্রাণিত করুন। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমে গেলে তাকে উপহার দিন। যেমন রিকশাভাড়া থেকে প্রতিদিন ১০-২০ টাকা করে বাঁচিয়ে সে যখন ৫০০/১০০০ টাকা জমিয়ে ফেলবে, তখন তাকে রেস্তোরাঁয় নিয়ে বা বাড়িতেই তার প্রিয় কিছু বানিয়ে খাওয়ান। অথবা তার প্রয়োজনীয় কিছু কিনে দিন।
সন্তানকে আত্মনির্ভরশীল হতে অনুপ্রাণিত করুন। মনে করুন, সে অনেক দিন ধরে আপনাকে একটা ক্যালকুলেটর কিনে দিতে বলছে। আপনি তাকে সেটা টাকা জমিয়ে কিনতে বলুন।তাদের ঈদের সালামি বা টিফিনের টাকা থেকেকিনতে বলুন। এভাবে সে নিজেই নিজের শখ পূরণ করতে পারবে আর গর্ব করে অন্যদের বলতেও পারবে!






