আজিজুন নাহার আঁখি

ইচ্ছের জীবনাবসান

প্রতিদিন কোনো না কোনো ইচ্ছার মৃত্যু দেখি
কতো ইচ্ছা জন্মলগ্নেই যায় শেষ হয়ে
যেমন মৃত্যু হয় হাজার হাজার ভ্রুণের,
তেমনি মৃত্যু হয় ইচ্ছেগুলোর
ইচ্ছা করে ভ্রুণের এবারশন করে কেউ কেউ
আবার কেউ করে পরিস্থিতির চাপে
তেমনি প্রতিনিয়ত আমার ইচ্ছে গুলোর এবারশন হয়
অস্তিত্ব টের পাওয়ার সাথে সাথে
মেরে ফেলি নিজ হাতে।
মাতৃগর্ভে ভ্রুণের মৃত্যু হলে ক’জনে বা জানে?
তার জন্য কেউ করে না আফসোস
স্থান পায় না খবরের কাগজের হেড লাইনে
আর বিচার হয় না ভ্রুণ নষ্টকারীর
তেমনি প্রতিদিন যে ইচ্ছে গুলোকে মেরে ফেলি
সেটাও কেউ জানে না।
হয়তো জন্ম নেয় দুই একটা
কিন্তু সেগুলোকে পিষে ফেলি পায়ের নিচে
নয়তো মেরে ফেলি গলা টিপে, শ্বাস রুদ্ধ করে
ইচ্ছেগুলোর আর্তনাদ পৌঁছায় না কারো কাছে
কারো৷ কারোর ইচ্ছে গুলো হয়তো
ঘুরে বেড়ায় রঙিন প্রজাপতির মতো
কিন্তু আমার ইচ্ছেগুলো উড়তে গেলেই
মাঝপথেই ভেঙে যায় ডানা গুলো
মাটিতে আছড়ে পরে, আহত হয়।
মাঝে মাঝে মনে হয়
যদি সব ইচ্ছেরা রুখে দাঁড়ায়
রাজপথে মিছিল বের করে,,
পোস্টারে পোস্টারে প্রতিবাদের ঝড় তোলে,
পত্রিকার শিরোনামে আমার শাস্তি চায়
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে,
আমাকে অবরুদ্ধ করার জন্য
আইনের আশ্রয় নেয়
তখন আমায় রক্ষা করবে কে?
আজ মনে হচ্ছে নিস্তার নাই
ইচ্ছে দের বিনাশ করার জন্য
হয়তো ফাঁসি, নয়তো যাবজ্জীবন কারাবাস।
কতো ইচ্ছে অংকুরেই শেষ হয়ে যায়
হয়তো চারপাশের পরিস্থিতির চাপে
নয়তো অপরকে ভালো রাখতে
একান্ত ইচ্ছেগুলোর হয় জীবনাবসান
এর কি কোনো সমাধান আছে?

Leave a Comment