জয়মালার সৌন্দর্য দেখে কালাম মিয়া অনেক অবাক হলেন। একটু ক্ষণের জন্য তার ভিতরে তরঙ্গায়িত হলো। জহির বেটা তো এমনি এমনিই পছন্দ করেনি। এই মেয়েকে যে কোনো পুরুষ মানুষের পছন্দ হবে, কাছে পেতে ইচ্ছে করবে।
কালাম মিয়া চলে যাবার পর নজর আলী হেলেনাকে ডাকছে এই যে জয়মালার মা ঘরে আইসো তো?
এতোক্ষণে জয়মালা বাবার কাছে এসে শুয়ে পরছ। মা ও জয় মা ঘুমাইলি না কি? জয়মালার সাড়াশব্দ নাই সে ঘুমিয়ে পরেছে।
হেলেনা বেগম ঘরে ঢুকেই জানতে চায় কি অইছে ডাকো কেন? আরে মাইয়াডা তো না খাইয়াই ঘুমাইল। ওরে ডাইকা কিছু খাওন দেও।
আরে ও সন্ধ্যার আগে খাইছে এখন আর খাইব না।
থাক তাইলে ঘুমাক।
ছোট্ট শিশুর মতো বাবার গা ঘেসে শুয়ে আছে। নজর আলী মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে, আচ্ছা কালাম ভাই যে প্রস্তাব দিলো কওতো আমি উনারে কি কমু? আমার মাইয়া কি সংসার করবার পারব?
হেলেনা বেগম বলে, তুমি আগে ভাইবা দেখ জহিররে তোমার পছন্দ হয় কি না৷ আমি মাইয়ারে শিখাইয়া পরাইয়া দিমু। আর মাইয়া তো আমাগো বাড়িতেই থাকব।
আমার কাছে জহির পোলাডারে ভালোই মনে অয়।
আরে শোনো বাইরে থেকে কি মানুষ চিনন যায়? ভিন জেলার মানুষ, বাড়ি ঘরের খোঁজ খবর নাই। আবার বাপ মাও নাই। তবে আদব কায়দা ভালো।
কাজকর্মে মন আছে। আইচ্ছা মানিক রতনের সাথে কথা কইয়া দেখি ওরা কি কয়?
হেলেনা বেগম বলে শোনো আমার মাইয়া দেইখা শুইনা নিজে থেইকা যে কেউ বিয়া করবার চাইব এতো আমি কখনো ভাবি নাই। তুমি মানিক রতনের সাথে কথা কইয়া কালাম ভাইরে হ কইয়া দেও। কও যে আমরা রাজি আছি তবে একখান শর্ত আছে। তা অইলো আমার মাইয়া আমার চোখের সামনে থাকব।
স্বামী স্ত্রী দুজনেই মেয়ের বিয়ে নিয়ে কথা বলতে বলতে শুয়ে পরলো।
এদিকে জহির ছটফট করছে। কালাম মিয়া ফেরার অপেক্ষায় উঠোনেই পায়চারি করছে। এমন সময় কালাম মিয়ার ডাক ও জহির তুমি ঘুমাও নাই।
না চাচা ঘুমাই নাই। আপনের জন্যে অপেক্ষা করতাছি।
আরে বাপু সবুর করো। সবুরে মেওয়া ফলে।আমি নিজে গিয়া প্রস্তাব দিছি ওরা ফেলতে পারব না। তবে আমিই বলছি ২/১ দিন পরে জানাইতে।
জহিরের পিঠে আলতো করে থাপ্পড় দিয়ে বলে জহির তুমি তো কাম বাগাইছ? সত্যই তো নজরের মাইয়া অনেক সুন্দরী অইছে। আমি তো দেইখা থ অইয়া গেছি। যাক যাক তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও। ওরা রাজি অইবো।
কালাম মিয়া ভিতর বাড়ি চলে গেল। জহিরের মন সুখের বাতাস বইছে। তার যে তর সইছে না। এক্ষুনি জয়মালাকে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করছে।
কালাম মিয়া নিজের ঘরে গিয়া ভাবতে থাকে জয়মালার কথা। বয়স ৫০ পেরিয়ে গেলেও তার মনে কুপ্রবৃত্তি হানা দিচ্ছে। কালাম মিয়া দেখতে নিপাট ভদ্র লোক। তার দুই ছেলে ভার্সিটিতে পড়ে। মেয়ের অনেক ভালো ঘরে বিয়ে হইছে। তার বউও সুন্দরী কিন্তু আজ জয়মালাকে দেখে তার ভিতরে এক অন্যরকম শিহরণ জাগছে।
কালাম মিয়ার বউয়ের ডাকছে এই যে শোনেন আপনি কই গেছিলেন?
ও আমি আমিতো ঐ পাড়ার নজরের বাড়ি গেছিলাম। আমারে একখান পান দেও। কিছুক্ষণ গল্প করে তারা দুজনেই ঘুমিয়ে পরে।
মুখোশের আড়ালে ভদ্রবেশী পিশাচ পর্ব ৭
ভোর বেলায়ই মানিক রতন কাজে যাওয়ার আগে মায়ের ডাক শুনে
ও মানিক রতন তোমাগো বাপ তোমাগোরে ডাকে।
দুই ভাই মায়ের ডাক শুনে বাবা মায়ের কাছে যায়। কও বাবা কি কইবা?
কাইল রাইতে কালাম মিয়া আমাগো বাড়ি আইছিল, একখান জরুরি কথা নিয়া।
এই কথা শুনে দুই ভাই মুখ চাওয়া চায়ি করছে। কি কইলা বাবা? আমরা তো উনার কথামতো জমি চাষ করি।
আরে নাহ তোমাগো কথা না। তোমাগো বইনের কথা। তোমার বইনের বিয়ার প্রস্তাব নিয়া আইছিল।
বইনের বিয়া কার লগে? কেডা আমাগো বইনরে বিয়া করব?
যার জন্য আইছিল তারে তোমরা চিন।
কেডা বাবা কেডা?
ঐ যে কালাম মিয়ার বাড়িতে কাম করে জহির তার কথা।
দুই ভাইয়ের মুখে খুশির ঝিলিক। দুই জন একসাথে বইলা উঠে বাবা এ তো অনেক ভালো প্রস্থাব। বাবা তুমি আইজই পাকা কথা দেও। আমার বইনরে যে এতো ভালো মানুষ বিয়া করব। এটাই আমাগো চৌদ্দপুরুষের কপাল।
ঘর থেকে জয়মালা বারান্দায় বাবার কাছে এসে বলে ও বাবা কার বিয়া গো? কবে থেইক্কা বিয়ার দাওয়াত খাইনা। আমি যামু বাবা আমি যামু।
মানিক রতন হাসিমুখে বোনের কাছে গিয়ে বলে তোমার বিয়া বুবু তোমার
এ কথা শুনে খিলখিলিয়ে হেসে উঠে। ও বাবা ভাইয়েরা কি কয়?
হ্যাঁ মা তোমার বিয়ার কথাই কইতাছি। এবার কিন্তু শান্ত হইয়া থাকন লাগব। তোমার মা যা যা কইব তাই তাই শুনন লাগব।
মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলে মা ও মা সত্য সত্য আমার বিয়া অইবো? বিয়া অইলে আমি কিন্তু এইখানেই থাকুম। আমি তোমাগো থুইয়া কোত্থাও যামুনা।
না মা তুমি আমাগো লগেই থাকবা।
মা আমার জামাই অইবো কেডা? বুবু তোমার জামাইরে তুমি চিন। ঐ যে তুমি যারে বাঁশিওয়ালা কও সেই তোমারে বিয়া করবার চাইছে।
জহিরের কথা শুইনা জয়মালার লাজুক হাসি। ঐ বাঁশিওয়ালা আমারে বিয়া করব? বাবা তাইলে তো ভালোই অইবো। আমারে সারাদিন বাঁশি শুনাইব।
জয়মালার অস্বাভাবিকতা থাকলেও জহিরের সাথে পরিচয় হওয়ার পর অনেকটা কমেছে।
এসবই আল্লাহর রহমতে হচ্ছে। জয়মালা লাজুক হাসিতে সবাই বুঝে গেলো যে জহিরকে তার পছন্দ অইছে। যে যার কাজে চলে গেল।
জয়মালার শিশুসুলভ মনেও আজ এক নতুন শিহরণ অনুভব হচ্ছে। বারবার জহিরের বাঁশির সুরের কথা ভাবতে ভাবতে—–
চলবে——






